Tag: প্রাকৃতিক দুর্যোগ

  • ঈদের দিনই কালবৈশাখীর হানা! ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাত নিয়ে আবহাওয়ার নতুন সতর্কবার্তা

    ঈদের দিনই কালবৈশাখীর হানা! ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাত নিয়ে আবহাওয়ার নতুন সতর্কবার্তা

    এবিএনএ: পবিত্র ঈদের দিনে দেশজুড়ে আবহাওয়ার বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। শনিবার (২১ মার্চ) কালবৈশাখী ঝড়, বজ্রপাত ও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসতে পারে বলেও পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আবহাওয়াবিদ মো. হাফিজুর রহমান জানান, ঈদের দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে থাকতে পারে বজ্রসহ বৃষ্টি এবং বিদ্যুৎ চমকানোর ঘটনা।

    রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে ঝড়-বৃষ্টি দেখা যেতে পারে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

    তবে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, ২২ মার্চের পর থেকে বৃষ্টির প্রবণতা ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে।

    এদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্যও বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যশোর, খুলনা, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ২ নম্বর নৌ-হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

    অন্যদিকে ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও সিলেট অঞ্চলেও ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

    ঈদের আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি তাই সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

  • ভূমিকম্প কি শুধু প্রাকৃতিক ঘটনা? কুরআন–হাদিসের আলোকে সতর্কবার্তা ও মানুষের করণীয়

    ভূমিকম্প কি শুধু প্রাকৃতিক ঘটনা? কুরআন–হাদিসের আলোকে সতর্কবার্তা ও মানুষের করণীয়

    এবিএনএ: ভূমিকম্প মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই ভীতি জাগায়। আধুনিক বিজ্ঞানে একে পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের নিচে সঞ্চিত শক্তির আকস্মিক মুক্তির ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। ভূত্বকের ফল্ট বরাবর চাপ জমে হঠাৎ সরে গেলে কম্পন-তরঙ্গ ছড়িয়ে পড়ে এবং অল্প সময়ের জন্য ভূমি কেঁপে ওঠে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলকে হাইপোসেন্টার বলা হয়, আর এর ঠিক ওপরে ভূপৃষ্ঠের অংশকে এপিসেন্টার বা উপকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

    ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ইসলাম ভূমিকম্পকে কেবল একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখেই থামে না; বরং একে আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন ও মানুষের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবেও বিবেচনা করে। কুরআনে বিভিন্ন জাতির অবাধ্যতার কারণে শাস্তি হিসেবে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের উল্লেখ আছে। আবার কোথাও বলা হয়েছে, এসব নিদর্শনের উদ্দেশ্য মানুষকে ভয় দেখিয়ে আত্মসমালোচনায় ফিরিয়ে আনা এবং আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনে উদ্বুদ্ধ করা।

    ইসলামের ব্যাখ্যায় ভূমিকম্প আল্লাহর শক্তির প্রকাশ—তিনি চাইলে ওপর থেকেও, নিচ থেকেও আজাব পাঠাতে সক্ষম। কেয়ামতের দিন পৃথিবীর ভয়াবহ কম্পনের কথাও কুরআনে উল্লেখ রয়েছে, যা মানুষকে শেষ বিচারের বাস্তবতা স্মরণ করিয়ে দেয়। একই সঙ্গে বিপর্যয়কে মানুষের কৃতকর্মের ফল হিসেবে উল্লেখ করে আত্মশুদ্ধির তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

    হাদিসে এসেছে, সমাজে অন্যায়, অবক্ষয় ও নৈতিক অবনতি বাড়লে ফিতনা, যুদ্ধ ও ভূমিকম্পের মতো বিপর্যয় বৃদ্ধি পায়। আবার মুমিনদের জন্য এসব বিপদ পরীক্ষাস্বরূপ—ধৈর্য ধরলে পাপ মোচন হয় এবং আখিরাতে উত্তম প্রতিদান লাভের আশা করা যায়। কিছু হাদিসে ভূমিকম্পে নিহতদের শহীদি মর্যাদার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

