Tag: বাংলাদেশ চলচ্চিত্র

  • শেষ ৩ ঘণ্টায় কী ঘটেছিল অভিনেতা শামস সুমনের জীবনে? নেপথ্যের হৃদয়বিদারক গল্প

    শেষ ৩ ঘণ্টায় কী ঘটেছিল অভিনেতা শামস সুমনের জীবনে? নেপথ্যের হৃদয়বিদারক গল্প

    এবিএনএ: জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা শামস সুমন-এর আকস্মিক মৃত্যুতে শোকাহত দেশের শোবিজ অঙ্গন। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) তার মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই সহকর্মী ও ভক্তদের মাঝে নেমে আসে গভীর শোক ও বিস্ময়।

    তার এই হঠাৎ চলে যাওয়াকে অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভেসে উঠছে অসংখ্য স্মৃতিচারণা—কেউ বলছেন, ‘এভাবে যাওয়ার কথা না’, আবার কেউ আক্ষেপ করছেন শেষবার দেখা না হওয়ার কষ্টে।

    ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেও তিনি তুলনামূলক স্বাভাবিক ছিলেন বলে জানান সহকর্মীরা। অভিনেতা আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিকেল প্রায় ৩টা ৪৫ মিনিটে ভিডিও কলে কথা হয় তাদের। তখনই শামস সুমনের শারীরিক অবস্থা ভালো না বলে মনে হচ্ছিল। তিনি হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিলে সুমনও সম্মতি জানান, কিন্তু সেটিই যে শেষ যাত্রা হয়ে যাবে, তা কেউ কল্পনা করেননি।

    বিকেলের পর তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। বিকেল ৫টার কিছু পর রাজধানীর গ্রিন রোডের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে নেওয়া হয়। আশ্চর্যের বিষয়, হাসপাতালে পৌঁছেও তিনি সচেতন ছিলেন—নিজেই হেঁটে চলাফেরা করেছেন এবং সবার সঙ্গে কথা বলেছেন।

    অভিনেতা মাসুদ রানা মিঠু জানান, হাসপাতালে গিয়ে তিনি দেখেন সুমন এমআরআই কক্ষে রয়েছেন। কিছুক্ষণ পর তিনি নিজেই হেঁটে বেরিয়ে এসে সবার দিকে তাকিয়ে হাসেন। তখনও কেউ বুঝতে পারেননি সামনে কী ভয়াবহতা অপেক্ষা করছে।

    কিন্তু হঠাৎই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। এমআরআই শেষে পোশাক পরিবর্তনের সময় আচমকা মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন শামস সুমন। সহকর্মীরা দ্রুত তাকে ধরে তোলার চেষ্টা করেন। সেই মুহূর্তে তিনি ‘ও আল্লাহ, ও মা’ বলে কাতর স্বরে ডেকে ওঠেন, এরপরই নিস্তব্ধ হয়ে যান।

    তাৎক্ষণিকভাবে তাকে জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা প্রায় ৪০ মিনিট ধরে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। সন্ধ্যা ৬টা ৪৩ মিনিটে চিকিৎসকরা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    পরে জানা যায়, হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে (কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট) তার মৃত্যু হয়েছে।

    জীবনের শেষ সময়টা খুব সহজ ছিল না এই অভিনেতার জন্য। দীর্ঘদিন কাজের বাইরে থাকা, শারীরিক সমস্যা এবং ব্যক্তিগত নিঃসঙ্গতা তাকে ঘিরে ছিল। পরিবার দেশের বাইরে থাকলেও তার ইচ্ছা ছিল আবার অভিনয়ে ফিরে আসার—ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর।

  • আলো নিভে গেছে, নীরবতা গ্রাস করেছে: সিনেমার প্রাণকেন্দ্র এফডিসি কি সত্যিই ভূতুড়ে ভবনে পরিণত?

    আলো নিভে গেছে, নীরবতা গ্রাস করেছে: সিনেমার প্রাণকেন্দ্র এফডিসি কি সত্যিই ভূতুড়ে ভবনে পরিণত?

