Tag: পিটিআই

  • ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে রাস্তায় নামার ঘোষণা পিটিআইয়ের—ইমরান খানের সাক্ষাৎ নিষেধাজ্ঞায় তুমুল ক্ষোভ

    ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে রাস্তায় নামার ঘোষণা পিটিআইয়ের—ইমরান খানের সাক্ষাৎ নিষেধাজ্ঞায় তুমুল ক্ষোভ

    এবিএনএ: পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে নতুন করে রাস্তায় নামার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। দলটি জানিয়েছে, মঙ্গলবার ইসলামাবাদ হাইকোর্ট চত্বর এবং রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের সামনে দুই দফা কর্মসূচি পালন করবে তারা।

    এরই মধ্যে দুই এলাকাজুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করেছে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডি প্রশাসন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তালাল চৌধুরী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের কোনো সুযোগ নেই; আদালত হোক বা কারাগার এলাকা—সবখানেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিটিআই নেতা আসাদ কায়সার জানিয়েছেন, বিরোধী সংসদ সদস্যরা প্রথমে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। পরে তাঁরা আদিয়ালা কারাগারের সামনে গিয়ে বিক্ষোভে যোগ দেবেন।

    তিনি আরও দাবি করেন, সংসদীয় কমিটি ইতোমধ্যে ইমরান খানের মুক্তির দাবি জানিয়েছে। তাঁর পরিবারকে সাক্ষাতের সুযোগ না দেওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামিল বলে তারা মন্তব্য করেছে।

    গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইমরান খানের পরিবারের সদস্যদের তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হয়নি, যা নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে পাকিস্তানে। যদিও সরকার ও পিটিআই উভয় পক্ষই জানাচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী সুস্থ আছেন।

    এর আগে গত ২৫ নভেম্বর ইমরানের বোনদের কারাগারে প্রবেশ করতে না দেওয়ায় পিটিআই নেতারা রাতেই অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, আর জনসমাবেশে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।

  • কারাবন্দী ইমরান খানের স্বাস্থ্য ও দেখা করার নিষেধাজ্ঞা নিয়ে পাকিস্তানে উত্তেজনা চরমে

    কারাবন্দী ইমরান খানের স্বাস্থ্য ও দেখা করার নিষেধাজ্ঞা নিয়ে পাকিস্তানে উত্তেজনা চরমে

    এবিএনএ: পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ঘিরে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। তার স্বাস্থ্যের অবনতি ও মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি দেখা করার নিষেধাজ্ঞা এবং পরিবারের সদস্যদের ওপর পুলিশের হামলার অভিযোগ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে।

    ইমরান খানের তিন বোন—নুরিন খান, আলিমা খান ও উজমা খান—অভিযোগ করেছেন, তারা ভাইয়ের খোঁজ নিতে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলের সামনে গেলে পুলিশের ‘নৃশংস আচরণের’ শিকার হন। তাদের দাবি, গত তিন সপ্তাহ ধরে কাউকে ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। শান্তিপূর্ণভাবে দাঁড়িয়ে থাকার পর হঠাৎ এলাকার স্ট্রিটলাইট নিভিয়ে অন্ধকারে পুলিশ লাঠিচার্জ চালায় এবং পিটিআই কর্মীদের লক্ষ্য করে হামলা করে।

    ৭১ বছর বয়সী নুরিন জানান, তাকে চুল ধরে টেনে ফেলে দেওয়া হয় এবং রাস্তায় টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। উপস্থিত নারী সমর্থকদেরও কিল-ঘুষি ও থাপ্পড় মারা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    ইমরান খানের পরিবারের দাবি, কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই এই হামলা চালানো হয়েছে, যা গত কয়েক বছর ধরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমনে বলপ্রয়োগের ধারাবাহিক উদাহরণ। তারা পাঞ্জাব পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে অভিযুক্ত সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

    পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) অভিযোগ করেছে, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ইমরান খানের সাক্ষাৎকার ও দেখা করার ওপর ‘অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা’ চলছে। তাদের মতে, ইমরান খানকে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং আইনজীবীদের সঙ্গেও দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না।

    আইনজীবী খালিদ ইউসাফ চৌধুরী জানান, এমনকি বই ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীও ইমরান খানের কাছে পৌঁছাতে দেওয়া হচ্ছে না। তার ভাষায়, “এখানে যেন জঙ্গলের আইন চলছে—যার শক্তি আছে, শুধুই তার অধিকার।”

    পিটিআইয়ের দাবি, খাইবার-পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদিও বারবার চেষ্টা করেও ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। এসব ঘটনার ফলে পাকিস্তানে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও প্রকট হয়ে উঠছে।

  • ‘মামলার মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বীদের দমন করা হচ্ছে’ – অভিযোগ ইমরান খানের

    ‘মামলার মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বীদের দমন করা হচ্ছে’ – অভিযোগ ইমরান খানের

    এবিএনএ:  পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রধান ইমরান খান অভিযোগ করেছেন, মামলা ও সাজা ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের দমন করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ব্যুরো (এনএবি) আসলে প্রতিপক্ষদের হাতে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে কাজ করছে। এর উদ্দেশ্য তাঁকে ও তাঁর দলকে আবারও রাজনীতির ময়দানে ফিরতে না দেওয়া।

    ইমরান বলেন, ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে তিনি দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে আসছেন। তাঁর ও পিটিআই নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা দায়ের করা হলেও বেশিরভাগেরই সমাপ্তি হয়েছে খালাস বা সাজা স্থগিতের মাধ্যমে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একই ধরনের তোশাখানা উপহার অবৈধভাবে রাখার পরও নওয়াজ শরিফ ও আসিফ আলি জারদারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে কেবল তাঁকে ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে কেন।

    নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ইমরান জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রিত্বের সময়ে যে উপহারগুলো পেয়েছেন সেগুলো সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী অনুমোদিত মূল্যায়নকারীদের মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছে। তাঁর দাবি, নির্বাচনের আগেই সাজা দিয়ে পিটিআই সমর্থকদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছে।

    অন্যদিকে, বুশরা বিবি লিখিত জবাবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কখনও তিনি কোনো তোশাখানা উপহার গ্রহণ, জমা বা মূল্যায়ন প্রভাবিত করেননি।

    ইমরানের অভিযোগ ঘিরে পাকিস্তানের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক ভারসাম্যকে আরও জটিল করে তুলছে।

  • পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে জামিন পেলেন ইমরান খান, মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা

    পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে জামিন পেলেন ইমরান খান, মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা

    এবিএনএ:  পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের প্রধান ইমরান খান কারাগারে থাকলেও একটি বড় মামলায় স্বস্তি পেয়েছেন। সেনা স্থাপনায় হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় তাকে জামিন দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

    বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) প্রধান বিচারপতি ইয়াহিয়া আফ্রিদির নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এই রায় দেন। এর আগে লাহোর হাইকোর্টে জামিন আবেদন খারিজ হওয়ার পর ইমরান খান সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন।

    ২০২৩ সালের মে মাসে সেনাবাহিনীর সদরদপ্তরসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। অভিযোগ ওঠে, ইমরান খানের গ্রেফতারের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ সমর্থকরা এ হামলা চালায়। এ ঘটনার পর একাধিক মামলা হয় তার বিরুদ্ধে।

    সুপ্রিম কোর্টের আদেশে বলা হয়েছে, যদি অন্য কোনো মামলা বা আটকাদেশ না থাকে তবে তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া যেতে পারে। তবে দুর্নীতির মামলায় তিনি এখনো অভিযুক্ত থাকায় তাৎক্ষণিক মুক্তি পাচ্ছেন না।

    ৭২ বছর বয়সী ইমরান খান ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রীর পদ হারান। এরপর ক্ষমতায় বসেন শেহবাজ শরীফ। সেই থেকে ইমরান ও তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের হতে থাকে।

    শুধু ইমরান খানই নন, পিটিআইয়ের অনেক নেতাই রাজনৈতিক মামলার জালে আটকা পড়েছেন। ২০২৩ সালের মে মাসে ইমরানকে স্বল্প সময়ের জন্য গ্রেফতার করা হলে দেশজুড়ে তার সমর্থকরা সহিংস বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। সেনাবাহিনীকে দায়ী করে তারা রাওয়ালপিন্ডির সেনা সদরদপ্তরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালান এবং ব্যাপক ভাঙচুর করেন।

    বর্তমানে জামিনের সিদ্ধান্ত ইমরান খানের জন্য আংশিক স্বস্তি হলেও দুর্নীতির মামলার কারণে তার মুক্তি এখনও অনিশ্চিত হয়ে রয়েছে।

  • লাহোর হাইকোর্টের রায় চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গেলেন ইমরান খান!

    লাহোর হাইকোর্টের রায় চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গেলেন ইমরান খান!

    এবিএনএ:  পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান ২০২৩ সালের ৯ মে সংঘটিত সহিংসতার মামলায় জামিন না পাওয়ায় লাহোর হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে এবার সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হয়েছেন।

    রবিবার দেশটির সর্বোচ্চ আদালতে জমা দেওয়া আপিল আবেদনে বলা হয়, সরকার পক্ষ ইমরান খানকে ৯ মে’র দাঙ্গার সঙ্গে জড়াতে তিনবার তিন রকম বর্ণনা দিয়েছে, যা বিভিন্ন আদালতে আগেই খারিজ হয়েছে।

    ইমরানের প্রধান আইনজীবী সালমান সাফদার জানান, প্রথমে দাবি করা হয়, ৭ মে জামান পার্কে এক পুলিশ কর্মকর্তা ষড়যন্ত্রের আলাপ শুনেছেন। পরে বলা হয়, ৪ মে রেস্ট হাউস এলাকায় আরেক কর্মকর্তা কিছু শুনেছেন। এরপর অভিযোগ করা হয়, ইমরান মিডিয়ার মাধ্যমে উসকানি দিয়েছেন। তবে প্রতিটি বক্তব্যই আদালত ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

    তিনি আরও জানান, এই মামলায় একই ধরনের অভিযোগে থাকা ইমরানের স্ত্রী বুশরা বিবি ও পিটিআই নেতা এজাজ চৌধুরী ইতোমধ্যেই জামিন পেয়েছেন। অথচ ইমরানের জামিন বারবার নাকচ করা হচ্ছে।

    অন্যদিকে, ইমরান খানের বোন আলিমা খান অভিযোগ করেন, আদিয়ালা কারাগার কর্তৃপক্ষ মামলার কাগজপত্র আটকে রাখায় পিটিশন দাখিলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।

    সুপ্রিম কোর্টে নতুন করে দাখিল করা এই আপিলে দাবি করা হয়েছে, গত দুই বছর ধরে ইমরান খান ‘অভূতপূর্ব রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার’ হয়ে কারাবন্দি রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দফায় দফায় মামলা দায়ের করে তাকে চুপ করিয়ে রাখার চেষ্টা করছে ক্ষমতাসীন মহল।

    ইমরান খানের এই আইনি লড়াই পাকিস্তানের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।