Tag: প্রত্যাবাসন

  • ইইউজুড়ে কড়াকড়ি: তিন মাসে এক লাখের বেশি অভিবাসীকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ

    ইইউজুড়ে কড়াকড়ি: তিন মাসে এক লাখের বেশি অভিবাসীকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ

    এবিএনএ: ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন নীতিতে আরও কড়াকড়ির চিত্র উঠে এসেছে নতুন পরিসংখ্যানে। ২০২৫ সালের শেষ তিন মাসে ইইউভুক্ত বিভিন্ন দেশ থেকে মোট এক লাখ ১৫ হাজারের বেশি অভিবাসীকে সংশ্লিষ্ট দেশ ত্যাগের আইনি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ইউরোপীয় কমিশনের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাট জানায়, অনিয়মিতভাবে অবস্থানের কারণেই এই বিপুলসংখ্যক অভিবাসীর বিরুদ্ধে ‘দেশ ছাড়ার আদেশ’ জারি করা হয়। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় তিন শতাংশ বেড়েছে।

    জাতীয়তা অনুযায়ী বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি নোটিশ পেয়েছেন আলজেরিয়ার নাগরিকরা। ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে ১২ হাজারের বেশি আলজেরীয়কে ইউরোপ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর রয়েছেন মরক্কো ও তুরস্কের নাগরিকরা।

    দেশভিত্তিক হিসাবে বহিষ্কার আদেশ জারিতে শীর্ষে রয়েছে ফ্রান্স। শুধু তিন মাসেই দেশটি ৩৩ হাজারের বেশি অভিবাসীর বিরুদ্ধে এই আদেশ দিয়েছে। জার্মানি ও গ্রিস রয়েছে পরের অবস্থানে। এই তিন দেশ মিলেই ইইউতে জারি হওয়া মোট আদেশের প্রায় অর্ধেকের জন্য দায়ী।

    ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে প্রায় ৩৪ হাজার অভিবাসী নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছেন। তাদের মধ্যে একটি বড় অংশ স্বেচ্ছায় ফিরলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যককে পুলিশি তত্ত্বাবধানে জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন করা হয়েছে।

    প্রত্যাবাসন কার্যকর করার ক্ষেত্রে জার্মানি সবচেয়ে এগিয়ে। স্বেচ্ছা ও জোরপূর্বক—দুই প্রক্রিয়াতেই দেশটি শীর্ষে রয়েছে। বিপরীতে ইতালিতে প্রায় সব প্রত্যাবাসনই জোরপূর্বক হয়েছে, যেখানে স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনের নজির নেই বললেই চলে।

    তবে আলজেরীয় নাগরিকদের প্রত্যাবাসনের হার তুলনামূলকভাবে খুব কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, কনস্যুলার নথি জটিলতা ও নিজ দেশের আইনি বিধিনিষেধ এর অন্যতম কারণ। ফ্রান্সে বসবাসরত বড় আলজেরীয় কমিউনিটির ক্ষেত্রেও এই সমস্যা দীর্ঘদিনের।

    এরই মধ্যে আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বিদেশে থাকা কিছু অনিয়মিত অভিবাসীর জন্য সাধারণ ক্ষমার ইঙ্গিত দিলেও, বিশ্লেষকদের মতে এর বাস্তব প্রভাব এখনই স্পষ্ট নয়। ফলে ইইউর অভিবাসন সংকটে স্বল্পমেয়াদে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে কি না—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

  • রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের পাশে ১১ দেশ: যৌথ বিবৃতিতে মানবিক সমর্থনের অঙ্গীকার

    রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের পাশে ১১ দেশ: যৌথ বিবৃতিতে মানবিক সমর্থনের অঙ্গীকার

    এবিএনএ:  যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, কানাডা, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, ডেনমার্ক, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড ও ফিনল্যান্ডসহ মোট ১১টি দেশ রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছে।

    ঢাকায় ফ্রান্স দূতাবাসের এক্স হ্যান্ডেল ও ফেসবুক পেজে সোমবার প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আগমনের আট বছর পূর্তি উপলক্ষে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মানবিক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

    বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর কর্মকাণ্ডের ফলে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বর্তমানে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে এবং নতুন শরণার্থী এখনও আশ্রয়শিবিরে আসছে।

    দেশগুলো বাংলাদেশের সহনশীলতা ও স্থানীয় জনগণের মানবিক সহযোগিতার প্রশংসা করেছে। তারা রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও সম্মানের সঙ্গে নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তা এখনো সম্ভব নয়।

    বিবৃতিতে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা জানানো হয়েছে। সহিংসতা বন্ধ, মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং অন্যায়ভাবে আটক ব্যক্তিদের মুক্তির আহ্বান জানানো হয়েছে।

    এছাড়াও রোহিঙ্গাদের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান এবং ভবিষ্যতের প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণকেও সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে।