Tag: বন্যপ্রাণী

  • মাছের ঘেরে আতঙ্ক! ১২ ফুটের বিশাল অজগর উদ্ধার, গভীর রাতে সুন্দরবনে অবমুক্ত

    মাছের ঘেরে আতঙ্ক! ১২ ফুটের বিশাল অজগর উদ্ধার, গভীর রাতে সুন্দরবনে অবমুক্ত

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা বাজার এলাকায় একটি মাছের ঘের থেকে প্রায় ১২ ফুট লম্বা একটি অজগর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে সেচ দিতে গিয়ে ঘেরের ভেতরে বিশাল আকৃতির সাপটি দেখতে পান এক স্থানীয় ঘের মালিক। মুহূর্তে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে তিনি বন বিভাগকে বিষয়টি জানান।

    খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সতর্কতার সঙ্গে অজগরটিকে নিয়ন্ত্রণে এনে রাতেই সুন্দরবন–এর শরণখোলা রেঞ্জ অফিসের আশপাশের নিরাপদ এলাকায় অবমুক্ত করা হয়। উদ্ধারকাজে স্থানীয়রাও সহযোগিতা করেন।

    শরণখোলা রেঞ্জের কর্মকর্তারা জানান, সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় বসতি ও জলাশয় থাকায় খাবারের সন্ধানে বন্যপ্রাণী মাঝে মাঝে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। অজগরটি সম্ভবত শিকারের খোঁজে ঘেরের দিকে চলে এসেছিল।

    বন বিভাগ স্থানীয়দের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়েছে—এ ধরনের ঘটনায় আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে। এতে মানুষ ও বন্যপ্রাণী—উভয়েরই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

  • সুন্দরবনে ফের বন্যপ্রাণী নিধনের ছায়া, বস্তাভর্তি হরিণের মাংসসহ এক ব্যক্তি আটক

    সুন্দরবনে ফের বন্যপ্রাণী নিধনের ছায়া, বস্তাভর্তি হরিণের মাংসসহ এক ব্যক্তি আটক

    এবিএনএ,শরণখোলা: সুন্দরবন থেকে হরিণের মাংস পাচারের সময় রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) ভোর রাতে আড়াই মণ হরিণের মাংসসহ বনরক্ষীদের হাতে আটক হয়েছে এক হরিণ চোরাশিকারী। আটক শিকারীকে মোবাইল কোর্টে এক বছরের স্বশ্রম কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে।

    বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব সুন্দরবন বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের জ্ঞানপাড়া বিশেষ টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে বনরক্ষীরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) ভোর রাত সাড়ে তিনটার দিকে পাথরঘাটার চরদুয়ানী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে হরিণ শিকারী লিটন হাওলাদার (৪৯) নামে একজনকে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে বস্তায় ভরা ১০২ কেজি হরিণের মাংস জব্দ করেন বনরক্ষীরা। আটক শিকারী পাথরঘাটা উপজেলার কাঠালতলী গ্রামের রুস্তম হাওলাদারের পুত্র। সে সুন্দরবনে হরিণ শিকার করে মাংস দুটি বস্তায় ভরে নিয়ে যাচ্ছিলো বলে বনরক্ষীরা জানান।

    পূর্ব সুন্দরবন বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) রানা দেব বলেন, চরদুয়ানী বাজার এলাকায় হরিণের মাংসসহ আটক শিকারীকে পাথরঘাটা উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট শেখ মোহাম্মদ পনির মোবাইল কোর্ট বসিয়ে এক বছরের স্বশ্রম কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থ দন্ডে দন্ডিত করেন। জব্দকৃত হরিণের মাংস কেরোসিন দিয়ে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে বলে এসিএফ জানিয়েছেন।

  • নিম্নচাপের তাণ্ডবে প্লাবিত সুন্দরবন ও মোংলার নিচু এলাকা

    নিম্নচাপের তাণ্ডবে প্লাবিত সুন্দরবন ও মোংলার নিচু এলাকা

    এবিএনএ,বাগেরহাট:

    সাম্প্রতিক নিম্নচাপের কারণে উপকূলীয় এলাকা ও সুন্দরবনে জোয়ারের পানি বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ মে) সকাল থেকে সুন্দরবনের দুবলা চরের বিভিন্ন স্থানে স্বাভাবিক জোয়ারের তুলনায় প্রায় তিন ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। একইসঙ্গে করমজল এলাকাতেও দেখা গেছে প্রায় আড়াই ফুট জোয়ার। এতে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে যায়।

    তবে বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পানি বৃদ্ধির ফলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের বড় কোনো ক্ষতি হবে না। কারণ জোয়ার শেষে পানি দ্রুতই নামতে শুরু করে এবং বন্যপ্রাণীরা বনাঞ্চলের উঁচু স্থানে নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করে।

    দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ খলিলুর রহমান জানান, আগের দিন থেকেই উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া এবং বৃষ্টিপাত শুরু হয়, যা বৃহস্পতিবার জোয়ারের সময় পানির উচ্চতা বাড়িয়ে দেয়। সুন্দরবনের জেলেরা নিরাপদ স্থানে আছেন বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

    করমজল বন্যপ্রাণী ও পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আজাদ কবির বলেন, করমজলের হাঁটার পথসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তবে বন্যপ্রাণীরা যাতে নিরাপদে থাকে, সেজন্য বন বিভাগের পক্ষ থেকে নানা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জঙ্গলের ভেতরে বিভিন্ন উঁচু জায়গায় বন্যপ্রাণীদের জন্য আশ্রয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

    মোংলার পশুর ও মোংলা নদীর পাড়ঘেঁষা জয়মনি, চিলা, কলাতলা ও বুড়িরডাঙ্গা এলাকার নিচু এলাকাও প্রবল জোয়ারে তলিয়ে গেছে। এতে সাময়িক দুর্ভোগের সৃষ্টি হলেও স্থায়ী ক্ষতির সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কুমার স্বস্তিক জানান, নিম্নচাপের কারণে পশুর নদীতে পানি স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় দুই ফুট বেড়েছে। কিছু কিছু জায়গায় তা তিন ফুট পর্যন্ত পৌঁছেছে। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই ধরনের পরিস্থিতি এখন প্রায়ই দেখা যাচ্ছে।