Tag: পাকিস্তান রাজনীতি

  • ৮৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন কারাবন্দি ইমরান খান

    ৮৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন কারাবন্দি ইমরান খান

    এবিএনএ: পাকিস্তানের আদিয়ালা কারাগারে আটক সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দৃষ্টিশক্তির বড় অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া মেডিকেল টিমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বর্তমানে তার দৃষ্টিশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত, অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র ১৫ শতাংশ।

    চিকিৎসার আবেদন জানিয়ে সম্প্রতি আইনজীবী সালমান সাফদারের মাধ্যমে আদালতে আবেদন করেন ইমরান খান। আবেদন আমলে নিয়ে সর্বোচ্চ আদালত আদিয়ালা কারাগারে একটি বিশেষ মেডিকেল টিম পাঠানোর নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে সালমান সাফদারকেও ওই দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    কারাগারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রক্ত জমাট বাঁধা সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছিলেন ইমরান খান। এই সমস্যার চিকিৎসা শুরুর পর থেকেই তার চোখের সমস্যা বাড়তে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টিশক্তি দ্রুত কমে গিয়ে বর্তমান অবস্থায় পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

    মেডিকেল প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ৭৩ বছর বয়সী এই রাজনীতিক সাধারণত শারীরিক অসুস্থতার বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে খুব একটা অভিযোগ করতেন না। তবে চোখে সমস্যা শুরু হওয়ার পর তিনি একাধিকবার বিষয়টি জানান। অভিযোগ রয়েছে, শুরুতে কারা কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের অক্টোবরের পর থেকেই ইমরান খানের চোখে জটিলতা দেখা দেয়। আইনজীবী সালমান সাফদার জানান, সাক্ষাতের সময় ইমরান খানের চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়ছিল এবং বারবার টিস্যু দিয়ে মুছতে হচ্ছিল।

    আইনজীবীর অভিযোগ অনুযায়ী, নিয়ম অনুযায়ী আইনজীবী ও নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক সময় সেই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন ইমরান খান।

    উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে পাকিস্তানের ক্ষমতায় আসেন সাবেক ক্রিকেট তারকা ইমরান খান। পরবর্তীতে সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে মতানৈক্যের জেরে রাজনৈতিক সংকটে পড়েন তিনি। ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর একাধিক মামলায় দণ্ডিত হয়ে ২০২৩ সাল থেকে আদিয়ালা কারাগারে বন্দি আছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

  • ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে রাস্তায় নামার ঘোষণা পিটিআইয়ের—ইমরান খানের সাক্ষাৎ নিষেধাজ্ঞায় তুমুল ক্ষোভ

    ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে রাস্তায় নামার ঘোষণা পিটিআইয়ের—ইমরান খানের সাক্ষাৎ নিষেধাজ্ঞায় তুমুল ক্ষোভ

    এবিএনএ: পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে নতুন করে রাস্তায় নামার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। দলটি জানিয়েছে, মঙ্গলবার ইসলামাবাদ হাইকোর্ট চত্বর এবং রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের সামনে দুই দফা কর্মসূচি পালন করবে তারা।

    এরই মধ্যে দুই এলাকাজুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করেছে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডি প্রশাসন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তালাল চৌধুরী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের কোনো সুযোগ নেই; আদালত হোক বা কারাগার এলাকা—সবখানেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিটিআই নেতা আসাদ কায়সার জানিয়েছেন, বিরোধী সংসদ সদস্যরা প্রথমে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। পরে তাঁরা আদিয়ালা কারাগারের সামনে গিয়ে বিক্ষোভে যোগ দেবেন।

    তিনি আরও দাবি করেন, সংসদীয় কমিটি ইতোমধ্যে ইমরান খানের মুক্তির দাবি জানিয়েছে। তাঁর পরিবারকে সাক্ষাতের সুযোগ না দেওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামিল বলে তারা মন্তব্য করেছে।

    গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইমরান খানের পরিবারের সদস্যদের তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হয়নি, যা নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে পাকিস্তানে। যদিও সরকার ও পিটিআই উভয় পক্ষই জানাচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী সুস্থ আছেন।

    এর আগে গত ২৫ নভেম্বর ইমরানের বোনদের কারাগারে প্রবেশ করতে না দেওয়ায় পিটিআই নেতারা রাতেই অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, আর জনসমাবেশে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।

