Tag: পাবনা

  • ধর্মের আড়ালে সহিংসতার রাজনীতি উস্কে দিচ্ছে জামায়াত—কঠোর সমালোচনায় এনসিপি

    ধর্মের আড়ালে সহিংসতার রাজনীতি উস্কে দিচ্ছে জামায়াত—কঠোর সমালোচনায় এনসিপি

    এবিএনএ: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অভিযোগ করেছে, জামায়াত ইসলামী ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে দেশে সহিংসতা, বিভাজন ও ঘৃণার পরিবেশ তৈরি করছে। সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক লিখিত বিবৃতিতে দলটি জানায়, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে ঘিরে জামায়াতের ভূমিকা উদ্বেগজনক এবং গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী।

    বিবৃতিটি পাঠান এনসিপির মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন। এতে বলা হয়, ৬ ডিসেম্বর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল প্রফেশনালস অ্যালায়েন্সের (এনপিএ) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সদস্যসচিব আখতার হোসেন সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার যে প্রমাণ-ভিত্তিক বক্তব্য দেন, তা সম্পূর্ণ তথ্যসম্মত।

    এনসিপি দাবি করে, পাবনার ঈশ্বরদীতে ২৭ নভেম্বর নির্বাচনী প্রচারণায় সংঘর্ষের সময় গুলি চালানো তুষার মণ্ডলের পরিচয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ নিশ্চিত করেছে—তিনি জামায়াতের কর্মী। তাকে অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। এতদসত্ত্বেও এই ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করা ‘দায় এড়ানোর চেষ্টা’ বলে মন্তব্য করে এনসিপি।

    দলটি আরও জানায়, ৫ আগস্টের পর থেকে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠার সুযোগ থাকলেও জামায়াত সেই পথ অনুসরণ না করে পুরোনো সহিংসতাকেন্দ্রিক রাজনীতিতে ফিরে যেতে চাইছে। নতুন রূপে ‘সহিংস খেলায়’ অংশ নিতে চাইছে—যা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য অশুভ সংকেত।

    বিবৃতিতে বলা হয়, ধর্মের অপব্যবহার, অস্ত্রনির্ভর রাজনীতি ও সংঘাত সৃষ্টি—এসবই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থী। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে শান্তি, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতি বজায় রাখতে সব দলের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা উচিত বলে মন্তব্য করে এনসিপি। পাশাপাশি তারা জামায়াতকে সত্য, শান্তি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানায়।

    এর আগে গত শনিবার এক অনুষ্ঠানে আখতার হোসেন বলেন—নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগেই বিএনপি-জামায়াত জোটের মতো কিছু দল অস্ত্রের মহড়ায় প্রতিযোগিতায় নেমেছে। রোববার এক প্রতিক্রিয়া বিবৃতিতে জামায়াত এ মন্তব্যকে ‘মনগড়া, অসত্য ও উদ্দেশ্যমূলক’ বলে দাবি করে এবং আখতার হোসেনকে তার বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়।

  • পাবনায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণ: বহিষ্কৃত ১০ নেতা, হাসপাতালে এক শীর্ষ নেতা

    পাবনায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণ: বহিষ্কৃত ১০ নেতা, হাসপাতালে এক শীর্ষ নেতা

    এবিএনএ:  পাবনার সুজানগরে স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় দলীয় সদস্য সচিব গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার জেরে সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটি একযোগে ১০ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে।

    বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের এ তথ্য জানানো হয়। সুজানগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তৌফিক হাসান শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন।

    বহিষ্কৃতদের মধ্যে আছেন—সদস্য সচিব শেখ আব্দুর রউফ, ছাত্রদল নেতা শেখ কাউছার, যুবদল নেতা মনজেদ শেখ, পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মজিবর খা, সাবেক নেতা কামাল শেখ, যুবদল সদস্য মানিক খা, কলেজ শাখা সভাপতি শাকিল খা, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সহসভাপতি রুহুল খা, কর্মী লেবু খা এবং যুবদল কর্মী হালিম শেখ।

    ঘটনার সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার, মোবাইল ফোনে কথা বলা নিয়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষের বিরোধ থেকে। পরে বুধবার রজনী ঘোষ সিনেমা হলের সামনে দুই পক্ষ ফের মুখোমুখি হয়। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মারামারি ও ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সংঘর্ষে রক্তক্ষয়ী হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।

    এসময় সদস্য সচিব আব্দুর রউফ শেখ উভয় পক্ষকে থামাতে গেলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে তাকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে আরও কিছু ব্যক্তির সম্পৃক্ততা থাকলেও তারা বিএনপি বা এর কোনো অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন। ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতায় দলের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানায় কেন্দ্র।

    স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল দলীয় শৃঙ্খলা ও জনসমর্থনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের অনুরোধ জানিয়েছে।