Tag: প্রযুক্তি

  • এআই চ্যাটে কিশোরদের আলোচনা দেখার সুযোগ পাচ্ছেন অভিভাবক

    এআই চ্যাটে কিশোরদের আলোচনা দেখার সুযোগ পাচ্ছেন অভিভাবক

    এবিএনএ: কিশোর ব্যবহারকারীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাট সহকারীর সঙ্গে কী বিষয়ে কথা বলছে—এখন তা জানার সুযোগ পাচ্ছেন অভিভাবকেরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও মেসেঞ্জারে নতুন নজরদারি সুবিধা চালুর ঘোষণা দিয়েছে মেটা। তবে এই পদক্ষেপ ঘিরে গোপনীয়তা ও ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

    ‘ইনসাইটস’ ট্যাবে দেখা যাবে আলোচনার ধরন

    মেটা জানিয়েছে, তাদের টিন অ্যাকাউন্ট তদারকি ব্যবস্থায় ‘ইনসাইটস’ নামে একটি নতুন বিভাগ যুক্ত করা হচ্ছে। এখানে অভিভাবকেরা সরাসরি বার্তা না দেখে কিশোরদের এআই চ্যাটের আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে ধারণা পাবেন। আলোচনাগুলো বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করে দেখানো হবে।

    উদাহরণ হিসেবে পড়াশোনা, বিনোদন, লেখালেখি, স্বাস্থ্য, মানসিক সুস্থতা—এ ধরনের বড় ক্যাটাগরি প্রদর্শিত হবে। অভিভাবকেরা চাইলে নির্দিষ্ট বিভাগে ক্লিক করে কিছু অতিরিক্ত তথ্য দেখতে পারবেন। তবে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা বজায় রাখতে নির্দিষ্ট কথোপকথনের টেক্সট দেখানো হবে না।

    সীমিত তথ্য, সাত দিনের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ

    মেটার ভাষ্য অনুযায়ী, এই তথ্যগুলো সর্বশেষ সাত দিনের কথোপকথনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হবে। এতে স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বিভাগের অধীনে শারীরিক ফিটনেস, অসুস্থতা বা মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনার সারসংক্ষেপ থাকতে পারে। এর মাধ্যমে সন্তানের অনলাইন কার্যক্রম সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা পাবেন অভিভাবকেরা।

    শিশু নিরাপত্তা বিতর্কের মাঝেই নতুন উদ্যোগ

    শিশু ও কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে সমালোচনার মুখে থাকায় এই ফিচার চালু করছে মেটা। সম্প্রতি শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত দুটি মামলায় আইনি চাপে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অভিযোগ ছিল, তাদের প্ল্যাটফর্মগুলো আসক্তিমূলকভাবে ডিজাইন করা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। এসব রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

    আদালতে প্রকাশিত কিছু নথিতে আরও উঠে আসে, এআইচালিত ভার্চ্যুয়াল ক্যারেক্টার কখনো অনুপযুক্ত বা যৌনধর্মী কথোপকথনে জড়িয়ে পড়তে পারে—এমন ঝুঁকি সম্পর্কে মেটার নেতৃত্ব অবগত ছিল। এরপর থেকেই কিশোরদের জন্য এসব ফিচারে ধাপে ধাপে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়।

    আগের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও জোরদার

    গত বছরের আগস্টে কিশোরদের জন্য এআই ক্যারেক্টার ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনা হয়। পরে অক্টোবরে অভিভাবকদের জন্য নতুন কিছু টুল যোগ করা হয়—যেমন ব্যক্তিগত এআই চ্যাট বন্ধ করা বা নির্দিষ্ট ক্যারেক্টার ব্লক করা। চলতি বছরের শুরুতে আরও কড়াকড়ি আরোপ করা হয় এবং বর্তমানে কিশোরদের জন্য কিছু এআই ক্যারেক্টার সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

    সমালোচনাও রয়েছে

    তবে এই নতুন ব্যবস্থাকে যথেষ্ট মনে করছেন না শিশু অধিকার কর্মীরা। তাদের মতে, অভিভাবকদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা বাড়ানোর মূল কাজ যথেষ্টভাবে হচ্ছে না। ফলে ফিচারটি কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে বিতর্ক থেকেই যাচ্ছে।

