Tag: পদত্যাগ

  • এনসিপি ছাড়লেন ডা. তাসনিম জারা: ‘চাঁদায় পাওয়া অর্থ এক টাকাও রাখব না’

    এনসিপি ছাড়লেন ডা. তাসনিম জারা: ‘চাঁদায় পাওয়া অর্থ এক টাকাও রাখব না’

    এবিএনএ: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা। শনিবার সন্ধ্যার দিকে দলের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ মাধ্যম এবং পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিজের সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করেন।

    পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে ডা. তাসনিম জারা জানান, নির্বাচনের প্রস্তুতিতে যাঁরা তাঁকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছিলেন, তাঁদের সব টাকা ফেরত দেওয়া হবে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের কারণে কারও অর্থ রাখার নৈতিক অধিকার তাঁর নেই।

    শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে জারা লেখেন, সংসদে গিয়ে ঢাকা-৯ আসনের মানুষের জন্য কাজ করার স্বপ্ন থেকেই তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন। তবে বর্তমান বাস্তবতায় কোনো দল বা জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

    এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোট গঠনের সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়েই তিনি পদত্যাগ করেন। ঢাকা-৯ আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে ডা. তাসনিম জারার নাম আলোচনায় থাকলেও পদত্যাগের ফলে সে পরিকল্পনায় পরিবর্তন এসেছে। বিকল্প হিসেবে হুমায়রা নুরকে প্রার্থী করার কথা ভাবা হচ্ছে, যদিও ওই আসন জামায়াত ছাড়বে কিনা তা নিশ্চিত নয়।

    দলটির একাধিক জ্যেষ্ঠ নারী নেতা জামায়াতসহ ধর্মভিত্তিক দলগুলোর সঙ্গে জোটের বিরোধিতা করে আসছিলেন। এই তালিকায় জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক, যুগ্ম সদস্যসচিব ও কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি অংশ দলীয় নেতৃত্বের কাছে অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন।

    ডা. তাসনিম জারা জানান, নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার অঙ্গীকার থেকে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন। এজন্য প্রয়োজনীয় ভোটার স্বাক্ষর সংগ্রহের আহ্বানও জানান তিনি।

    উল্লেখ্য, আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে তিনি গণচাঁদার মাধ্যমে প্রায় ৪৭ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছিলেন। সেই অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ফেসবুক পোস্টে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেন তিনি। বিকাশে অর্থ পাঠানো ব্যক্তিদের জন্য একটি ফর্ম পূরণের অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়া অনুদানের ক্ষেত্রেও পর্যায়ক্রমে প্রক্রিয়া জানানো হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

  • জোরপূর্বক পদত্যাগে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকদের জন্য স্বস্তি: বেতন-ভাতা চালুর নির্দেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের

    জোরপূর্বক পদত্যাগে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকদের জন্য স্বস্তি: বেতন-ভাতা চালুর নির্দেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের

    এবিএনএ: গণঅভ্যুত্থানের পর বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে জোর করে পদত্যাগে বাধ্য হওয়া অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সুখবর দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তদন্ত চলমান থাকলেও তাদের নিয়মিত বেতন-ভাতা চালুর নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ।

    মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সাইয়েদ এ জেড মোরশেদ আলীর স্বাক্ষরিত এক আদেশে বলা হয়, জোরপূর্বক পদত্যাগ করানো শিক্ষক-কর্মচারীদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। এতে তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলে আবেদনপত্রে উল্লেখ করেছেন।

    চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের বেতন-ভাতা বন্ধ রাখা অন্যায়। তাই অবিলম্বে তাদের নাম ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) সিস্টেমে যুক্ত করে বেতন-ভাতা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হলো।

    পাশাপাশি, এই নির্দেশ বাস্তবায়নে কোনো কর্মকর্তা বা কর্তৃপক্ষ বাধা সৃষ্টি করলে তাদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

    চিঠিটি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে যেন দ্রুত এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করা হয়।

    উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট সরকারের পরিবর্তনের পর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনেক শিক্ষককে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিল। বেতন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন এবং পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানান।

