Tag: পরিবেশ সংরক্ষণ

  • খাল-নদীর পথ আটকে রাখলে রেহাই নেই: দখলদারদের কড়া বার্তা প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুলের

    খাল-নদীর পথ আটকে রাখলে রেহাই নেই: দখলদারদের কড়া বার্তা প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুলের

    এবিএনএ,মাসুদ রানা, মোংলা: পরিবেশ বন ও জলবায়ু পারিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় আমরা কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় বদ্ধপরিকর। এখন থেকে মোংলা ও রামপালের কোনো সরকারি খাল ইজারা বা দখলে থাকবে না, সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য সব খাল উন্মুক্ত করা হবে। তিনি আরো বলেন দীর্ঘ চার দশক পর এই খালগুলো খননের ফলে এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন হবে এবং স্থানীয় কৃষকরা তাদের কৃষিকাজের সুবিধা পাবেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এই খনন কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, জনগণের রক্ত চুষে খাওয়ার দিন শেষ। মোংলা-রামপালের প্রতিটি সরকারি খাল এখন থেকে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। যারা খাল দখল করে মাছ চাষ বা ব্যক্তিগত সা¤্রাজ্য গড়ে তুলেছেন, স্চ্ছোয় ছেড়ে না দিলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, শহীদ জিয়ার খাল খনন বিপ্লবের চেতনা ধারণ করেই কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায় এই প্রকল্পের আওতায় শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে মোংলার ৪টি গুরুত্বপূর্ণ মাদুরপাল্টা খাল, ভোলা নদী খাল, পালেরখন্ড খাল এবং বেনীরখন্ড খালের মোট সাড়ে ৮ কিলোমিটার অংশ পুনঃখনন শুভ উদ্বোধন কালে তিনি এ কথা বলেন।

    শনিবার দুপুরে মোংলা উপজেলার মাদুরপাল্টা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে এই ঐতিহাসিক খনন কাজের শুভ উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। এ খালের উদ্বোধনের মাধ্যমেই সূচিত হলো মোংলা-রামপালের কৃষকদের এক নতুন স্বপ্নযাত্রা।

    মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমীন আক্তার সুমী’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এই খনন প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। জানা যায়, মাদুরপাল্টা, ভোলা নদী, পালেরখন্ড ও বেনীরখন্ড খালের সাড়ে ৮ কিলোমিটার জুড়ে চলবে এই খনন কাজ। ৪টি খাল থেকে প্রায় ২৬ লক্ষ ১৪ হাজার ৬৫৭ ঘনফুট মাটি সরানো হবে। খালগুলোর উপরের প্রস্থ হবে ২৫ ফিট, নিচের প্রস্থ হবে ৫ ফিট এবং গভীরতা ৮ ফিট নিশ্চিত করা হবে, যাতে অনায়াসে জোয়ার-ভাটার পানি চলাচল করতে পারে। আর এ প্রকল্পের ৪৯ লাখ ৬৭ হাজার ৮৪৭ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এই কাজ আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

    খাল খনন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে সহকারী পুলিশ সুপার রেফাতুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আঃ মান্নান হাওলাদার, সাধারন সম্পাদক আবু হোসেন পনি, পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, শেখ রুস্তম আলী, থানা যুবদলের সদস্য সচিব সফরুল হায়দার সুজন সহ সিএনআরএস এর প্রতিনিধি সহ বিএনপি নেতাকর্মী ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গরা এসময় উপস্থিতি ছিলেন।

    অনুষ্ঠানের সভাপতি মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমীন আক্তার সুমী জানান, দখলদারদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং খালের প্রবাহ সচল রাখতে উপজেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং এলাকাবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

    মাটি কাটার কাজ শুরু হতেই স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ এক কৃষক আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ৪০ বছর পর এই খালে আবার পানির কলকল শব্দ শুনব, এটা ভাবতেই চোখ ভিজে আসছে। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের ফলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও লোনা পানির অভিশাপ থেকে মুক্তি মিলবে বলে বিশ্বাস এই উপকূলীয় জনপদের মানুষের। তাই দীর্ঘ চার দশক পর অবরুদ্ধ এই খালগুলো প্রাণ ফিরে পাওয়ায় স্থানীয় কৃষিজীবী ও সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

