Tag: বাংলাদেশের রাজনীতি

  • হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ড. কামাল হোসেন, শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ

    হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ড. কামাল হোসেন, শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ

    এবিএনএ: বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম রচয়িতা এবং গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. কামাল হোসেন গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শুক্রবার তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতাল—স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    গণফোরামের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোহাম্মদ উল্লাহ মধু বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ড. কামাল হোসেন বর্তমানে ফুসফুসজনিত জটিলতায় ভুগছেন। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে তার চিকিৎসা চলছে।

    তিনি আরও জানান, ড. কামাল হোসেনের দ্রুত আরোগ্য কামনায় দলের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।

    উল্লেখ্য, অসুস্থ হওয়ার আগেই ড. কামাল হোসেন সর্বশেষ গত বুধবার বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে উপস্থিত ছিলেন। এরপরই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

  • জামায়াতের সঙ্গে জোট মানে নীতির বিসর্জন: নাহিদ ইসলামকে এনসিপির ৩০ নেতার কঠোর বার্তা

    জামায়াতের সঙ্গে জোট মানে নীতির বিসর্জন: নাহিদ ইসলামকে এনসিপির ৩০ নেতার কঠোর বার্তা

    এবিএনএ: জামায়াতে ইসলামীকে অন্তর্ভুক্ত করে ৮ দলীয় রাজনৈতিক জোট কিংবা আসন সমঝোতার সম্ভাবনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির ৩০ জন নেতা। এ বিষয়ে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বরাবর একটি নীতিগত স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন তারা।

    শনিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন স্মারকলিপিতে প্রথম স্বাক্ষরকারী এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও মিডিয়া সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন। তিনি জানান, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দায়বদ্ধতা, দলের ঘোষিত আদর্শ ও গণতান্ত্রিক নৈতিকতার আলোকে’ সম্ভাব্য জোটের বিরুদ্ধে এই অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

    স্মারকলিপিতে নেতারা উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামীসহ ৮ দলীয় জোটের সঙ্গে রাজনৈতিক বোঝাপড়ার আলোচনা দলের নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাদের মতে, কৌশলগত সুবিধার জন্য আদর্শ বিসর্জন দেওয়া হলে এনসিপির রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

    চিঠিতে বলা হয়, গত এক বছরে জামায়াত ও তাদের ছাত্র সংগঠনের বিভাজনমূলক রাজনৈতিক তৎপরতা, এনসিপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার, নারী নেত্রীদের চরিত্রহননের চেষ্টা এবং ধর্মভিত্তিক সামাজিক ফ্যাসিবাদের আশঙ্কা দেশের ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বহন করছে।

    এছাড়া ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালে জামায়াতের ভূমিকা, মানবতাবিরোধী অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রশ্নে তাদের অবস্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চেতনা ও এনসিপির মূল দর্শনের সঙ্গে মৌলিকভাবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

    নেতারা আরও বলেন, এনসিপি একটি গণঅভ্যুত্থান-উদ্ভূত রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে মানবাধিকার, ধর্মীয় সহনশীলতা, নারী-পুরুষের সমতা, সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও নাগরিক অধিকার রক্ষার দায় বহন করে। জামায়াতের সঙ্গে জোট হলে এই নৈতিক অবস্থান দুর্বল হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে দলের সমর্থকভিত্তি ক্ষয় হবে।

    চিঠিতে নাহিদ ইসলামকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়—এর আগে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা, সংস্কারভিত্তিক রাজনীতির প্রতিশ্রুতি এবং জামায়াতের দ্বিচারিতা নিয়ে তাঁর প্রকাশ্য অবস্থানের কথা। অল্প কয়েকটি আসনের জন্য জোটে যাওয়া জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলেও মন্তব্য করেন নেতারা।

    স্মারকলিপির শেষে তারা সম্মান বজায় রেখে অনুরোধ জানান, ভবিষ্যৎ জোটনীতি নির্ধারণে নীতিগত প্রশ্নগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে এবং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক জোটে না যাওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে।

  • সরকারের বিরুদ্ধে তোপ: ‘দেশের চব্বিশটা বাজিয়ে দিয়েছে’—মির্জা আব্বাস

    সরকারের বিরুদ্ধে তোপ: ‘দেশের চব্বিশটা বাজিয়ে দিয়েছে’—মির্জা আব্বাস

    এবিএনএ: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার দেশের পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে নিয়ে গেছে। তার ভাষায়, “আগে শেখ হাসিনা বারোটা বাজিয়েছে, আর এই সরকার চব্বিশটা বাজিয়ে দিয়েছে।”

    শনিবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ অনুষ্ঠানটি গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজন করা হয়।

    মির্জা আব্বাস বলেন, “দেশে কত দিক দিয়ে ক্ষতি হয়েছে, কারা লুটপাট করেছে, কীভাবে অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে—সব প্রমাণ আমার কাছে আছে। তবে এই অবস্থান থেকে এখনই তা প্রকাশ করতে চাই না।”

    তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিএনপিকে নানা ঘটনার জন্য দায়ী করা হচ্ছে। “যেখানেই খুন, লুটপাট, চাঁদাবাজি—সেখানেই বিএনপির নাম বলে একদল মানুষ। এভাবে জনগণের চোখে বিএনপিকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর চেষ্টা হচ্ছে,” বলেন তিনি।

    নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপিকে উদ্দেশ করে মির্জা আব্বাস বলেন, “আপনাদের যেমন ক্ষমতায় যাওয়ার ইচ্ছা আছে, আমাদেরও তেমন আছে। তবে ক্ষমতায় যাওয়ার একটাই উপায়—জনগণের ভোট। ভোট পেলে ক্ষমতায় যাব, না পেলে মেনে নেব।”

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচনের কথা মুখে বললেও মনে মনে চায় না নির্বাচন হোক, কারণ তারা মনে করে বিএনপি জিতবে। “বিএনপি দেশ শাসন করে না, দেশ পরিচালনার চেষ্টা করে,” বলেন তিনি।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন জাসাস ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শওকত আজিজ। বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম, জনশক্তিবিষয়ক সম্পাদক এম এ মালেক, জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক হেলাল উদ্দীন, গণঅভ্যুত্থানে নিহত মিরাজের বাবা আব্দুর রব মিয়াসহ অনেকে। আলোচনা শেষে জাসাস শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।

  • বিভাজনের অতীত ভুলে ঐক্যের আহ্বান উপদেষ্টা মাহফুজের — আন্তরিক দুঃখপ্রকাশ ফেসবুক বার্তায়

    বিভাজনের অতীত ভুলে ঐক্যের আহ্বান উপদেষ্টা মাহফুজের — আন্তরিক দুঃখপ্রকাশ ফেসবুক বার্তায়

    এবিএনএ: 

    তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম অতীতের কিছু মন্তব্য ও শব্দচয়নের জন্য গভীর অনুশোচনার কথা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক আবেগঘন পোস্টে তিনি দেশপ্রেমিক জনগণের প্রতি ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান জানান।

    তিনি লেখেন, “ব্যক্তিগত আদর্শ কিংবা আবেগের চেয়ে দেশের স্বার্থ সর্বাগ্রে। অতীতের কিছু বক্তব্য যদি বিভাজনের জন্ম দিয়ে থাকে, তবে আমি তা নিয়ে আন্তরিকভাবে দুঃখিত।”

    তিনি আরও বলেন, “যতদিন সরকারে আছি, ততদিন সকল মত ও শক্তির প্রতি সম্মান বজায় রেখে সংবেদনশীলভাবে কাজ করতে চাই।” সেইসঙ্গে তিনি অতীতের বিভেদমূলক স্লোগান ও তকমা ব্যবহারের বিরোধিতা করে বলেন, এসব উপেক্ষা করে আমরা যদি একসাথে এগিয়ে যাই, তবে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ হবে গণতান্ত্রিক ও সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক।

    ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র আজ হুমকির মুখে, কারণ আক্রমণাত্মকভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে উঠেছে দেশের শত্রুরা। এই প্রেক্ষাপটে, তিনি সেই সব দেশপ্রেমিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, যারা জুলাই অভ্যুত্থানের সময় একসঙ্গে ছিলেন— “এই মুহূর্তে আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ঐক্য ও ধৈর্যের। এবং এই পরীক্ষায় আমাদের সফল হতেই হবে।”

    এমন বার্তা দেশের রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিচ্ছে— বিভেদের বদলে সংহতির পথেই যে ভবিষ্যত নিরাপদ, সেটিই যেন বোঝাতে চাইলেন উপদেষ্টা মাহফুজ।