Tag: ফ্যামিলি কার্ড

  • ফ্যামিলি কার্ডে মাসিক সহায়তা থেকে ১০ লাখ চাকরি—বিএনপির ইশতেহারে যেসব বড় চমক থাকছে

    ফ্যামিলি কার্ডে মাসিক সহায়তা থেকে ১০ লাখ চাকরি—বিএনপির ইশতেহারে যেসব বড় চমক থাকছে

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করতে যাচ্ছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার প্রকাশ করা হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

    বিএনপির এবারের ইশতেহার মূলত ‘রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা’ ও পূর্বঘোষিত ‘২৭ দফা’র সমন্বয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও সুশাসনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    দলীয় সূত্র জানায়, ইশতেহারের সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোগ হচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’। এই কর্মসূচির আওতায় প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তা অথবা চাল, ডাল, তেল ও লবণের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের প্যাকেজ দেওয়া হবে। নারীদের আর্থিক ক্ষমতায়ন ও পরিবারভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষাই এর মূল লক্ষ্য।

    কৃষি খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে প্রবর্তন করা হবে ‘কৃষি কার্ড’। এর মাধ্যমে কৃষকরা সার, বীজ, কীটনাশক ও কৃষিযন্ত্র ন্যায্যমূল্যে পাবেন। পাশাপাশি কৃষি বীমা, সহজ শর্তে ঋণ, সেচ সুবিধা এবং মোবাইলে আবহাওয়া ও বাজারদরের তথ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    কর্মসংস্থান ইস্যুতে বিএনপি দিয়েছে বড় প্রতিশ্রুতি। দলটির লক্ষ্য আগামী ১৮ মাসে সরকারি-বেসরকারি ও পিপিপি উদ্যোগে ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এজন্য মাধ্যমিক স্তর থেকেই কারিগরি শিক্ষা ও বিদেশি ভাষা শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে।

    স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রায় এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যার বড় অংশই নারী। শিক্ষা খাতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মিড-ডে মিল চালুর অঙ্গীকার করা হয়েছে।

    ইশতেহারে ধর্মীয় ও সামাজিক মর্যাদার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়ের প্রধানদের জন্য মাসিক সম্মানী ও উৎসব ভাতার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

    পরিবেশ রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণ, ক্রীড়া খাতে প্রতিটি জেলায় স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ এবং দুর্নীতি দমনে শক্তিশালী দুদক ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের অঙ্গীকারও রয়েছে ইশতেহারে।

    বিএনপি নেতাদের ভাষ্য, এই ইশতেহার কোনো কাগুজে স্বপ্ন নয়; বরং সাধারণ মানুষের জীবন বদলের বাস্তব পরিকল্পনা।

  • ‘স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএনপিই একমাত্র ভরসা’—দলীয় পরিকল্পনা সভায় তারেক রহমানের দাবি

    ‘স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএনপিই একমাত্র ভরসা’—দলীয় পরিকল্পনা সভায় তারেক রহমানের দাবি

    এবিএনএ: দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্ব বিএনপিই সবচেয়ে দক্ষভাবে পালন করতে পারবে বলে মন্তব্য করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত বিএনপির ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক চলমান কর্মসূচির তৃতীয় দিনের বৈঠকে তিনি ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দিয়ে এ মতামত প্রকাশ করেন।

    তারেক রহমান বলেন—জনগণ এখন শুধু রাজনৈতিক বক্তৃতা শুনতে চায় না; তারা জানতে চায় কারা দেশ চালানোর মতো সুসংগঠিত পরিকল্পনা প্রস্তাব করতে পারে। বিএনপিই একমাত্র দল, যারা উন্নয়ন, সমাজসংস্কার, অর্থনীতি, শিক্ষা ও প্রশাসন—প্রতিটি ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ উপস্থাপন করেছে।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, জনগণের আস্থা না পেলে দেশের স্বাধীনতা ও অস্তিত্ব ভবিষ্যতে হুমকির মুখে পড়তে পারে। বিভাজন ও দলীয় সংকীর্ণতা দূর করে ঐক্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই কেবল একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়া সম্ভব।

    বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় নতুন কিছু উদ্যোগও তুলে ধরেন তিনি। তারেক রহমান জানান, ক্ষমতায় গেলে চার কোটি পরিবারকে দেওয়া হবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, যার মাধ্যমে সরকারি সেবা সরাসরি পৌঁছে যাবে মানুষের দোরগোড়ায়। আইনশৃঙ্খলা নিয়ে তিনি বলেন, বিচার হবে আইন অনুযায়ী, কোনো দলীয় হস্তক্ষেপ নয়।

    দুর্নীতি দমনেও বিএনপির ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি স্বাবলম্বী পরিবার গঠনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

    শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের কথাও বলেন তিনি। স্কুল পর্যায়ে ইংরেজির পাশাপাশি আরও একটি বিদেশি ভাষা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানে দক্ষ হতে পারে। পাশাপাশি ভোকেশনাল শিক্ষাকেও গুরুত্ব দিয়ে জেলা ও বিভাগ পর্যায়ে টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউশন গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

    ধর্মীয় ও সামাজিক কাঠামো নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশের প্রায় তিন লাখ মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের যথোপযুক্ত সামাজিক মর্যাদা ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করা হবে।