    বক্তারা বলেন, এটি শুধু মাটি কাটা নয়, এটি মোংলার কৃষি ও পরিবেশকে পুনর্জীবিত করার এক লড়াই, এই উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করেতে সকলেই সহায়তা করবে। বেসরকারি সংস্থা সিএনআরএস-এর ‘নবপল্লব’ প্রকল্পের অধীনে এবং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স সোহাগ এন্টার প্রাইজ-এর কারিগরি সহায়তায় এই কাজ মোংলার মানচিত্র বদলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চে প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা দিয়ে বলেন “মোংলা-রামপালের কোনো সরকারি খাল আর কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি থাকবে না, সব হবে জনগণের। উপস্থিত হাজারো মানুষের করতালিতে মুখরিত হয় চারপাশ। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “শহীদ জিয়ার স্বপ্নের সেই খাল খনন বিপ্লব আজ থেকে এই জনপদে পুনরায় শুরু হলো। কোনো ইজারা নয়, কোনো দখল নয়, প্রতিটি সরকারি খাল হবে উন্মুক্ত। যারা এতদিন সাধারণ মানুষের পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে পকেট ভরেছে, তারা স্বেচ্ছায় ছেড়ে না দিলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্তা নেয়া হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

  • নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কাঁকড়া শিকার, অভিযান চালিয়ে ৪ জন আটক:জব্দ নৌকা ও ট্রলার

    নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কাঁকড়া শিকার, অভিযান চালিয়ে ৪ জন আটক:জব্দ নৌকা ও ট্রলার

    এবিএনএ,মোঃ শাহাদাত হোসাইন, শরণখোলা: পূর্ব সুন্দরবনে শরণখোলা রেঞ্জের জ্ঞানপাড়ায় অভিযান চালিয়ে ৮০ কেজি কাঁকড়া উদ্ধার করেছে বনবিভাগ। অভিযানে নিষিদ্ধ সময়ে কাঁকড়া ধরার অপরাধে চার কাঁকড়া শিকারিকে আটক করা হয়।

    শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে আটকদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান চালিয়ে এসব কাঁকড়া জব্দ ও জড়িতদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

    আটকরা হলেন, রফিক মোল্লা (৪৮), রউফ মোল্লা (৪৫), আলামিন শেখ (৩১) ও আছাদুল শেখ (৩০)। তাদের সবার বাড়ি দাকোপের পানখালী ও মোরেলগঞ্জের ছোলম বাড়ীয়ায়।

    বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, শরণখোলা রেঞ্জের জ্ঞানপাড়ায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ছুলিয়ার খালের মুখে একটি ট্রলার ও ডিঙ্গি নৌকাসহ চারজনকে আটক করা হয়। এসময় ট্রলার ও নৌকায় তল্লাশি করে ৮০ কেজি কাঁকড়া জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে চারজনকে জ্ঞানপাড়াট হল ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

    শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, আটক ব্যক্তিরা অবৈধভাবে কাঁকড়া ধরে নিয়ে যাচ্ছিলো। সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সুন্দরবনে কাঁকড়া পাচার: বিপুল পরিমাণ কাঁকড়াসহ ৫ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

    নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সুন্দরবনে কাঁকড়া পাচার: বিপুল পরিমাণ কাঁকড়াসহ ৫ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

    এবিএনএ,বাগেরহাট: সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সুন্দরবনের গভীর এলাকা থেকে সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ কাঁকড়াসহ পাঁচজন কাঁকড়া ব্যবসায়ীকে আটক করেছে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন, মোংলা।

    গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতভর পরিচালিত অভিযানে সুন্দরবন সংলগ্ন দাকোপ উপজেলার কালাবগি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় ১২ মন ২৫ কেজি বা প্রায় ৪৯০ কেজি অবৈধভাবে আহরিত কাঁকড়া জব্দ করা হয়, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকা।

    শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. মুনতাসীর ইবনে মহসিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, কাঁকড়ার প্রজনন মৌসুম চলাকালীন সময়ে নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করে এসব কাঁকড়া সংগ্রহ ও মজুত করা হচ্ছিল।

    আটককৃত ব্যবসায়ীরা হলেন— তরুণ সরকার, মনজুর ঢালী, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর গাজী, মাসুম বিল্লাহ ও মোহাম্মদ আজাদ সানা। তারা সবাই খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলার কালাবগি এলাকার বাসিন্দা।

    জব্দকৃত কাঁকড়া ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, কাঁকড়ার প্রজনন সুরক্ষায় প্রতি বছর জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সুন্দরবনে কাঁকড়া শিকার, পরিবহন ও বেচাকেনা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকে।

  • সেন্টমার্টিনে রাত কাটানোর সুযোগ ফিরল, নতুন ১২ নিয়ম না মানলেই বাতিল ভ্রমণ

    সেন্টমার্টিনে রাত কাটানোর সুযোগ ফিরল, নতুন ১২ নিয়ম না মানলেই বাতিল ভ্রমণ

    এবিএনএ: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে ফিরল সেন্টমার্টিনে রাত্রিযাপনের সুযোগ। আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটে পুনরায় চালু হচ্ছে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল। এবার থাকছে রাত কাটানোর বিশেষ সুবিধা, তবে মানতে হবে সরকারের দেওয়া ১২টি কঠোর নির্দেশনা। প্রতিদিন দুই হাজারের বেশি পর্যটক দ্বীপে প্রবেশ করতে পারবেন না, এবং সব বুকিং করতে হবে অনলাইনে কিউআর কোড ও ট্রাভেল পাসসহ নিরাপদ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।

    কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া জেটিঘাট থেকে সকাল সাতটায় যাত্রা শুরু করবে পর্যটকবাহী জাহাজ, এবং পরের দিন বিকেল তিনটায় সেন্টমার্টিন থেকে কক্সবাজারে ফিরবে। ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত দুই মাস দ্বীপে রাত্রিযাপন করা যাবে। তবে ফেব্রুয়ারি মাসে সব পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

    জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এমভি কর্ণফুলি এক্সপ্রেস, এমভি বারো আউলিয়া, কেয়ারি সিন্দাবাদ ও কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন নামে মোট চারটি জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে এবার টেকনাফ নয়, বরং কক্সবাজার থেকে সরাসরি বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে সেন্টমার্টিন যাতায়াত করবে পর্যটকবাহী জাহাজ।

    সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, আগে রাত্রিযাপনের সুযোগ না থাকায় পর্যটকদের আগ্রহ কম ছিল, ফলে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছিল। এবার আগ্রহ বেড়ে যাওয়ায় দ্বীপ ভ্রমণে নতুন উদ্যমে শুরু হচ্ছে পর্যটন মৌসুম।

    পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, দ্বীপের নাজুক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এবার কঠোর নজরদারি থাকবে। নুনিয়ারছড়া ও সেন্টমার্টিন জেটিঘাটে বাড়তি তল্লাশির ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিষিদ্ধ পলিথিন, একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক, বারবিকিউ, সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ, কেয়াবনে প্রবেশ, সামুদ্রিক প্রাণী শিকার বা ক্ষতি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

    এছাড়া দ্বীপে কোনো মোটরচালিত যানবাহন যেমন মোটরসাইকেল বা সি-বাইক চলাচল করবে না। নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে প্লাস্টিক বর্জ্য কমানো যায়।

    সরকার আশা করছে, এই নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেন্টমার্টিন দ্বীপ পরিবেশবান্ধব পর্যটনের একটি সফল ও দৃষ্টান্তমূলক মডেলে পরিণত হবে।

