Tag: বাংলাদেশ নারী ফুটবল

  • এশিয়ান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে দুর্দান্ত লড়াই: চীনের কাছে হারলেও মন জয় করল বাংলাদেশ নারী দল

    এশিয়ান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে দুর্দান্ত লড়াই: চীনের কাছে হারলেও মন জয় করল বাংলাদেশ নারী দল

    এবিএনএ: অস্ট্রেলিয়ার সিডনির কমনওয়েলথ ব্যাংক স্টেডিয়ামে নারী এশিয়ান কাপের মঞ্চে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। প্রতিপক্ষ ছিল বর্তমান ও সর্বাধিকবারের চ্যাম্পিয়ন চীন নারী জাতীয় ফুটবল দল। কঠিন এই লড়াইয়ে ২-০ ব্যবধানে হারলেও পারফরম্যান্সে প্রশংসা কুড়িয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা।

    প্রায় বিশ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামে ছয় হাজারের বেশি সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিও ছিলেন, যারা দলের এশিয়ান কাপ অভিষেকের সাক্ষী হন।

    ফিফা র‌্যাংকিংয়ে চীনের অবস্থান ১৭, আর বাংলাদেশের ১১২। এই বড় ব্যবধান সত্ত্বেও ৯০ মিনিট জুড়ে আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে বাংলাদেশ। রক্ষণে সতর্ক থেকে মাঝমাঠে বল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা এবং সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণ—এই কৌশলেই এগিয়েছে দল। ফিটনেস ও গতিতে চীনের সঙ্গে সমানতালে লড়াই করেছেন ঋতুপর্ণা চাকমারা।

    প্রথমার্ধের শেষ দিকে চীন গোলের দেখা পায়। ৪৪ মিনিটে দূরপাল্লার শটে ওয়াং শুয়াং এগিয়ে দেন দলকে। এর ঠিক এক মিনিট পর ডিফেন্সের ভুলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য বল দখলে উন্নতি করে বাংলাদেশ এবং রক্ষণভাগ ছেড়ে আক্রমণে বেশি মনোযোগ দেয়।

    গোলরক্ষক মিলি আক্তার শুরুতে কিছুটা চাপে থাকলেও সময়ের সঙ্গে আত্মবিশ্বাস ফিরে পান। দ্বিতীয়ার্ধে একাধিক দারুণ সেভ করে নিশ্চিত গোল ঠেকান তিনি। বিশেষ করে একক দক্ষতায় লাফিয়ে করা একটি সেভ ছিল দর্শনীয়।

    ম্যাচে ভিএআর প্রযুক্তির ব্যবহার ছিল উল্লেখযোগ্য দিক। একাধিক সিদ্ধান্ত ভিএআরে যাচাই করা হয়। চীনের একটি গোল বাতিল হয় এই প্রযুক্তির কারণে। বাংলাদেশের একটি সম্ভাব্য পেনাল্টির আবেদনও ভিএআরে দেখা হলেও শেষ পর্যন্ত রেফারি পেনাল্টি দেননি।

    বাংলাদেশের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত আসে ১৪তম মিনিটে। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বল পেয়ে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে এগিয়ে যান ঋতুপর্ণা চাকমা। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া তার জোরালো শটটি চীনের গোলরক্ষক চেন চেন অসাধারণ ভঙ্গিতে ফিরিয়ে দেন। গোল হলে তা টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোল হতে পারত।

    সব মিলিয়ে ফলাফল চীনের পক্ষে গেলেও সাহসী ও শৃঙ্খলিত পারফরম্যান্সে ভবিষ্যতের জন্য আশা দেখিয়েছে বাংলাদেশ নারী দল।

  • ইতিহাসের মুকুট সাবিনাদের মাথায়, সাফ নারী ফুটসালের ট্রফি তুলে দিলেন কাজী সালাউদ্দিন

    ইতিহাসের মুকুট সাবিনাদের মাথায়, সাফ নারী ফুটসালের ট্রফি তুলে দিলেন কাজী সালাউদ্দিন

    এবিএনএ: থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে নতুন ইতিহাস রচনা করল বাংলাদেশের নারী ফুটসাল দল। দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতে লাল-সবুজের পতাকা উড়াল সাবিনা খাতুনের নেতৃত্বাধীন দল।

    রোববার অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিজয়ী দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তুলে দেন সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ও সাবেক বাফুফে সভাপতি কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।

    এর আগে দিনের প্রথম ম্যাচেই মালদ্বীপকে ১৪-২ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। দিনের শেষ ম্যাচে নেপাল ও ভুটানের মধ্যকার লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা নামে এই ঐতিহাসিক আসরের।

    পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড়দের গলায় স্বর্ণপদক পরিয়ে দেন কাজী সালাউদ্দিন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাফুফের নারী উইংয়ের চেয়ারপার্সন মাহফুজা আক্তার কিরণসহ সাফ ও থাইল্যান্ড ফুটবল ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

    প্রথমবার আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে রানার্সআপ হয়ে রৌপ্যপদক অর্জন করে ভারত, আর তৃতীয় স্থান লাভ করে নেপাল। যদিও ব্যক্তিগত কোনো পুরস্কার ছিল না, তবে মাঠের নৈপুণ্যে সবার নজর কেড়েছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। পুরো আসরে ১৪ গোল করে তিনি ছিলেন সর্বোচ্চ গোলদাতা।

    টানা দুইবার সাফ নারী ফুটবল জয়ের পর এবার ইনডোর ফুটসালেও দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল বাংলাদেশের মেয়েরা। এই অর্জন নারী ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করল এবং যোগ করল আরেকটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।

  • শেষ মিনিটের নাটকীয়তায় ব্যথিত পরাজয়, আজারবাইজানের কাছে হোঁচট খেল বাংলাদেশ নারী দল

    শেষ মিনিটের নাটকীয়তায় ব্যথিত পরাজয়, আজারবাইজানের কাছে হোঁচট খেল বাংলাদেশ নারী দল

    এবিএনএ: ত্রিদেশীয় নারী ফুটবল সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে দুর্দান্ত ছন্দে খেলেও শেষ মুহূর্তের গোলেই হতাশা বরণ করতে হলো বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলকে। আজারবাইজানের বিপক্ষে ম্যাচজুড়ে আক্রমণ–প্রতিরক্ষায় দারুণ লড়াই করেছে লাল–সবুজের মেয়েরা। তবে নির্ধারিত সময়ের ঠিক শেষ দিকে প্রতিপক্ষের করা এক গোলেই ২-১ ব্যবধানে পরাজিত হয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে দলকে।

    ম্যাচের বেশির ভাগ সময় দু’দলই আক্রমণ–পাল্টা আক্রমণে সমানতালে খেললেও গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে কিছুটা পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধে গোল পরিশোধ করে ম্যাচে ফিরেও আসে তারা। কিন্তু যোগ করা অতিরিক্ত সময়ের কাছাকাছি মুহূর্তে আজারবাইজান জয়সূচক গোল করে নেয়, যা আর শোধ করতে পারেনি বাংলাদেশের মেয়েরা।

    প্রচেষ্টা ও পারফরম্যান্সে উজ্জ্বল থাকলেও শেষ মুহূর্তের ভুল সিদ্ধান্ত ও দুর্ভাগ্যের কারণে জয় তুলে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। সিরিজে টিকে থাকতে পরের ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছে দলের সংশ্লিষ্টরা।

  • ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ, প্রথমবার অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপে জায়গা

    ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ, প্রথমবার অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপে জায়গা

    এবিএনএ:  বাংলাদেশ নারী ফুটবলের ইতিহাসে যুক্ত হলো আরেকটি গৌরবময় অধ্যায়। সিনিয়র দলের পর এবার অনূর্ধ্ব-২০ নারী দলও প্রথমবারের মতো জায়গা করে নিল এশিয়ান কাপে। বয়সভিত্তিক এই সাফল্য এসেছে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে।

    রোববার লাওসের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ৬-১ গোলে হারে লাল-সবুজের মেয়েরা। যদিও হারের পরও পয়েন্টের হিসেবে মূলপর্বে জায়গা নিশ্চিত হয়। গ্রুপ ‘এইচ’-এর রানার্সআপ বাংলাদেশকে রানার্সআপ তালিকায় সেরা তিনে থাকতে হতো। সৌভাগ্যক্রমে দিনের অপর ম্যাচে ‘ই’ গ্রুপে চীন লেবাননকে ৮-০ গোলে হারানোয় বাংলাদেশ নিশ্চিত হয়ে যায় সেরা তিনে।

