এবিএনএ: শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভার দক্ষিণ বৈশাখীপাড়া এলাকায় জামায়াতে ইসলামী’র একটি নির্বাচনী কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। অভিযানে ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা, অর্থ বিতরণের তালিকা এবং একটি ল্যাপটপের হার্ডডিস্ক জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় গোলাম মোস্তফা নামে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারক কমিটির বিচারক ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুজন মিয়া এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর নড়িয়া থানা পুলিশ দণ্ডপ্রাপ্তকে কারাগারে পাঠায়।
আটক গোলাম মোস্তফা ১২৭ নম্বর হাজী সৈয়দ আহম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি চলমান নির্বাচনে একটি ভোটকেন্দ্রে পোলিং কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন বলে জানা গেছে।
নড়িয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকি দাস জানান, নির্বাচনী কার্যক্রমে অর্থ বিতরণের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় উদ্ধার হওয়া টাকার বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারায় এবং সেখানে তার উপস্থিতির যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে আইনের আওতায় আনা হয়।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, শরীয়তপুর-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাহমুদ হোসেন ওই এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে নির্বাচনী কার্যালয় পরিচালনা করছিলেন। বুধবার বিকেলে সেখানে অভিযান চালানো হয়।
এ বিষয়ে জামায়াত প্রার্থীর মিডিয়া সেলের প্রধান মাসুদ কবির দাবি করেন, উদ্ধার হওয়া অর্থ ভোটকেন্দ্রভিত্তিক কর্মীদের যাতায়াত ও খাবারের খরচের জন্য রাখা ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রশাসন অভিযান চালিয়েছে এবং বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে আনা হবে।
অন্যদিকে, একই রাতে নড়িয়ায় বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি প্রার্থী সফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, জামায়াত বিভিন্ন এলাকায় অর্থের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তিনি প্রশাসনের কাছে এ ধরনের তৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, শরীয়তপুর-২ আসনে বিএনপি, জামায়াতসহ মোট আটজন প্রার্থী এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
