এবিএনএ: দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে নতুন করে ৮৪৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে মারা গেছেন আরও চারজন। এ বছর একদিনে সর্বাধিক রোগী ভর্তির রেকর্ড এটি।
এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর একদিনে ৭৪০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হওয়ার তথ্য দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
মৃত্যু ও আক্রান্তের সর্বশেষ চিত্র
গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া চারজনের মধ্যে দুজন নারী ও দুজন পুরুষ। তারা চিকিৎসাধীন ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কভিড-১৯ হাসপাতালে।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গুতে ভর্তি রয়েছেন ২ হাজার ২৩০ জন রোগী। এর মধ্যে ঢাকার বাইরে ভর্তি আছেন ১ হাজার ৪৮৪ জন এবং ঢাকার ভেতরে ৭৪৬ জন।
বিভাগভিত্তিক পরিস্থিতি
সর্বশেষ একদিনে নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশালে সর্বাধিক ১৬৬ জন। ঢাকার মহানগরে ভর্তি হয়েছেন ২০৯ জন, ঢাকার অন্য অংশে ১৬৪ জন, খুলনায় ১০১ জন, চট্টগ্রামে ৯১ জন, রাজশাহীতে ৫৪ জন, ময়মনসিংহে ৩৭ জন, রংপুরে ১৭ জন এবং সিলেটে ৬ জন।
চলতি বছরের পরিসংখ্যান
২০২৫ সালে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৬ হাজার ৫১ জন, আর প্রাণ হারিয়েছেন ১৯২ জন। আক্রান্তের দিক থেকে বরিশাল বিভাগ শীর্ষে, আর মৃত্যুর দিক থেকে এগিয়ে ঢাকা মহানগর।
বরিশালে আক্রান্ত ১৩ হাজার ৯৪ জন, মৃত্যুর সংখ্যা ২৮। ঢাকা মহানগরে আক্রান্ত ১২ হাজার ২৩৭ জন, তবে মৃত্যু হয়েছে সবচেয়ে বেশি—১১৯ জনের।
মাসভিত্তিক সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান
-
জানুয়ারি: ১,১৬১ জন আক্রান্ত, ১০ জন মৃত্যু
-
ফেব্রুয়ারি: ৩৭৪ আক্রান্ত, ৩ মৃত্যু
-
মার্চ: ৩৩৬ আক্রান্ত, কোনো মৃত্যু হয়নি
-
এপ্রিল: ৭০১ আক্রান্ত, ৭ মৃত্যু
-
মে: ১,৭৭৩ আক্রান্ত, ৩ মৃত্যু
-
জুন: ৫,৯৫১ আক্রান্ত, ১৯ মৃত্যু
-
জুলাই: ১০,৬৮৪ আক্রান্ত, ৪১ মৃত্যু
-
আগস্ট: ১০,৪৯৬ আক্রান্ত, ৩৯ মৃত্যু
-
সেপ্টেম্বর (২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত): ১৪,৫৭৫ আক্রান্ত, ৭০ মৃত্যু
আগের বছরের তুলনা
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ২০০০ সাল থেকে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ২০২৩ সাল সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল। সে বছর ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং মারা যান ১ হাজার ৭০৫ জন। ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা নেমে আসে ১ লাখ ১ হাজার ৯৯৭-এ, আর মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৫৭৫।
চলতি বছরের পরিসংখ্যান দেখে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ২০২৩ সালের ভয়াবহতাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে ২০২৫ সালের ডেঙ্গু সংকট।