    মেটা জানিয়েছে, কিশোরদের নিরাপদ এআই ব্যবহার নিশ্চিত করতে তারা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করছে এবং অভিভাবকদের জন্য নির্দেশনাও তৈরি করছে।

  • রোগ শনাক্তে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে এগিয়ে বাংলাদেশি বিজ্ঞানীরা

    রোগ শনাক্তে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে এগিয়ে বাংলাদেশি বিজ্ঞানীরা

    এবিএনএ: আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে কাজ করছেন বাংলাদেশের তিন তরুণ গবেষক। আলোর উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্যান্সার, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগ একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করার অভিনব পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করছেন তারা।

    এই গবেষণায় যুক্ত আছেন বাংলাদেশের এস. এম. রাকিবুল ইসলাম, মোহাম্মদ রুবায়েত ইসলাম এবং মোহাম্মদ সবুজ মিয়া। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের লামার ইউনিভার্সিটির গবেষকদের সঙ্গেও তারা কাজ করছেন।

    গবেষণার মূল ভিত্তি হলো অত্যাধুনিক অপটিক্যাল বায়োসেন্সর, যা আলোর সূক্ষ্ম পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে মানবদেহের কোষ বা রক্তে ঘটে যাওয়া ক্ষুদ্র পরিবর্তন শনাক্ত করতে সক্ষম। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে জটিল রোগগুলো অনেক আগেই চিহ্নিত করা সম্ভব হতে পারে।

    ফোটোনিক ক্রিস্টাল ফাইবারের ব্যবহার

    গবেষণায় ব্যবহৃত হচ্ছে বিশেষ ধরনের অপটিক্যাল ফাইবার, যা ফোটোনিক ক্রিস্টাল ফাইবার নামে পরিচিত। এই ফাইবারের ভেতরে ক্ষুদ্র বায়ু ছিদ্রের জটিল গঠন থাকে, যা আলো ও জৈব উপাদানের মধ্যে শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ফলে খুব সূক্ষ্ম পরিবর্তনও শনাক্ত করা সহজ হয়।

    এই প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করতে গবেষকরা Surface Plasmon Resonance (SPR) পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এতে ফাইবারের ওপর পাতলা সোনালি স্তর প্রয়োগ করা হয়, যা রক্ত বা অন্যান্য নমুনার সংস্পর্শে এসে আলোর আচরণে সূক্ষ্ম পরিবর্তন ঘটায়—যা বিশ্লেষণ করে রোগের সম্ভাবনা নির্ণয় করা যায়।

    রক্ত পরীক্ষায় মিলবে আগাম সতর্কতা

    এই সেন্সরের মাধ্যমে রক্তের গ্লুকোজ, হিমোগ্লোবিন, অ্যালবুমিন ও ইউরিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান শনাক্ত করা সম্ভব। এসব উপাদানের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা, লিভারের সমস্যা ও অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী রোগ আগেই ধরা পড়তে পারে।

    ক্যান্সার শনাক্তে নতুন দিগন্ত

    গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যান্সার কোষে সাধারণ কোষের তুলনায় আলোর প্রতিফলন বৈশিষ্ট্যে সামান্য পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তন শনাক্ত করা গেলে ক্যান্সারকে খুব প্রাথমিক পর্যায়েই চিহ্নিত করা সম্ভব হতে পারে—যা চিকিৎসায় বড় অগ্রগতি আনবে।

    গবেষকদের প্রত্যাশা

    গবেষক এস. এম. রাকিবুল ইসলাম জানান, এই প্রযুক্তি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছে যেখানে অত্যন্ত ক্ষুদ্র জৈব পরিবর্তনও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা যাবে। তাদের লক্ষ্য হলো সহজ, দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ডায়াগনস্টিক পদ্ধতি তৈরি করা।

    মোহাম্মদ রুবায়েত ইসলাম বলেন, ফাইবারের নকশা উন্নত করার মাধ্যমে সেন্সরের সংবেদনশীলতা আরও বাড়ানো সম্ভব, যা ভবিষ্যতে বায়োমেডিক্যাল প্রযুক্তিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