  • অনিয়মের অভিযোগে জাকসু নির্বাচন কমিশনার মাফরুহী সাত্তারের পদত্যাগ

    অনিয়মের অভিযোগে জাকসু নির্বাচন কমিশনার মাফরুহী সাত্তারের পদত্যাগ

    এবিএনএ:

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের কমিশনার অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার পদত্যাগ করেছেন।

    শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ৯টার দিকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

    অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার জানান, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কোনো পরিবেশ ছিল না। এছাড়া, পদত্যাগ না করতে তাকে নানা ধরনের চাপ দেওয়া হলেও ন্যায়সঙ্গত অবস্থান থেকে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    এদিকে জাকসুর হল সংসদের ভোট গণনা শেষ হলেও কেন্দ্রীয় সংসদের ভোট গণনা চলমান রয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনিরুজ্জামান বলেন, ভোট গণনার গতি বাড়াতে পোলিং অফিসারের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে এবং রাতের মধ্যেই ফল ঘোষণা করা হবে।

    জানা গেছে, এ নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১১ হাজার ৭৪৩ জন। এর মধ্যে প্রায় ৬৭-৬৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ১৭৭ জন প্রার্থী। ভিপি পদে ৯ এবং জিএস পদে ৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

    ছাত্রীদের ১০টি হলে ১৫০টি পদের মধ্যে ৫৯টিতে কোনো প্রার্থী ছিলেন না। এছাড়া ৬৭টি পদে একক প্রার্থী থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তারা নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে মাত্র ২৪টি পদে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি হলে এর মধ্যে ২টিতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই প্রার্থী নির্বাচিত হন।

    বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। তবে ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলসহ পাঁচটি প্যানেল ভোটের অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জন করে।

  • নির্বাচন করলে তফসিলের আগেই পদ ছাড়বেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ

    নির্বাচন করলে তফসিলের আগেই পদ ছাড়বেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ

    এবিএনএ:  স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানিয়েছেন, তিনি যদি জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবে তফসিল ঘোষণার আগেই উপদেষ্টার পদ ছাড়বেন।

    বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেইনি। তবে সিদ্ধান্ত নিলে তফসিল ঘোষণার আগেই পদত্যাগ করব। এনসিপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়েও এখনো নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।”

    সম্প্রতি রাজধানীর গুলশানে সাবেক এক নারী সংসদ সদস্যের বাসায় চাঁদাবাজির ঘটনায় গ্রেপ্তার গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের বহিষ্কৃত নেতা জানে আলম অপুর মামলায় নিজের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি। আসিফ মাহমুদ বলেন, “চাঁদাবাজির সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অপুর দেওয়া কথিত স্বীকারোক্তি জোর করে নেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তার সঙ্গে আমার আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।”

    তিনি আরও জানান, অপুর স্ত্রী দাবি করেছেন, তাকে গুম করে সেই স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার কিছু সূত্র থেকেও এমন তথ্য পাওয়া গেছে বলে তিনি শুনেছেন।

    রাজনৈতিক ভূমিকা প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, “যাদের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা আছে—আগে করেছেন বা ভবিষ্যতে করবেন বলে ভাবছেন—তাদের সরকারের বাইরে থাকা উচিত।”

    অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরের কার্যক্রম নিয়ে তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত যা হয়নি, তার পাল্লাটাই ভারী। জনগণ অভ্যুত্থানের কিছু সুফল পেয়েছে, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কতটা সুফল পেয়েছে, সেটা জনগণই ভালো বলতে পারবে।”

  • নিজ থেকে অনুদান কমিটি ছাড়লেন মম, জানালেন কারণ

    নিজ থেকে অনুদান কমিটি ছাড়লেন মম, জানালেন কারণ

    এবিএনএ:  চলচ্চিত্র অনুদান কমিটি থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করেছেন দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম। প্রায় এক মাস আগেই তিনি পদত্যাগ করেন, তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে সম্প্রতি ৩২টি চলচ্চিত্রকে প্রায় ১৩ কোটি টাকা অনুদান প্রদানের দিন।

    মম নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, “২৫ মে আমি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর। ব্যক্তিগত ও পেশাগত ব্যস্ততার কারণে আমি কমিটিতে সময় দিতে পারছিলাম না।”

    দেশপ্রেম ও সংস্কারের দাবিতে বরাবরই সোচ্চার মম, ২০২১ সালের শিল্পী আন্দোলনের সময়ও ছিলেন সম্মুখ সারিতে। তখনকার শুটিং ব্যস্ততা ফেলে চলচ্চিত্রের উন্নয়নে তিনি হাসিমুখেই যুক্ত হন এই অনুদান কমিটিতে।

    কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মম বুঝতে পারেন, তাঁর ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত কাজ তিনি করতে পারছেন না। সেই প্রসঙ্গে মম বলেন, “আমি ক্ষমতার আশায় কমিটিতে আসিনি, শুধু চলচ্চিত্রের জন্য কাজ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু যখন দেখলাম সেটা সম্ভব হচ্ছে না, তখনই ভাবলাম, আমার জায়গায় কেউ যোগ দিলে হয়তো ভালো হবে। তাই নিজেই সরে দাঁড়িয়েছি।”

    অনুদান কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (চলচ্চিত্র), সচিব, বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, নির্মাতা ও প্রযোজক আকরাম খান, নির্মাতা নার্গিস আখতার, এবং রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদের সভাপতি আহমেদ মুজতবা জামাল।

    এই কমিটির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। উল্লেখ্য, তার আগে ওই পদে ছিলেন মো. নাহিদ ইসলাম।

    চলচ্চিত্রে গঠনমূলক পরিবর্তনের আশায় গঠিত এই কমিটির গুরুত্বপূর্ণ একটি মুখ ছিলেন মম। তাঁর এই সরে দাঁড়ানো চলচ্চিত্র অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

  • ট্রাম্প প্রশাসন ছাড়লেন ইলন মাস্ক, ফিরছেন কর্পোরেট জগতে পুরোপুরি মনোযোগ দিতে

    ট্রাম্প প্রশাসন ছাড়লেন ইলন মাস্ক, ফিরছেন কর্পোরেট জগতে পুরোপুরি মনোযোগ দিতে

    এবিএনএ :

    যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে গঠিত প্রশাসনের অংশ হিসেবে যাত্রা শুরু করা প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক এখন সেই পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বরাতে বুধবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

    বিশ্বখ্যাত টেসলা ও স্পেসএক্সের সিইও ইলন মাস্ক গত জানুয়ারিতে ট্রাম্পের পুনর্গঠিত প্রশাসনে ‘সরকারি দক্ষতা বিভাগে’ বিশেষ সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে যুক্ত হন। প্রশাসনের সংস্কার ও বাজেট নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতেই গঠিত হয় এই বিভাগ। তবে এটি সরকারের মূল কাঠামোর অংশ ছিল না।

    এই দায়িত্বে তার ম্যান্ডেট ছিল ১৩০ দিনের, যা শেষ হওয়ার কথা ছিল ৩০ মে। তবে কিছুদিন আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এক পোস্টে তিনি ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে জানান, তিনি প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।

    তার এই সিদ্ধান্ত আসে এমন এক সময়ে, যখন কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের বাজেট ও কর নীতির তীব্র সমালোচনা করেন মাস্ক। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক যেমন সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি কিছু বিনিয়োগকারীর মধ্যে অসন্তোষও দেখা গেছে। তারা চান মাস্ক যেন ট্রাম্প প্রশাসনের দায়িত্ব থেকে সরে এসে টেসলা ও স্পেসএক্সে আরও সরাসরি মনোযোগ দেন।

    রয়টার্সের পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, মাস্ক ও ট্রাম্পের নেতৃত্বে ‘ডিওজিই’ (সরকারি দক্ষতা বিভাগ) ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল বেসামরিক কর্মী বাহিনীর ১২ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করতে সক্ষম হয়েছে।

    এমন প্রেক্ষাপটে ইলন মাস্কের দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্তকে তার ব্যক্তিগত ও কর্পোরেট অগ্রাধিকার পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারি ব্যয় হ্রাস ও পুনর্গঠনের প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।

    ইলন মাস্কের এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে তার ব্যবসায়িক উদ্যোগগুলোতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

  • ড. ইউনূস সরে দাঁড়ালে বিকল্প বেছে নেবে দেশ: হুঁশিয়ারি বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিনের

    ড. ইউনূস সরে দাঁড়ালে বিকল্প বেছে নেবে দেশ: হুঁশিয়ারি বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিনের

    এবিএনএ:

    ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে চলমান অন্তর্বর্তী সরকার যদি স্থায়ী না হয় বা তিনি দায়িত্ব পালন থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন, তবে রাষ্ট্র ও জনগণ বিকল্প খুঁজে নেবে—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।

    শুক্রবার সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে সালাহউদ্দিন বলেন, “ড. ইউনূস দায়িত্ব ছাড়তে চাইলে সেটি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। আমরা কখনো তার পদত্যাগ দাবি করিনি। তবে যদি তিনি নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা না করে দায়িত্ব ত্যাগ করেন, তা হলে রাষ্ট্র বসে থাকবে না। জনগণ নিজ উদ্যোগে বিকল্প পথ বেছে নেবে।”

    তিনি আরও বলেন, “এই পৃথিবীতে কেউ অপরিহার্য নয়। তবে আমরা আশা করি, ড. ইউনূস একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে জাতির প্রত্যাশা বুঝবেন এবং ডিসেম্বরের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রকাশ করবেন।”

    এ সময় তিনি সাম্প্রতিক সেনাপ্রধানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সংক্রান্ত বক্তব্যকেও স্বাগত জানান এবং বলেন, দেশের ভবিষ্যতের প্রশ্নে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

    সালাহউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেন, “বিএনপি সম্প্রতি একাধিকবার ড. ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাইলেও সময় পাননি। আমরা আর কিছুদিন অপেক্ষা করবো রোডম্যাপের জন্য। এরপর সিদ্ধান্ত নেব—সরকারকে সহযোগিতা করবো, না কি নতুন কৌশল গ্রহণ করবো।”

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক জটিলতায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি চাপ আরও বাড়াতে পারে।

  • জাতীয় সংকটে ইউনূসের পাশে দাঁড়ালেন নাহিদ ইসলাম — পদত্যাগ না করার আহ্বান

    জাতীয় সংকটে ইউনূসের পাশে দাঁড়ালেন নাহিদ ইসলাম — পদত্যাগ না করার আহ্বান

    এবিএনএ: 

    জাতীয় সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দায়িত্বে থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় দু’জনের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এই বৈঠকে নাহিদ ইসলাম দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, সার্বভৌমত্বের চ্যালেঞ্জ এবং অভ্যুত্থানের শঙ্কার প্রেক্ষাপটে ইউনূসের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, “এ মুহূর্তে আপনার দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়া রাষ্ট্র ও জাতির জন্য নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে।”

    সাক্ষাতের বিষয়ে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানান, প্রধান উপদেষ্টাকে শুধু অনুরোধ নয়, বরং একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে এই সময়ে আরও দৃঢ় থাকার প্রস্তাব দেন নাহিদ ইসলাম।

    উল্লেখ্য, এর আগে ড. ইউনূস তাঁর সঙ্গে থাকা দুই ছাত্র উপদেষ্টাকে সতর্ক করে বলেছিলেন, তাঁরা সংযত না হলে তিনি পদত্যাগ করবেন। যদিও তারা সংযত থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। এমনকি বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকেও ইউনূস নিজের পদত্যাগের সম্ভাবনার কথা জানান, যা শুনে উপস্থিত উপদেষ্টারা তাকে ওই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেন।

    দেশ এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় ঐক্যের প্রশ্নে এমন এক সময় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো, যখন একটানা নেতৃত্ব ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তের প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি। তাই নাহিদ ইসলামের অনুরোধ অনেকের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।