Tag: ফ্যাসিবাদ বিরোধিতা

  • জনগণই বিএনপির ক্ষমতার প্রকৃত উৎস—ছাত্রদলকে তারেক রহমানের দৃঢ় বার্তা

    জনগণই বিএনপির ক্ষমতার প্রকৃত উৎস—ছাত্রদলকে তারেক রহমানের দৃঢ় বার্তা

    এবিএনএ:  জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আয়োজিত এক স্মরণ সভায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “বাংলাদেশের জনগণই বিএনপির, তথা জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রকৃত রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস।”

    রোববার রাজধানীর শাহবাগে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের’ শহীদদের স্মরণে আয়োজিত সমাবেশে তিনি লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন।

    ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আগামী দিনগুলোতে যদি তোমরা সাহস ও সততার সঙ্গে এগিয়ে যাও, তাহলে গণতন্ত্রকামী জনতা সবসময় তোমাদের পাশে থাকবে—ইনশাল্লাহ ভবিষ্যতেও থাকবে।”

    তারেক রহমান বলেন, “তোমরাই আগামী বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। লাখো সম্ভাবনাময় তরুণ-তরুণীর মুখ আজ আমার সামনে—এই শক্তির মাধ্যমেই গড়ে উঠবে ফ্যাসিবাদমুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ।”

    তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গত দেড় দশকে ছাত্রদলের অসংখ্য নেতাকর্মী ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে মামলা, হামলা, গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। শুধু জুলাই আন্দোলনের সময়েই গ্রেফতার হন দুই হাজারের বেশি নেতাকর্মী এবং শহীদ হন চট্টগ্রামের নেতা ওয়াসিমসহ অনেকেই।

    তারেক রহমান দাবি করেন, “স্বৈরাচারী শাসন বারবার দমন-পীড়ন চালালেও ছাত্রদলের অগ্রযাত্রা কখনো থামিয়ে রাখতে পারেনি। আজকের এই বিশাল জনসমাবেশ সেই সাহসিকতার প্রমাণ।”

    তিনি আবারও আহ্বান জানান, “সত্য ও সাহসকে ধারণ করো। কারণ গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি। তারা অতীতে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।”

    এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির। অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বক্তব্য দেন।

  • নাগরিক অধিকার ও নতুন সংবিধানের প্রতিশ্রুতি—২৪ দফা ইশতেহার ঘোষণা করলো এনসিপি

    নাগরিক অধিকার ও নতুন সংবিধানের প্রতিশ্রুতি—২৪ দফা ইশতেহার ঘোষণা করলো এনসিপি

    এবিএনএ:  বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের বার্তা দিয়ে ২৪ দফা ইশতেহার ঘোষণা করলো জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রোববার (৩ আগস্ট) বিকেলে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই ইশতেহার পাঠ করেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

    তিনি বলেন, “এক বছর আগে এই শহীদ মিনার থেকেই আমরা ফ্যাসিবাদবিরোধী এক দফা দিয়েছিলাম। সেটা ছিল কোনো একক দলের নয়, ছিল জনগণের পক্ষ থেকে—a call for democratic uprising।”

    নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা যে রাজনীতি করি, তা দায়বদ্ধতা ও মানবিক মর্যাদাভিত্তিক। আমরা এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাই যেখানে স্বৈরতন্ত্রের আর কোনো জায়গা থাকবে না।”

    তিনি আরও বলেন, “যদিও সরকারের পতন ঘটেছে, কিন্তু ফ্যাসিবাদী কাঠামোর সম্পূর্ণ বিলোপ ঘটেনি। তাই নতুন সংবিধান ও দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র গঠনের মধ্য দিয়েই আমরা সেই লক্ষ্য পূরণ করব।”

    এনসিপির ঘোষিত ২৪ দফা মূলনীতির কিছু দিক:

    ১. নতুন সংবিধান ও দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা
    ২. জুলাই অভ্যুত্থানের স্বীকৃতি ও বিচার
    ৩. গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রীয় কাঠামো পুনর্গঠন
    ৪. বিচারব্যবস্থায় সংস্কার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত
    ৫. দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং জনসেবামুখী শাসন
    ৬. জবাবদিহিমূলক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
    ৭. গ্রাম পার্লামেন্ট ও শক্তিশালী স্থানীয় সরকার
    ৮. স্বাধীন গণমাধ্যম এবং সক্রিয় নাগরিক সমাজ
    ৯. সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা
    ১০. যুগোপযোগী শিক্ষানীতি
    ১১. তথ্যপ্রযুক্তি ও উদ্ভাবন-ভিত্তিক গবেষণা
    ১২. ধর্ম ও জাতিসত্তার সম্মান
    ১৩. নারীর নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন
    ১৪. মানবমুখী অর্থনীতি ও কল্যাণ রাষ্ট্র
    ১৫. যুবকদের কর্মসংস্থান
    ১৬. বহুমুখী বাণিজ্য ও শিল্পায়ন
    ১৭. খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষিতে স্বাবলম্বিতা
    ১৮. শ্রমিক ও কৃষকের অধিকার
    ১৯. রাষ্ট্রীয় সম্পদ সঠিক ব্যবস্থাপনা
    ২০. পরিবহন, নগরায়ন ও আবাসন পরিকল্পনা
    ২১. পরিবেশ, নদী ও সমুদ্র রক্ষা
    ২২. প্রবাসী বাংলাদেশিদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা
    ২৩. বাংলাদেশকেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতি
    ২৪. আধুনিক প্রতিরক্ষা কৌশল

    ঘোষণার শেষে নাহিদ ইসলাম বলেন, “এক বছর আগে এই শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে আমরা শপথ নিয়েছিলাম—দেশকে স্বৈরশাসনের কবল থেকে মুক্ত করব। আজ আবারও সেই স্থানে দাঁড়িয়ে বলছি—আসুন, সবাই মিলে নতুন বাংলাদেশ গড়ি যেখানে সবার জন্য সাম্য, মর্যাদা ও সুবিচার থাকবে।”

  • শাহবাগে ছাত্র-জনতার উত্তাল বিক্ষোভ

    শাহবাগে ছাত্র-জনতার উত্তাল বিক্ষোভ

    এবিএনএ:  ঢাকার শাহবাগ মোড় পরিণত হয়েছে উত্তাল আন্দোলনের কেন্দ্রে। আওয়ামী লীগকে একটি সন্ত্রাসী রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করার দাবিতে গতকাল বিকেল থেকে শুরু হয়েছে টানা অবরোধ। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত ছাড়াও দেশের নানা জায়গা থেকে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা যোগ দিয়েছে এই কর্মসূচিতে।

    বৃহস্পতিবার রাত থেকে শাহবাগে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা। গতকাল সন্ধ্যায় এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ শাহবাগে সমাবেশ থেকে ঘোষণা দেন, প্রজ্ঞাপন ছাড়া তারা অবস্থান ছাড়বেন না। ফেসবুক লাইভে আন্দোলনের সময়সূচি পরবর্তী পদক্ষেপ জানিয়ে দিয়েছেন এনসিপি এবং ইসলামপন্থি দলগুলোর নেতারা।

    শাহবাগ ছাড়িয়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে পল্টন, উত্তরা, খুলনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, দিনাজপুরসহ বিভিন্ন শহরে। ঢাকার উত্তরায় মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলনকারীরা সরকারবিরোধী স্লোগানে রাজপথ মুখর করে তোলে। চট্টগ্রামের গুলজার মোড়ে, জাবির ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে, খুলনার শিববাড়ি মোড়, লক্ষ্মীপুর নোয়াখালীতে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে চলছে অবরোধ।

    সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, আওয়ামী লীগ গণহত্যা, নিপীড়ন দুর্নীতির জন্য দায়ী এবং এটি রাজনৈতিক দল নয় বরং ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী। এনসিপির নেতা সারজিস আলম বলেন, “শাহবাগেই আওয়ামী লীগের কবর রচনা হবে।” তিনি আরও বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র এখন সময়ের দাবি।”

    জমায়েতে অংশ নিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ, জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন, এবি পার্টি, ইসলামী ছাত্রশিবির, খেলাফত ছাত্র মজলিসসহ বহু রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা। স্লোগানে তারা আওয়াজ তুলেছে, “আওয়ামী লীগ ব্যান করো”, “গণহত্যাকারী দলের বিচার চাই”, “এই বাংলায় খুনি লীগের ঠাঁই নেই।”

    শাহবাগ থেকে দেওয়া বক্তব্যে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আমরা শাহবাগে থাকব যতক্ষণ না সরকার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।” তিনি আরও বলেন, “এই আন্দোলন শুধু ঢাকায় নয়, সারা বাংলায় ছড়িয়ে পড়বে।”

    অন্যদিকে লন্ডন থেকে জনতা পার্টি বাংলাদেশের সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন এক ভিডিও বার্তায় এই আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, দেশে ফিরে ছাত্র-জনতার সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেবেন।

    এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সতর্ক করে বলেছেন, “যদি দ্রুত আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করা না হয়, তবে আবারও ঢাকা মার্চ হবে।” তিনি দাবি করেন, দলমত নির্বিশেষে সব দেশপ্রেমিক শক্তিকে এই আন্দোলনে শরিক হতে হবে।

    বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে আন্দোলনের বিভিন্ন ভিডিও বার্তা। আন্দোলনকারীরা ‘আজাদি’ ও ‘জনতার শক্তি’ স্লোগানে ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরকে প্রকম্পিত করছে।

    এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছিল, তখনও শাহবাগে অবস্থান করে ছাত্র জনতা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন।