Tag: নির্বাচন নিরাপত্তা

  • যশোরে ভোটকেন্দ্রে অফিসিয়াল সিল চুরি, ভোটারদের লাইনে অপেক্ষা দীর্ঘ

    যশোরে ভোটকেন্দ্রে অফিসিয়াল সিল চুরি, ভোটারদের লাইনে অপেক্ষা দীর্ঘ

    এবিএনএ, যশোর: যশোরের রেল রোড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে একটি অফিসিয়াল সিল চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী বুথের ভোটগ্রহণ সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হয় এবং ভোটাররা দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও কেন্দ্রের ভোটাররা জানিয়েছেন, ভোট দেওয়ার সময় একজন নারী ভোটার সুযোগ বুঝে সিলটি কেন্দ্র থেকে নিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিল নিখোঁজ হওয়ার কারণে নারী বুথে ভোটগ্রহণ কিছুক্ষণ থমকে যায়। এর ফলে কেন্দ্রে ভোটারদের মধ্যে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়।

    কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার ওবায়দুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “সিল হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানতে পারার পরপরই আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে খবর দিয়েছি। কিছু সময় ভোটগ্রহণে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছিল, তবে বিকল্প সিল আনার পর ভোট কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পুনরায় শুরু হয়েছে।”

    বিজ্ঞানিকভাবে পর্যবেক্ষকরা জানান, এমন পরিস্থিতি ভোটগ্রহণে স্বাভাবিক গতিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তবে বর্তমানে কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় ভোটগ্রহণ চালাচ্ছে। ভোটাররা জানিয়েছেন, দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন যাতে ভোটাভুটির সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকে।

  • ভোটে বিশৃঙ্খলা করলে কঠোর জবাব—নাশকতার দায় নেবে অভিযুক্তরাই, হুঁশিয়ারি র‍্যাব ডিজির

    ভোটে বিশৃঙ্খলা করলে কঠোর জবাব—নাশকতার দায় নেবে অভিযুক্তরাই, হুঁশিয়ারি র‍্যাব ডিজির

    এবিএনএ: ভোটকেন্দ্রে নাশকতা, জালভোট বা ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালনে কোনো ঝুঁকি নেয় না; ঝুঁকি বহন করতে হবে আইন ভাঙতে আসা ব্যক্তিদেরই।

    বুধবার বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে র‍্যাব ডিজি জানান, যারা নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করবে, ফলাফল মেনে না নিয়ে সহিংসতায় জড়াবে কিংবা ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে—তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোরতা প্রয়োগ করা হবে।

    তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার আগ থেকেই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে র‍্যাব ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও অপরাধী গ্রেপ্তারে জোরালো তৎপরতা চালানো হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় বিশেষ অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।

    নির্বাচনী নিরাপত্তা পরিকল্পনাকে তিন ধাপে সাজানো হয়েছে—নির্বাচন-পূর্ব, নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়। নির্বাচনের দিন র‍্যাব মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে থাকবে। ইতোমধ্যে দেশের ৬৪ জেলায় র‍্যাবের টিম মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

    র‍্যাব ডিজি আরও বলেন, সেনাবাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, আনসার ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসন ও পুলিশের স্থানীয় ইউনিটের সঙ্গেও সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে।

    ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে অতিরিক্ত স্থির ফোর্স বসানো হয়েছে। প্রযুক্তিগত নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে—অনেক কেন্দ্রে সিসিটিভি, পুলিশের বডি ক্যামেরা, ড্রোন নজরদারি, ডগ স্কোয়াড ও বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে হেলিকপ্টার ব্যবহারের প্রস্তুতিও আছে।

    বহিরাগতদের অযৌক্তিক উপস্থিতি ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি। বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন বা ভোটার প্রভাবিত করার চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো কেন্দ্রে পরিস্থিতি অবনতি হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে ভোট স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিতে পারে নির্বাচন কমিশন।

    র‍্যাব ডিজি বলেন, নির্দিষ্ট কোনো জঙ্গি হুমকি নেই; তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

  • বাগেরহাটে পরিত্যক্ত ভবনের পাশ থেকে ৬ ককটেল উদ্ধার, বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা

    বাগেরহাটে পরিত্যক্ত ভবনের পাশ থেকে ৬ ককটেল উদ্ধার, বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা

    এবিএনএ,বাগেরহাট: আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে নাশকতার আশঙ্কার মধ্যে বাগেরহাটে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ৬টি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। সদর উপজেলার হাড়িখালি সুইচগেট এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ভবনের পাশ থেকে এসব ককটেল উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিট থেকে ভোর ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে ২৩ আরই ব্যাটালিয়নের নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত ভবনের পাশের মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা একটি প্লাস্টিকের বালতি থেকে ৬টি ককটেল উদ্ধার করা হয়।

    নিরাপত্তা সূত্রে জানা গেছে, দুর্বৃত্তরা জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির লক্ষ্যে এসব ককটেল মজুত করে রাখতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, নির্বাচনের আগের দিন কিংবা ভোটের দিন নাশকতার উদ্দেশ্যে এগুলো ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল।

    ঘটনার পরপরই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে পুলিশের একটি টহল দল মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি র‍্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল (বিডি) ইউনিটকে অবহিত করা হয়েছে। তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকৃত ককটেলগুলো নিষ্ক্রিয় করবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন।

  • কার পাল্লায় যাবে ১ কোটি ১৩ লাখ সংখ্যালঘু ভোট? ভোটের আগে দুশ্চিন্তা ও প্রত্যাশা

    কার পাল্লায় যাবে ১ কোটি ১৩ লাখ সংখ্যালঘু ভোট? ভোটের আগে দুশ্চিন্তা ও প্রত্যাশা

    এবিএনএ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট কোন দিকে মোড় নেবে—এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ১৩ লাখ। এর মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারই সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ জুড়ে রয়েছেন।

    পরিসংখ্যান বলছে, দেশে বর্তমানে হিন্দু ভোটার রয়েছেন আনুমানিক ১ কোটি ১০ লাখের বেশি। খ্রিষ্টান ভোটার প্রায় ৩ লাখ ৬৫ হাজার, বৌদ্ধ ভোটার ৭ লাখ ৯০ হাজার এবং অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ভোটার সংখ্যা কয়েক দশ হাজারের মতো। নির্বাচন ঘিরে একদিকে যেমন ভোটাধিকার প্রয়োগের আগ্রহ বাড়ছে, অন্যদিকে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও কাটেনি।

    সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার কয়েকটি ঘটনার তথ্য তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, গত বছরে শতাধিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যা নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা প্রশ্নকে আরও গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে ভোটের দিন জানমালের সুরক্ষা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।

    সংগঠনটির নেতারা মনে করছেন, কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা যথেষ্ট নয়—সব রাজনৈতিক দলেরই সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার প্রয়োজন। যে দল বা প্রার্থী এ বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য প্রতিশ্রুতি দেবে, তার পক্ষেই সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।

    এদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সংখ্যালঘু ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কমিশন বলছে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, যাতে প্রত্যেক নাগরিক নির্বিঘ্নে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

  • ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিলে আটক! নির্বাচনের দিন ইসির কড়া নিষেধাজ্ঞা

    ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিলে আটক! নির্বাচনের দিন ইসির কড়া নিষেধাজ্ঞা

    এবিএনএ: আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রে মোবাইলফোন বহনে কড়াকড়ি আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

    ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলামের সই করা নির্দেশনায় রোববার সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বিষয়টি বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রের চারশ গজ ব্যাসার্ধের ভেতরে সাধারণভাবে কেউ মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না।

    তবে দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনে কয়েকটি পক্ষকে এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। প্রিসাইডিং অফিসার, ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ইনচার্জ এবং ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারকারী অঙ্গীভূত আনসার, সাধারণ আনসার ও ভিডিপির দুই সদস্য মোবাইল বহন করতে পারবেন।

    নির্বাচন কমিশনের মতে, কেন্দ্রের পরিবেশ শান্ত রাখা, গুজব ও অনিয়ম ঠেকানো এবং ভোটগ্রহণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এই বিধিনিষেধ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা কঠোরভাবে কার্যকরের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

  • গানম্যান নিয়ে ক্যান্টনমেন্টে ঢোকার চেষ্টা, সেনাসদস্যদের সঙ্গে তুমুল বাকবিতণ্ডায় জামায়াত প্রার্থী

    গানম্যান নিয়ে ক্যান্টনমেন্টে ঢোকার চেষ্টা, সেনাসদস্যদের সঙ্গে তুমুল বাকবিতণ্ডায় জামায়াত প্রার্থী

