Tag: পরিবেশ

  • নদ-নদী দখলে ২১,৯৮২ জন, উচ্ছেদে নতুন পরিকল্পনা

    নদ-নদী দখলে ২১,৯৮২ জন, উচ্ছেদে নতুন পরিকল্পনা

    এবিএনএ: দেশজুড়ে নদ-নদীর তীর ও প্লাবনভূমি দখল করে রাখা ব্যক্তিদের হালনাগাদ তালিকা তৈরি করেছে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে মোট ২১ হাজার ৯৮২ জন অবৈধ দখলদার চিহ্নিত হয়েছে। নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন।

    মন্ত্রী জানান, দখলদারদের তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নদ-নদীর দখল উচ্ছেদের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা পাঠাতে সব জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করা হয়েছে। মাঠ প্রশাসনের পরিকল্পনা হাতে পেলেই ধাপে ধাপে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।

    সংসদে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রীর বক্তব্য

    কুমিল্লা-৪ আসনের এক সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে নৌমন্ত্রী বলেন, নদী দখল রোধ এবং দূষণ প্রতিরোধে হাইকোর্টের নির্দেশনার আলোকে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন গঠন করা হয়। পরে আদালতের রায়ে দেশের সব নদ-নদীকে ‘জীবন্ত সত্তা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং কমিশনকে নদীগুলোর আইনগত অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

    তিনি আরও জানান, স্থানীয় প্রশাসন, বিআইডব্লিউটিএ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সহযোগিতায় বিভিন্ন সময়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হলেও নতুন করে তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। এতে সারাদেশে ২১ হাজার ৯৮২ জন দখলদার শনাক্ত হয়েছে।

    উচ্ছেদে সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ

    সরকার জানিয়েছে, নদী দখল উচ্ছেদে বেশ কয়েকটি বাধা রয়েছে। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সরাসরি উচ্ছেদ পরিচালনার ক্ষমতা না থাকায় অভিযান পরিচালনা জটিল হয়ে পড়ে। এছাড়া পুরোনো রেকর্ড অনুযায়ী নদীর সীমানা নির্ধারণ করতে গিয়ে দেখা যায়, অনেক নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে সেখানে স্থাপনা গড়ে উঠেছে।

    এছাড়া বিভিন্ন দখল সংক্রান্ত মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকায় অনেক ক্ষেত্রে উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত থাকে। লোকবল ও বাজেট সংকটের কারণে নিয়মিত অভিযান চালানোও কঠিন হয়ে পড়ে বলে সংসদে জানানো হয়।

    কঠোর আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি

    এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে নদী দখল ও দূষণকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিষয় রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পৃথক নদী আদালত গঠন, তদন্ত ও মামলা পরিচালনার ক্ষমতা কমিশনকে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    এছাড়া উচ্ছেদ হওয়া জায়গা পুনর্দখল ঠেকাতে ওয়াকওয়ে নির্মাণ, বৃক্ষরোপণ এবং সীমানা পিলার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত দখলদারদের বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযান শুরু করা হবে বলেও সংসদে উল্লেখ করা হয়।

  • অবহেলা আর প্রকৃতির আঘাতে বিলীন হওয়ার পথে সুন্দরবনের কটকা পর্যটন কেন্দ্র

    অবহেলা আর প্রকৃতির আঘাতে বিলীন হওয়ার পথে সুন্দরবনের কটকা পর্যটন কেন্দ্র

    মোঃ শাহাদাত হোসাইন, এবিএনএ,শরণখোলা (বাগেরহাট): সাগরে ভাঙছে সুন্দরবনের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র কটকা। সাগরে বিলীন হয়ে গেছে বনরক্ষীদের ব্যারাক, চলাচলের রাস্তা, পুকুর, রেস্ট হাউসসহ বেশ কয়েকটি পাকা স্থাপনা ও গাছপালা। অপরদিকে, জৌলুস হারাচ্ছে কটকার আরেকটি পর্যটন স্পট জামতলা সী-বীচ।

    সরেজমিনে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের কটকা পর্যটন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ক্রমান্বয়ে বঙ্গোপসাগরের ভাঙনে কটকার বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গত দুই বছরে কটকা অভয়ারণ্য পর্যটন কেন্দ্রের বেশ কয়েকটি পাকা স্থাপনা, রাস্তা ও গাছপালা সাগরে বিলীন হয়ে গেছে।

    সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার মো. মতিউর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাগরের ভাঙনের কবলে রয়েছে কটকা বনাঞ্চল। প্রতিনিয়ত বনভূমি ও গাছপালা সাগরে বিলীন হচ্ছে। ভাঙনের কারণে গত দুই বছরে কটকার বনরক্ষীদের দুটি ব্যারাক, একটি রেস্ট হাউস ভবন, চলাচলের রাস্তা, একটি পুকুর এবং বিপুল পরিমাণ গাছপালা সাগরে তলিয়ে গেছে। কয়েকবার স্টাফ ব্যারাক স্থানান্তর করতে হয়েছে। বর্তমানে সাগর খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। আগামী বর্ষা মৌসুমে বিদ্যমান ব্যারাক, অফিস ও রেস্ট হাউস সাগরে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভাঙন রোধে কংক্রিট ব্লক ফেলা প্রয়োজন বলে তিনি জানান।

    অপরদিকে, সুন্দরবনে ভ্রমণকারীদের কাছে আকর্ষণীয় স্পট কটকার জামতলা সী-বীচ তার জৌলুস হারাতে বসেছে। সী-বীচে এখন তেমন বালু নেই; বীচটি অনেকটাই কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে। প্রাকৃতিক কারণে বীচের বালু জোয়ারের পানিতে সুন্দরবনের ভেতরে সরে গেছে। জামতলা সী-বীচে ঘুরতে আসা পঞ্চগড় জেলার পর্যটক মোজাম্মেল হোসেন বলেন, জামতলা সী-বীচের রূপ ও জৌলুস অনেকটাই হারিয়ে গেছে। বর্তমানে এখানে সী-বীচের আগের সৌন্দর্য নেই। কর্দমাক্ত বীচে হাঁটাচলা করা কষ্টকর বলে জানান তিনি।

    সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, গত কয়েক বছর ধরে বঙ্গোপসাগরের ভাঙনের কবলে পড়েছে কটকাসহ সুন্দরবনের বিভিন্ন বনাঞ্চল। কটকায় বেশ কয়েকটি পাকা স্থাপনা ও পুকুর সাগরে বিলীন হয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে প্রস্তাবনা দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

  • সুন্দরবনে ফের বন্যপ্রাণী নিধনের ছায়া, বস্তাভর্তি হরিণের মাংসসহ এক ব্যক্তি আটক

    সুন্দরবনে ফের বন্যপ্রাণী নিধনের ছায়া, বস্তাভর্তি হরিণের মাংসসহ এক ব্যক্তি আটক

    এবিএনএ,শরণখোলা: সুন্দরবন থেকে হরিণের মাংস পাচারের সময় রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) ভোর রাতে আড়াই মণ হরিণের মাংসসহ বনরক্ষীদের হাতে আটক হয়েছে এক হরিণ চোরাশিকারী। আটক শিকারীকে মোবাইল কোর্টে এক বছরের স্বশ্রম কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে।

    বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব সুন্দরবন বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের জ্ঞানপাড়া বিশেষ টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে বনরক্ষীরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) ভোর রাত সাড়ে তিনটার দিকে পাথরঘাটার চরদুয়ানী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে হরিণ শিকারী লিটন হাওলাদার (৪৯) নামে একজনকে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে বস্তায় ভরা ১০২ কেজি হরিণের মাংস জব্দ করেন বনরক্ষীরা। আটক শিকারী পাথরঘাটা উপজেলার কাঠালতলী গ্রামের রুস্তম হাওলাদারের পুত্র। সে সুন্দরবনে হরিণ শিকার করে মাংস দুটি বস্তায় ভরে নিয়ে যাচ্ছিলো বলে বনরক্ষীরা জানান।

    পূর্ব সুন্দরবন বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) রানা দেব বলেন, চরদুয়ানী বাজার এলাকায় হরিণের মাংসসহ আটক শিকারীকে পাথরঘাটা উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট শেখ মোহাম্মদ পনির মোবাইল কোর্ট বসিয়ে এক বছরের স্বশ্রম কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থ দন্ডে দন্ডিত করেন। জব্দকৃত হরিণের মাংস কেরোসিন দিয়ে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে বলে এসিএফ জানিয়েছেন।