Tag: নেইমার

  • বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর ‘নিজের শেষকৃত্য’ দেখার অনুভূতি— নেইমারের আবেগঘন স্বীকারোক্তি

    বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর ‘নিজের শেষকৃত্য’ দেখার অনুভূতি— নেইমারের আবেগঘন স্বীকারোক্তি

    এবিএনএ: ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে নাটকীয় হারের পর নিজেকে যেন ‘শেষকৃত্যের’ দৃশ্যে দেখছিলেন— এমনই আবেগঘন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ব্রাজিল সুপারস্টার নেইমার। সেই ম্যাচের স্মৃতি এখনও তাকে তাড়া করে বেড়ায় বলে জানিয়েছেন তিনি।

    ৯ ডিসেম্বর আল রায়ানে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য ছিল ব্রাজিলের। নির্ধারিত সময়ে গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের শেষ ভাগে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন নেইমার। মনে হচ্ছিল সেমিফাইনালের পথ খুলে গেছে সেলেসাওদের সামনে।

    তবে শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে ব্রাজিল, ফলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে প্রথম চার শটের মধ্যে দুটি মিস করে ব্রাজিল। অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়া সফলভাবে গোল করে এগিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ৪-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিতে হয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

    চতুর্থ শটে মারকুইনহোসের বল পোস্টে লাগার সঙ্গে সঙ্গে ব্রাজিলের স্বপ্ন ভেঙে যায়। তখন মাঠে হতাশায় মাটিতে শুয়ে পড়েন নেইমার। তিনি জানান, যদি ম্যাচ পঞ্চম শটে যেত, তবে সেই শটটি নেওয়ার কথা ছিল তারই।

    একটি ইউটিউব ভিডিওতে সতীর্থদের উদ্দেশে নেইমার বলেন, “আমি সবসময় পঞ্চম পেনাল্টি নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকি। সেটাই সবচেয়ে কঠিন, কিন্তু অনেক সময় সেই সুযোগ আর আসে না।”

    হারের পর নিজের মানসিক অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, ম্যাচ শেষে হোটেলে ফেরার পর মনে হয়েছিল পৃথিবী যেন থেমে গেছে। পরিবারের সদস্যরা পাশে থাকলেও পরিবেশ ছিল শোকাবহ। সবাই নীরবে তার দিকে তাকাচ্ছিলেন, যেন বড় কোনো বিপর্যয় ঘটে গেছে।

    নেইমারের ভাষায়, “মনে হচ্ছিল আমি নিজের শেষকৃত্য দেখছি। একটা ছোট ঘরে বসে ছিলাম, সবাই একে একে আসছিল। কারও চোখে পানি, কেউ কিছু বলছে না। মনে হচ্ছিল আমি যেন কফিনে শুয়ে আছি আর সবাই আমাকে দেখতে এসেছে।”

    ব্রাজিলের জার্সিতে বড় শিরোপা জয়ের স্বপ্ন এখনও ছাড়েননি এই তারকা। তবে গুরুতর হাঁটুর চোটের কারণে ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামতে পারেননি তিনি। দলে জায়গা ফিরে পেতে এখনও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন নেইমার।

  • মেসির ম্যাজিকে স্তম্ভিত এমবাপে! ট্রেনিং গ্রাউন্ডের সেই অভিজ্ঞতা শুনে অবাক ফুটবল দুনিয়া

    মেসির ম্যাজিকে স্তম্ভিত এমবাপে! ট্রেনিং গ্রাউন্ডের সেই অভিজ্ঞতা শুনে অবাক ফুটবল দুনিয়া

    এবিএনএ:  বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম তারকা কিলিয়ান এমবাপে নিজের ক্যারিয়ারে অনেক বড় খেলোয়াড়ের সঙ্গে খেলেছেন ও অনুশীলন করেছেন। তবে লিওনেল মেসি-র সঙ্গে কাটানো সময় তার কাছে এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা হয়ে আছে।

    যদিও এমবাপে ব্যক্তিগতভাবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো-কে নিজের অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখেন, তবুও মেসির অসাধারণ প্রতিভা তাকে মুগ্ধ করেছে খুব কাছ থেকে। প্যারিসের ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেইন-এ একসঙ্গে খেলার সময় প্রতিদিনের অনুশীলনে মেসির দক্ষতা দেখে বিস্মিত হতেন তিনি।