    ৬ আগস্ট শুরু হওয়া এই বাছাইপর্বে অংশ নিয়েছিল এশিয়ার ৩৩টি দল। আটটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন সরাসরি খেলবে মূলপর্বে, আর আট রানার্সআপের মধ্যে সেরা তিন পাবে সুযোগ। স্বাগতিক থাইল্যান্ডকে নিয়ে মোট ১২ দল অংশ নেবে আগামী বছরের এপ্রিলে শুরু হতে যাওয়া মূলপর্বে।

    ম্যাচের শুরুটা ছিল বাংলাদেশ দলের জন্য দারুণ। ১৫ মিনিটে প্রথম গোল করে এগিয়ে যায় পিটার বাটলারের শিষ্যারা। প্রথমার্ধে স্কোর ছিল ১-১ সমতা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে কোরিয়ানদের আক্রমণ সামলাতে না পেরে ৮৭ থেকে ৯৪ মিনিটের মধ্যে তিনটি গোল হজম করে বড় ব্যবধানে হার মেনে নিতে হয়।

    এর আগে এই বাছাইপর্বে বাংলাদেশ লাওসকে হারায় ৩-১ গোলে এবং তিমুরকে উড়িয়ে দেয় ৮-০ গোলে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে হার সত্ত্বেও, এই টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপে জায়গা করে নেওয়া বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য এক বড় প্রাপ্তি।

  • সাগরিকা-মুন্নির দুরন্ত পারফরম্যান্সে লাওসকে হারিয়ে এএফসি বাছাইয়ে বাংলাদেশের জয়যাত্রা শুরু

    সাগরিকা-মুন্নির দুরন্ত পারফরম্যান্সে লাওসকে হারিয়ে এএফসি বাছাইয়ে বাংলাদেশের জয়যাত্রা শুরু

    এবিএনএ:  ভিয়েনতিয়েনের নিউ লাওস ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইতিহাস গড়ল লাল-সবুজের মেয়েরা। এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক লাওসকে ৩-১ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত সূচনা করেছে বাংলাদেশ।

    প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে মাঠে নামে পিটার বাটলারের শিষ্যরা। ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে শান্তি মার্ডির নেওয়া কর্নার থেকে হেডে জাল খুঁজে পান মোসাম্মত সাগরিকা।

    দ্বিতীয়ার্ধে আরও গতি আনে বাংলাদেশের মেয়েরা। ৫৮ মিনিটে তৃষ্ণার দুর্দান্ত থ্রু পাস থেকে কোনাকুনি শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মুন্নি আক্তার। যদিও ৮৭তম মিনিটে আন্না কিউ অনসির গোলে লাওস একটি গোল পরিশোধ করে, তাতে জয় থামেনি বাংলাদেশের।

    যোগ করা সময়ে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করে ম্যাচের সেরা পারফরমার হিসেবে আবির্ভূত হন সাগরিকা।

    এই জয়ের ফলে গ্রুপে আত্মবিশ্বাসের দারুণ জোয়ারে ভাসছে বাংলাদেশ। গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে শুক্রবার তারা মাঠে নামবে তিমুর লেস্তের বিপক্ষে। এরপর ১০ আগস্ট প্রতিপক্ষ শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়া।

    এ ম্যাচে গোলরক্ষক স্বর্ণা রানী মন্ডলের দৃঢ় উপস্থিতি এবং ডিফেন্ডারদের দৃঢ়তা ছিল চোখে পড়ার মতো। পুরো দলজুড়ে ছিল অনুশীলনের প্রতিফলন।

    বাংলাদেশ নারী ফুটবলে এই জয় শুধু একটি ম্যাচ নয়—এটি এগিয়ে যাওয়ার আরেকটি প্রেরণা।

  • চ্যাম্পিয়ন চীনের সঙ্গেই শুরু! এশিয়ান কাপে কবে কবে মাঠে নামবে ঋতুপর্ণারা?

    চ্যাম্পিয়ন চীনের সঙ্গেই শুরু! এশিয়ান কাপে কবে কবে মাঠে নামবে ঋতুপর্ণারা?