    অন্যদিকে মোহাম্মদ সবুজ মিয়া জানান, এই প্রযুক্তি সফল হলে ছোট আকারের বহনযোগ্য ডিভাইস তৈরি করা যাবে, যা হাসপাতালের বাইরে থেকেও দ্রুত স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্ভব করবে।

    ভবিষ্যতের সম্ভাবনা

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের প্রযুক্তি বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যসেবায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। দ্রুত, সহজ ও কম খরচে রোগ শনাক্ত করা গেলে লাখো মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে।

    বাংলাদেশি এই তরুণ গবেষকদের উদ্যোগ ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসা কুড়াচ্ছে এবং ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন অধ্যায় সূচনার সম্ভাবনা তৈরি করছে।

  • পুলিশকে আধুনিক শক্তিতে গড়ে তুলতে জোর—ত্রিমাত্রিক সক্ষমতায় সরকারের বড় পরিকল্পনা

    পুলিশকে আধুনিক শক্তিতে গড়ে তুলতে জোর—ত্রিমাত্রিক সক্ষমতায় সরকারের বড় পরিকল্পনা

    এবিএনএ: দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ পুলিশকে আধুনিক ও বহুমাত্রিক সক্ষমতায় গড়ে তুলতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ ও উন্নত সরঞ্জাম ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

    জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনীকে ত্রিমাত্রিক সক্ষমতায় উন্নীত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যদের জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু রয়েছে এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশে হেলিকপ্টার সংযোজন, আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, উন্নত যানবাহন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের কাজ চলমান রয়েছে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার সময়োপযোগী নানা পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এর ফলে পুলিশ বাহিনী আগের তুলনায় আরও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হয়েছে।

    তিনি জানান, বাংলাদেশ পুলিশ ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে রয়েছে বৈজ্ঞানিক তদন্ত পদ্ধতির ব্যবহার, মানবাধিকার বজায় রেখে আইন প্রয়োগ, এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ।

    এছাড়া জরুরি সেবা দ্রুত জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে ‘ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি সার্ভিস ৯৯৯’-এর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এই সেবার মাধ্যমে পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স ও অগ্নিনির্বাপণ সহায়তা দ্রুত সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রদান করা হচ্ছে।

    সব মিলিয়ে, প্রযুক্তি ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে পুলিশ বাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • শিশুদের ক্ষতির দায়ে আদালতে বিপাকে গুগল-মেটা: ক্ষতিপূরণে নজিরবিহীন রায়

    শিশুদের ক্ষতির দায়ে আদালতে বিপাকে গুগল-মেটা: ক্ষতিপূরণে নজিরবিহীন রায়

    এবিএনএ: শিশু ও কিশোরদের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে বড় ধরনের আইনি সিদ্ধান্ত এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। এক আদালতের রায়ে প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল ও মেটাকে দায়ী করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে।

    ক্যালিফোর্নিয়ায় দেওয়া এই রায়ে মোট ৬ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়েছে। এর মধ্যে মেটাকে ৪ দশমিক ২ মিলিয়ন এবং গুগলকে ১ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ডিজাইন নিয়েই মূল অভিযোগ

    আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, এই দুই প্রতিষ্ঠানের প্ল্যাটফর্ম এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যা তরুণ ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে যুক্ত রাখতে উৎসাহিত করে এবং তা তাদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

    মামলাটি করেছিলেন এক তরুণী, যিনি অল্প বয়সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে আসক্ত হয়ে পড়েন। আদালতে তিনি জানান, ভিডিও প্ল্যাটফর্ম ও ছবি শেয়ারিং অ্যাপের কিছু নির্দিষ্ট ফিচার—বিশেষ করে ‘ইনফিনিট স্ক্রল’—তাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখত।

    জুরির পর্যবেক্ষণ

    জুরি বোর্ড মনে করেছে, এই ধরনের ডিজাইন ব্যবহারকারীদের আচরণ প্রভাবিত করে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে যথাযথ সতর্কতা দেওয়া হয়নি। ফলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো অবহেলার দায় এড়াতে পারে না।