    সম্প্রতি ‘দ্য ব্রিজ’ নামের একটি পডকাস্টে এমবাপেকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তার দেখা সবচেয়ে ব্যতিক্রমী ফুটবলার কে? জবাবে তিনি মজার ছলে বলেন, “মেসি যেন প্রতারণা করত!”—এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, মেসির খেলা এতটাই নিখুঁত ছিল যে তা অবিশ্বাস্য মনে হতো।

    সেই সময় পিএসজির আক্রমণভাগে ছিলেন নেইমার-ও। তিন তারকার সমন্বয়ে অনুশীলনের সময় ছিল দারুণ উপভোগ্য। তবে দক্ষতার বিচারে মেসি আলাদা বলেই মন্তব্য করেন এমবাপে। তার ভাষায়, “নেইমার অসাধারণ, কিন্তু মেসি সবকিছু আরও নিখুঁতভাবে করতে পারত।”

    একটি নির্দিষ্ট ঘটনার কথা তুলে ধরে এমবাপে বলেন, একদিন অনুশীলনে তারা ১০টি করে শট নিয়েছিলেন। সেখানে তিনি ও নেইমার ৬-৭টি গোল করলেও মেসি ৯টি শটেই গোল করেন, যা দেখে তিনি অবাক হয়ে যান। তার মতে, মেসির কাছে বিষয়টি যেন খুবই সহজ ছিল, ঠিক শিশুদের অনুশীলনের মতো।

    বার্সেলোনা ছাড়ার পর দুই মৌসুম পিএসজি-তে একসঙ্গে খেলেন মেসি ও এমবাপে। সেই সময়টুকু এখনো এমবাপের কাছে এক অনন্য অভিজ্ঞতা হয়ে রয়েছে, যা তাকে বারবার মেসির অসাধারণত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়।

  • বিশ্বকাপের আগে বড় ধাক্কা ব্রাজিল ভক্তদের: এখনই জাতীয় দলে ফিরছেন না নেইমার

    বিশ্বকাপের আগে বড় ধাক্কা ব্রাজিল ভক্তদের: এখনই জাতীয় দলে ফিরছেন না নেইমার

    এবিএনএ: চোট–ফিটনেসের লড়াই পেরিয়ে ক্লাব ফুটবলে ফিরলেও আসন্ন বিশ্বকাপের আগে জাতীয় দলে দেখা যাবে না নেইমারকে। সম্প্রতি তিনি সান্তোস এফসি–র জার্সিতে মাঠে নেমে ম্যাচের ছন্দ ধরার চেষ্টা করছেন। তবে ব্রাজিলিয়ান ভক্তদের প্রত্যাশা সত্ত্বেও জাতীয় দলে তার প্রত্যাবর্তন আপাতত থমকে আছে।

    মার্চে ব্রাজিল ফুটবল দল যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে বোস্টন ও অরল্যান্ডোতে দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলবে। প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে ফ্রান্স ফুটবল দলক্রোয়েশিয়া ফুটবল দল। কোচ কার্লো আনচেলত্তি এই সিরিজকে বিশ্বকাপের আগে বড় প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখছেন।

    আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মাধ্যম ইএসপিএন জানিয়েছে, এই উইন্ডোতে নেইমারকে স্কোয়াডে রাখার কোনো পরিকল্পনাই নেই আনচেলত্তির। কোচিং স্টাফের মূল্যায়ন—দীর্ঘ ইনজুরি কাটিয়ে ফেরায় এখনো পূর্ণ ফিটনেসে ফেরেননি তিনি। আগে ক্লাব পর্যায়ে নিয়মিত খেলে শারীরিক ও টেকনিক্যাল প্রস্তুতি প্রমাণ করতে হবে।

    কোচের অবস্থান পরিষ্কার—মে মাসে চূড়ান্ত মূল্যায়নে ফিটনেস ও পারফরম্যান্স মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হলে তবেই ফেরার দরজা খুলবে। নইলে চতুর্থবার বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে এই তারকার।

    এদিকে ব্রাজিলের স্কোয়াড গঠনে রক্ষণভাগকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্ট। ফুল-ব্যাক পজিশনে অনিশ্চয়তা রয়েছে, সেন্টার-ব্যাকে মার্কুইনোস ও গ্যাব্রিয়েল ম্যাগালহায়েসের বিকল্প খোঁজা হচ্ছে। মিডফিল্ডে ব্রুনো গুইমারেসের ব্যাকআপ নিয়েও ভাবনা চলছে, আর আক্রমণভাগের চূড়ান্ত ছক এখনও নির্ধারিত হয়নি।