    করণীয় কী?
    বিপর্যয়ের সময় আতঙ্কে ভেঙে না পড়ে আত্মসমালোচনা করা জরুরি। তাওবা-ইস্তেগফার বৃদ্ধি, দান–সদকা বাড়ানো, মানুষের হক আদায়, আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলার চেষ্টা এবং গোনাহ থেকে বিরত থাকার ওপর জোর দিয়েছেন আলেমরা। পাশাপাশি বাস্তব জীবনে দুর্যোগ প্রস্তুতি, নিরাপত্তা সচেতনতা ও বৈজ্ঞানিক নির্দেশনা মেনে চলাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • বরফ আর বৃষ্টির তাণ্ডবে বিপর্যস্ত আফগানিস্তান, তিন দিনে প্রাণ গেল অন্তত ৬১ জনের

    বরফ আর বৃষ্টির তাণ্ডবে বিপর্যস্ত আফগানিস্তান, তিন দিনে প্রাণ গেল অন্তত ৬১ জনের

    এবিএনএ: চরম আবহাওয়ার কবলে পড়ে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে আফগানিস্তান। টানা তুষারপাত ও ভারী বৃষ্টিতে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত তিন দিনে ঘটে যাওয়া এই দুর্যোগে আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আফগানিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আফগানিস্তান ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এএনডিএমএ) জানায়, প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১১০ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি দেশজুড়ে অন্তত ৪৫৮টি বাড়িঘর আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছে, উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব সম্পূর্ণ না হওয়ায় হতাহতদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা দুর্বল থাকায় সঠিক তথ্য পেতে সময় লাগছে।

    এএনডিএমএর প্রকাশিত মানচিত্র অনুযায়ী, বুধবার থেকে শুক্রবারের মধ্যে আফগানিস্তানের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলের একাধিক প্রদেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভারী তুষারপাতের কারণে রাজধানী কাবুলসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে।

    দুর্বল অবকাঠামো ও প্রতিকূল ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আফগানিস্তানে প্রায়ই বন্যা, ভূমিধস, তুষারঝড় ও প্রবল বর্ষণে বড় ধরনের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। এসব চরম আবহাওয়া দেশটির স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ ও অসহায় অবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

  • ভয়াবহ দুর্যোগ ইন্দোনেশিয়ায়: পশ্চিম জাভায় ভূমিধসে নিহত ৭, নিখোঁজ ৮২ জন

    ভয়াবহ দুর্যোগ ইন্দোনেশিয়ায়: পশ্চিম জাভায় ভূমিধসে নিহত ৭, নিখোঁজ ৮২ জন

    এবিএনএ: ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা প্রদেশে ভয়াবহ ভূমিধসে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে এবং এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৮২ জন। পরিস্থিতির অবনতি আশঙ্কায় ভূমিধসপ্রবণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

    স্থানীয় সময় শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংস্থার মুখপাত্র আব্দুল মুহারি জানান, নিখোঁজ ব্যক্তির সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেশি এবং উদ্ধার তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।

    ইন্দোনেশিয়ার গণমাধ্যম ‘কম্পাস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার ভোররাত আনুমানিক ২টার দিকে পশ্চিম বান্দুং জেলার পাসিরলাঙ্গু গ্রামে পাহাড় ধসে পড়ে। এতে একাধিক বসতঘর ও অবকাঠামো মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, হতাহতদের চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারণের কাজ চলমান রয়েছে। টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পুরো এলাকাটি জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল, যা ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

    আল জাজিরার বরাতে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিমাণ প্রায় ৩০ হেক্টর বা ৭৪ একর। এদিকে ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহ জুড়ে পশ্চিম জাভা প্রদেশে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

  • টাইফুন রাগাসার তাণ্ডব: হংকং-তাইওয়ানে ব্যাপক বিপর্যয়, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭

    টাইফুন রাগাসার তাণ্ডব: হংকং-তাইওয়ানে ব্যাপক বিপর্যয়, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭

    এবিএনএ: সুপার টাইফুন রাগাসার তাণ্ডবে হংকং ও তাইওয়ান পরিণত হয়েছে দুর্যোগকবলিত এলাকায়। প্রবল ঝড়ো বাতাস, টানা বর্ষণ আর ভয়ংকর জলোচ্ছ্বাসে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

    তাইওয়ানে একটি পুরনো লেকের বাঁধ ভেঙে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন ১৮ জন এবং এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১২৪ জন। ফিলিপাইনসের উত্তরাঞ্চলেও ঝড়ের প্রভাবে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে।

    হংকংয়ে টাইফুনের প্রভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সড়কে গাছ ভেঙে পড়ায় তৈরি হয়েছে তীব্র যানজট, শহরের বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। ঢেউয়ের আঘাতে একটি বিলাসবহুল হোটেলের কাচ ভেঙে ভেতরে পানি ঢুকে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জারি করা হয়েছে টাইফুন সতর্কতার সর্বোচ্চ স্তর। ক্যাসিনো শহর ম্যাকাওয়েও নেমে এসেছে বন্যার মতো পানি, নিরাপত্তার স্বার্থে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে নিচু এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ।

    চীনের জরুরি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার দুপুর থেকে রাতের মধ্যে রাগাসা ওয়াংডং প্রদেশের ঝুহাই ও ঝানজিয়াং উপকূলে আঘাত হানতে পারে। এ কারণে অন্তত ২০ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং দশটির বেশি শহরে শিক্ষা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    আবহাওয়াবিদরা টাইফুন রাগাসাকে ‘ঝড়ের রাজা’ আখ্যা দিয়ে সতর্ক করেছেন যে, এর ফলে প্রবল ক্ষয়ক্ষতি ও অতিবৃষ্টি হতে পারে, যা আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে।

  • আফগানিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃত ১৪০০ ছাড়াল, আহত সহস্রাধিক

    আফগানিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃত ১৪০০ ছাড়াল, আহত সহস্রাধিক

    এবিএনএ: আফগানিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪০০-এর বেশি। আফগান সরকারের মুখপাত্র জানায়, এই দুর্যোগে আহত হয়েছেন অন্তত ৩ হাজার ২৫১ জন এবং ৮ হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।

    ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল পূর্বাঞ্চলের কুনার প্রদেশে। স্থানীয় সময় রবিবার মধ্যরাতে প্রবল কম্পনটি অনুভূত হয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৬ এবং এর গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার। অগভীর হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও তীব্র হয়ে উঠে।

    কুনার প্রদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান এহসানুল্লাহ এহসান জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত চারটি গ্রামে উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এখনও অনেক পরিবার আটকা রয়েছে। তার ভাষায়, “আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না কতজন ধ্বংসস্তূপের নিচে রয়েছেন। দ্রুত উদ্ধার অভিযান শেষ করে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করার চেষ্টা চলছে।”

    এ ঘটনাকে আফগানিস্তানের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্প হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে। সীমিত সরঞ্জাম নিয়েই স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা নিরলসভাবে দুর্গত এলাকায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

  • বন্যায় বিপর্যস্ত টেক্সাসে ট্রাম্পের তাৎক্ষণিক সফর, নিখোঁজ শতাধিক

    বন্যায় বিপর্যস্ত টেক্সাসে ট্রাম্পের তাৎক্ষণিক সফর, নিখোঁজ শতাধিক

    এবিএনএ:  যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস রাজ্য ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে। প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২০ জনে, এবং এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ১৬১ জন। এমন দুর্যোগের মধ্যে পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে হঠাৎ করেই টেক্সাসে হাজির হলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    শুক্রবার ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে সঙ্গে নিয়ে এয়ারফোর্স ওয়ানে করে তিনি পৌঁছান সান অ্যান্টোনিওর কাছের একটি বিমানঘাঁটিতে। সেখান থেকে সড়কপথে কেরভিল শহরে যান। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন।

    গত এক সপ্তাহ ধরে টানা ভারি বৃষ্টির ফলে নদ-নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে। এতে বহু ঘরবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে, বন্যার স্রোতে ভেসে গেছে শিশুদের সামার ক্যাম্প, যানবাহন এবং অসংখ্য মানুষ। উদ্ধার তৎপরতা এখনো চলছে।

    বন্যার শুরু থেকেই ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তুতি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দেয়। বিরোধীরা অভিযোগ করে, সরকারি তৎপরতা ছিল শ্লথ। এ অবস্থায় প্রেসিডেন্টের এই সফর অনেকটাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং জনগণের আস্থা ফেরাতেই উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যেই এটি ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার চ্যালেঞ্জ। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে তিনি দ্রুত ত্রাণ বিতরণ, আশ্রয়কেন্দ্রের উন্নয়ন এবং নিখোঁজদের উদ্ধারে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের আশ্বাস দেন।

    বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন সহায়তার আশায় তাকিয়ে রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের দিকে। ট্রাম্পের এ সফর ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দিয়েছে বলে মনে করছে স্থানীয় প্রশাসন।

  • হিমাচলে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মৃত ৬৩ ছাড়ালো, নিখোঁজ বহু, জারি অরেঞ্জ অ্যালার্ট

    হিমাচলে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মৃত ৬৩ ছাড়ালো, নিখোঁজ বহু, জারি অরেঞ্জ অ্যালার্ট

    এবিএনএ: ভারতের হিমাচল প্রদেশে অব্যাহত ভারী বর্ষণে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। পাহাড়ি এলাকা জুড়ে ধসে পড়েছে একাধিক গ্রাম, বহু জায়গায় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বন্যা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রাজ্যে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৩ জনে, নিখোঁজ রয়েছেন আরও বহু মানুষ।

    ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর (IMD) হিমাচলের মান্ডি, কাংড়া, চম্বা, শিমলা সহ পার্বত্য অঞ্চলে আগামী ৭ জুলাই পর্যন্ত ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি করেছে। বিশেষভাবে মান্ডি জেলা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত, যেখানে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের, নিখোঁজ অন্তত ৪০ জন। এছাড়া কাংড়ায় ১৩, চম্বায় ৬ ও শিমলায় ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    বাকি জেলাগুলোর মধ্যে বিলাসপুর, কুল্লু, কিন্নর, লাহৌল-স্পিতি, সিরমোর, সোলান, হামিরপুর ও উনাতেও প্রাণহানির খবর মিলেছে।

    প্রদেশজুড়ে আহতের সংখ্যা অন্তত ১০০ ছাড়িয়েছে। ধ্বসে পড়েছে শতাধিক ঘরবাড়ি, পানির তোড়ে ভেসে গেছে ১৪টি সেতু। প্রায় ৫০০টি রাস্তা বন্ধ হয়ে পড়েছে, যা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে বহু অঞ্চলকে।

    পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরমধ্যেই হিমাচলের রাজ্য বিপর্যয় দপ্তর জানিয়েছে, প্রায় ৪০০ কোটি টাকার সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যদিও প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি জানিয়েছেন, গুজরাট, হিমাচল, উত্তরাখণ্ড ও ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছে এবং এনডিআরএফ-এর একাধিক দল ইতিমধ্যেই মোতায়েন রয়েছে।

    রাজ্য প্রশাসন, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF), পুলিশ ও সেনা যৌথভাবে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

    পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত হিমাচলের মানুষদের জন্য এটি এক দীর্ঘ ও কঠিন লড়াই হয়ে উঠতে চলেছে।