    নতুন আইনি দৃষ্টান্ত

    এই মামলার বিশেষ দিক হলো—এখানে ব্যবহারকারীর কনটেন্ট নয়, বরং প্ল্যাটফর্মের গঠন ও ডিজাইনকেই দায়ী করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইনে সাধারণত কনটেন্টের জন্য কোম্পানিগুলো দায়মুক্তি পায়। কিন্তু এই রায় সেই ধারণায় নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। একই ধরনের অভিযোগে আরও বহু মামলা হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    কোম্পানিগুলোর প্রতিক্রিয়া

    রায়ের সঙ্গে একমত নয় গুগল ও মেটা। তারা ইতোমধ্যে জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

    অন্যদিকে, একই মামলায় জড়িত আরও দুটি প্ল্যাটফর্ম—স্ন্যাপ ও টিকটক—শুরুতেই সমঝোতায় পৌঁছায়, ফলে তারা বিচার প্রক্রিয়ার বাইরে থাকে।

    বড় প্রভাবের ইঙ্গিত

    গত এক দশকে শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগ বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে বিতর্ক এখন আদালত ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছেছে।

    বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রায়ের ফলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের প্ল্যাটফর্ম আরও নিরাপদ করতে বাধ্য করা হতে পারে। পাশাপাশি শিশুদের সুরক্ষায় নতুন আইন ও নীতিমালাও আসতে পারে।

    উপসংহার

    সব মিলিয়ে, এই রায় ডিজিটাল বিশ্বের জবাবদিহিতার প্রশ্নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় আইনি লড়াইয়ের আভাস দিচ্ছে।

  • ‘গোল্ডেন ফোন’ শুধু ঘোষণা নাকি বাস্তব পণ্য? ট্রাম্প মোবাইল নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

    ‘গোল্ডেন ফোন’ শুধু ঘোষণা নাকি বাস্তব পণ্য? ট্রাম্প মোবাইল নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

    এবিএনএ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে বাজারে আনার ঘোষণা দেওয়া সোনালি রঙের স্মার্টফোন ‘ট্রাম্প মোবাইল টি১’ নিয়ে আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একাধিকবার ঘোষিত সময়সীমা শেষ হলেও ফোনটির কোনো বাস্তব অস্তিত্ব এখনো সামনে আসেনি। ফলে প্রযুক্তি মহলে প্রশ্ন উঠেছে—এই ফোন আদৌ বাজারে আসবে কি না।

    ২০২৫ সালের জুনে প্রথমবারের মতো ট্রাম্প মোবাইল টি১ ফোনের ঘোষণা দেওয়া হয়। তখন বলা হয়েছিল, আগস্ট কিংবা সেপ্টেম্বরের মধ্যেই এটি গ্রাহকদের হাতে পৌঁছাবে। কিন্তু সেই সময় পার হওয়ার পরও কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। পরে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে মুক্তির সম্ভাব্য সময় পরিবর্তন করে শুধু লেখা হয়—‘চলতি বছরের শেষ দিকে’।

    অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ফোনটি বাজারে আসবে। তবে ২০২৬ সাল শুরু হলেও এখনো নতুন কোনো সময়সূচি জানানো হয়নি। এমনকি ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা সময়টি কোন বছরের জন্য, সেটিও স্পষ্ট করা হয়নি।

    সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো—ফোনটি বাজারে না এলেও আগাম বুকিং বাবদ গ্রাহকদের কাছ থেকে ১০০ ডলার করে প্রি-অর্ডার নেওয়া হয়েছে। কিন্তু অর্থ পরিশোধের পরও ক্রেতারা এখনো ফোনটি পাননি, এমনকি নির্দিষ্ট কোনো মুক্তির তারিখও জানানো হয়নি।

    ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ট্রাম্প মোবাইলের কাস্টমার সার্ভিস বিভাগ জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কার্যক্রমে অচলাবস্থার কারণে ফোনটির উৎপাদন ও সরবরাহ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে। তখনই ইঙ্গিত পাওয়া যায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফোনটি বাজারে আসার সম্ভাবনা কম।

