Tag: পিআর পদ্ধতি

  • পিআর পদ্ধতি নিয়ে সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ সংসদের—গণতন্ত্র রক্ষায় আহ্বান ফখরুলের

    পিআর পদ্ধতি নিয়ে সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ সংসদের—গণতন্ত্র রক্ষায় আহ্বান ফখরুলের

    এবিএনএ: সংখ্যানুপাতিক বা পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি নিয়ে এখনই সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিষয়টি আগামী সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    রবিবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে খ্রিস্টান ফোরামের নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

    মির্জা ফখরুল বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ আবারও প্রমাণ করবে যে এই দেশ সত্যিকারের অসাম্প্রদায়িক চেতনার। আমরা চাই অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। যদিও কিছু মহল এ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে।”

    তিনি আরও বলেন, “হঠাৎ পিআর পদ্ধতির দাবি তুলে আন্দোলনের চেষ্টা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। নির্বাচনী ব্যবস্থার রূপ কেমন হবে—তা নির্ধারণ করা উচিত আগামী সংসদের মাধ্যমে। সেই সংসদই সিদ্ধান্ত নেবে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের ধরন।”

    সংসদ কাঠামো নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমরা উচ্চকক্ষের প্রস্তাব দিয়েছি, যা একটি নতুন অভিজ্ঞতা হতে পারে। তবে নিম্নকক্ষের বাস্তবতা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।”

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, “গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া টিকিয়ে রাখতে হলে সব পক্ষের উচিত জনগণের মতামতকে সম্মান জানানো এবং সংলাপের মাধ্যমে পথ বের করা।”

  • পিআর নয়, নির্বাচনই আগে — মির্জা ফখরুলের কড়া বার্তা: পদ্ধতি দিয়ে বিলম্ব চান কিছু রাজনৈতিক দল

    পিআর নয়, নির্বাচনই আগে — মির্জা ফখরুলের কড়া বার্তা: পদ্ধতি দিয়ে বিলম্ব চান কিছু রাজনৈতিক দল

    এবিএনএ: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, পিআর (প্রতিনিধিত্বমূলক) পদ্ধতি নিয়ে কথাবার্তা চালানো ও আন্দোলন মূলত নির্বাচনের তারিখ পিছিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই করা হচ্ছে। রবিবার ঢাকায় ডিআরইউতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, সংস্কার কমিশনের কোনো প্রস্তাবে পিআর পদ্ধতি নেই—বাহির থেকে কেবল কিছু রাজনৈতিক শক্তি এটাকে অজুহাত বানিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলছে।

    ফখরুল বলেন, “তাদের লক্ষ্য একটাই — নির্বাচনের সময় পিছিয়ে দেওয়া। জনগণের হাতে ক্ষমতা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াটাকেই তারা স্থগিত করতে চায়।” তিনি আরও বলেন, এই পদ্ধতিটি মানুষের কাছে জনপ্রিয় নয় এবং চাপিয়ে দিলে জনগণ গ্রহণ করবে না। আলোচনা সভায় রাখা প্রশ্নে উপস্থিত নেতাদের অনেকেই স্বীকার করেন, তারা পিআর পদ্ধতিটি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা রাখেন না।

    মির্জা ফখরুল মনে করিয়ে দেন, বিএনপি আগেই বলেছে—আসন্ন নির্বাচনের জন্য নেই কোনো বিলম্ব; অন্তর্বর্তী সরকারের কমিটমেন্ট অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং তারা সেটাই দেখতে চায়। তিনি আরও বলেন, “জনগণ পরীক্ষিত ও কাজ করা সেই দলকেই বেছে নেবে, যে দল মানুষকে আশার আলো দেখিয়েছে।”

    বিএনপির শীর্ষনেতার ভাষ্য, দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রগতি রক্ষা করতে জনগণের ঐক্য ও সচেতনতা প্রয়োজন; যে কোনো ষড়যন্ত্র বা চক্রান্তকে জনগণই মোকাবিলা করবে। তিনি জনগণকে নেতৃত্ব, ঐক্য ও প্রতিবাদী মনোভাব বজায় রেখে সামনে এগিয়ে যেতে আহ্বান জানিয়ে শেষ করেন।

  • চরমোনাই পীর ভণ্ড, জামায়াত জাতীয় বেইমান: লক্ষ্মীপুরে এ্যানীর তীব্র সমালোচনা

    চরমোনাই পীর ভণ্ড, জামায়াত জাতীয় বেইমান: লক্ষ্মীপুরে এ্যানীর তীব্র সমালোচনা

    এবিএনএ:  বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই পীরপন্থী) এবং জামায়াত ইসলামীর বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন। সোমবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর জেলা আউটডোর স্টেডিয়াম মাঠে সদর পূর্ব বিএনপির প্রতিনিধি সম্মেলনে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