    আনচেলত্তির বক্তব্য, নেইমারের জাতীয় দলে ফেরার পথ বন্ধ নয়—তবে কোনো তাড়াহুড়া নেই। মাঠের পারফরম্যান্স আর শারীরিক প্রস্তুতিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মাপকাঠি হবে।

  • ১৮ বছরেই ইতিহাস! ড্রিবলিংয়ে মেসিকে ছাড়িয়ে ফুটবল বিশ্বে ঝড় তুললেন লামিনে ইয়ামাল

    ১৮ বছরেই ইতিহাস! ড্রিবলিংয়ে মেসিকে ছাড়িয়ে ফুটবল বিশ্বে ঝড় তুললেন লামিনে ইয়ামাল

    এবিএনএ: বার্সেলোনার বিস্ময়বালক লামিনে ইয়ামালকে ঘিরে তুলনা আর প্রশংসার শেষ নেই। কেউ তাঁর খেলায় খুঁজে পান লিওনেল মেসির ঝলক, আবার কারও চোখে তিনি নেইমারের উত্তরসূরি। তবে মাত্র ১৮ বছর বয়সেই পরিসংখ্যানের দিক থেকে এক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ইতিহাস গড়ে ফেলেছেন এই স্প্যানিশ উইঙ্গার।

    এক বর্ষপঞ্জিকায় সফল ড্রিবলিংয়ের সংখ্যায় ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে ইয়ামাল ছাড়িয়ে গেছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসিকেও। এই তালিকায় তাঁর সামনে আছেন কেবল ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৭ সালে বার্সেলোনা ও পিএসজির জার্সিতে এক বছরে সর্বোচ্চ ৩৩৫টি সফল ড্রিবলিং করে শীর্ষে আছেন নেইমার। দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন ইয়ামাল, যিনি ২০২৫ সালে বার্সেলোনার হয়ে সফল ড্রিবলিং করেছেন ৩০৭ বার। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই তালিকার শীর্ষ দশে পাঁচবার জায়গা করে নিয়েছেন লিওনেল মেসি।

    চোট ও মাঠের বাইরের আলোচনায় চলতি বছরে কিছুটা ছন্দ হারালেও খুব দ্রুতই নিজের সেরা রূপে ফিরেছেন ইয়ামাল। এল ক্লাসিকোতে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে হারলেও পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তাঁর পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েছেন সমর্থকরা।

    নিয়মিত গোল ও অ্যাসিস্টের পাশাপাশি গোল না পেলেও ড্রিবলিং, গতি এবং সৃজনশীলতায় প্রতিপক্ষ রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলছেন তিনি। মাঠে তাঁর উপস্থিতিই হয়ে উঠছে বার্সেলোনার আক্রমণের বড় অস্ত্র।

    চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২০ ম্যাচে ৯ গোলের সঙ্গে ১০টি অ্যাসিস্ট করেছেন ইয়ামাল। লা লিগায় এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট তাঁরই দখলে। সতীর্থদের দিয়ে সাতটি গোল করিয়ে কাতালান ক্লাবটির আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছেন এই তরুণ ফুটবলার।

  • লজ্জার হার! ৬ গোল খেয়ে মাঠেই কাঁদলেন নেইমার, চাকরি হারালেন সান্তোস কোচ

    লজ্জার হার! ৬ গোল খেয়ে মাঠেই কাঁদলেন নেইমার, চাকরি হারালেন সান্তোস কোচ

    এবিএনএ:  ব্রাজিলিয়ান সিরি আ’তে দুঃস্বপ্নের এক রাত কাটাল নেইমারের সান্তোস। ভাস্কো দা গামার বিপক্ষে ৬-০ গোলের ভরাডুবিতে কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেনি দলটি। জুনে পুরনো ক্লাবে ফেরার পর নেইমারের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় হারের সাক্ষী হলো সান্তোস।

    ২০১৪ বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ব্রাজিলের ৭-১ গোলের লজ্জার হারটি মাঠের বাইরে বসে দেখেছিলেন নেইমার। কিন্তু এবার নিজের চোখের সামনে দলের ভাঙন দেখতে হলো। ম্যাচ শেষে কান্নায় ভেঙে পড়েন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। সতীর্থ ও স্টাফরা সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও থামানো যায়নি তার অশ্রু।

