Tag: পুলিশ মামলা

  • রামপুরা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলা: তদন্ত কর্মকর্তার জেরা শেষ, সাফাই সাক্ষ্য ১৩ জানুয়ারি

    রামপুরা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলা: তদন্ত কর্মকর্তার জেরা শেষ, সাফাই সাক্ষ্য ১৩ জানুয়ারি

    এবিএনএ: রাজধানীর রামপুরায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার জেরা শেষ হয়েছে। এ মামলায় সাবেক ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পাঁচজন আসামির বিরুদ্ধে আসামিপক্ষের সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ১৩ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

    বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত বিচারিক প্যানেল এই সিদ্ধান্ত দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আবদুর রউফকে এদিন অবশিষ্ট জেরা করেন পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। জেরা শেষে একমাত্র গ্রেপ্তার থাকা আসামি রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য উপস্থাপনের আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আবেদনটি মঞ্জুর করেন।

    আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকার নিজেই আদালতে নিজের পক্ষে সাক্ষ্য দেবেন।

    এই মামলায় হাবিবুর রহমান ছাড়াও পলাতক অন্য আসামিরা হলেন—খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান এবং সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

    এদিন সকালে কড়া পুলিশি পাহারায় একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে আদালতে হাজির করা হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এম এইচ তামিমসহ অন্য আইনজীবীরা।

    মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রামপুরার বনশ্রী-মেরাদিয়া এলাকায় পুলিশের অভিযানে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ওইদিন নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে লক্ষ্য করে পুলিশ ছয় রাউন্ড গুলি চালায়, এতে তিনি গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় পুলিশের গুলিতে নাদিম ও মায়া ইসলাম নিহত হন এবং মায়া ইসলামের ছয় বছর বয়সী নাতি বাসিত খান মুসা মারাত্মকভাবে আহত হয়, যে এখনো স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারে না।

    এই ঘটনাগুলোর পরিপ্রেক্ষিতেই তৎকালীন পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়।

  • গঙ্গাচড়ায় হিন্দুদের বাড়িতে হামলার ঘটনায় ১২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, অভিযুক্তদের শনাক্তে অভিযান

    গঙ্গাচড়ায় হিন্দুদের বাড়িতে হামলার ঘটনায় ১২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, অভিযুক্তদের শনাক্তে অভিযান

    এবিএনএ: রংপুরের গঙ্গাচড়ার বেতগাড়ি ইউনিয়নের আলদাদপুর বালাপাড়া গ্রামে ধর্ম অবমাননার অভিযোগের জেরে হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলার ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় প্রায় ১২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় এ মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বিষয়টি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল এমরান নিশ্চিত করেন।

    ওসি বলেন, “নিরাপত্তার স্বার্থে বাদীর পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। হামলার ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”


    📲 ধর্ম অবমাননা ও উত্তেজনার সূত্রপাত

    ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত শনিবার, যখন সামাজিক মাধ্যমে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এক কিশোরকে আটক করে পুলিশ। সে একটি বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী। তার বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।


    🧱 উত্তেজনা থেকে সহিংসতায় রূপান্তর

    কিশোরের বিচারের দাবিতে শনিবার রাতেই উত্তেজিত জনতা মিছিল করে এবং তার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। সেইসাথে আশপাশের আরও অন্তত ১৮টি হিন্দু বাড়িতে হামলা হয়

    মাইকিং করে লোক জড়ো করে হিন্দু পল্লীতে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।


    🏚️ প্রশাসনের সহায়তায় ঘরবাড়ি মেরামতের কাজ শুরু

    হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বাড়িঘর মেরামতের কাজ শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, “ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গ্রামে শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে।”


    👮 আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি

    বর্তমানে গ্রামে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ টহল চলছে। অজ্ঞাত ১২০০ জনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন

    এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে প্রশাসনের দাবি, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে


    এই হামলার ঘটনায় মানবাধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এলাকার নিরাপত্তা জোরদার থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।