  • মহেশখালী-মাতারবাড়ীতে গড়ে উঠছে নতুন শহর: প্রফেসর ইউনূসের ভিশন

    মহেশখালী-মাতারবাড়ীতে গড়ে উঠছে নতুন শহর: প্রফেসর ইউনূসের ভিশন

    এবিএনএ:  প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, মহেশখালী-মাতারবাড়ী কেবল একটি গভীর সমুদ্র বন্দরকেন্দ্রিক এলাকা নয়, বরং সেখানে একটি নতুন শহরের জন্ম হবে। বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নবগঠিত মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    বৈঠকে মিডার চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন প্রকল্পের তিন ধাপের কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, ২০২৫ থেকে ২০৫৫ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং দেশের জিডিপিতে যুক্ত হবে দেড়শ’ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “শুধু একটি বন্দর নয়, আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি পূর্ণাঙ্গ ব্লু ইকোনমি গড়ে তোলা। এখান থেকে বিশ্বব্যাপী কানেক্টিভিটি তৈরি হবে, আর সমুদ্রই হবে আমাদের আন্তর্জাতিক মহাসড়ক।”

    ইউনূস গভীর সমুদ্র গবেষণা, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন ও একাডেমিক গবেষণার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি পরামর্শ দেন, ওশান ইকোনমি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করতে হবে এবং বিশ্বের অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা নিতে হবে।

    বৈঠকে পরিবেশ সংরক্ষণ ও ইকো-ট্যুরিজম পার্ক গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়। প্রফেসর ইউনূস জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের বনভূমির বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যতের রূপ কেমন হবে, তা নিয়ে এখনই পরিকল্পনা করা জরুরি।”

  • সাদাপাথর লুটে প্রশাসনের কঠোর অভিযান, হাই কোর্টের কড়া নির্দেশ

    সাদাপাথর লুটে প্রশাসনের কঠোর অভিযান, হাই কোর্টের কড়া নির্দেশ

    এবিএনএ:  সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর এলাকায় নজিরবিহীন লুটপাটের পর এবার নেমে এসেছে প্রশাসনের কঠোর অভিযান। জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ একত্রে পরিচালিত অভিযানে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার ঘনফুট সাদাপাথর। এর মধ্যে প্রায় ১২ হাজার ঘনফুট ইতিমধ্যে ধলাই নদী ও সাদাপাথর পর্যটন এলাকায় প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। পাচারকালে আটক হয়েছে পাথরবোঝাই ১৩০টি ট্রাক।

    হাই কোর্টের নির্দেশে, লুণ্ঠিত সমস্ত পাথর সাত দিনের মধ্যে পূর্বের স্থানে ফিরিয়ে দিতে হবে। এছাড়া, যারা পাথর উত্তোলন ও চুরির সঙ্গে জড়িত, তাদের তালিকা তৈরি করে ৬০ দিনের মধ্যে হলফনামা আকারে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

    প্রশাসনের সমন্বয় সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, সাদাপাথর ও জাফলং এলাকায় দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা যৌথ বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে, অবৈধ ক্রাশিং মেশিন বন্ধ করা হবে এবং চেকপোস্টের মাধ্যমে পাচার প্রতিরোধ করা হবে। ইতিমধ্যেই সিলেট-ভোলাগঞ্জ মহাসড়কে বসানো চেকপোস্টে বিপুল পরিমাণ পাথর জব্দ করা হয়েছে।

    উচ্চ আদালতে দায়ের করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানিতে আদালত বুয়েটের একজন বিশেষজ্ঞকে নিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মনিটরিং টিম গঠন করে সাদাপাথর এলাকায় সার্বক্ষণিক তদারকির ব্যবস্থাও নিতে বলা হয়েছে।

    এ ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলমগীর আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জেলা প্রশাসক শের মাহবুব মুরাদ জানিয়েছেন, প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং চুরি হওয়া পাথর নদীতে প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের লুটপাট রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।