Tag: নির্বাচন সংবাদ

  • নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ: দেশবাসীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শুক্রবার বিশেষ দোয়ার আহ্বান ইসির

    নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ: দেশবাসীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শুক্রবার বিশেষ দোয়ার আহ্বান ইসির

    এবিএনএ: গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি কামনায় আগামীকাল শুক্রবার সারা দেশে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজনের অনুরোধ করেছে সংস্থাটি।

    বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের পরিচালক (জনসংযোগ) মো. রুহুল আমিন মল্লিকের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সম্পন্ন করতে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সহযোগিতা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকার জন্যও কমিশন ধন্যবাদ জানিয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক, গণমাধ্যমকর্মী এবং সাধারণ ভোটারদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

    ইসি জানায়, দেশের অব্যাহত শান্তি ও উন্নতি কামনায় শুক্রবার জুমার নামাজের পর সব মসজিদে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতেও সুবিধাজনক সময়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

    নির্বাচনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক থাকায় কমিশন সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।

  • ভোট দিয়ে ড. ইউনূসের আবেগী বার্তা: ‘আজ নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন’

    ভোট দিয়ে ড. ইউনূসের আবেগী বার্তা: ‘আজ নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন’

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আজকের দিনটি তার জীবনের অন্যতম আনন্দের মুহূর্ত। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর গুলশান-২ মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

    ভোট শেষে ড. ইউনূস বলেন, এই দিনের মধ্য দিয়ে দেশের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে। তার মতে, আজকের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অতীতের ব্যর্থতা ও দুঃসময় পেছনে ফেলে সামনে এগোনোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি দিনটিকে ‘নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সারাদিনব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের আহ্বান জানান।

    তিনি আরও বলেন, প্রার্থীদের জন্য ভোট দেওয়ার পাশাপাশি গণভোটে অংশগ্রহণ দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গণভোটের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের কাঠামো ও পথচলায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    দেশবাসীকে উদ্দেশ করে প্রধান উপদেষ্টা গণভোটে সক্রিয় অংশগ্রহণের অনুরোধ জানান। তার ভাষায়, সম্মিলিত অংশগ্রহণই নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি গড়ে দেবে। বক্তব্যের শেষে তিনি সবাইকে শুভেচ্ছা জানান এবং দিনটিকে আনন্দ ও মুক্তির প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন।

  • ভোটের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় প্রাণ হারালেন পোলিং অফিসার—সরাইলে কেন্দ্রে নেমে এলো শোকের ছায়া

    ভোটের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় প্রাণ হারালেন পোলিং অফিসার—সরাইলে কেন্দ্রে নেমে এলো শোকের ছায়া

    এবিএনএ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় ভোটগ্রহণ চলাকালে দায়িত্বে থাকা এক পোলিং অফিসারের আকস্মিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম মো. মুজাহিদুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার সিরাজুল ইসলাম অডিটোরিয়াম কেন্দ্রে নির্ধারিত ভোটকক্ষে কাজ করার সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ বোধ করেন।

    কেন্দ্রে উপস্থিত সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সরাইল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু বকর সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় তার মৃত্যু হওয়ায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে শোকের আবহ নেমে এসেছে।

    মুজাহিদুল ইসলাম স্থানীয় পানিশ্বর ইউনিয়নের ইসলামী ফাউন্ডেশনের একজন শিক্ষক ছিলেন। দায়িত্বশীল ও ভদ্র মানুষ হিসেবে এলাকায় তার পরিচিতি ছিল বলে জানিয়েছেন সহকর্মীরা। আকস্মিক এই ঘটনায় কেন্দ্রে কর্মরত অন্যদের মধ্যে নীরবতা ও শোক দেখা যায়।

    উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দেশজুড়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত সারা দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটাররা ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। এই নির্বাচন উপলক্ষে দেশব্যাপী বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন।

  • বাগেরহাট-২ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস: বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয়

    বাগেরহাট-২ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস: বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয়

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাট সদর উপজেলা, বাগেরহাট পৌরসভা ও কচুয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত বাগেরহাট-২ সংসদীয় আসনটি দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এই আসন থেকে বিজয়ী দলের প্রার্থীরাই পরবর্তীতে সরকার গঠনে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে।

    এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই তিনি দলীয় নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ঘরোয়া বৈঠক, মতবিনিময় ও সভা-সমাবেশে অংশ নিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম জোরদার করেছেন।

    তবে বিএনপির ভেতরেই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ এইচ সেলিম। তিনি জানান, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করেছেন। শহর রক্ষা বাঁধ, মাজেদা বেগম কৃষি কলেজ, দড়াটানা ও মুনিগঞ্জ সেতু, বেলায়েত হোসেন ডিগ্রি কলেজসহ জেলার নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তার সময়েই সম্পন্ন হয়। তিনি একাধিক আসনে নির্বাচন করে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বিজয়ের উপহার দিতে আশাবাদী বলে মন্তব্য করেন।

    এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ বয়সে তুলনামূলক তরুণ হলেও নির্বাচনী মাঠে বেশ সক্রিয় ও প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করেছেন। সরকারি পিসি কলেজে সাবেক এজিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন, ইসলামী ছাত্রশিবিরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সামনের সারিতে থাকার কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে তার গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

    অন্যদিকে বিএনপির দলীয় প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, বিএনপি একটি সুসংগঠিত দল এবং দলের সব নেতাকর্মী তার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়ে এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

    এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আতিয়ার রহমানও সীমিত পরিসরে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    সব মিলিয়ে বাগেরহাট-২ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সচেতন মহল ও সাধারণ ভোটাররা।

    এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩৯ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৭০ হাজার ২৬৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৫ জন।

  • নির্বাচনী প্রচারে হামলার অভিযোগ! নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপে ক্ষুব্ধ জামায়াত

    নির্বাচনী প্রচারে হামলার অভিযোগ! নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপে ক্ষুব্ধ জামায়াত

    এবিএনএ: ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর নির্বাচনী প্রচারণাকালে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের হামলা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।

    মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক ও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমর্থিত প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগর এলাকায় গণসংযোগে অংশ নেন। এ সময় একটি বড় রাজনৈতিক দলের চিহ্নিত কর্মীরা তার ওপর ডিম নিক্ষেপসহ হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আরপিও অনুযায়ী নির্বাচনী কার্যক্রমে বাধা দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এমন কর্মকাণ্ড নির্বাচনের সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে বড় বাধা সৃষ্টি করে। শান্তিপূর্ণ প্রচারণা চালানো প্রতিটি রাজনৈতিক দলের সাংবিধানিক অধিকার, যা বাধাগ্রস্ত করা গণতন্ত্রের জন্য অশুভ সংকেত।

    জামায়াতের নেতা এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, রাজনৈতিক মতভেদের কারণে সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনা রাজনৈতিক সহনশীলতার পরিপন্থি এবং অগণতান্ত্রিক আচরণের প্রতিফলন।

    তিনি অবিলম্বে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।

  • সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপিতে ভাঙনের সুর: স্বতন্ত্র ও বিকল্প প্রার্থী ঘিরে তৃণমূলে অস্থিরতা

    সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপিতে ভাঙনের সুর: স্বতন্ত্র ও বিকল্প প্রার্থী ঘিরে তৃণমূলে অস্থিরতা

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) বাড়ছে অস্বস্তি। স্বতন্ত্র ও বিকল্প প্রার্থী ঘিরে তৈরি হয়েছে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, যার প্রভাব পড়ছে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ওপর। একদিকে ভোটের মাঠে শক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করছেন দলেরই বিদ্রোহী নেতারা, অন্যদিকে দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ছেন কর্মীরা।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে অন্তত ৫২টি আসনে বিএনপির ৭১ জন নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এদের অনেকেই বর্তমানে বা অতীতে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে কেউ কেউ বাদ পড়লেও বেশ কয়েকটি আসনে এখনো বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা সক্রিয় রয়েছেন। ইতোমধ্যে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নয়জনকে বহিষ্কার করা হলেও মাঠ ছাড়তে নারাজ অনেক নেতা।

