Tag: পরমাণু কর্মসূচি

  • ‘স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব’ ছাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি সম্ভব—ইরান প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের বার্তা

    ‘স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব’ ছাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি সম্ভব—ইরান প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের বার্তা

    এবিএনএ: ইসলামাবাদে সাম্প্রতিক বৈঠক ফলপ্রসূ না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা এখনও রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটন যদি তার ‘স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব’ থেকে সরে এসে ইরানের জাতীয় অধিকারকে সম্মান করে, তাহলে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তির পথ তৈরি হতে পারে।

    রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় পেজেশকিয়ান এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবসম্মত অবস্থান নিলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি ইরানের প্রতিনিধিদলের সদস্যদের প্রশংসা করেন এবং আলোচনায় অংশ নেওয়া নেতাদের ধন্যবাদ জানান।

    পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠক কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর এই প্রতিক্রিয়া দেন তিনি। দীর্ঘ সময় আলোচনা চললেও উভয় পক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে একমত হতে পারেনি।

    গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের টানাপোড়েন চলছে। এ বিষয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় তিন সপ্তাহ আলোচনা চলে দুই দেশের মধ্যে। তবে সেই সংলাপও কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।

    পরবর্তী সময়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময় ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে পৃথক সামরিক পদক্ষেপ নেয়। এতে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায় এবং সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হয়।

    সংঘাতের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হন বলে জানানো হয়। পাশাপাশি ইরানের ক্ষমতাসীন সরকারের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যুদ্ধ শুরুর ৩৯তম দিনে, ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। সেই প্রেক্ষাপটে ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে নতুন করে আলোচনায় বসে দুই দেশের প্রতিনিধিদল। তবে প্রায় ২১ ঘণ্টার বৈঠকের পরও কোনো চুক্তি স্বাক্ষর ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়।

    তবুও আলোচনার পথ খোলা রয়েছে—এমন বার্তা দিয়ে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।

  • যুদ্ধ বাধলে আর থামবে না—যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা ইরানের, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে

    যুদ্ধ বাধলে আর থামবে না—যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা ইরানের, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাত নিয়ে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে আর কোনো যুদ্ধবিরতির সুযোগ থাকবে না। বুধবার এক বক্তব্যে ইরানের প্রভাবশালী নেতা মোহসিন রেজাই বলেন, আলোচনার পথ বেছে নেওয়াই যুক্তিসংগত; তবে সংঘাত চাপিয়ে দেওয়া হলে তার পরিণতি হবে দীর্ঘস্থায়ী।

    সম্প্রতি ওমানের রাজধানী মাস্কাটে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফের মধ্যে পরোক্ষ বৈঠক হয়। আলোচনায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ছিল মূল এজেন্ডা। তবে যুক্তরাষ্ট্র ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিও আলোচনায় আনতে চাইলে তেহরান তা প্রত্যাখ্যান করে।

    এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সমঝোতায় আসার আহ্বান জানিয়ে কড়া হুমকি দিয়েছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘খুব কঠিন সিদ্ধান্ত’ নিতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর মোতায়েনের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, প্রয়োজনে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হবে।

    বিশ্লেষকদের মতে, পরোক্ষ আলোচনার পাশাপাশি প্রকাশ্য হুমকি-ধমকির এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। সমঝোতার পথে অগ্রগতি না হলে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • ট্রাম্পের পরমাণু ধ্বংসের দাবিতে খামেনির কটাক্ষ: ‘স্বপ্ন দেখতেই থাকুন’

    ট্রাম্পের পরমাণু ধ্বংসের দাবিতে খামেনির কটাক্ষ: ‘স্বপ্ন দেখতেই থাকুন’

    এবিএনএ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি—যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু স্থাপনা ধ্বংস করেছে—এই বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘স্বপ্নের মতো কল্পনা’ আখ্যা দিয়ে খামেনি বলেন, “এমন দাবি বাস্তবতা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। স্বপ্ন দেখতেই থাকুন!”

    সোমবার প্রকাশিত এক সরকারি বিবৃতিতে খামেনি আরও বলেন, “ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়েছে—এই কথা বলা নিছক এক মনগড়া গল্প। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এমন বক্তব্য কেবল তাদের মানসিক কল্পনার বহিঃপ্রকাশ।”

    তিনি প্রশ্ন তোলেন, “একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কী করা হবে বা হবে না—এই নির্দেশ দেওয়ার অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে কে দিয়েছে?”

    খামেনির এই প্রতিক্রিয়া আসে এমন সময়ে, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্ক আবারও টানাপোড়েনে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, আর তেহরান তা ‘মিথ্যা প্রচারণা’ বলে দাবি করছে।

    ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও নৌবাহিনী একযোগে ইরানের ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানসহ গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়ে তা ধ্বংস করেছে। এসব অভিযানে স্টেলথ বোমার ও টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল বলে তার দাবি।

    তবে ইরান সে দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের পরমাণু স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণ অক্ষত এবং ট্রাম্পের বিবৃতি কেবল রাজনৈতিক প্রচারণা ছাড়া কিছু নয়।

    এদিকে, হামলার পর ইরান কাতারে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আক্রমণ চালায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, তবে ২৪ জুন ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলে সংঘাত আপাতত থেমে যায়।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খামেনির এই কটাক্ষ শুধু ট্রাম্পকেই নয়, বরং ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর পশ্চিমা চাপের বিরুদ্ধেও এক প্রতীকী প্রতিক্রিয়া।