    চরমোনাই পীরের নাম না নিয়ে তিনি বলেন, “পীর নন, তিনি ভণ্ড। যিনি বারবার শেখ হাসিনার ক্ষমতাকে স্থায়ী করেছেন। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে সহযোগিতা করে শেখ হাসিনার শাসন দীর্ঘায়িত করেছেন। পাখা প্রতীকের সেই ইসলামী আন্দোলন ছিল জাতির সঙ্গে এক চরম বেইমানি।”

    তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “আজ তারা নির্বাচনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কথা বলছে, কিন্তু গত ১৭ বছর কোথায় ছিল? তখন তো আমরা পাখা প্রতীক পাইনি।”

    জামায়াতের সমালোচনা করে এ্যানী বলেন, “জামায়াত শুধু বিএনপির বিরুদ্ধেই নয়, জাতির বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র করেছে। ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে তাদের ভূমিকা প্রমাণ করেছে, তারা কেবল আওয়ামী লীগকেই টিকিয়ে রাখতে সহযোগিতা করেছে। তারা আত্মস্বীকৃত জাতীয় বেইমান।”

    তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আজ আবার নতুন নামে, ভিন্ন ছদ্মবেশে তারা মাঠে নামতে চাইছে। কিন্তু জনগণ তাদের আর বিশ্বাস করবে না। আওয়ামী লীগের হাতের লাঠি হয়ে জনগণকে আঘাত করার রাজনীতি এবার বন্ধ করতে হবে।”

    সংখ্যানুপাতিক (পিআর) ভোটের দাবিকে ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে এ্যানী বলেন, “ইসলামের নামে যারা দেশবিরোধী রাজনীতি করছে, তাদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। কোনো চক্রান্তই সফল হবে না, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করব।”

    সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা পূর্ব বিএনপির সভাপতি মাইন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোখলেছুর রহমান হারুন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. এমরান। প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সচিব ইসমাইল জবিউল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক এমপি আবুল খায়ের ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় নেতা আশরাফ উদ্দিন নিজাম, ভিপি হারুনুর রশিদ, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাবুদ্দিন সাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাসিবুর রহমান ও বাফুফের সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপীসহ অনেকে।

  • ঢাকায় সাত দলের যুগপৎ আন্দোলন: পিআর নির্বাচনের ফয়সালা গণভোটেই চাই জামায়াত ও চরমোনাই

    ঢাকায় সাত দলের যুগপৎ আন্দোলন: পিআর নির্বাচনের ফয়সালা গণভোটেই চাই জামায়াত ও চরমোনাই

    এবিএনএ:  রাজধানী ঢাকায় বৃহস্পতিবার বিকেলে সাতটি রাজনৈতিক দল যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে। জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই পীর) পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে কিনা তা নির্ধারণের জন্য গণভোট দাবি করে। একই সঙ্গে অপর পাঁচ দলও জুলাই সনদের সাংবিধানিক বাস্তবায়ন, গণহত্যার বিচার, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ এবং আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলো নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানায়।

    পুরানা পল্টন, গুলিস্তান ও প্রেস ক্লাব এলাকায় বিক্ষোভ মিছিলের কারণে বিকেলজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়, অফিস শেষে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। জামায়াত জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে সমাবেশ করে, ইসলামী আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও ভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালন করে।

    জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সমাবেশে বলেন, “এখনই জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দেওয়ার সময়। সাংবিধানিক আদেশ অথবা গণভোট ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।” তিনি সতর্ক করে দেন, বিদ্যমান কাঠামোয় নির্বাচন হলে আবার ফ্যাসিবাদ জন্ম নেবে।

    অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম জানান, জনগণ যদি গণভোটে পিআরকে সমর্থন না করে তবে তাদের দল এই দাবিতে অনড় থাকবে না। তবে বিএনপির সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যদি জনতার ওপর আস্থা থাকে, তবে গণভোটে যেতে আপত্তি কোথায়?”

    খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ সতর্ক করেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে জাতীয় বিপর্যয় অনিবার্য।” তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানান দ্রুত সাংবিধানিক আদেশ বা গণভোটের মাধ্যমে সনদকে বৈধতা দেওয়ার জন্য।

    আজ বিভাগীয় শহরগুলোতে একই দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে সাত দল।

  • কিছু আসনের লোভে পিআর চাইলে জাতীয় ঐক্য ভেঙে যাবে: সালাহউদ্দিন

    কিছু আসনের লোভে পিআর চাইলে জাতীয় ঐক্য ভেঙে যাবে: সালাহউদ্দিন

    এবিএনএ: বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সতর্ক করেছেন, শুধুমাত্র কিছু আসনের স্বার্থে জাতীয় স্বার্থকে উপেক্ষা করে সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন চাওয়ার চেষ্টা হলে তা দেশের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনবে। তার মতে, দলীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিলে জাতীয় ঐক্য ভেঙে পড়বে এবং স্বৈরাচারী শক্তিগুলো সুযোগ নেবে।

    মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

    তিনি বলেন, প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে সংসদ সদস্য নির্বাচন করা একটি পরীক্ষিত প্রক্রিয়া। এর বাইরে গিয়ে যদি কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কিংবা আসনের লোভে পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়নের দাবি তোলে, তা হবে জাতির জন্য অশনিসঙ্কেত।

    সালাহউদ্দিন আরও জানান, ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় নিম্নকক্ষে পিআর পদ্ধতির প্রস্তাব নেই। তবুও যদি কেউ রাজনৈতিক স্বার্থে আন্দোলনে নামে, বিএনপি রাজনৈতিকভাবেই তার মোকাবিলা করবে।

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, সময়মতো নির্বাচন না হলে জাতীয় নিরাপত্তার পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে। আর বৈধ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সংসদের মাধ্যমে যে কোনও সংশোধন এলে বিএনপি তা সমর্থন করবে। তবে এমন কোনও প্রক্রিয়া তারা সমর্থন করবে না যা ভবিষ্যতে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করবে।

    তার মতে, আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো জটিল সমস্যার সমাধান সম্ভব, সংঘাত বা অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপে নয়।

  • টুকুর অভিযোগ: মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীরা এখন ইতিহাসকেই চ্যালেঞ্জ করার সাহস পাচ্ছে

    টুকুর অভিযোগ: মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীরা এখন ইতিহাসকেই চ্যালেঞ্জ করার সাহস পাচ্ছে

    এবিএনএ:  জামালপুরে অনুষ্ঠিত জেলা বিএনপির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু অভিযোগ করে বলেন, যারা একসময় মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, তারাই আজ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে চ্যালেঞ্জ করার সাহস পাচ্ছে। তার মতে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

    টুকু বলেন, “যুদ্ধ না হলে স্বাধীন ভূখণ্ড আসতো না, জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা না দিলে বাংলাদেশ গড়ে উঠতো না। অথচ আজ এই রাষ্ট্রকে ব্যক্তিগত সম্পত্তির মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। কেউ কেউ বলছে ’২৪ সালের আন্দোলন দ্বিতীয় স্বাধীনতা। কিন্তু স্বাধীনতা একবারই হয়, আমাদের মানচিত্র দিয়েছে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধই।”

    শনিবার বিকেলে শহরের বেলটিয়া এলাকায় আয়োজিত এ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও সমালোচনা করেন প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) ভোট পদ্ধতির। তার ভাষায়, “বাংলাদেশের মানুষ চায় তাদের প্রার্থীকে দেখতে, তাকে চিনতে। কিন্তু এই পিআর পদ্ধতি বাস্তবে গ্রহণযোগ্য নয়। যারা এই শর্ত চাপাচ্ছে, তারা ’৪৭ সালেও দ্বিচারিতা করেছে, পাকিস্তানের সময়েও গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করেছে এবং মুক্তিযুদ্ধেও স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিল।”

    জামালপুর জেলা বিএনপির এ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। এছাড়া সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, মো. শরিফুল আলম, অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন, আবু ওয়াহাব আকন্দসহ শীর্ষস্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

    প্রায় নয় বছর পর আয়োজিত এই সম্মেলনে সাত উপজেলা ও আট পৌর শাখা থেকে এক হাজার ৫১৫ জন কাউন্সিলরসহ কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন। দীর্ঘ বিরতির পর আয়োজিত এই সম্মেলন ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা এবং উৎসবের পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়।

  • সংবিধানের বাইরে পিআর পদ্ধতিতে ভোট সম্ভব নয়: প্রধান নির্বাচন কমিশনার

    সংবিধানের বাইরে পিআর পদ্ধতিতে ভোট সম্ভব নয়: প্রধান নির্বাচন কমিশনার

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, আনুপাতিক পদ্ধতি বা পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন সংবিধানে নেই, তাই এটি সংবিধানের বাইরে। এই পদ্ধতিতে নির্বাচন সম্ভব নয়। তবে আইন পরিবর্তন হলে এই পদ্ধতিতে ভোট দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

    শনিবার (২৩ আগস্ট) রাজশাহীর লোক প্রশাসন ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে অঞ্চলের নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

    তিনি আরও জানান, প্রধান উপদেষ্টার চিঠি পাওয়ার পর থেকেই নির্বাচনের প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে, নির্বাচনি সীমানা নির্ধারণের খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে এবং রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সীমানা সংক্রান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

    সিইসি সতর্ক করেছেন, যারা অতীতে ভোটকেন্দ্র দখল করে অনিয়ম করেছে, তাদের এবার তা বাস্তবায়ন হবে না। ভোটকেন্দ্র দখল বা অস্ত্র ব্যবহার করে জয়ী হওয়ার চেষ্টা করলে ভোট বাতিল ঘোষণা করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্ট্রাইকিং ফোর্সের পাশাপাশি সেনাবাহিনীও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকা ৫৭০০ কর্মকর্তাকে যথাযথ দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং যারা পূর্ব নির্বাচনে অনিয়ম করেছে, তাদের এবার দায়িত্ব দেওয়া হবে না। সিইসি স্পষ্ট করেছেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনে কোনো চাপ দেয়নি; চাপ দিলে তিনি পদত্যাগ করবেন। আওয়ামী লীগের বিষয়ে তিনি বলেন, “দলের কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ, রায় হয়নি। কোনো রায় হলে সেটি দেখে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।”

  • ‘জুলাই সনদ ছাড়া নির্বাচন নয়’—সরকারকে হুঁশিয়ারি চরমোনাই পীরের

    ‘জুলাই সনদ ছাড়া নির্বাচন নয়’—সরকারকে হুঁশিয়ারি চরমোনাই পীরের

    এবিএনএ: সংস্কার ও জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি ছাড়া নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর সৈয়দ রেজাউল করীম। তিনি বলেন, “সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত কোনোভাবেই আগের নিয়মে নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।”

    মঙ্গলবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে আয়োজিত ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। সমাবেশে দলটির শীর্ষ নেতারা ভোটের অনুপাত (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান।

    রেজাউল করীম অভিযোগ করে বলেন, “পঞ্চাশ বছরের বেশি সময় ধরে দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়েছে, সেটিই সর্বনাশের মূল কারণ। কালো টাকা, মাস্তানি ও সন্ত্রাস বন্ধের একমাত্র সমাধান পিআর পদ্ধতি।”

    তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি নির্বাচনের আগেই নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনের পর এ ধরনের প্রতিশ্রুতিতে জনগণ আর আস্থা রাখবে না।

    সমাবেশে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব ইউনুস আহমদ বিএনপির উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দেন—“সনদ আইনি স্বীকৃতি পেলে আপনাদের আপত্তি কোথায়?” আর প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী ঘোষণা দেন, “সংস্কার ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেবে না ইসলামী আন্দোলন।”

    এ সময় মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান প্রধান উপদেষ্টার ভূমিকায় প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “একদিকে বলছেন সংস্কার না হলে দেশ পুরোনো ধারায় ফিরে যাবে, অন্যদিকে সনদের আইনি স্বীকৃতি নিশ্চিত না করেই নির্বাচন ঘোষণা দিয়েছেন। জনগণ জানতে চায়, কার চাপে এই সিদ্ধান্ত?”

    সমাবেশে নেতারা আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হলে ইসলামী আন্দোলন রাজপথে থাকবে এবং সংস্কার ছাড়া নির্বাচনে যাবে না।

  • পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠনের সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক দলগুলোর বিরোধিতা সত্ত্বেও এগোচ্ছে কমিশন

    পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠনের সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক দলগুলোর বিরোধিতা সত্ত্বেও এগোচ্ছে কমিশন

    এবিএনএ:  দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের অংশ হিসেবে পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতিতে ১০০ আসনের উচ্চকক্ষ গঠনের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন

    বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই), রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় পর্যায়ের সংলাপের ২৩তম দিনে মধ্যাহ্ন বিরতির পর এই ঘোষণা দেন কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

    তিনি জানান, দীর্ঘ আলোচনা চললেও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ বিষয়ে ঐকমত্য আসেনি। ফলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব কমিশনের উপরই পড়ে। কমিশন সিদ্ধান্ত নেয়, পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠিত হবে।

    কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী—

    • উচ্চকক্ষে নিজস্ব আইন প্রণয়নের ক্ষমতা থাকবে না।

    • অর্থবিল ছাড়া সংসদের প্রতিটি বিল উচ্চকক্ষে পাঠানো হবে।

    • এক মাসের মধ্যে বিল অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান না হলে তা অনুমোদিত বলে গণ্য হবে।

    • প্রত্যাখ্যান হলে বিল সংশোধন করে নিম্নকক্ষে ফেরত পাঠানো হবে।

    • নিম্নকক্ষ সংশোধন গ্রহণ বা বাতিল করতে পারবে।

    এছাড়া উচ্চকক্ষে ১০% নারী প্রার্থী রাখা বাধ্যতামূলক এবং জাতীয় নির্বাচনের সময়ই উচ্চকক্ষের প্রার্থী তালিকা জমা দিতে হবে।

    তবে এই প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে স্পষ্ট মতবিরোধ তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে।
    বিএনপি, লেবার পার্টি, এনডিএম, জাতীয়তাবাদী জোট এবং ১২ দলীয় জোট পিআর পদ্ধতির ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠনের ঘোর বিরোধিতা করেছে।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “উচ্চকক্ষের ক্ষমতা ও কাঠামো নিয়ে আমাদের দ্বিমত রয়েছে। তাই চূড়ান্ত প্রস্তাবে একমত হতে পারছি না।”

    সিপিবি, বাসদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামআমজনতার দল উচ্চকক্ষের প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন তোলে।
    নাগরিক ঐক্য বলেছে, আইন প্রণয়নের ক্ষমতা না থাকায় উচ্চকক্ষ অনর্থক হয়ে যাবে।

    দলগুলোর বিভক্ত মতের মধ্যেও কমিশন চূড়ান্ত প্রস্তাব দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, রাজনৈতিক ঐক্যমত্য আদৌ প্রতিষ্ঠিত হয় কি না।

  • “একবাক্স ভোটে জোটবদ্ধ ইসলামপন্থীরাই হবে আগামী দিনের শাসক” — চরমোনাই পীর

    “একবাক্স ভোটে জোটবদ্ধ ইসলামপন্থীরাই হবে আগামী দিনের শাসক” — চরমোনাই পীর

    এবিএনএ: ইসলামপন্থীদের মধ্যে ব্যাপক জনআকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে ঐক্যের, এবং সেই ঐক্যের মাধ্যমে আগামী দিনে ইসলামি দলগুলোই হবে দেশের মূল রাজনৈতিক শক্তি—এমন মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাইয়ের পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।

    শনিবার বিকেলে ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত ইসলামী আন্দোলনের মহাসমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

    তিনি বলেন, “দেশের মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। আমরা ৫৪ বছরে নানা দলকে ক্ষমতায় দেখেছি, কিন্তু ইসলামপন্থীরা কখনো রাষ্ট্র পরিচালনায় আসতে পারেনি। এবার যদি আমরা সব ইসলামপন্থী দল ও দেশপ্রেমিক দলগুলোকে নিয়ে কার্যকর একটি ঐক্য গড়তে পারি, তাহলে ইনশাআল্লাহ এবার নেতৃত্ব আমাদের হাতেই আসবে।”

    চরমোনাই পীর আরও বলেন, তিনি শুরু থেকেই ‘একবাক্স ভোট’ নীতির পক্ষে। শুধু ইসলামি দল নয়, বরং অন্যান্য দেশপ্রেমিক দলগুলোকেও একসাথে নিয়ে জোট গঠনের কাজ চলছে।

    তিনি দাবি করেন, “এখন সময় এসেছে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন দেওয়ার। যে যত শতাংশ ভোট পাবে, সে তত শতাংশ আসনে প্রতিনিধিত্ব করবে—এটাই জনগণের দাবি। এমনকি বিএনপিকেও এই পদ্ধতিতে নির্বাচনে আসা উচিত।”

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সংস্কারের পক্ষে কঠোর অবস্থানে আছে এবং কেউ যদি এই সংস্কারে বাধা দেয়, তাহলে তা ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হবে।

    সংবিধান প্রসঙ্গে চরমোনাই পীর বলেন, “১৯৭২ সালের সংবিধান জনগণের চাহিদা ও বিশ্বাসকে উপেক্ষা করেছে। সময় এসেছে গণমানুষের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী নতুন দিকনির্দেশনার।”

    এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি ইসলামপন্থী রাজনীতির একটি সুসংগঠিত ভবিষ্যৎ গঠনের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিলেন, যেখানে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব একসূত্রে আবদ্ধ থাকবে।