    শুরুতে ট্রাম্প মোবাইল দাবি করেছিল, টি১ ফোনটি পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত হবে। তবে পরে সেই অবস্থান থেকেও সরে আসে প্রতিষ্ঠানটি। বিভিন্ন সূত্র বলছে, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ চেইন নিয়ে জটিলতার কারণেই প্রকল্পটি পিছিয়ে পড়েছে।

    এদিকে ট্রাম্প মোবাইলের নেটওয়ার্ক সেবা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। ব্যবহারকারীদের একাংশ দুর্বল সংযোগ, সীমিত কাভারেজ ও প্রযুক্তিগত সমস্যার কথা জানিয়েছেন।

    আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসির বিশ্লেষক ফ্রান্সিসকো জেরোনিমো এক সাক্ষাৎকারে বলেন, শুরু থেকেই এই ফোনের ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দেহ ছিল। তার মতে, একটি স্মার্টফোন তৈরি করা যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে তা অনেক বেশি জটিল।

    ২০২৬ সালেও নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের ধারণা—ফোনটি শেষ পর্যন্ত বাজারে এলেও ঘোষণার সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিল নাও থাকতে পারে।

    সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের নামের সঙ্গে যুক্ত এই ‘গোল্ডেন ফোন’ এখন পর্যন্ত কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। ক্রেতাদের অপেক্ষা বাড়ছেই। শেষ পর্যন্ত এটি বাস্তব পণ্য হবে, নাকি আরেকটি অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি হিসেবেই থেকে যাবে—সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।

  • ঝড়-বৃষ্টি থেকে ভূমিকম্প সতর্কতা—এই অ্যাপগুলো এখন সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আবহাওয়া বার্তায়

    ঝড়-বৃষ্টি থেকে ভূমিকম্প সতর্কতা—এই অ্যাপগুলো এখন সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আবহাওয়া বার্তায়

    এবিএনএ: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আচমকা ঝড়-বৃষ্টি, বজ্রপাত, দমকা হাওয়া এবং ভূমিকম্প আতঙ্ক এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। পরিবেশ ও আবহাওয়ার বিভিন্ন তথ্য আগেভাগে জানা গেলে যেমন জীবন ও সম্পদের সুরক্ষা সম্ভব, তেমনি সঠিক পরিকল্পনাও গ্রহণ করা যায়। প্রযুক্তির এই যুগে আবহাওয়ার সঠিক, নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত তথ্য হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে বিভিন্ন আধুনিক ওয়েদার অ্যাপ।

    আগে তাপমাত্রা দেখেই আবহাওয়া বোঝার চেষ্টা হতো, কিন্তু এখন তা যথেষ্ট নয়। একিউআই, অ্যালার্জির উপাদান, বাতাসের গতি, বৃষ্টি, ঝড়, তুষারপাত কিংবা বজ্রপাতের সম্ভাবনা—এসব তথ্য জানা এখন জরুরি একটি প্রয়োজন। অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস উভয় প্ল্যাটফর্মেই এমন অনেক অ্যাপ রয়েছে যা রিয়েল টাইমে অঞ্চলভিত্তিক আবহাওয়ার পরিস্থিতি জানায়।

    দ্য ওয়েদার চ্যানেল ও অ্যাকুওয়েদার অ্যাপ তাপমাত্রার পাশাপাশি বাস্তবে কেমন অনুভূত হতে পারে, সেই ‘ফিলস লাইকের’ পরিসংখ্যান দেখায়। প্রতি ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাস, ঝড়ের গতি, দমকা বাতাসের শক্তি ও তুষারপাতের সম্ভাবনা আলাদা করে দেখার সুবিধাও রয়েছে। বিদেশ ভ্রমণের আগাম পরিকল্পনার জন্য কিছু অ্যাপে ১৫ দিন পর্যন্ত পূর্বাভাস দেখা যায়।