    ম্যাচ-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় নেইমার বলেন, “আমি লজ্জিত। আমাদের পারফরম্যান্স ছিল দুঃখজনক। সমর্থকদের রাগ ও প্রতিবাদের অধিকার আছে। তবে আমি কখনও জীবনে এমন অসহায় মুহূর্ত দেখিনি। চোখের জল এসেছিল রাগ ও কষ্ট থেকে, কারণ আমি দলকে সাহায্য করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সবই ব্যর্থ হয়েছে।”

    এই করুণ পরাজয়ের দায়ে সান্তোস কোচ ক্লেবের জাভিয়েরকে বরখাস্ত করেছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়, “আমরা তার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য শুভকামনা জানাই।”

    লা বোজোয়ার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ১৮ মিনিটে লুকাস পিটনের গোলে এগিয়ে যায় ভাস্কো। দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হয় গোলের বন্যা। একে একে পাঁচ গোল করে সান্তোসের রক্ষণ ভেঙে দেয় অতিথিরা। সাবেক বার্সেলোনা ও লিভারপুল তারকা ফিলিপে কৌতিনহো করেন দুটি গোল। বাকি গোলগুলো করেন কোরেয়া দে ফনেস্কা, রায়ান ও দানিলো নেভেস।

    এই জয়ে অবনমন অঞ্চলের বাইরে উঠে আসে ভাস্কো দা গামা। অন্যদিকে টানা ব্যর্থতায় পয়েন্ট তালিকায় ১৫তম স্থানে নেমে চাপে পড়লো সান্তোস।

  • নতুন চুল, পুরনো ছন্দ! নেইমারের জোড়া গোলে সান্তোসের দারুণ জয়

    নতুন চুল, পুরনো ছন্দ! নেইমারের জোড়া গোলে সান্তোসের দারুণ জয়

    এবিএনএ:  চুলের স্টাইল বদলানো মানেই যেন নেইমারের নতুন চমক! মাঠে ফিরেই সেটা আরও একবার প্রমাণ করলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। নতুন হেয়ারস্টাইলে নজর কাড়ার পাশাপাশি সান্তোসের জার্সিতে জোড়া গোল করে নিজেকে ফিরিয়ে আনলেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

    চোটের কারণে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকার পর এবার ঘরের মাঠে ফেরার স্বাদ পেলেন তিনি। সান্তোসে ফিরে মঙ্গলবার রাতে ব্রাজিলিয়ান সিরি আ-তে জুভেন্টুদকে ৩-১ গোলে হারাতে বড় অবদান রাখেন নেইমার।

    ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে পরাস্ত করে করেন প্রথম গোল। এরপর মাত্র তিন মিনিট পরই সান্তোসের হয়ে আলভারো ব্যারেল স্কোরলাইন ২-০ করে তোলেন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে জুভেন্টুদ একটি গোল শোধ দিলেও ম্যাচের ৮০ মিনিটে প্রতিপক্ষের ভুলে পাওয়া পেনাল্টি থেকে দ্বিতীয়বার জালের দেখা পান নেইমার।

    ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের পর এটাই তার প্রথম জোড়া গোল। সর্বশেষ তিনি ব্রাজিলের হয়ে বলিভিয়ার বিপক্ষে করেছিলেন এমন কৃতিত্ব। আর ২০২২ সালের পর এবারই প্রথম টানা পাঁচ ম্যাচ খেললেন নেইমার, যা তার জন্য বড় অর্জন।

    জয়ের পর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নেইমার জানান, তিনি আবারও ব্রাজিল জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়ার জন্য তৈরি। সামনে সেপ্টেম্বরে চিলি ও বলিভিয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ দুটি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল, যেটি হতে পারে তার প্রত্যাবর্তনের উপলক্ষ।

    “আমি আবারও তৈরি। আমার খেলা সবাই জানে। এখনো নিজেকে ফিট ও শক্তিশালী মনে করছি। সিদ্ধান্তটা এখন কোচদের হাতে,”—বলেছেন ৩৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

    আগামী ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে ফেলেছে ব্রাজিল। সেপ্টেম্বরে শেষবারের মতো মাঠে নামবে বাছাইপর্বে। এই সময়ের মাঝেই নিজেকে আবারও প্রমাণ করতে মরিয়া নেইমার। মাঠে তাঁর এমন পারফরম্যান্স সমর্থকদের মনে ফিরিয়ে এনেছে সেই পুরনো, আগ্রাসী নেইমারকে—যিনি একাই ম্যাচের রঙ বদলে দিতে পারেন।

  • পেট্রোডলারের ঝলক ম্লান, সৌদি ফুটবল ছেড়ে কেন ফিরছেন বিশ্বতারকারা?