  • কারাবন্দী ইমরান খানের স্বাস্থ্য ও দেখা করার নিষেধাজ্ঞা নিয়ে পাকিস্তানে উত্তেজনা চরমে

    কারাবন্দী ইমরান খানের স্বাস্থ্য ও দেখা করার নিষেধাজ্ঞা নিয়ে পাকিস্তানে উত্তেজনা চরমে

    এবিএনএ: পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ঘিরে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। তার স্বাস্থ্যের অবনতি ও মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি দেখা করার নিষেধাজ্ঞা এবং পরিবারের সদস্যদের ওপর পুলিশের হামলার অভিযোগ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে।

    ইমরান খানের তিন বোন—নুরিন খান, আলিমা খান ও উজমা খান—অভিযোগ করেছেন, তারা ভাইয়ের খোঁজ নিতে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলের সামনে গেলে পুলিশের ‘নৃশংস আচরণের’ শিকার হন। তাদের দাবি, গত তিন সপ্তাহ ধরে কাউকে ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। শান্তিপূর্ণভাবে দাঁড়িয়ে থাকার পর হঠাৎ এলাকার স্ট্রিটলাইট নিভিয়ে অন্ধকারে পুলিশ লাঠিচার্জ চালায় এবং পিটিআই কর্মীদের লক্ষ্য করে হামলা করে।

    ৭১ বছর বয়সী নুরিন জানান, তাকে চুল ধরে টেনে ফেলে দেওয়া হয় এবং রাস্তায় টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। উপস্থিত নারী সমর্থকদেরও কিল-ঘুষি ও থাপ্পড় মারা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    ইমরান খানের পরিবারের দাবি, কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই এই হামলা চালানো হয়েছে, যা গত কয়েক বছর ধরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমনে বলপ্রয়োগের ধারাবাহিক উদাহরণ। তারা পাঞ্জাব পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে অভিযুক্ত সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

    পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) অভিযোগ করেছে, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ইমরান খানের সাক্ষাৎকার ও দেখা করার ওপর ‘অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা’ চলছে। তাদের মতে, ইমরান খানকে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং আইনজীবীদের সঙ্গেও দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না।

    আইনজীবী খালিদ ইউসাফ চৌধুরী জানান, এমনকি বই ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীও ইমরান খানের কাছে পৌঁছাতে দেওয়া হচ্ছে না। তার ভাষায়, “এখানে যেন জঙ্গলের আইন চলছে—যার শক্তি আছে, শুধুই তার অধিকার।”

    পিটিআইয়ের দাবি, খাইবার-পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদিও বারবার চেষ্টা করেও ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। এসব ঘটনার ফলে পাকিস্তানে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও প্রকট হয়ে উঠছে।

  • ‘মামলার মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বীদের দমন করা হচ্ছে’ – অভিযোগ ইমরান খানের

    ‘মামলার মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বীদের দমন করা হচ্ছে’ – অভিযোগ ইমরান খানের

    এবিএনএ:  পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রধান ইমরান খান অভিযোগ করেছেন, মামলা ও সাজা ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের দমন করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ব্যুরো (এনএবি) আসলে প্রতিপক্ষদের হাতে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে কাজ করছে। এর উদ্দেশ্য তাঁকে ও তাঁর দলকে আবারও রাজনীতির ময়দানে ফিরতে না দেওয়া।

    ইমরান বলেন, ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে তিনি দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে আসছেন। তাঁর ও পিটিআই নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা দায়ের করা হলেও বেশিরভাগেরই সমাপ্তি হয়েছে খালাস বা সাজা স্থগিতের মাধ্যমে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একই ধরনের তোশাখানা উপহার অবৈধভাবে রাখার পরও নওয়াজ শরিফ ও আসিফ আলি জারদারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে কেবল তাঁকে ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে কেন।

    নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ইমরান জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রিত্বের সময়ে যে উপহারগুলো পেয়েছেন সেগুলো সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী অনুমোদিত মূল্যায়নকারীদের মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছে। তাঁর দাবি, নির্বাচনের আগেই সাজা দিয়ে পিটিআই সমর্থকদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছে।

    অন্যদিকে, বুশরা বিবি লিখিত জবাবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কখনও তিনি কোনো তোশাখানা উপহার গ্রহণ, জমা বা মূল্যায়ন প্রভাবিত করেননি।

    ইমরানের অভিযোগ ঘিরে পাকিস্তানের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক ভারসাম্যকে আরও জটিল করে তুলছে।