    ঝড়ের দ্রুত ও সঠিক পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে সবার আগে যে অ্যাপটি সতর্কবার্তা পাঠায়, সেটি হলো Weather Bug। আর লাইভ রাডার ম্যাপের মাধ্যমে ঝড়, বৃষ্টি ও মেঘমালা ট্র্যাক করে One Weather। মেটোম্যাটিক্স ওয়েদার অ্যাপ সরাসরি লাইভ আবহাওয়ার তথ্য জানায় বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের। কিছু নতুন অ্যাপ রয়েছে যেগুলো সূক্ষ্মভাবে বায়ুর মান (AQI), UV Index ও অ্যালার্জি অ্যালার্ট জানায়।

    আরও একটি বিশেষ ফিচার হলো নিজস্ব প্রয়োজন অনুযায়ী কাস্টম অ্যালার্ট সেট করা। যেমন—শব্দদূষণ, বায়ুদূষণ, অতিরিক্ত গরম, বজ্রপাত বা ভারী বৃষ্টির সতর্কতা। এখন অনেক অ্যাপে রয়েছে রিয়েল টাইম নোটিফিকেশন, স্যাটেলাইট ভিউ, লাইভ স্টর্ম ট্র্যাকিং, এমনকি ভূমিকম্প সতর্কতাও।

    এই অ্যাপগুলো শুধু দৈনন্দিন পরিকল্পনা নয়, ভ্রমণ, কৃষি, মাছ ধরা, বা জরুরি সেবার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আবহাওয়ার সঠিক তথ্য আমাদের নিরাপদ জীবনযাপন ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করছে নতুন মাত্রায়।

  • সারাদেশে এক দামে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট: নতুন নির্দেশনায় বড় পরিবর্তন

    সারাদেশে এক দামে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট: নতুন নির্দেশনায় বড় পরিবর্তন

    এবিএনএ: 

    বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রাহক এখন থেকে দেশের যেকোনো স্থানেই একই দামে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা পাবেন। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সম্প্রতি একটি নির্দেশনার মাধ্যমে সকল সরকারি ও বেসরকারি ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারকে (আইএসপি) দেশের সব স্তরে সমান ট্যারিফে সেবা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে।

    নতুন এই নির্ধারিত ট্যারিফ অনুযায়ী, ১:৮ কনটেনশন রেশিওর ভিত্তিতে ৫ এমবিপিএস ইন্টারনেটের মাসিক সর্বোচ্চ মূল্য ৪০০ টাকা, ১০ এমবিপিএস ৭০০ টাকা এবং ২০ এমবিপিএস ১,১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মহানগর থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এই দাম একইভাবে কার্যকর হবে।

    বিটিআরসি জানায়, ইন্টারনেট সেবার মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতেই সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে। প্রস্তাবিত ট্যারিফটি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মাধ্যমে সরকার অনুমোদন করেছে এবং এটি ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছরের জন্য কার্যকর হবে।

    📌 ট্যারিফের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত:

    • সকল আইএসপি প্রতিষ্ঠানকে এই নির্ধারিত ট্যারিফ মেনে চলতে হবে।

    • গ্রাহকের যদি ৫ দিন টানা ইন্টারনেট না থাকে, তাহলে মাসিক বিলের ৫০%, ১০ দিন না থাকলে ২৫% ফেরত দিতে হবে এবং ১৫ দিনের বেশি না থাকলে সেই মাসে কোনো বিল নেয়া যাবে না।

    • সব সেবা “এ”, “বি”, “সি” গ্রেডে ভাগ করা হবে এবং সেবার মান বজায় রাখতে হবে।

    • অনুমোদিত ট্যারিফ ছাড়া অন্য কোনো সেবা বা প্যাকেজ চালু করা যাবে না; করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    • গ্রাহকের অভিযোগ (টিকিট নাম্বারসহ) দ্রুত সমাধান করতে হবে এবং অভিযোগ সংক্রান্ত রেকর্ড অন্তত ছয় মাস সংরক্ষণ করতে হবে।

    • প্রতিটি আইএসপিকে তাদের ওয়েবসাইটে ট্যারিফ তালিকা প্রকাশ করতে হবে।

    এ নির্দেশনার ফলে দেশের সব জায়গায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের সেবায় সমতা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। গ্রাহকের স্বার্থ ও ন্যায্যতার দিক বিবেচনা করেই বিটিআরসি এ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।