    এবিএনএ: প্রথমবারের মতো এএফসি উইমেন্স এশিয়ান কাপে জায়গা করে নেওয়া বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল পড়েছে একদম চ্যালেঞ্জিং গ্রুপে। অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই প্রতিযোগিতায় গ্রুপ ‘বি’-তে জায়গা পেয়েছে বাংলাদেশ। এই গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ তিন শক্তিশালী দল—শেষবারের চ্যাম্পিয়ন চীন, ঐতিহাসিকভাবে ভয়ংকর উত্তর কোরিয়া এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ উজবেকিস্তান।

    বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে আয়োজিত ড্র অনুষ্ঠানে দলগুলোকে ভাগ করা হয়। আগামী ১ মার্চ থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত সিডনি, পার্থসহ তিনটি শহরে অনুষ্ঠিত হবে এই মহাযজ্ঞ। বাংলাদেশ তাদের তিনটি ম্যাচই খেলবে সিডনি ও পার্থে।


    📅 এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের ম্যাচ সূচি:

    • ৩ মার্চ: বাংলাদেশ 🆚 চীন – ভেন্যু: সিডনি

    • ৬ মার্চ: বাংলাদেশ 🆚 উত্তর কোরিয়া – ভেন্যু: সিডনি

    • ৯ মার্চ: বাংলাদেশ 🆚 উজবেকিস্তান – ভেন্যু: পার্থ


    এই টুর্নামেন্টের জন্য এএফসি ১২টি দলকে চারটি পটে ভাগ করেছিল। স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও উত্তর কোরিয়া ছিল পট ১-এ। চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনাম ছিল পট ২-এ। উজবেকিস্তানসহ আরও দুটি দেশ ছিল পট ৩-এ। আর বাংলাদেশ ছিল পট ৪-এ, যেখানে ছিল ভারত ও ইরানও।

    ফলে নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত বা ইরানের একই গ্রুপে পড়ার সম্ভাবনা ছিল না। ড্র অনুযায়ী গ্রুপগুলো হলো:


    🏆 এএফসি উইমেন্স এশিয়ান কাপ ২০২৫ গ্রুপ বিভাজন:

    • গ্রুপ ‘এ’: অস্ট্রেলিয়া (স্বাগতিক), দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান, ফিলিপাইন

    • গ্রুপ ‘বি’: চীন, উত্তর কোরিয়া, বাংলাদেশ, উজবেকিস্তান

    • গ্রুপ ‘সি’: জাপান, ভিয়েতনাম, ভারত, চাইনিজ তাইপে


    এই ঐতিহাসিক ড্র ও ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানে এএফসি আমন্ত্রণ জানালেও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি। অথচ বাকি ১১টি দেশই প্রতিনিধি পাঠিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দেয়।

    বাংলাদেশের হয়ে ড্রয়ে নাম তোলার সম্মান পান ভারতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সানজিতা বাসফো, যা বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব না থাকার বিষয়টিকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।

    প্রথমবারের মতো এত বড় মঞ্চে অংশ নিতে যাওয়া ঋতুপর্ণা, আফিঈদারা দেশের হয়ে লড়বেন এক কঠিন পরীক্ষায়, যেখানে প্রতিটি ম্যাচ হবে মূল্যবান অভিজ্ঞতার সোপান।

  • তৃষ্ণার জোড়া আঘাতে উড়লো ভুটান, অপরাজিত বাংলাদেশ শীর্ষে অটুট

    তৃষ্ণার জোড়া আঘাতে উড়লো ভুটান, অপরাজিত বাংলাদেশ শীর্ষে অটুট

    এবিএনএ:  সাফ অনূর্ধ্ব-২০ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। ঘরের মাঠ বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় দেখায় ফের ভুটানকে হারিয়ে দিয়েছে লাল-সবুজের মেয়েরা। বুধবারের ম্যাচে প্রতিপক্ষকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেয় স্বাগতিক বাংলাদেশ, যেখানে তৃষ্ণা রানীর জোড়া গোল ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেয়।

    প্রথমার্ধের ৩৩তম মিনিটে গোলের সূচনা করেন তৃষ্ণা রানী। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে বাংলাদেশ দল। ৬৫ মিনিটে দ্বিতীয়বার জাল খুঁজে নিয়ে ব্যবধান বাড়ান তৃষ্ণা। এরপর ৭৪ মিনিটে স্বপ্না রানীর নিখুঁত ফিনিশিংয়ে নিশ্চিত হয় বড় জয়।

    এই ম্যাচে জয় পাওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ টানা চতুর্থ ম্যাচে পূর্ণ ১২ পয়েন্ট অর্জন করলো এবং তালিকার শীর্ষে নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করল।