    স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পাশাপাশি ছয়টি আসনে ঘোষিত বিকল্প প্রার্থী নিয়েও বিব্রত অবস্থায় রয়েছে দল। চূড়ান্তভাবে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে—এই অনিশ্চয়তায় স্থানীয় পর্যায়ে বিভক্তি স্পষ্ট হচ্ছে। দলীয় নেতারা আশঙ্কা করছেন, চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণার পর ক্ষুব্ধ একটি অংশ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়তে পারে, যা নির্বাচনী ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

    সিলেট, সুনামগঞ্জ, বগুড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও যশোরের কয়েকটি আসনে বিকল্প প্রার্থী ঘোষণাকে ঘিরে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কোথাও বিকল্প প্রার্থীকে ‘শেষ ভরসা’ হিসেবে দেখছেন নেতাকর্মীরা, আবার কোথাও চরম আপত্তি জানানো হচ্ছে। এতে সংগঠনের ভেতরে মতবিরোধ আরও প্রকট হয়েছে।

    এদিকে মিত্র দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতার কারণে যেসব আসনে বিএনপি প্রার্থী দেয়নি, সেসব জায়গায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের তৎপরতায় বিপাকে পড়েছেন জোটের প্রার্থীরা। জোট নেতারা আশঙ্কা করছেন, এই বিদ্রোহ নির্বাচনী হিসাবকে এলোমেলো করে দিতে পারে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় বিষয়টি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নজরে আনা হয়েছে।

    দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বোঝাতে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় নেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে তাদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে রাজি করানোর চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনে শীর্ষ নেতৃত্ব সরাসরি বৈঠকে বসবে। তবে শেষ পর্যন্ত কেউ অনড় থাকলে বহিষ্কারসহ কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছে বিএনপি।

    নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে—স্বতন্ত্র ও বিকল্প প্রার্থী ইস্যু সামলানোই এখন বিএনপির সবচেয়ে বড় সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ।

  • মনোনয়ন ফিরে পেতে শেষ দৌড়: চার দিনে ইসিতে জমা পড়ল ৪৬৯ আপিল, শুক্রবার শেষ হচ্ছে আবেদন

    মনোনয়ন ফিরে পেতে শেষ দৌড়: চার দিনে ইসিতে জমা পড়ল ৪৬৯ আপিল, শুক্রবার শেষ হচ্ছে আবেদন

    এবিএনএ: রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তে যেসব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, তারা প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করছেন। গত চার দিনে কমিশনে মোট ৪৬৯টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে বলে জানিয়েছে ইসি সূত্র।

    নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আপিল আবেদনের শেষ সময় শুক্রবার। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর শনিবার থেকেই আপিলের শুনানি কার্যক্রম শুরু হবে।

    কমিশন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শুনানিকালে প্রতিদিন গড়ে ৭০টি করে আপিল নিষ্পত্তির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ইসিতে দায়ের করা সব আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম দিনে ৪২টি, দ্বিতীয় দিনে ১২২টি, তৃতীয় দিনে ১৩১টি এবং চতুর্থ দিনে বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ ১৭৪টি আপিল আবেদন জমা পড়ে। শেষ দিনে আরও আবেদন জমা পড়তে পারে বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্টরা।

    ইসি কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব আপিল শুনানি সম্পন্ন করে দ্রুত সিদ্ধান্ত দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যাতে নির্বাচনী কার্যক্রম নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়া যায়।

  • ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন হবে: আলোচনায় আশাবাদী মির্জা ফখরুল

    ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন হবে: আলোচনায় আশাবাদী মির্জা ফখরুল

    এবিএনএ:  বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তাদের আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। তিনি জানান, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

    রবিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন ফখরুল।

    তিনি বলেন, “জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে প্রধান উপদেষ্টা আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন হবে।”

    গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, “এটা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক ঘটনা। এর পেছনে একটি মহল নির্বাচনকে বিলম্বিত করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে। বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”

    অন্যদিকে লন্ডনে একটি দলের প্রধানের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে জামায়াতের অভিযোগের জবাবে ফখরুল বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা বিএনপির মতো একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রধানের সঙ্গে বসেছেন। এটা তার এখতিয়ার এবং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এ নিয়ে কারও অভিযোগ করার সুযোগ নেই।”

    বিএনপি মহাসচিবের এই মন্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।