    এবিএনএ: এক সময় যেখানে প্রতিদিন শোনা যেত “লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশন”—আজ সেখানে নেমে এসেছে নিস্তব্ধতা। ঢাকাই সিনেমার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) এখন কার্যত অচল এক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। শুটিং ফ্লোরে নেই ব্যস্ততা, ডাবিং স্টুডিওতে নেই কণ্ঠের কোলাহল, আর ঝলমলে আলোয় ভরা সেই পরিবেশ এখন শুধুই স্মৃতি।

    ২০২২ সালে শুরু হওয়া বহুল আলোচিত বিএফডিসি কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প এখনো শেষ হয়নি। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কাজের অগ্রগতি প্রায় ৪০ শতাংশের বেশি নয়। সংশোধিত সময় অনুযায়ী ২০২৬ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবতা নিয়ে সংশয় কাটেনি। ব্যয়ও বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৬৫ কোটি টাকায়।

    ১৯৫৭ সালে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠান একসময় দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা রূপ নেয় আমলাতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানে। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ—যাঁরা দায়িত্বে এসেছেন, তাঁদের অনেকেই সিনেমার উন্নয়নের বদলে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থে বেশি মনোযোগ দিয়েছেন। এর ফলেই ধীরে ধীরে কার্যকারিতা হারিয়েছে এফডিসি।

    অর্থনৈতিক দিক থেকেও চরম সংকটে রয়েছে সংস্থাটি। ২০১৬ সাল থেকে নিয়মিত ভর্তুকি ও ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে এফডিসি। গত এক দশকে সরকার থেকে প্রায় ৮০ কোটি টাকার অনুদান ও ঋণ নিতে হয়েছে। অথচ লোকসান কমেনি; বরং নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, প্রতিষ্ঠানের মোট লোকসান ছাড়িয়েছে ১৪২ কোটি টাকা।

    প্রযুক্তিগত দিক থেকেও এফডিসি পিছিয়ে পড়েছে বহু বছর। আধুনিক ক্যামেরা, সাউন্ড সিস্টেম, এডিটিং সফটওয়্যার কিংবা ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট সুবিধা—সব ক্ষেত্রেই রয়েছে চরম ঘাটতি। অধিকাংশ যন্ত্রপাতি পুরোনো ও অচল। ফলে নির্মাতারা বাধ্য হচ্ছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে সরঞ্জাম ভাড়া নিতে। শুটিং ও ডাবিংয়ের কাজও বাইরে করাতে হচ্ছে।

    বর্তমানে এফডিসিতে কার্যকর শুটিং ফ্লোরের সংখ্যা কমে এসেছে। আগে যেখানে নয়টি ফ্লোর ছিল, সেখানে এখন কার্যত ব্যবহারের উপযোগী মাত্র কয়েকটি। অনেক শুটিং স্পট নষ্ট হয়ে গেছে, অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ নেই বললেই চলে। ছাদ চুইয়ে পানি পড়া, নষ্ট এসি—এসব অভিযোগ এখন নিয়মিত।

    এফডিসির বর্তমান ব্যবস্থাপনা মনে করে, আন্তরিক উদ্যোগ ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে ঘুরে দাঁড় করানো সম্ভব। ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান তানি জানিয়েছেন, সেবা মূল্য কমানো ও নিয়ম সহজ করার ফলে সাম্প্রতিক সময়ে আয় কিছুটা বেড়েছে। তাঁর মতে, আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করা গেলে এবং সঠিক পরিকল্পনায় এগোলে এফডিসিকে আবার লাভজনক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

    তবে চলচ্চিত্রকারদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে এফডিসিকে বিকল্প ব্যবহারের চিন্তা ও ‘গবেষণাগার’ হিসেবে রূপান্তরের প্রস্তাব। তাঁদের আশঙ্কা, এতে দেশের চলচ্চিত্র শিল্প আরও কোণঠাসা হয়ে পড়বে।

    সাত দশকের ঐতিহ্য বহন করা এই প্রতিষ্ঠান এখন দাঁড়িয়ে আছে এক অনিশ্চিত মোড়ে। আলো-ঝলমলে অতীত ফিরে আসবে, নাকি এফডিসি সত্যিই রূপ নেবে এক ভূতুড়ে ভবনে—এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে চলচ্চিত্র অঙ্গনে।

  • নিজ থেকে অনুদান কমিটি ছাড়লেন মম, জানালেন কারণ

    নিজ থেকে অনুদান কমিটি ছাড়লেন মম, জানালেন কারণ

    এবিএনএ:  চলচ্চিত্র অনুদান কমিটি থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করেছেন দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম। প্রায় এক মাস আগেই তিনি পদত্যাগ করেন, তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে সম্প্রতি ৩২টি চলচ্চিত্রকে প্রায় ১৩ কোটি টাকা অনুদান প্রদানের দিন।

    মম নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, “২৫ মে আমি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর। ব্যক্তিগত ও পেশাগত ব্যস্ততার কারণে আমি কমিটিতে সময় দিতে পারছিলাম না।”

    দেশপ্রেম ও সংস্কারের দাবিতে বরাবরই সোচ্চার মম, ২০২১ সালের শিল্পী আন্দোলনের সময়ও ছিলেন সম্মুখ সারিতে। তখনকার শুটিং ব্যস্ততা ফেলে চলচ্চিত্রের উন্নয়নে তিনি হাসিমুখেই যুক্ত হন এই অনুদান কমিটিতে।

    কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মম বুঝতে পারেন, তাঁর ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত কাজ তিনি করতে পারছেন না। সেই প্রসঙ্গে মম বলেন, “আমি ক্ষমতার আশায় কমিটিতে আসিনি, শুধু চলচ্চিত্রের জন্য কাজ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু যখন দেখলাম সেটা সম্ভব হচ্ছে না, তখনই ভাবলাম, আমার জায়গায় কেউ যোগ দিলে হয়তো ভালো হবে। তাই নিজেই সরে দাঁড়িয়েছি।”

    অনুদান কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (চলচ্চিত্র), সচিব, বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, নির্মাতা ও প্রযোজক আকরাম খান, নির্মাতা নার্গিস আখতার, এবং রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদের সভাপতি আহমেদ মুজতবা জামাল।

    এই কমিটির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। উল্লেখ্য, তার আগে ওই পদে ছিলেন মো. নাহিদ ইসলাম।

    চলচ্চিত্রে গঠনমূলক পরিবর্তনের আশায় গঠিত এই কমিটির গুরুত্বপূর্ণ একটি মুখ ছিলেন মম। তাঁর এই সরে দাঁড়ানো চলচ্চিত্র অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

  • কাশিমপুর থেকে মুক্তি পেয়ে ফেসবুকে আবেগঘন বার্তা দিলেন নুসরাত ফারিয়া

    এবিএনএ:  চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর নিজের ফেসবুক পেইজে একটি আবেগঘন বার্তা দিয়ে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে মুক্তি পান। মুক্তির পরপরই তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঢাকায় রওনা দেন।

    জামিনের এক ঘণ্টা পর, তার ফেসবুক পেইজের পক্ষ থেকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে বলা হয়, “গত দুই দিন আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল। মানসিকভাবে একেবারে ভেঙে পড়েছিলাম। কিন্তু যাঁরা এই দুঃসময়ে আমার পাশে ছিলেন, তাঁদের প্রতি আমি অন্তর থেকে কৃতজ্ঞ।”

    পোস্টটিতে আরও লেখা হয়, “আমার সহকর্মী, বিনোদন অঙ্গনের মানুষজন, এমনকি সাধারণ জনগণ—যাঁরা আমার পক্ষে কথা বলেছেন, ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন—আপনাদের ভালোবাসা কখনো ভুলব না। আপনাদের এই সাহস সমর্থন ছাড়া হয়তো এত দ্রুত আবার আপনাদের মাঝে ফিরতে পারতাম না।”

    সংবাদমাধ্যমের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ফারিয়ার বার্তায় বলা হয়, “গণমাধ্যমের এই সহযোগিতা আমার জন্য খুব প্রয়োজন ছিল। আপনারা আমার পাশে থেকেছেন, এটি আমি চিরকাল মনে রাখব।”

    উল্লেখ্য, গত ১৮ মে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নুসরাত ফারিয়াকে আটক করে পুলিশ। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজধানীর ভাটারা থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। জামিনে মুক্তির মাধ্যমে অবশেষে তিনি ফিরলেন স্বাভাবিক জীবনে।