Tag: নেপাল

  • নতুন সরকারের শপথের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নাটকীয় অভিযান: নেপালে গ্রেপ্তার সাবেক প্রধানমন্ত্রী অলি

    নতুন সরকারের শপথের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নাটকীয় অভিযান: নেপালে গ্রেপ্তার সাবেক প্রধানমন্ত্রী অলি

    এবিএনএ: নেপালের রাজনীতিতে বড় ধরনের নাটকীয় মোড় এসেছে নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই। শপথ নেওয়ার মাত্র একদিনের মাথায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    শনিবার ভোরে রাজধানী কাঠমান্ডুর ভক্তপুর এলাকায় তাদের নিজ নিজ বাসভবন থেকে আটক করা হয়। অভিযান পরিচালনা করে কাঠমান্ডু ভ্যালি পুলিশের বিশেষ ইউনিট।

    পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী গণমাধ্যমকে জানান, একটি তদন্ত কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এই গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সাবেক বিশেষ বিচারক গৌরী বাহাদুর কার্কির নেতৃত্বাধীন কমিশনটি এই সুপারিশ দেয়।

    পটভূমি: সহিংস বিক্ষোভ ও অভিযোগ

    ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কে পি শর্মা অলির নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে ‘জেন-জি’ আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে।

    বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নেয় সরকার। সে সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন রমেশ লেখক। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ চরমে পৌঁছে ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর। ওই দুই দিনে অন্তত ৭০ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ১৯ জন ছিলেন বিক্ষোভকারী।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়ে ১১ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী অলি। এর আগেই পদ ছাড়েন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেখক।

    অন্তর্বর্তী সরকার ও তদন্ত

    পদত্যাগের পর সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কির নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। একই সঙ্গে সহিংসতা ও জনঅভ্যুত্থানের কারণ খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়।

    নতুন নেতৃত্ব ও পরিবর্তনের বার্তা

    গত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ করে নতুন সরকার গঠন করেন বালেন্দ্র শাহ (বালেন শাহ)। ৩৫ বছর বয়সী এই নেতা নেপালের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।

    নতুন সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—আইনের প্রয়োগে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী অলি ও রমেশ লেখকের গ্রেপ্তারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরং বলেন,
    “এটি প্রতিশোধ নয়, এটি ন্যায়বিচারের পথে এগোনোর প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন। আইনের চোখে সবাই সমান।”

    রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    বিশ্লেষকদের মতে, এই গ্রেপ্তার নেপালের রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এটি একদিকে যেমন আইনের শাসনের বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক উত্তেজনাও বাড়াতে পারে।

  • “ভিত্তিহীন সরকারের হাতে দেশ তুলে দেব না” – নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি

    “ভিত্তিহীন সরকারের হাতে দেশ তুলে দেব না” – নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি

    এবিএনএ:  নেপালে জেন-জি আন্দোলনের পর পদত্যাগ করে লোকচক্ষুর আড়ালে ছিলেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি। তবে শনিবার প্রথমবার জনসম্মুখে এসে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, দেশ ছেড়ে পালাবেন না।

    দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভক্তপুরে কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালের (ইউএমএল) যুব সংগঠনের এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে অলি বলেন, “আপনারা কি মনে করেন আমরা এই ভিত্তিহীন সরকারের হাতে দেশ তুলে দিয়ে পালিয়ে যাব? তা কোনোদিনই হবে না।”

    অলি দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে আরও বলেন, “আমরা দেশকে ফেরাব সাংবিধানিক মূলধারায়। শান্তি ও সুশাসনের পথে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

    তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার জনগণের রায়ের ভিত্তিতে নয়, বরং অগ্নিসংযোগ আর সহিংসতার মধ্য দিয়ে গঠিত হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী আরও দাবি করেন, বিক্ষোভের সময় তাঁর প্রশাসন কী নির্দেশ দিয়েছিল তা সরকার চাইলে প্রকাশ করতে পারে। “সাহস থাকলে সেই রেকর্ড প্রকাশ করুন,” বলেন তিনি।

    অলি অভিযোগ করেন, সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর পাসপোর্ট স্থগিত করার, মামলা দেওয়ার উদ্যোগ চলছে। এতে দেশ অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সামাজিক মাধ্যমে তাঁর নতুন বাসভবনে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হলেও সরকার নীরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    উল্লেখ্য, বিক্ষোভকারীরা গত ৯ সেপ্টেম্বর ভক্তপুরে অলির ব্যক্তিগত বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এরপর থেকে তিনি সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় ছিলেন। ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি ভক্তপুরের গুন্ডু এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন।

    অলির এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, রাজনৈতিক ঝড়ের মধ্যেও তিনি লড়াই চালিয়ে যেতে চান এবং দেশকে সংকট থেকে উত্তরণের পথে ফেরাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

  • মধ্যরাতে নেপালে বিক্ষোভ: নতুন প্রধানমন্ত্রী সুশীলার পদত্যাগে জেন-জিদের স্লোগান

    মধ্যরাতে নেপালে বিক্ষোভ: নতুন প্রধানমন্ত্রী সুশীলার পদত্যাগে জেন-জিদের স্লোগান

    এবিএনএ:  নেপালে আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে জেন-জি আন্দোলন। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কির পদত্যাগ দাবি জানিয়ে রোববার মধ্যরাতে রাজধানী কাঠমান্ডুর বালুওয়াতারে তার সরকারি বাসভবনের সামনে জড়ো হয় জেন-জি নেতাকর্মীরা।

    এই বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সংগঠক সুদান গুরুং। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা যদি আবার রাস্তায় নামি, কেউ আমাদের আটকাতে পারবে না। যাকে বসিয়েছি, তাকেই সরাতে জানি।”

    গুরুং আরও অভিযোগ করেন, আইনজীবী ওমপ্রকাশ আর্যল ভেতর থেকেই নিজেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বানানোর চেষ্টা করছেন। তার সঙ্গে বিক্ষোভে অংশ নেন গত সপ্তাহে সহিংসতায় হতাহতদের পরিবারের সদস্যরাও।

    এর আগে প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি আর্যলকে আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেন। একইসঙ্গে তিনি রমেশ্বর খনালকে অর্থমন্ত্রী এবং কুলমান ঘিসিংকে জ্বালানি মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। উল্লেখ্য, আর্যল সুপ্রিম কোর্টে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান নিয়োগ নিয়ে আলোচিত মামলাসহ বিভিন্ন জনস্বার্থ মামলা পরিচালনা করেছেন।

    অন্যদিকে, গত সপ্তাহের জেন-জি বিক্ষোভে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কার্কি বলেন, “এগুলো দেশের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কাজ। তদন্ত করে সত্য প্রকাশ করতে হবে এবং দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”

    প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই রোববার মধ্যরাতে নতুন করে আন্দোলনে নামে জেন-জি কর্মীরা।

    এর আগে জেন-জিদের চাপেই পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন কে পি শর্মা অলি। তার পরই অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান সুশীলা কার্কি, যিনি নেপালের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। শপথের পরপরই তিনি প্রতিনিধি পরিষদ ভেঙে দিয়ে আগামী ৫ মার্চ নতুন নির্বাচনের ঘোষণা দেন।

  • ক্ষমতার জন্য আসিনি, ছয় মাসেই নির্বাচন দিয়ে বিদায়: নেপালের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি

    ক্ষমতার জন্য আসিনি, ছয় মাসেই নির্বাচন দিয়ে বিদায়: নেপালের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি

    এবিএনএ:  নেপালের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে প্রথম বক্তব্যেই গণতান্ত্রিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন দেশটির সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁর সরকার ক্ষমতার জন্য নয়, বরং আগামী ছয় মাসের মধ্যে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য কাজ করবে।

    রবিবার দায়িত্ব নেওয়ার পর কাঠমান্ডু পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুশীলা কার্কি বলেন, “আমরা ক্ষমতার স্বাদ নিতে আসিনি। ছয় মাসের বেশি থাকব না। নতুন সংসদ গঠিত হলে দায়িত্ব তাদের কাছে হস্তান্তর করব।”

    ৭৩ বছর বয়সী এই নেতা সাম্প্রতিক ‘জেন-জি’ আন্দোলনের প্রশংসা করে জানান, নিহতদের শহীদ স্বীকৃতি দেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে দেওয়া হবে ১০ লাখ নেপালি রুপি, আহতদের চিকিৎসা ব্যয় বহন করবে সরকার। এছাড়া ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্তদেরও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

    কার্কি বলেন, “মাত্র ২৭ ঘণ্টার বিক্ষোভে এমন পরিবর্তন আমি আগে দেখিনি। তবে এর মধ্যেও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের ছাপ রয়েছে। যারা ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে।”

    তিনি আরও জানান, নেপাল বর্তমানে অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে এবং তাঁর সরকারের অগ্রাধিকার হবে পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা।

    দ্য হিমালয়ান টাইমসের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৭২ জন নিহত হয়েছেন, এর মধ্যে ৫৯ জন বিক্ষোভকারী, ১০ জন কারাবন্দি ও তিনজন পুলিশ সদস্য।

    এদিকে নেপালের নতুন অন্তর্বর্তী সরকারকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কাঠমান্ডুতে মার্কিন দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগকে তারা সমর্থন করছে এবং নির্বাচনের পথে নেপালকে সহায়তা করবে।

    বিবৃতিতে সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেলের ভূমিকাকেও প্রশংসা করা হয়, যিনি শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং বেসামরিক সরকারের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ সুগম করেছেন।

  • কারফিউ তুলে স্বাভাবিকতার পথে নেপাল: নতুন সরকারের শপথের পর জনজীবনে স্বস্তি

    কারফিউ তুলে স্বাভাবিকতার পথে নেপাল: নতুন সরকারের শপথের পর জনজীবনে স্বস্তি

    এবিএনএ:  নেপালে টানা সহিংসতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার পর অবশেষে স্বস্তির বাতাস বইতে শুরু করেছে। শনিবার কাঠমান্ডু উপত্যকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কারফিউ প্রত্যাহার করা হয়। রাস্তায় নেমেছে সাধারণ মানুষ, খুলেছে বাজার-দোকান, আবারও জমে উঠছে স্বাভাবিক জনজীবন।

    শুক্রবার রাতে প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাওদেলের বাসভবন শীতল নিবাসে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন সুশীলা কারকি। শপথের পরপরই তিনি পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে ২০২৬ সালের ৫ মার্চ জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন।

    এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও দুর্নীতির অবসানের দাবিতে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অনেকে হতাহত হন, যার ফলে আন্দোলন ভয়াবহ রূপ নেয়। সহিংসতায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন অন্তত ৫১ জন, আহত হয়েছেন এক হাজারেরও বেশি। নিহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্য, আন্দোলনকারী ও সাধারণ মানুষ রয়েছেন।

    কে পি শর্মা ওলির পদত্যাগের পর কয়েকদিনের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার অবসান ঘটাল সুশীলা কারকির শপথ। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, আজ থেকে চলাফেরায় কোনো বিধিনিষেধ নেই।

    এর ফলে কয়েকদিন পর পুনরায় চালু হয়েছে গণপরিবহন, দূরপাল্লার গাড়িও ছেড়েছে। রাস্তায় জট দেখা গেলেও জনজীবনে ফিরে এসেছে স্বস্তি। একাধিক সরকারি ভবন ও বাজার এলাকায় চলছে পরিচ্ছন্নতার কাজ, যা সাম্প্রতিক সহিংস বিক্ষোভে ভস্মীভূত হয়েছিল।

    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সহিংসতার সময় প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ বন্দি পালিয়ে যায় কারাগার থেকে। তাদের মধ্যে এক হাজার জনকে পুনরায় আটক করা গেলেও বাকিরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।

    অন্তর্বর্তী সরকারের শপথের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নির্বাচন ঘোষণার মাধ্যমে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে নেপাল। রাজনৈতিক সহিংসতার কালো অধ্যায় পেরিয়ে দেশটি এখন অপেক্ষা করছে স্থিতিশীল ভবিষ্যতের।

  • নেপালের তরুণদের অভিযোগ: শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কেড়ে নিল ‘সুযোগসন্ধানীরা’

    নেপালের তরুণদের অভিযোগ: শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কেড়ে নিল ‘সুযোগসন্ধানীরা’

    এবিএনএ:  নেপালে সাম্প্রতিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে গভীর ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা থেকেই এই আন্দোলনের সূচনা। তবে শান্তিপূর্ণ সেই প্রতিবাদ দ্রুতই সহিংস রূপ নেয়।

    নিজেদেরকে ‘জেন জি’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া তরুণরা অভিযোগ তুলেছে— তাদের আন্দোলনকে কিছু ‘সুযোগসন্ধানী’ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে। বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা স্পষ্ট করে বলেছে, তাদের লক্ষ্য ছিল শান্তিপূর্ণ আন্দোলন, কিন্তু সরকারি স্থাপনা, রাজনীতিবিদদের বাড়ি এমনকি সংসদ ভবনে আগুন ও ভাঙচুরের ঘটনা তাদের উদ্দেশ্যের প্রতিফলন নয়।

    এদিকে সহিংসতা বেড়ে গেলে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেন। শূন্যতা তৈরি হওয়ায় সেনাবাহিনী রাস্তায় নেমে আসে। তারা এখন পর্যন্ত ২৭ জনকে গ্রেপ্তার এবং ৩১টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজেন্দ্র বসনেট জানিয়েছেন, তারা সহিংসতার সুযোগ নেওয়া দুষ্কৃতীদের দমন করছে এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত।

    জেন-জি প্রজন্ম এখন নতুন দাবি-দাওয়ার তালিকা তৈরি করছে। তাদের অন্যতম দাবি, ভবিষ্যতের নেতৃত্ব যেন রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে যোগ্যতা ও সততার ভিত্তিতে নির্বাচিত হয়।

    কাঠমান্ডুর রাস্তায় কিছু তরুণকে আন্দোলনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি পরিষ্কার করতেও দেখা গেছে। ১৪ বছর বয়সী কাসান লামা বলেন, “দুর্নীতি অনেক দিন ধরেই চলছে, এখন সময় পরিবর্তনের।” আরেক তরুণ পরাশ প্রতাপ হামালের মতে, নেপালের এখন স্বাধীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব দরকার।

    তবে অনেকেই সহিংসতায় বিস্মিত। ৩৬ বছরের রাকেশ নিরাউলা বলেন, “এভাবে হওয়া উচিত ছিল না।”

    সবকিছুর মাঝেই সাধারণ নেপালি নাগরিকরা বিশ্বাস করছেন, এই আন্দোলন ভবিষ্যতের জন্য এক নতুন দিশা হয়ে উঠতে পারে, যা দেশকে রাজনৈতিক অচলাবস্থা থেকে বের করে আনবে।

  • নেপালে সংসদ ভবনে আগুন: উত্তাল বিক্ষোভের মাঝে কাঠমান্ডুর মেয়রের শান্ত থাকার আহ্বান

    নেপালে সংসদ ভবনে আগুন: উত্তাল বিক্ষোভের মাঝে কাঠমান্ডুর মেয়রের শান্ত থাকার আহ্বান

    এবিএনএ:  দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে চলমান তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নেপাল। টানা বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি পদত্যাগ করলেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন শহরে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যেই বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনে হামলা চালিয়ে ভয়াবহ অগ্নিসংযোগ করেছে।

    সংসদ সচিবালয়ের মুখপাত্র একরাম গিরি জানান, শত শত বিক্ষোভকারী মূল চত্বরে প্রবেশ করে ভাঙচুরের পর আগুন লাগায়। এতে সংসদ ভবনের বিভিন্ন অংশে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। শুধু সংসদ ভবনই নয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবাসহ একাধিক শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার বাড়িঘরও আক্রান্ত হয়েছে।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে তরুণদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন। তাই এখন আর প্রাণহানি বা সম্পদ ধ্বংস কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারি-বেসরকারি সম্পদ আমাদের সবার যৌথ সম্পদ, এগুলো নষ্ট করলে ক্ষতিগ্রস্ত হব আমরা নিজেরাই।”

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, “জাতীয় সম্পদ ধ্বংস মানে সবার ক্ষতি। দয়া করে শান্ত থাকুন এবং সংযম প্রদর্শন করুন। এখান থেকেই আপনাদের প্রজন্মকে ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্ব দিতে হবে।”

    এর আগে সোমবার দেশব্যাপী বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে অন্তত ১৯ জন নিহত ও ৪০০ জনের বেশি আহত হন। এই সহিংসতা ও জনচাপের মুখে প্রধানমন্ত্রী ওলি পদত্যাগ করেন। তবে সরকারের পতনের পরও তরুণদের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুর্নীতি প্রতিরোধ, কাঠামোগত সংস্কার ও রাজনৈতিক জবাবদিহির দাবিতে তরুণদের নেতৃত্বাধীন এ আন্দোলন এখন এক নতুন বাঁকে পৌঁছেছে। দ্রুত সমাধান না হলে নেপালের রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হতে পারে।