Tag: নোয়াখালী

  • বজ্রপাতের তাণ্ডব: চার জেলায় ৯ প্রাণহানি, হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বেশি মৃত্যু

    বজ্রপাতের তাণ্ডব: চার জেলায় ৯ প্রাণহানি, হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বেশি মৃত্যু

    এবিএনএ: দেশের চার জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এসব ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে নেত্রকোণায় তিনজন, সুনামগঞ্জে তিনজন, হবিগঞ্জে দুইজন এবং নোয়াখালীতে একজন রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

    নেত্রকোণা

    নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলায় পৃথক তিনটি স্থানে বজ্রপাতে এক জেলে ও দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সকাল থেকে বিকেলের মধ্যে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

    জানা গেছে, জগন্নাথপুর ইউনিয়নের গোদারাঘাট এলাকায় ধনু নদে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে আব্দুল মোতালিব (৫৫) নামের এক জেলের মৃত্যু হয়। তিনি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।

    একই উপজেলার সাতগাঁও গ্রামে বাড়ির সামনে হাওরে ধান শুকানোর সময় বজ্রপাতে প্রাণ হারান কৃষক মোনায়েম খাঁ পালান। স্থানীয়রা জানান, দুপুরের দিকে বজ্রপাত হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

    এছাড়া বিকেলে কৃষ্ণপুর এলাকার ছায়ার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে মো. শুভ মন্ডল নামের আরেক কৃষকের মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাগুলোর বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তে বজ্রপাতেই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    সুনামগঞ্জ

    সুনামগঞ্জে হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে তিন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। বিকেলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

    সদর উপজেলার বৈঠাখালী গ্রামে জমির হোসেন (৪২) এবং মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের জমির উদ্দিন (৪৬) ধান কাটার সময় বজ্রপাতে মারা যান। একই সময়ে জেলার অন্য একটি হাওরে বজ্রপাতে জামালগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের আবু সালেহ (২২) নামের এক কৃষক নিহত হন।

    অন্যদিকে শান্তিগঞ্জ উপজেলার হাওরে ধান কাটতে গিয়ে আরও তিনজন আহত হন। তাদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

    হবিগঞ্জ

    হবিগঞ্জে পৃথক দুই স্থানে বজ্রপাতে এক কৃষকসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের গড়দার হাওরে ধান কাটার সময় মকছুদ আলী (৪০) নামের এক কৃষক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

    অন্যদিকে বানিয়াচং উপজেলার জাতুকর্ণপাড়া এলাকায় বাড়ির পাশে খলা থেকে ধান আনতে গিয়ে আব্দুস সালাম (৩৫) বজ্রপাতে নিহত হন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নিহত পরিবারের জন্য সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    নোয়াখালী

    নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় বজ্রপাতে মোহাম্মদ আরাফাত হোসেন (২২) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরের দিকে খাসের হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয়রা জানান, তিনি শুকাতে দেওয়া বাদাম ঘরে তুলতে গেলে বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বজ্রপাত হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    হঠাৎ বজ্রপাতের ঘটনায় স্বল্প সময়ের ব্যবধানে চার জেলায় প্রাণহানির এ ঘটনাগুলোতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে হাওর এলাকায় ধান কাটার মৌসুমে খোলা মাঠে কাজ করার সময় সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • ফেরি উদ্বোধন ঘিরে হাতিয়ায় উত্তেজনা: বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষে রণক্ষেত্র নলচিরা, আহত অন্তত ১০

    ফেরি উদ্বোধন ঘিরে হাতিয়ায় উত্তেজনা: বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষে রণক্ষেত্র নলচিরা, আহত অন্তত ১০

    এবিএনএ: নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ফেরি চলাচল উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে নলচিরা ঘাট এলাকায় এই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

    স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ফেরি চালু হওয়াকে কেন্দ্র করে দুই দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ঘাট এলাকায় জড়ো হন। উদ্বোধনের কৃতিত্ব কে নেবেন—এ নিয়ে শুরু হয় বাগ্‌বিতণ্ডা। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুরো নলচিরা ঘাট এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

