Tag: প্রাণিসম্পদ

  • বাগেরহাটে বার্ড ফ্লুর ভয়াবহ থাবা: ৮ হাজার মুরগি মারা, ঋণের চাপে পথে বসার উপক্রম খামারি

    বাগেরহাটে বার্ড ফ্লুর ভয়াবহ থাবা: ৮ হাজার মুরগি মারা, ঋণের চাপে পথে বসার উপক্রম খামারি

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাট জেলার সদর উপজেলার চাপাতলা গ্রামে এক খামারির স্বপ্নভঙ্গের করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে বার্ড ফ্লুর সংক্রমণে। কয়েক মাসের ব্যবধানে মারা গেছে প্রায় ৮ হাজার ডিমপাড়া লেয়ার মুরগি। বিপুল লোকসান আর ঋণের বোঝায় এখন দিশেহারা পরিবারটি।

    মঙ্গলবার বিকেলে খামারটিতে দেখা যায়, সারি সারি খাঁচায় নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছে সাদা লেয়ার মুরগি। কিছুক্ষণ পরপরই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে একেকটি মুরগি। কর্মচারীরা মৃত মুরগি বস্তাবন্দী করে সরিয়ে নিচ্ছেন। একসময় যে খামারে প্রতিদিন হাজার হাজার ডিম উৎপাদন হতো, এখন সেখানে নেমে এসেছে নীরবতা।

    খামার মালিক সোহাগ শেখ প্রায় দুই দশক ধরে পোল্ট্রি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ২০০৬ সালে মাত্র এক হাজার মুরগি নিয়ে নিজ বাড়িতে “সোহাগ এগ্রোফার্ম” প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। ধীরে ধীরে খামারের পরিধি বাড়ে, বাড়ে কর্মসংস্থানও। বর্তমানে ১০-১২ জন কর্মচারী এই খামারের ওপর নির্ভরশীল। সোহাগ ও তার স্ত্রী নিজেরাও সার্বক্ষণিক কাজ করতেন খামারে।

    কিন্তু গত বছরের ডিসেম্বর থেকে হঠাৎ করে মুরগির মৃত্যুহার বাড়তে থাকে। শুরুতে সাধারণ রোগ ভেবে চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। ফেব্রুয়ারির মধ্যেই বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৮ হাজার মুরগি মারা যায় বলে জানান খামারি। বর্তমানে খামারে মাত্র তিন হাজার মুরগি রয়েছে, সেগুলোর অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

    সোহাগ শেখ জানান, “ডিম দেওয়া অবস্থায় অনেক মুরগি মারা গেছে। বড় বড় মুরগিগুলো বস্তায় ভরে সরাতে খুব কষ্ট হয়। অসুস্থ মুরগি কেউ কিনতে চায় না। তিন মাসে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।”

    তিনি আরও বলেন, ব্যবসার প্রয়োজনে ঋণ ও বাকিতে খাদ্য-ওষুধ আনতে হয়েছে। কিন্তু মুরগি মারা শুরু হওয়ার পর পাওনাদারদের চাপ বেড়েছে। কেউ কেউ অতিরিক্ত অর্থ দাবি করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। টানা দুই মাস কর্মচারীদের বেতন দিতে না পারায় অনেকেই কাজ ছেড়ে দিয়েছেন।

    এদিকে বাগেরহাট সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর-এর প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা পলাশ কুমার দাস জানান, খামারে মুরগি মৃত্যুর বিষয়টি তাদের জানা আছে। খামার পরিদর্শন করে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর নিশ্চিতভাবে রোগের কারণ বলা যাবে। ক্ষতিপূরণ বা আর্থিক সহায়তার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানাতে পারেননি তিনি।

    খামারির দাবি, দ্রুত সরকারি প্রণোদনা বা বিশেষ সহায়তা না পেলে তার পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে না। স্থানীয়ভাবে পোল্ট্রি খাতকে বাঁচাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

  • খামারিদের স্বস্তি! মৎস্য-প্রাণিসম্পদ খাতে ১০০ কোটি ভর্তুকি, বিদ্যুৎ বিলে মিলবে ২০% ছাড়

    খামারিদের স্বস্তি! মৎস্য-প্রাণিসম্পদ খাতে ১০০ কোটি ভর্তুকি, বিদ্যুৎ বিলে মিলবে ২০% ছাড়

    এবিএনএ: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে উৎপাদন ব্যয় কমাতে বড় ধরনের প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। প্রান্তিক পর্যায়ের মৎস্য খামার, হ্যাচারি এবং গবাদিপশু ও পোল্ট্রি খামারিদের জন্য বিদ্যুৎ বিলে ২০ শতাংশ রিবেট সুবিধা দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সোমবার (২৬ জানুয়ারি) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, কৃষিপণ্য রপ্তানিতে উৎসাহ দেওয়া এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পকে আরও গতিশীল করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বর্তমানে বিদ্যুৎ রিবেট নীতিমালার আওতায় ১৬টি খাতে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ বিল ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন চারটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে অর্থ বিভাগের মাধ্যমে মোট ১০০ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদানের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    এই ভর্তুকি সুবিধার আওতায় আসছে পশু ও পোল্ট্রি খাদ্য প্রস্তুতকারী শিল্প, ফিস ফিড উৎপাদন খাত, পোল্ট্রি শিল্প এবং দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প। দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ বলতে দুধ পাস্তুরিতকরণ, গুঁড়া দুধ, আইসক্রিম, কনডেন্সড মিল্ক, পনির, মাখন, ঘি, দই, মিষ্টান্ন ও চকলেট উৎপাদন শিল্পকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই উদ্যোগের ফলে খামারি ও শিল্প উদ্যোক্তাদের উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ বাড়বে এবং নিরাপদ ও মানসম্মত প্রাণিজ আমিষ উৎপাদনে দেশ আরও স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে এগিয়ে যাবে।