Tag: বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

  • মাতুয়াইলে ভয়াবহ আগুন, বিষাক্ত ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত দক্ষিণ ঢাকা

    মাতুয়াইলে ভয়াবহ আগুন, বিষাক্ত ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত দক্ষিণ ঢাকা

    এবিএনএ: ঢাকা দক্ষিণের সবচেয়ে বড় ময়লার ভাগাড় মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল টানা কয়েকদিন ধরে আগুনে পুড়ছে। ময়লার স্তূপে ছড়িয়ে পড়া আগুনের ধোঁয়া ও তীব্র দুর্গন্ধে আশপাশের বাসিন্দাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় এই অগ্নিকাণ্ডের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে ডেমরা, কোনাপাড়া, যাত্রাবাড়ী, জুরাইন হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশাল বর্জ্যস্তূপের বিভিন্ন অংশে একযোগে আগুন জ্বলছে। ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী বাতাসে ভেসে আশপাশের জনপদ ঢেকে দিচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, দিনের বেশিরভাগ সময়ই ধোঁয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে। অনেকের কাশি, শ্বাসকষ্ট ও চোখ জ্বালাপোড়ার সমস্যা বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি।

    আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। তবে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা জানান, আগুন এক জায়গায় নয়—ময়লার পাহাড়ের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে থাকায় নেভাতে সময় লাগছে। বিশাল আয়তনের ল্যান্ডফিলে আগুনের উৎস শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

    পরিবেশবিদরা বলছেন, ঢাকায় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উৎপন্ন হয়। দুই সিটি করপোরেশন মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে সাত হাজার টন বর্জ্য তৈরি হচ্ছে, যার বড় অংশই শেষ পর্যন্ত ড্রেন, খাল ও জলাশয়ে গিয়ে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। ল্যান্ডফিলে বারবার অগ্নিকাণ্ড এই দুর্বল ব্যবস্থাপনারই ফল।

    বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের তাগিদ দিয়ে পরিবেশ সংগঠন মিশন গ্রিন বাংলাদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক আহসান রনি বলেন, যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলার প্রবণতা বন্ধে কার্যকর নজরদারি নেই। নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলতে মানুষকে প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা দেওয়া হয় না। ল্যান্ডফিলে ফেলে শুধু ময়লা পুঁতে রাখার বদলে প্রযুক্তির মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের উদ্যোগ নিলে দূষণ কমবে এবং অর্থনৈতিক মূল্যও তৈরি হবে।

    এদিকে, সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। উৎসে বর্জ্য পৃথকীকরণ ও নির্ধারিত স্থানে ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্জ্য পৃথকীকরণ, পুনর্ব্যবহার ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা ছাড়া এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড ও দূষণ রোধ সম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমেই ঢাকার বর্জ্য সংকট থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব।

  • ঈদে চামড়ার দাম নিয়ে আর জটিলতা নয়, সিন্ডিকেট রোধে কঠোর হবেন প্রধান উপদেষ্টা

    ঈদে চামড়ার দাম নিয়ে আর জটিলতা নয়, সিন্ডিকেট রোধে কঠোর হবেন প্রধান উপদেষ্টা

    এবিএনএ:  আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গঠন করেছেন একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি। রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “প্রতি বছর দেখা যায়, দরিদ্র জনগোষ্ঠী যারা চামড়া বিক্রির মাধ্যমে সামান্য উপার্জনের আশা করেন, তারা প্রাপ্য দাম থেকে বঞ্চিত হন। এটা দুর্ভাগ্যজনক এবং এই অবস্থার অবসান প্রয়োজন।”

    তিনি স্পষ্ট করে জানান, চামড়ার বাজারে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে, যারা কৌশলে দাম নিয়ন্ত্রণ করে। এই সিন্ডিকেটকে ভাঙতেই এই উদ্যোগ।

    চামড়া সংগ্রহ, পরিবহন, সংরক্ষণ এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রতিটি পর্যায়ে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেন তিনি। পশুর প্রতি যেন অমানবিক আচরণ না হয়, সেদিকেও বিশেষ দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানান।

    📌 গঠিত কমিটি ও সদস্যরা:
    বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। এছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমসহ আরও অনেকে।

    প্রধান উপদেষ্টা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে ইটিপির সঠিক ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

    এছাড়াও, কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যেন নগরবাসীর জন্য সমস্যা না হয়, সেদিকেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে ঈদে চামড়ার বাজারে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।