    নলচিরা ঘাট এলাকার বাসিন্দা নাহিদ উদ্দিন জানান, ফেরি চালুর কৃতিত্ব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। একদল আরেক দলকে এলাকা থেকে সরিয়ে দিতে চাইলে সংঘর্ষ বাধে, এতে একাধিক ব্যক্তি আহত হন।

    এ ঘটনার প্রতিবাদে জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ হাতিয়া থানা ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং প্রশাসনের ভূমিকা ছিল নিষ্ক্রিয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না হলে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

    অন্যদিকে বিএনপি এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাহাবুবুর রহমান শামীম দাবি করেন, এনসিপির লোকজনই বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

    এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম জানান, সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। আহতের সংখ্যা যাচাই করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • রমজানে চট্টগ্রামে কখন সাহরি ও ইফতার? ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ২০২৬ সালের চূড়ান্ত সময়সূচি

    রমজানে চট্টগ্রামে কখন সাহরি ও ইফতার? ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ২০২৬ সালের চূড়ান্ত সময়সূচি

    এবিএনএ: পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম বিভাগের জন্য ২০২৬ সালের সাহরি ও ইফতারের সময়সূচি চূড়ান্ত করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১৪৪৭ হিজরি সালের রমজান শুরু হতে পারে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি।

    এ বছর সাহরি ও ফজরের সময় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। আগের মতো সতর্কতামূলক তিন মিনিট যোগ বা বিয়োগ না রেখে, সাহরির শেষ সময়কেই সরাসরি ফজরের ওয়াক্ত শুরুর সময় হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। হাদিসে সতর্কতামূলক সময়ের উল্লেখ না থাকায় বায়তুল মোকাররমের খতিব ও দেশের শীর্ষস্থানীয় মুফতিদের পরামর্শে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    ২০২৬ সালে ঢাকাসহ দেশের সব ৬৪ জেলার জন্য পৃথক সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে এবার আর কোনো জেলার রোজাদারকে ঢাকার সময়ের সঙ্গে সময় যোগ বা বিয়োগ করে হিসাব করতে হবে না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রকাশিত নিজ নিজ জেলার সময়সূচি অনুসরণ করলেই যথাযথভাবে সাহরি ও ইফতার করা যাবে।

    প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, চট্টগ্রামে প্রথম রমজানে সাহরির শেষ সময় ভোর ৫টা ১০ মিনিট এবং ইফতার হবে সন্ধ্যা ৫টা ৫৬ মিনিটে। সাহরির শেষ সময় মূলত ফজরের নামাজের ওয়াক্ত শুরুর সময় হিসেবেই ধরা হয়েছে।

    জেলার ভৌগোলিক বিস্তৃতি বিবেচনায় রেখে সময় নির্ধারণে ভারসাম্য আনা হয়েছে। সাহরির সময় জেলার পূর্ব প্রান্ত এবং ইফতারের সময় জেলার পশ্চিম প্রান্তের সময়কে ভিত্তি ধরা হয়েছে, যাতে পুরো জেলার জন্য একটি গ্রহণযোগ্য সময়সূচি কার্যকর থাকে।

    📍 চট্টগ্রাম বিভাগের জেলার সময়সূচি (২০২৬):

    • চট্টগ্রাম জেলা: Chattogram Sehri Iftar Time 2026

    • লক্ষ্মীপুর: Lakshmipur Sehri Iftar Time 2026

    • রাঙামাটি: Rangamati Sehri Iftar Time 2026

    • ব্রাহ্মণবাড়িয়া: Brahmanbaria Sehri Iftar Time 2026

    • বান্দরবান: Bandarban Sehri Iftar Time 2026

    • ফেনী: Feni Sehri Iftar Time 2026

    • নোয়াখালী: Noakhali Sehri Iftar Time 2026

    • চাঁদপুর: Chandpur Sehri Iftar Time 2026

    • খাগড়াছড়ি: Khagrachari Sehri Iftar Time 2026

    • কুমিল্লা: Comilla Sehri Iftar Time 2026

    • কক্সবাজার: Cox’s Bazar Sehri Iftar Time 2026

    সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন