Tag: প্রাথমিক শিক্ষা

  • মোংলায় পরীক্ষা চলাকালে সরকারি টাকায় শিক্ষকদের ‘ফুটবল ভ্রমণ’! ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ৫০ শিক্ষকের জেলা সফরে ক্ষোভ

    মোংলায় পরীক্ষা চলাকালে সরকারি টাকায় শিক্ষকদের ‘ফুটবল ভ্রমণ’! ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ৫০ শিক্ষকের জেলা সফরে ক্ষোভ

    এবিএনএ: মোংলা উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা চলমান থাকলেও উপজেলার একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা ক্লাসে অনুপস্থিত থেকে সরকারি অর্থ ব্যয়ে ফুটবল খেলা দেখতে জেলা সদরে ভ্রমণে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার পৌরসভাসহ সাতটি ইউনিয়ন থেকে মোট ১৪টি দল এবারের জেলা পর্যায়ের প্রাথমিক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নেয়। ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষে বালক বিভাগে মোংলা দ্বিগরাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বালিকা বিভাগে উত্তর বাশতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জেলা পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।

    নিয়ম অনুযায়ী সীমিতসংখ্যক শিক্ষক দলের সঙ্গে থাকার কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, খেলা উপলক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই অন্তত ১১ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা জেলা সদরে অবস্থান করেন। স্থানীয়দের দাবি, তারা খেলায় দায়িত্ব পালনের চেয়ে জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরিতেই বেশি সময় কাটান।

    গত ১০ মে প্রথম রাউন্ডেই মোংলার দুটি দল টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলেও শিক্ষকদের সফর থেমে থাকেনি। অভিযোগ অনুযায়ী, দল বাদ পড়ার দুই দিন পরও ফাইনাল খেলা দেখার অজুহাতে বুধবার সকালে প্রায় ৫০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা আবারও জেলা সদরের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

    অভিভাবকদের অভিযোগ, এই সফরের পেছনে সরকারি অর্থ ব্যয় করা হয়েছে, যা মূলত শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও শিক্ষা উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ ছিল। অথচ চলমান পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের পাঠদানে মনোযোগ না দিয়ে শিক্ষকদের এমন কর্মকাণ্ডকে তারা দায়িত্বহীনতা ও অর্থের অপচয় হিসেবে দেখছেন।

    একাধিক অভিভাবক জানান, বছরের শুরু থেকেই বিভিন্ন কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হয়েছে। এখন পরীক্ষা চললেও অনেক শিক্ষক স্কুলে অনুপস্থিত থাকায় শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে প্রস্তুতি নিতে পারছে না। এতে করে শিশুদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে এবং ঝরে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক বলেন, “আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। আর শিক্ষকেরা সরকারি টাকায় আনন্দ ভ্রমণে ব্যস্ত। শিক্ষা ব্যবস্থার এমন দুরবস্থা আগে দেখা যায়নি।”

    এদিকে, এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষক কীভাবে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষা প্রশাসনের একাংশের নীরব সমর্থন থাকায় বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়মের মধ্যে চলেছে।

    ঘটনার বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পিন্টু রঞ্জন দাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেননি।

    তবে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ললোন কুমার মন্ডল জানান, জেলা পর্যায়ের গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা দেখার জন্য অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। যদিও চলমান পরীক্ষা ও পাঠদান ব্যাহত করে একসঙ্গে এত শিক্ষক জেলা সদরে অবস্থান করাকে তিনি গুরুতর বিষয় বলে মন্তব্য করেন।

    মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারমিন আক্তার সুমী বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি করে কোনো ধরনের ভ্রমণ বা বিলাসিতা মেনে নেওয়া হবে না। সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অনিয়ম ও দায়িত্ব অবহেলার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

  • দুর্গাপূজায় স্কুল-কলেজে টানা ১২ দিনের ছুটি, মাদরাসায় মিলবে মাত্র দুদিন

    দুর্গাপূজায় স্কুল-কলেজে টানা ১২ দিনের ছুটি, মাদরাসায় মিলবে মাত্র দুদিন

    এবিএনএ:  দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, এ বছর স্কুল-কলেজগুলোতে প্রায় দুই সপ্তাহের জন্য পাঠদান বন্ধ থাকবে। তবে মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি তুলনামূলকভাবে সীমিত রাখা হয়েছে।

    শিক্ষাপঞ্জি বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত পূজার ছুটি চলবে। যেহেতু তার আগে ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি রয়েছে, তাই কার্যত প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা ২৬ সেপ্টেম্বর থেকেই ছুটিতে যাবে।

    মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের ছুটি শুরু হবে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে এবং চলবে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত। তবে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় মোট ছুটি দাঁড়াচ্ছে টানা ১২ দিন। ৮ অক্টোবর থেকে ক্লাস পুনরায় শুরু হবে।

    অন্যদিকে, আলিয়া মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি সীমিত রাখা হয়েছে। শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, ১ ও ২ অক্টোবর পূজার ছুটি থাকবে। পরের দিনগুলোতে ৩ ও ৪ অক্টোবর (শুক্র ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় কার্যত চার দিন বন্ধ থাকবে এসব প্রতিষ্ঠানে। তবে ৫ অক্টোবর থেকে পুনরায় স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হবে।

    শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, এই ছুটি শিক্ষার্থীদের কিছুটা বিশ্রামের সুযোগ করে দিলেও দীর্ঘ বিরতির কারণে পড়াশোনায় প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষত এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে এর প্রভাব লক্ষণীয় হতে পারে।

  • সরকারি প্রাথমিকে ‘সহকারী শিক্ষক’ পদ বিলুপ্ত, নতুন নাম শুধু ‘শিক্ষক’

    সরকারি প্রাথমিকে ‘সহকারী শিক্ষক’ পদ বিলুপ্ত, নতুন নাম শুধু ‘শিক্ষক’

    এবিএনএ:  দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সহকারী শিক্ষক’ পদ বাতিল করে নতুন নামকরণ করা হয়েছে শুধুই ‘শিক্ষক’। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এর ফলে প্রায় ৩ লাখ ৬২ হাজার শিক্ষক এখন থেকে ‘শিক্ষক’ পদবিধারী হিসেবে বিবেচিত হবেন।

    রোববার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে মন্ত্রণালয় জানায়, প্রশাসনিক কাঠামো আরও সহজ ও পরিষ্কার করার লক্ষ্যে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সমন্বয় সভার সুপারিশ অনুসারে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    শুধু শিক্ষক পদ নয়, আরও চারটি পদেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। যেমন:

    • সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এখন থেকে হবেন অতিরিক্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার

    • অর্থ কর্মকর্তা পদের নাম পরিবর্তন হয়ে হয়েছে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা

    • সহকারী মনিটরিং অফিসার এখন হবেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা

    • পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষক নাম বদলে হয়েছে সহকারী ইনস্ট্রাক্টর (পরীক্ষণ বিদ্যালয়)

    এই পরিবর্তন ৩৩৫টি পরীক্ষণ বিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রযোজ্য হবে।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আধুনিক ও দ্ব্যর্থহীন পদবির মাধ্যমে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের দায়িত্ব আরও স্পষ্ট ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে। এতে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়ক হবে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা আসবে।

    বিশ্লেষকদের মতে, নামের এই আধুনিকীকরণ শুধু কাগজে নয়, বাস্তবিক ব্যবস্থাপনায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে যদি এর সঙ্গে প্রশিক্ষণ ও নীতিমালা সংশোধনের মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

  • দেশজুড়ে আশার আলো: দশম গ্রেডে উন্নীত হচ্ছেন ৩০ হাজার প্রধান শিক্ষক

    দেশজুড়ে আশার আলো: দশম গ্রেডে উন্নীত হচ্ছেন ৩০ হাজার প্রধান শিক্ষক

    এবিএনএ: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৩০ হাজার প্রধান শিক্ষক খুব শিগগিরই দশম গ্রেডের বেতন স্কেল পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে হাইকোর্টের রায় অনুসরণ করে ৪৫ জন রিটকারী প্রধান শিক্ষককে দশম গ্রেডে উন্নীত করার বিষয়ে অর্থ বিভাগের সম্মতি মিলেছে। এই সিদ্ধান্তের আলোকে বাকি শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও একই গ্রেড বাস্তবায়নের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

    গতকাল শনিবার অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন) মোহাম্মদ কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে জানানো হয়, রিট পিটিশন নম্বর-৩২১৪/২০১৮ অনুযায়ী হাইকোর্টের নির্দেশনায় রায় বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আবুল কাশেম সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “এই সিদ্ধান্ত আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের পথে একটি বড় অগ্রগতি। তবে শুধু রিটকারী ৪৫ জনের জন্য নয়, দেশের সব প্রধান শিক্ষকের জন্য আমরা দশম গ্রেডের দাবিতে আন্দোলন করেছি।”

    প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করার ঘোষণা দিলেও পরে প্রশিক্ষিতদের জন্য ১১তম ও অপ্রশিক্ষিতদের জন্য ১২তম গ্রেড নির্ধারণ করায় রিট করেন শিক্ষকরা। ২০১৯ সালের হাইকোর্টের রায়ে রিটকারীদের দশম গ্রেড এবং দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তার মর্যাদা দেওয়ার নির্দেশ আসে। আপিল ও রিভিউ শেষে এই রায় বহাল থাকে।

    অধিদপ্তরের অফিস আদেশে আরও বলা হয়, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল এই পদোন্নতি প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে, যা একটি ফৌজদারি অপরাধ। কোনো ধরনের লেনদেন না করার জন্য এবং দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, “এটা একটি নীতিগত বিষয়। যেহেতু এতে সরকারের আলাদা আর্থিক ব্যয় নেই, তাই সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে। অর্থ মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলেই বাকি কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।”

    তিনি আরও বলেন, “চাঁদাবাজি বন্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। শিক্ষকরা যেন প্রতারণার শিকার না হন, সে জন্য সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।”

    এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের পরেই ৩০ হাজার শিক্ষক পেতে যাচ্ছেন তাদের ন্যায্য অধিকার—দশম গ্রেডের বেতন সুবিধা।