Tag: পুলিশি হামলা

  • প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা অগ্রহণযোগ্য: উপদেষ্টা ফাওজুল কবির

    প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা অগ্রহণযোগ্য: উপদেষ্টা ফাওজুল কবির

    এবিএনএ:  রাজধানীতে আন্দোলনরত প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান। তিনি বলেছেন, “শিক্ষার্থীদের ওপর যা ঘটেছে তা অনাকাঙ্ক্ষিত ও অগ্রহণযোগ্য।”

    বুধবার সন্ধ্যায় রেলভবনে শিক্ষার্থীদের ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সরকারের তিন উপদেষ্টার বৈঠক হয়। তবে প্রায় এক ঘণ্টার এই বৈঠক কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা ফাওজুল কবির ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

    ফাওজুল কবির জানান, সমস্যা সমাধানে গঠিত সাত সদস্যের কমিটির পাঁচজন অনুপস্থিত থাকায় আলোচনা পূর্ণতা পায়নি। তিনি আশ্বাস দেন, বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক ও প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলোচনায় বসা হবে।

    তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের প্রতি পুলিশের আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত। এ ব্যাপারে পুলিশের প্রতিনিধি ক্ষমা চাইবেন।”

    অন্যদিকে বৈঠকে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি জানায়, আন্দোলনের সার্বিক বিষয় আলোচনা করে সহপাঠীদের সঙ্গে মিলিত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

    শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবি

    ১. স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে ও জবাবদিহি করতে হবে।
    ২. গঠিত কমিটি বাতিল করে নতুনভাবে শিক্ষক-প্রকৌশলী প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং দাবিগুলো দ্রুত কার্যকর করতে হবে।
    ৩. হামলায় আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে ও আন্দোলন চলাকালে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
    ৪. শিক্ষার্থী রোকনের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে শাস্তি দিতে হবে।
    ৫. আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকার জন্য ডিসি মাসুদকে বহিষ্কার করতে হবে।

    উল্লেখ্য, ডিপ্লোমাধারীদের ৯ম গ্রেডে নিয়োগ ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করার অভিযোগে সম্প্রতি ‘প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলন’ নামক প্ল্যাটফর্ম তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। এতে বুয়েটসহ বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

    বুধবার রাজধানীতে “লং মার্চ টু ঢাকা” কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার উদ্দেশে যাত্রা করলে পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষ ঘটে। পরে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ অব্যাহত রাখে।

  • ঢাকায় সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের বর্বর নির্যাতন, তীব্র প্রতিবাদে বিএফইউজে-ডিইউজে

    ঢাকায় সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের বর্বর নির্যাতন, তীব্র প্রতিবাদে বিএফইউজে-ডিইউজে

    এবিএনএ:  রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের বর্বর নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে সাংবাদিক সমাজ। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এক যৌথ বিবৃতিতে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা জয়নালসহ সংশ্লিষ্টদের অবিলম্বে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।

    বুধবার (২৭ আগস্ট) দেওয়া বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতারা বলেন, পুলিশের এমন ফ্যাসিবাদী আচরণ প্রমাণ করে তারা এখনো পুরোনো চরিত্র বদলাতে পারেনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত বাহিনীই উদ্দেশ্যমূলকভাবে অরাজকতা সৃষ্টি করছে।

    ঘটনার বর্ণনায় জানা যায়, দুপুরে দ্য নিউ নেশনের দুই প্রতিবেদক মোটরবাইকে সেগুনবাগিচার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে যানজটে আটকা পড়লে একটি মাইক্রোবাস চালকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে চালক চাকু দিয়ে সাংবাদিক সৈয়দ শাকিল পারভেজকে আঘাত করে। সহকর্মী নোমান মোশাররফ এগিয়ে গেলে গাড়িতে থাকা অন্যরা তাদের ছিনতাইকারী বলে মারধর শুরু করে।

    এসময় উপস্থিত পুলিশ তাদের থামানোর বদলে উল্টো দুই সাংবাদিককে বেধড়ক পেটায়। এমনকি সহকর্মীরা সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও পুলিশ নির্যাতন চালাতে থাকে। পরে কর্মকর্তা জয়নালের নির্দেশে বাংলা ভিশনের কেফায়েত শাকিল, নিউ নেশনের নোমান মোশাররফ ও সৈয়দ শিমুল পারভেজকে পুলিশ বক্সে ঢুকিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। এতে আরও কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন, যাদের মধ্যে গুরুতর দুজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    বিএফইউজে ও ডিইউজের নেতারা স্পষ্ট করে বলেন, সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের অমানবিক হামলা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে।

  • চলমান দাবিগুলো মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন স্থগিত

    চলমান দাবিগুলো মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন স্থগিত

    এবিএনএ:  জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের চার দফা দাবির বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পর চলমান আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি স্থগিত করা হয়েছে চলমান ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিও।

    শুক্রবার (১৬ মে) রাত ৮টার দিকে ‘জবি ঐক্য’ প্ল্যাটফর্ম থেকে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন আন্দোলন স্থগিতের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “আমাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে গড়িমসি হলে আমরা আগের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে পিছপা হব না।”

    এর আগে সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম ইউজিসি চেয়ারম্যান ড. এস এম ফায়েজের উপস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

    উপাচার্য জানান, বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার বাজেট বাড়ানো হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের দাবির একটি প্রধান দিক। আবাসন সংকট মোকাবেলায় অস্থায়ী ভবন নির্মাণ কাজ দ্রুত শুরু হবে এবং দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্প ইতিমধ্যেই প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পরে অনশনরত শিক্ষার্থীদের পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙানো হয়।

    ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইউজিসি একটি পরিবার। আমরা একসাথে বসে শিক্ষার্থীদের সব সমস্যার সমাধানে কাজ করব।”

    চতুর্থ দাবি হিসেবে শিক্ষার্থীরা ১৪ মে পুলিশি হামলার তদন্ত জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। এই বিষয়ে পুলিশ দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং আগামী সাত দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

    এর আগে শিক্ষার্থীরা তিনটি মূল দাবি উত্থাপন করেছিল:
    ১. বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে আবাসন বৃত্তি চালু।
    ২. প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ বাজেট কাটছাঁট না করে অনুমোদন।
    ৩. দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণ প্রকল্প একনেক সভায় পাশ দ্রুত বাস্তবায়ন।

    সব দাবি সরকারের পক্ষ থেকে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ায়, আন্দোলনের আপাত সমাপ্তি ঘোষণা করে শিক্ষার্থীরা তাদের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি স্থগিত রাখে। তবে পরিস্থিতির উন্নয়ন না ঘটলে তারা আবার আন্দোলনে নামবে বলেও জানিয়েছেন শিক্ষক শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা।