Tag: নোবেল পুরস্কার

  • মার্কিন অভিযানের প্রশংসা করে চমকপ্রদ মন্তব্য মাচাদোর, ট্রাম্পকে নোবেল দেওয়ার দাবি

    মার্কিন অভিযানের প্রশংসা করে চমকপ্রদ মন্তব্য মাচাদোর, ট্রাম্পকে নোবেল দেওয়ার দাবি

    এবিএনএ: শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর থেকেই আলোচনায় রয়েছেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো। সম্প্রতি একটি মার্কিন গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার সম্পূর্ণ যোগ্য।

    ফক্স নিউজের একটি অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মাচাদো জানান, গত অক্টোবরে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর তিনি সেটি ট্রাম্পকে উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর ভাষায়, “তখনই আমি বিশ্বাস করেছিলাম, তিনি এই পুরস্কারের উপযুক্ত। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই বিশ্বাস আরও দৃঢ় করেছে।”

    ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর মাধ্যমে আটক করে বিচারের মুখোমুখি করার ঘটনাকে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেন মাচাদো। তিনি বলেন, “৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার ইতিহাসে একটি অনন্য দিন হয়ে থাকবে। এটি শুধু আমাদের দেশের ভবিষ্যতের জন্য নয়, বরং মানবতা ও স্বাধীনতার পক্ষেও গুরুত্বপূর্ণ।”

    নোবেল পুরস্কার ঘোষণার সময় নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি জানিয়েছিল, ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে মাচাদোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তিকে একত্র করে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট মাদুরোর বিরুদ্ধে ঐক্য গড়ে তুলেছিলেন।

    তবে মাদুরোকে আটক করার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একাধিক দেশ এই ঘটনাকে আগ্রাসন, বলপ্রয়োগ এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে।

    ভেনেজুয়েলার সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মাচাদোর প্রার্থী হওয়ার কথা থাকলেও তাঁর মনোনয়ন বাতিল হয়। পরে তিনি বিরোধী জোটের প্রার্থী এডমুন্ডো গঞ্জালেস উরুতিয়াকে সমর্থন দেন। নোবেল পাওয়ার পর মাদুরো তাঁকে কটাক্ষ করে ‘ডাইনি’ বলেও আখ্যা দেন।

    ২০১৩ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। তাঁর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হয়। ট্রাম্প একাধিকবার মন্তব্য করেছিলেন, মাদুরোর ক্ষমতায় থাকা উচিত নয়।

    এদিকে, মাচাদো কবে ভেনেজুয়েলায় ফিরবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সোমবার দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ডেলসি রদ্রিগেজ। শপথগ্রহণের পর তিনি মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে ‘অপহরণ’ হিসেবে উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

  • নোবেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প: নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া হোয়াইট হাউজের

    নোবেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প: নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া হোয়াইট হাউজের

    এবিএনএ: শান্তিতে নোবেল পুরস্কার না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউজ। এবছর নোবেল কমিটি ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে শান্তিতে নোবেল প্রদান করায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন প্রকাশ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

    দীর্ঘদিন ধরেই শান্তি চুক্তি ও যুদ্ধবিরতি উদ্যোগে নিজের ভূমিকা তুলে ধরে আসছিলেন ট্রাম্প। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নিরসনে তার প্রচেষ্টা নিয়ে প্রশাসন বেশ প্রচারণাও চালিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত নোবেল কমিটির মন গলাতে পারেননি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র স্টিভেন চুং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ পোস্টে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধ থামাতে এবং বিশ্বে শান্তি আনতে কাজ করে যাচ্ছেন। তার মানবিকতা ও ইচ্ছাশক্তি অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা। কিন্তু নোবেল কমিটি রাজনীতিকে শান্তির চেয়ে অগ্রাধিকার দিয়েছে।”

    নরওয়ের নোবেল কমিটি জানিয়েছে, স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে সাহসী ভূমিকার জন্য মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। তারা মনে করছে, মাচাদো বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রতীক।

    অন্যদিকে, ট্রাম্প সমর্থকরা এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ। তারা মনে করেন, ট্রাম্পের মতো নেতাই আসল শান্তির দূত। সম্প্রতি গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ভূমিকা রাখার দাবি করে ট্রাম্প নিজেকে শান্তির নায়ক হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।

    যদিও নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তের বিষয়ে ট্রাম্প সরাসরি কিছু বলেননি, তবে নিজের সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ গাজা চুক্তি উদযাপনের কয়েকটি ভিডিও শেয়ার করেছেন।

    অতীতে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তার নেতৃত্বেই বিশ্বের আটটি যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটেছে। তার ভাষায়, “নোবেল পুরস্কার আমার প্রাপ্য, কিন্তু তারা সেটি আমাকে দেবে না। তারা সবসময় এমন কাউকে পুরস্কৃত করে, যে আসলে কিছুই করেনি।”

    নোবেলের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ৩১ জানুয়ারি। ট্রাম্প জানুয়ারি মাসেই দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে হোয়াইট হাউজে ফিরে আসেন।