    পেট্রোডলারের ঝলক ম্লান, সৌদি ফুটবল ছেড়ে কেন ফিরছেন বিশ্বতারকারা?

    এবিএনএ:  সৌদি ফুটবলে তারকাদের আগমন আর প্রস্থান—কেন একে একে ফিরে যাচ্ছেন রোনালদো-নেইমারদের সতীর্থরা?

    মাত্র কয়েক বছর আগেই পেট্রোডলারের গর্জনে সৌদি প্রো লিগ ঝাঁকুনি দিয়েছিল বিশ্ব ফুটবলে। রোনালদো, নেইমার, বেনজেমা, ফিরমিনো, মানে—তালিকাটা ছিল চোখ ধাঁধানো। তখন মনে হচ্ছিল, সৌদি ফুটবল বুঝি হয়ে উঠবে নতুন ইউরোপ। কিন্তু বাস্তবতা অন্য কথা বলছে।

    শুধু নেইমারই নন, সৌদি থেকে ফিরছেন একে একে আরও অনেক তারকা। কেউ ফিরছেন চোটের কারণে, কেউ মানিয়ে নিতে না পেরে। কেউ আবার বলছেন, ইউরোপীয় লাইফস্টাইল ও ফুটবল কাঠামোই তাঁদের আসল ঠিকানা।

    নেইমার:

    আল হিলালের হয়ে বিপুল বেতনে খেলা শুরু করেছিলেন নেইমার। কিন্তু চোটের কারণে মাঠে খুব বেশি সময় থাকতে পারেননি। পরে পারস্পরিক সমঝোতায় ফিরে গেছেন ছেলেবেলার ক্লাব সান্তোসে।

    জন ডুরান্ড ও গ্যাব্রি ভেইগা:

    মাত্র ২১ বছর বয়সে সৌদি লিগে নাম লিখিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন এই দুই তরুণ ফুটবলার। কিন্তু ক্যারিয়ারের দিক বিবেচনায় তারা আবার ফিরে যাচ্ছেন ইউরোপীয় ক্লাবে—ডুরান্ড তুরস্কের ফেনারবাচেতে, আর ভেইগা পোর্তোতে।

    তোলিস্কা ও লাপোর্তে:

    ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার তোলিস্কা সৌদিতে আড়াই বছরের ক্যারিয়ারের পর এবার ইউরোপে ফিরেছেন। ফরাসি বংশোদ্ভূত স্প্যানিশ ডিফেন্ডার লাপোর্তেও ছেলেবেলার ক্লাব অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ে ফিরতে মরিয়া।

    বেনজেমা ও মাহারেজ:

    দুই মুসলিম তারকাও সৌদির সমাজ ও পরিবেশে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারছেন না। বেনজেমা ক্লাব ছাড়তে চাইলেও বাধা দেওয়া হয়; মাহারেজ থাকলেও পরিবার ম্যানচেস্টারে থেকে গেছে।

    ওবামেয়াং ও হেন্ডারসন:

    ওবামেয়াং ফিরে গেছেন ফ্রান্সের মার্শেই ক্লাবে। আর হেন্ডারসন, যিনি সমকামী অধিকারের পক্ষে কথা বলায় সৌদিতে বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন, তিনিও ফিরে এসেছেন ইউরোপে।


    সৌদি ফুটবলের ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’ কি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে?

    যেখানে এক সময় পেট্রোডলার আকর্ষণ করত বিশ্বতারকাদের, সেখানে এখন তারাই ফিরছেন নিজের পুরনো ঠিকানায়। ফুটবলের পরিবেশ, সামাজিক রক্ষণশীলতা এবং পারিবারিক জীবনে অসামঞ্জস্যতা—এসব কারণেই সৌদি ক্লাবগুলোর ‘বড় তারকা ধরে রাখার ক্ষমতা’ নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।