Tag: বন্যা

  • উত্তরাঞ্চলে টানা বৃষ্টির সতর্কতা, সিলেট–সুনামগঞ্জে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা

    উত্তরাঞ্চলে টানা বৃষ্টির সতর্কতা, সিলেট–সুনামগঞ্জে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা

    এবিএনএ: দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে টানা বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শনিবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী কয়েকদিন ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে, যার প্রভাবে কিছু এলাকায় সাময়িক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, উত্তরাঞ্চল ও সংলগ্ন অঞ্চলে গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হয়েছে, যা অন্তত ৯৬ ঘণ্টা সক্রিয় থাকতে পারে। এর ফলে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। অতিবৃষ্টির কারণে এসব অঞ্চলের শহর ও নিম্নাঞ্চলে অস্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    এদিকে আবহাওয়া বিষয়ক বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম জানিয়েছে, প্রাক-মৌসুমী শক্তিশালী বৃষ্টিবলয় ‘ঝুমুল’ বাংলাদেশের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই বৃষ্টিবলয় ২৫ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ৭ মে পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। এ সময় দেশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টি, কালবৈশাখী ঝড় এবং কোথাও কোথাও অতি ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথমে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাত বেশি হলেও ২৮ বা ২৯ এপ্রিল থেকে ধীরে ধীরে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ২৯ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত অধিকাংশ এলাকায় নিয়মিত ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা থাকতে পারে, যদিও মাঝেমধ্যে স্বল্প বিরতি থাকতে পারে।

    উজানের মেঘালয়, আসাম ও চেরাপুঞ্জি এলাকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এসব এলাকায় ৫০০ থেকে ৭০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর প্রভাবে পাহাড়ি ঢল নেমে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে সাময়িক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় এই বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম।

    আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, এই সময় দমকা হাওয়া বা ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। কিছু স্থানে এর চেয়েও বেশি বা কম গতিবেগ দেখা যেতে পারে।

    টানা বৃষ্টিপাতের কারণে হাওর অঞ্চলে চলমান ধান কাটার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষকরা সময়মতো ধান কাটতে না পারলে ফসলের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

    এদিকে বৃষ্টিপাত বাড়ার ফলে আগামী কয়েকদিনে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে পারে। ২৮ বা ২৯ এপ্রিল থেকে আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৪৫ থেকে ৫৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধির গুজবও নাকচ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, অতিবৃষ্টির কারণে বরং তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনাই বেশি।

  • উপকূলজুড়ে জোয়ারের তাণ্ডব: শত শত এলাকা প্লাবিত, জনদুর্ভোগ চরমে

    উপকূলজুড়ে জোয়ারের তাণ্ডব: শত শত এলাকা প্লাবিত, জনদুর্ভোগ চরমে

    এবিএনএ:  সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ভয়াবহ জোয়ার ও টানা বৃষ্টির কারণে দেখা দিয়েছে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি। লক্ষ্মীপুর, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি এবং বরগুনা জেলার নিম্নাঞ্চলের শতাধিক গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বাড়িঘর, সড়ক, ফসলি জমি ও মাছের ঘের ডুবে যাওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।

    লক্ষ্মীপুরে পানি বাড়ছেই, নদীভাঙনের নতুন শঙ্কা

    লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি, কমলনগর ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল মেঘনা নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত দুই দিন ধরে নদীর পানি চার থেকে পাঁচ ফুট পর্যন্ত বেড়েছে। কমলনগর ও রামগতির অন্তত ১২টি এলাকায় নতুন করে নদীভাঙন শুরু হয়েছে।

    পিরোজপুরে শতাধিক গ্রামের মানুষের ঘরবাড়ি পানির নিচে

    জেলার কঁচা, বলেশ্বর, কালিগঙ্গা, মধুমতীসহ ছয়টি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হওয়ায় সাত উপজেলার শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পিরোজপুর সদরের পাশাপাশি ইন্দুরকানী, কাউখালী ও মঠবাড়িয়ায় কৃষিজমি ও পুকুর ডুবে গেছে। জেলা প্রশাসক আশ্বাস দিয়েছেন, পানিবন্দি পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

    পটুয়াখালীতে নদীবাঁধ ভেঙে আমন ক্ষেত প্লাবিত

    পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী, গলাচিপা, কলাপাড়া, দশমিনা, বাউফল, দুমকী ও মির্জাগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকায় জোয়ারের পানি ঢুকে পড়েছে। দুমকীর মুরাদিয়া এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। জেলা শহরের কিছু এলাকাও প্লাবিত হয়েছে।

    ঝালকাঠির নদীগুলো ফুঁসে উঠেছে

    সুগন্ধা, বিষখালী, হলতা ও গাবখান চ্যানেলের পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার চারটি উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। শহরের পুরাতন কলাবাগ, লঞ্চঘাটসহ অনেক এলাকা এখন পানির নিচে।

    বরগুনায় ৩৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে পানি

    পায়রা, বলেশ্বর ও বিষখালী নদীতে পানি বিপৎসীমার অনেক ওপরে উঠেছে। এর ফলে বরগুনার উপকূলীয় গ্রামগুলোয় ঢুকে পড়েছে নদীর পানি। আমন ধান ও চিংড়ির ঘেরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কতা

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ ভারতের দিকে অগ্রসর হলেও উপকূলে দুর্যোগপূর্ণ অবস্থা অব্যাহত থাকবে। ৩ নম্বর সমুদ্র এবং ১ নম্বর নদী সতর্কতা সংকেত বহাল রয়েছে।

  • বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ: সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত, ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস

    বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ: সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত, ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস

    এবিএনএ, ঢাকা:

    বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া ও ভারি বৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি করেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে।

    এই নিম্নচাপের প্রভাবে ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে। চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবন ও কক্সবাজার জেলার পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উত্তর–পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও কাছাকাছি এলাকায় লঘুচাপটি সৃষ্টি হয়েছে এবং এটি ঘনীভূত হতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

    ভারি বৃষ্টির কারণে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের চার বিভাগের নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে। বিশেষ করে ফেনী জেলার মুহুরী নদী, সিলেটের সারিগোয়াইন, সুনামগঞ্জের যাদুকাটা, হবিগঞ্জের খোয়াই ও নেত্রকোনা জেলার সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হতে পারে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জনগণকে সতর্ক করে বলেছে, ভারি বৃষ্টির কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরে অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। সুতরাং, উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে এবং সমুদ্রপথে চলাচলকারী সকলকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

    আবহাওয়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া হবে। জনগণকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুসরণ করতে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে অনুরোধ করা হচ্ছে।