Tag: পুতিন

  • মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় ইরানের পাশে পুতিন—বন্ধুত্বের বার্তায় নতুন কূটনৈতিক ইঙ্গিত

    মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় ইরানের পাশে পুতিন—বন্ধুত্বের বার্তায় নতুন কূটনৈতিক ইঙ্গিত

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রতি সমর্থনের বার্তা দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। পারস্য নববর্ষ নওরোজ উপলক্ষে পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

    রাশিয়ার পক্ষ থেকে পাঠানো ওই বার্তায় পুতিন উল্লেখ করেন, কঠিন পরিস্থিতিতেও মস্কো তেহরানের নির্ভরযোগ্য বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে। এই বার্তা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও প্রেসিডেন্টের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

    তবে কূটনৈতিক আশ্বাসের বাইরে বাস্তবে রাশিয়া কতটা সহায়তা দিচ্ছে—তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কিছু ইরানি বিশ্লেষকের মতে, দেশটি দীর্ঘদিনের অন্যতম বড় সংকটের মুখে থাকলেও মস্কোর কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা মিলছে না।

    এদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও একটি বিতর্ক তৈরি হয়েছে সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের কারণে। সেখানে দাবি করা হয়, রাশিয়া নাকি যুক্তরাষ্ট্রকে প্রস্তাব দিয়েছিল—যদি ওয়াশিংটন ইউক্রেনকে গোয়েন্দা সহায়তা বন্ধ করে, তবে মস্কোও ইরানকে তথ্য সরবরাহ বন্ধ করবে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, ক্রেমলিন এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা বাড়িয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে রাশিয়া অর্থনৈতিকভাবে কিছুটা লাভবান হলেও পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    একই সঙ্গে রাশিয়া ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও তেহরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে তাদের উদ্বেগ রয়েছে। মস্কোর আশঙ্কা, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে, যা গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলবে।

  • আলাস্কার হোটেলে ফাঁস হওয়া নথি: ট্রাম্পের কাছে দোনেৎস্ক-লুহানস্ক চাইলো পুতিন

    আলাস্কার হোটেলে ফাঁস হওয়া নথি: ট্রাম্পের কাছে দোনেৎস্ক-লুহানস্ক চাইলো পুতিন

    এবিএনএ:  রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধানে নতুন প্রস্তাব দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। গত শুক্রবার আলাস্কার একটি হোটেলে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে তিনি শর্ত দেন— ইউক্রেন যদি দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেয়, তবে সম্মুখসারির যুদ্ধ থামিয়ে দেওয়া হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে পুতিন ট্রাম্পকে জানান, দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক রাশিয়ার হাতে গেলে তিনি দক্ষিণ ইউক্রেনের খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে আর অগ্রসর হবেন না। বর্তমানে এই দুই অঞ্চলের বড় অংশ রুশ সেনাদের দখলে রয়েছে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো ভূখণ্ড ছাড় দেওয়া হবে না। ইউরোপীয় মিত্ররাও বলেছেন, বলপ্রয়োগে সীমান্ত পরিবর্তন মেনে নেওয়া হবে না।

    এদিকে বৈঠককে ঘিরে এক নতুন তথ্য সামনে এসেছে। মার্কিন গণমাধ্যম এনপিআর জানিয়েছে, আলাস্কার ক্যাপ্টেন কুক নামের চার তারকা হোটেলের প্রিন্টারে পাওয়া গেছে বৈঠক সংক্রান্ত আট পৃষ্ঠার গোপন নথি। এতে ট্রাম্প-পুতিন আলোচনার স্থান, সময় এবং মার্কিন সরকারি কর্মকর্তাদের ফোন নম্বর পর্যন্ত উল্লেখ ছিল। অতিথিদের হাতে পাওয়া এই নথির ছবি এনপিআর যাচাই করেছে।

    এই নথি ফাঁসের ঘটনা বৈঠককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেন সংকট সমাধানে পুতিনের এই শর্ত শুধু যুদ্ধবিরতি নয়, বরং ভূরাজনীতিতে বড় চাপ সৃষ্টির কৌশল।

  • ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক: অগ্রগতি হলেও চুক্তিহীন, ইউক্রেনে হামলার সাইরেনে স্পষ্ট বার্তা

    ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক: অগ্রগতি হলেও চুক্তিহীন, ইউক্রেনে হামলার সাইরেনে স্পষ্ট বার্তা

    এবিএনএ:  আলাস্কার এলমেনডর্ফ বিমানঘাঁটিতে লাল গালিচায় ভ্লাদিমির পুতিনকে স্বাগত জানিয়ে শুরু হয়েছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুল আলোচিত বৈঠক। শুরুতে ইতিবাচক পরিবেশ থাকলেও বৈঠক যত এগোয়, ততই তা অস্পষ্ট হতে থাকে।

    প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠকের পর দুই নেতা সংবাদ সম্মেলনে এসে ঘোষণা দেন, কিছু অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু ঠিক কী বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন, তা স্পষ্ট করেননি কেউই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনো সমাধান আসেনি।

    ট্রাম্প বলেন, “আমরা অনেক বিষয়ে একমত হয়েছি, তবে বড় কিছু অর্জন করতে পারিনি। আলোচনা চলবে, চুক্তির সম্ভাবনা এখনো আছে।” এসময় পুতিন হেসে উত্তর দেন, “পরেরবার মস্কোতে।”

    তবে বৈঠকের ঠিক সময়েই ইউক্রেনে হামলার সাইরেন বাজতে থাকে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা এটিকে পুতিনের শক্তির প্রদর্শন বলেই মনে করছেন।

    মার্কিন গণমাধ্যম জানায়, বৈঠকে দুই দেশের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কেবলমাত্র তাদের দুজন সহকারী উপস্থিত ছিলেন। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী একান্ত বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল হয়। ফলে টারমাক থেকে বৈঠকের কক্ষে যাওয়ার সময় লিমোজিনে দুই নেতার গোপন আলাপই থেকে গেল রহস্যে ঘেরা।

    যুক্তরাষ্ট্রে অবতরণ করার পর থেকেই পুতিনের মুখে ছিল হাসি। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে থাকা পুতিন এই বৈঠকের মাধ্যমেই সম্মান পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

    রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ট্রাম্প-পুতিনের করমর্দনকে “ঐতিহাসিক” হিসেবে প্রচার করা হয়। বৈঠকে বড় কোনো চুক্তি না হলেও পুতিন যেন কূটনৈতিকভাবে নিজের বিজয়টাই হাসিমুখে ঘোষণা করলেন।

  • পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের আগে ট্রাম্পের স্পষ্ট বার্তা: ইউক্রেন নয়, লক্ষ্য আলোচনার পথ খোলা

    পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের আগে ট্রাম্পের স্পষ্ট বার্তা: ইউক্রেন নয়, লক্ষ্য আলোচনার পথ খোলা

    এবিএনএ:  প্রায় চার বছর পর যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্ব মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আলাস্কায়। আজ স্থানীয় সময় বিকাল ৩টায় অ্যাঙ্কারেজের এলমেনডর্ফ–রিচার্ডসন যৌথ বিমানঘাঁটিতে বসবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠক।

    হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প বিকেলের বৈঠক শেষে রাত পৌনে ১০টার দিকে ওয়াশিংটনে ফিরবেন। বৈঠকের আগে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানান, তিনি ইউক্রেন যুদ্ধের কোনো আনুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তি নিয়ে আসছেন না, বরং উদ্দেশ্য পুতিনকে আলোচনার টেবিলে বসানো। তাঁর মতে, ইউক্রেন ইস্যুতে নেতৃত্ব দেবে ইউরোপ, এবং ন্যাটোতে ইউক্রেনকে অন্তর্ভুক্ত করার কোনো পরিকল্পনা নেই।

    ট্রাম্প বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বরং বহু মানুষের জীবন রক্ষার লক্ষ্যেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে সতর্ক করে দেন—পুতিন যদি যুদ্ধ থামাতে রাজি না হন, তবে রাশিয়াকে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে।

    আলাস্কায় যাওয়ার পথে ট্রাম্প জানান, পুতিন সঙ্গে রুশ ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি তিনি ইতিবাচক মনে করছেন। তবে যুদ্ধের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত রাশিয়া স্বাভাবিক বাণিজ্য সুবিধা পাবে না। আলোচনায় অগ্রগতি হলে বাণিজ্যের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

    রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জানিয়েছেন, বৈঠকে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে তাদের নির্দিষ্ট অবস্থান উপস্থাপন করবে, তবে ফলাফল নিয়ে আগে থেকে কিছু বলবেন না। পুতিন ইতোমধ্যে আলাস্কায় পৌঁছেছেন, এর আগে তিনি রাশিয়ার মাগাদান শহরে স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক ও একটি শিল্প কারখানা পরিদর্শন করেছেন।

    ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আশা প্রকাশ করেছেন, এই বৈঠক শান্তির পথে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র–রাশিয়া–ইউক্রেন ত্রিপক্ষীয় আলোচনার পথ খুলে দিতে পারে। তাঁর ভাষায়, “যুদ্ধ শেষ করার সময় এসেছে, রাশিয়াকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা রাখছি।”

  • ঝটিকা সফরে বার্লিনে জেলেনস্কি, ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের আগে কৌশলগত আলোচনায় ব্যস্ত ইউক্রেন

    ঝটিকা সফরে বার্লিনে জেলেনস্কি, ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের আগে কৌশলগত আলোচনায় ব্যস্ত ইউক্রেন

    এবিএনএ:  রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকের আগে এক ঝটিকা সফরে জার্মানি গেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। বুধবার বার্লিনে পৌঁছে তিনি জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্জের সঙ্গে বৈঠক করেন।

    এ সফরের সময় জেলেনস্কি চ্যান্সেলরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ট্রাম্প ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুট্টিও ওই আলোচনায় যুক্ত ছিলেন। আগামী শুক্রবার আলাস্কায় ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে আলোচনার কথা রয়েছে, যা জেলেনস্কির এই সফরকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করেছে।

    সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির জন্য সম্ভাব্য শান্তিচুক্তিতে ইউক্রেন কিছু ভূখণ্ড রাশিয়ার হাতে ছাড় দিতে পারে। তবে জেলেনস্কি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দোনবাস অঞ্চল ছেড়ে দেওয়ার যে কোনো প্রস্তাব কিয়েভ প্রত্যাখ্যান করবে। তার মতে, এমন ছাড় ভবিষ্যতে রুশ আগ্রাসনের পথ খুলে দেবে।

    রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড দখলে রেখেছে। এএফপি জানিয়েছে, রুশ সেনারা পূর্বাঞ্চলীয় শহর ডোব্রোপিলিয়ার কাছে আকস্মিক হামলা চালিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ১০ কিলোমিটার অগ্রসর হয়েছে। জেলেনস্কি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এসব হামলার জবাব কিয়েভ কঠোরভাবে দেবে এবং এটি রাশিয়ার এক ধরনের কৌশল, যাতে ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের আগে নিজেদের অগ্রগতি তুলে ধরা যায়।

    এছাড়া তিনি দাবি করেছেন, মস্কো জাপোরিঝিয়া, পকরোভস্ক ও নভোপাভলভ এলাকায় নতুন সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে, হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান এক সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেছেন যে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াই জিতেছে এবং ইউক্রেন ইতোমধ্যেই পরাজিত হয়েছে।

  • মস্কো ও বেইজিংয়ে বোমা ফেলার হুমকি! ট্রাম্পের বিস্ফোরক অডিও ফাঁস

    মস্কো ও বেইজিংয়ে বোমা ফেলার হুমকি! ট্রাম্পের বিস্ফোরক অডিও ফাঁস

    এবিএনএ: মার্কিন রাজনীতিতে ফের চাঞ্চল্য! এবার প্রকাশ্যে এসেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি গোপন অডিও, যেখানে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রাশিয়া ও চীনকে সরাসরি বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন।

    জানা গেছে, ট্রাম্প গত বছর তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার সময় যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ব্যক্তিগত দাতাদের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে এই কথাগুলো বলেছিলেন। সিএনএনের হাতে এসেছে সেই বৈঠকের রেকর্ড করা অডিও, যা প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

    অডিওতে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি একবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সতর্ক করে বলেছিলেন, ইউক্রেনে আগ্রাসন চালালে মস্কোয় বোমা ফেলা হবে। শুধু তাই নয়, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকেও হুঁশিয়ারি দেন যে, তাইওয়ান নিয়ে উত্তেজনা বাড়ালে বেইজিংও সেই একই পরিণতির শিকার হবে।

    এদিকে, এই অডিও ফাঁসের পরই রাশিয়া ফের এক ভয়াবহ হামলা চালায় ইউক্রেনের ওপর। দেশটির বিমানবাহিনীর তথ্যমতে, মঙ্গলবার রাতে ইউক্রেনের আকাশে রেকর্ড সংখ্যক ৭২৮টি ড্রোন১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। যদিও কিয়েভ দাবি করেছে, ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।

    বর্তমানে মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে শান্তি আলোচনা স্থবির অবস্থায় রয়েছে। ইউক্রেন ট্রাম্পের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মতি জানালেও রাশিয়া তা এখনো গ্রহণ করেনি।

    এদিকে, কিছুদিন আগে পেন্টাগনের ইউক্রেন সহায়তা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হলেও ট্রাম্প পুনরায় তা চালু করার ঘোষণা দিয়েছেন। এ নিয়ে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, আমেরিকার সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে যাতে প্রতিরক্ষা সহায়তা নিশ্চিত করা যায়।

    এই অডিও ফাঁস এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্পের এসব মন্তব্য আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায়ও বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।

  • ইরানের জনগণকে সাহায্য করতে প্রস্তুত রাশিয়া: পুতিন

    ইরানের জনগণকে সাহায্য করতে প্রস্তুত রাশিয়া: পুতিন

    এবিএনএ: ইরানের জনগণকে সাহায্য করতে রাশিয়া প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন ভিত্তিহীন। রাশিয়া ইরানি জনগণকে সাহায্য করতে প্রস্তুত।’

    মস্কোতে স্থানীয় সময় সোমবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে আলোচনার শুরুতে এই মন্তব্য করেন পুতিন। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি ইরানে মার্কিন হামলার নিন্দা জানানোর জন্য পুতিনকে ধন্যবাদ জানান। রাশিয়া ‘ইতিহাসের সঠিক দিকে’ দাঁড়িয়ে আছে বলেও জানান তিনি। খবর রয়টার্সের।

    তিনি আরও বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খোমেনি ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তাকে পুতিনের প্রতি তাদের শুভকামনা জানাতে বলেছেন।

    এদিকে ক্রেমলিন বলেছে, তিনটি ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলা সংঘাতে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা বাড়িয়েছে এবং উত্তেজনাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার কী হয়েছে এবং তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকি আছে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে হামলা সম্পর্কে আগে থেকে কিছু জানাননি, যদিও তারা মার্কিন সামরিক সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা নিয়ে সাধারণভাবে আলোচনা করেছেন বলে জানান পেসকভ।

    ইরানের দীর্ঘদিনের মিত্র রাশিয়া এর আগে তেহরানের সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর পরমাণু আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এ স্থায়ী সদস্য ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তির অন্যতম পক্ষও ছিল। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদের মাঝামাঝিতে, ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি থেকে বের করে নিয়েছিলেন।

    ইরান সহায়তা চাইলেও মস্কোর পক্ষে এখন তাদেরকে বড় ধরনের সামরিক সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনা খুব কম বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, রাশিয়াকে এখন নিজেই ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। তার ওপর ট্রাম্পকে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে আগ্রহী দেখা যাচ্ছে।

  • ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পাল্টা জবাব আসছে! পুতিনকে সমর্থন ট্রাম্পের, হুঁশিয়ারি দিলেন নিজেই

    ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পাল্টা জবাব আসছে! পুতিনকে সমর্থন ট্রাম্পের, হুঁশিয়ারি দিলেন নিজেই

    এবিএনএ:

    ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার জবাবে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন—এমনটাই দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, পুতিনের সঙ্গে একঘণ্টারও বেশি সময় ধরে টেলিফোনে কথা বলেন এবং সেই আলোচনায় পুতিন জানান, রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটিতে ইউক্রেন যে আক্রমণ চালিয়েছে, তার জবাব রাশিয়াকে দিতেই হবে।

    বৃহস্পতিবার (৫ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। যদিও রাশিয়ার পক্ষ থেকে ট্রাম্পের বক্তব্যের কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ এখনো পাওয়া যায়নি, তবে মস্কো আগে থেকেই বলেছিল—যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সামরিক প্রতিক্রিয়াও বিবেচনায় রয়েছে।

    ট্রাম্প বলেন, “এই আলোচনার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক কোনো শান্তি আসছে না, বরং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে।”

    এদিকে রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরআইএ নভোস্তি জানিয়েছে, ফোনালাপে পুতিন ইউক্রেনকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠনে’ পরিণত হওয়ার অভিযোগ করেন। তিনি আরও বলেন, কিয়েভের সরকার শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ রুদ্ধ করছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে ভবিষ্যত সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়। পুতিন ও ট্রাম্প উভয়েই রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে ‘সম্ভাবনাময়’ বলে উল্লেখ করেছেন।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই ফোনালাপ যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে যখন ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত একটি নতুন ধাপে প্রবেশ করছে।