    এর আগে ভুটানের বিপক্ষেই প্রথম দেখায় বাংলাদেশ ৪-১ গোলে জয় পেয়েছিল। তবে আজকের জয় ছিল আরও বেশি নিয়ন্ত্রিত ও আত্মবিশ্বাসী। মাঠে লড়াইয়ে মেয়েদের গতি, আক্রমণ ও রক্ষণভাগের সমন্বয় ছিল প্রশংসনীয়।

    সাফ টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতেও এমন পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারলে শিরোপার পথ সুগম হবে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ নারী দলের জন্য। এখন দেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের নজর থাকবে পরবর্তী ম্যাচগুলোর দিকে, যেখানে দলের আত্মবিশ্বাস আরও জোরালো হয়ে উঠবে এই জয়ের ধারাবাহিকতায়।

  • বাংলাদেশের মেয়েদের দুর্ধর্ষ পারফরম্যান্স, তিন ম্যাচেই জয় নিয়ে এশিয়া কাপে জায়গা নিশ্চিত

    বাংলাদেশের মেয়েদের দুর্ধর্ষ পারফরম্যান্স, তিন ম্যাচেই জয় নিয়ে এশিয়া কাপে জায়গা নিশ্চিত

    এবিএনএ:  বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল এএফসি নারী এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে দেখিয়েছে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। ‘সি’ গ্রুপ থেকে অপরাজিত থেকে টানা তিনটি ম্যাচ জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ২০২৫ সালের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে তারা।

    সবশেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষ ছিল তুর্কমেনিস্তান। এই ম্যাচটি নিয়মরক্ষার হলেও মাঠে নামে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ। ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ম্যাচের মাত্র ৩ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন স্বপ্না। এরপর ৬ মিনিটে শামসুন্নাহারের গোল দলকে এনে দেয় ২-০ ব্যবধানের স্বস্তি।

    ১৩ মিনিটে শামসুন্নাহার নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন। কিছুক্ষণ পরই মনিকা ও ঋতুপর্ণার পা থেকে আসে আরও দুটি দৃষ্টিনন্দন গোল। গোল বন্যায় দিশেহারা হয়ে পড়ে তুর্কমেনিস্তান, এমনকি ১৯ মিনিটেই গোলরক্ষক পরিবর্তন করতে বাধ্য হয় দলটি। এরপর ২০ মিনিটে তহুরা খাতুন গোল করে স্কোরলাইন করেন ৬-০।

    ম্যাচের ৪০ মিনিটে কর্নার থেকে পাওয়া বলে বাঁ পায়ে দুর্দান্ত এক শটে ঋতুপর্ণা চাকমা তাঁর দ্বিতীয় গোলটি করেন। প্রথমার্ধেই স্কোর দাঁড়ায় ৭-০।

    দ্বিতীয়ার্ধে দুই দল গোলের দেখা না পেলেও ম্যাচের ফলাফল নির্ধারিত হয়ে যায় প্রথমার্ধেই। ৭-০ ব্যবধানে বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ নারী দল।

    এই জয়ে তিন ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ মোট ১৬টি গোল করেছে, বিপরীতে মাত্র একটি গোল খেয়েছে মিয়ানমারের বিপক্ষে।

    এশিয়া কাপ বাছাই পর্বে মোট আটটি গ্রুপ রয়েছে। প্রত্যেক গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল মূল পর্বে খেলার সুযোগ পাবে। বাংলাদেশের মেয়েরা নিজেদের গ্রুপে সেরা হয়ে ২০২৫ সালের এশিয়া কাপে জায়গা নিশ্চিত করল গর্বের সঙ্গে।

    বাংলাদেশ নারী দলের এই জয় শুধু একটি ক্রীড়াবিজয় নয়, বরং ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় সাফল্যের পথপ্রদর্শক।

  • বিশ্বকাপের স্বপ্নে বিভোর আফিদা, ইতিহাস গড়া নারী দলকে চাই বিশ্বমঞ্চে

    বিশ্বকাপের স্বপ্নে বিভোর আফিদা, ইতিহাস গড়া নারী দলকে চাই বিশ্বমঞ্চে

    এবিএনএ: বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের ইতিহাসে এক অনন্য অর্জন—এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়া। মিয়ানমারকে পরাজিত করে কোয়ালিফাই করেই উচ্ছ্বাসে ভাসছে পুরো দল।

    এই ঐতিহাসিক জয়ের পরও সামনে অপেক্ষা করছে আরেকটি ম্যাচ—শনিবার (৫ জুলাই) তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে। যদিও এটি শুধুই নিয়মরক্ষার ম্যাচ, তবু দলের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি নেই।

    দলের অধিনায়ক আফিদা খন্দকার জানালেন, এশিয়া কাপের টিকিট পাওয়া কেবল শুরু—তাঁর স্বপ্ন আরও অনেক দূর।

    বাফুফে প্রকাশিত ভিডিওবার্তায় আফিদা বলেন, “এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। বাংলাদেশের নারী ফুটবলের ইতিহাসে আমরা প্রথমবার এশিয়ান কাপে কোয়ালিফাই করেছি। এটা বিশাল গর্বের মুহূর্ত।”

    তিনি আরও বলেন, “পুরো দল চমৎকার মেজাজে আছে। আজ ট্রেনিং সেশনে সবাই খুব এনজয় করেছে। দেশের মানুষের যে ভালোবাসা ও সমর্থন আমরা পাচ্ছি, তা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার শক্তি।”

    তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি নিয়মরক্ষার হলেও গুরুত্ব হারায়নি। কারণ, আফিদার চোখে এখন বিশ্বকাপ। “এই ম্যাচেও আমরা সেরা পারফর্ম করতে চাই। ভবিষ্যতে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন আমাদের সবার। সামনে যদি সেই সুযোগ আসে, আমরা সেটি কাজে লাগাতে চাই,” বলেন আফিদা।

    বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের এমন সাফল্য কেবল গর্বই নয়, ভবিষ্যতের অনুপ্রেরণাও। বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব দেখার অপেক্ষায় এখন গোটা জাতি।

  • বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশের মেয়েরা, ইন্দোনেশিয়া-জর্ডানের বিপক্ষে দুর্দান্ত লড়াইয়ের পুরস্কার

    বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশের মেয়েরা, ইন্দোনেশিয়া-জর্ডানের বিপক্ষে দুর্দান্ত লড়াইয়ের পুরস্কার

    এবিএনএ:

    বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের জন্য সুখবর! সদ্য প্রকাশিত ফিফা নারী ফুটবলের সর্বশেষ বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে পাঁচ ধাপ এগিয়ে ১২৮তম স্থানে উঠে এসেছে রিতুপর্ণা-আফিয়ারা। সম্প্রতি জর্ডান সফরে দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলে অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি পেয়েছে তারা।

    প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ০-০ গোলে ড্র করার পর, দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক জর্ডানের সঙ্গে ২-২ ব্যবধানে ম্যাচ শেষ করে পিটার জেমস বাটলারের শিষ্যারা। এই দুটি ড্র বাংলাদেশের র‍্যাঙ্কিং উন্নতিতে বড় প্রভাব ফেলে।

    এই দুই ম্যাচে বাংলাদেশের কাছ থেকে পয়েন্ট হারানোর কারণে জর্ডান ও ইন্দোনেশিয়া এক ধাপ করে পিছিয়ে পড়েছে। বর্তমানে জর্ডান রয়েছে ৭৫তম এবং ইন্দোনেশিয়া ৯৫তম স্থানে।

    ২০১৯ সালের পর এবারই প্রথম ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে এত বড় অগ্রগতি করল বাংলাদেশের মেয়েরা। ওই সময় দলটি ১৩০তম স্থানে উঠেছিল। এবারের উন্নতি নতুন আত্মবিশ্বাস জোগাবে দলকে।

    বিশ্ব নারী র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ তিনে কোনো পরিবর্তন নেই—যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন ও জার্মানি যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে। তবে ব্রাজিল চার ধাপ এগিয়ে এখন চতুর্থ অবস্থানে।

    আগামী জুনের শেষদিকে মিয়ানমারে শুরু হতে যাওয়া এএফসি উইমেন’স এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বে অংশ নেবে বাংলাদেশ। সেখানে বাহরাইন, তুর্কমেনিস্তান ও স্বাগতিক মিয়ানমার থাকবে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে। এই র‍্যাঙ্কিং উন্নতি বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য একটি প্রেরণার উৎস হয়ে উঠতে পারে।