    এবিএনএ: গানম্যানসহ ক্যান্টনমেন্ট এলাকা অতিক্রম করার চেষ্টা করতে গিয়ে সেনাসদস্যদের সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়ান জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এস এম খালিদুজ্জামান। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৭ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিডিও সূত্রে জানা যায়, ক্যান্টনমেন্টে প্রবেশের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাসদস্যরা প্রার্থীর পরিচয় জানতে চান। তখন তার সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তি জানান, তিনি সংশ্লিষ্ট আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী। সেনাসদস্যরা দলীয় পরিচয় জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর নাম উল্লেখ করা হয়।

    এরপর ক্যান্টনমেন্টের নিয়ম অনুযায়ী অস্ত্র বা গানম্যান নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ—এ কথা জানালে প্রার্থী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান। একপর্যায়ে সেনাসদস্যদের উদ্দেশে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু কর্মকর্তার আচরণের কারণে পুরো সেনাবাহিনী বিতর্কিত হচ্ছে এবং বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন।

    ভিডিওতে দেখা যায়, উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের মধ্যে সেনাসদস্যরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে প্রার্থী নিজেও ফোনে ঊর্ধ্বতনের সঙ্গে কথা বলেন এবং নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে গানম্যানসহ যাওয়ার অনুমতি চান।

    এ সময় ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ভিডিও ধারণ নিয়েও আপত্তি জানানো হয়। সেনাসদস্যরা জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে ভেতরে ভিডিও করা নিষিদ্ধ। তবে প্রার্থী দাবি করেন, তার গাড়ি আটকে রাখা হচ্ছে এবং তিনি ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না।

    দীর্ঘ তর্ক-বিতর্কের পর সেনাসদস্যরা জানান, ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে প্রার্থী সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবেন এবং সেখানে কোনো অস্ত্রধারী ব্যক্তি প্রবেশ করতে পারবেন না—এটাই নিয়ম। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি আর এগোয়নি। প্রার্থী গাড়ি ঘুরিয়ে ক্যান্টনমেন্ট এলাকা ত্যাগ করেন।

    ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তা বিধি, নির্বাচনী সময়ের সংবেদনশীলতা এবং রাজনৈতিক আচরণ—সব মিলিয়ে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

  • নির্বাচনের মাঠে সেনাবাহিনীর জন্য কড়া বার্তা: নিরপেক্ষতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ

    নির্বাচনের মাঠে সেনাবাহিনীর জন্য কড়া বার্তা: নিরপেক্ষতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ

    এবিএনএ:  আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। একই সঙ্গে জনগণের সঙ্গে দায়িত্বশীল ও নাগরিকবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেন তিনি।

    বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা অঞ্চলে মোতায়েন করা সেনাসদস্যদের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণকালে এসব দিকনির্দেশনা দেন সেনাপ্রধান। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    আইএসপিআরের তথ্যমতে, নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়নের পাশাপাশি ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের প্রস্তুতি ও কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন সেনাবাহিনী প্রধান। পরিদর্শনকালে তিনি মাঠপর্যায়ের সেনা সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

    সফরের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভাগীয় কমিশনার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি এবং অসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। পরে কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষেও অনুরূপ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    মতবিনিময় সভাগুলোতে নির্বাচনকে ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেনাপ্রধান বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখাই সেনাবাহিনীর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং সেটিই জনগণের আস্থার মূল ভিত্তি।

  • জাতীয় নির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা: রাজধানীসহ ৪৮৯ উপজেলায় বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত

    জাতীয় নির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা: রাজধানীসহ ৪৮৯ উপজেলায় বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত

    এবিএনএ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রায় সব উপজেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক পরিপত্রে জানানো হয়েছে, দেশের ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টিতে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন করবে বিজিবি। তবে সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া, দাকোপ, মনপুরা ও রাঙ্গাবালি—এই ছয়টি উপজেলা মোতায়েনের তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে।

    এর আগে বিজিবি জানায়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে ১ হাজার ১৫১টি প্লাটুন মোতায়েন করা হয়েছে। ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ বিধানের আওতায় বাহিনীটি মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

    আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনপূর্ব ও নির্বাচন পরবর্তী সময় মিলিয়ে মোট সাত দিন সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় থাকবে। পরিপত্র অনুযায়ী, ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিজিবি মোতায়েন শুরু হয়ে চলবে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

    নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি), কোস্ট গার্ড এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    এই নির্বাচনে প্রায় ১২ কোটি ৭৫ লাখ ভোটার অংশ নেবেন। ৩০০টি সংসদীয় আসনের প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রে স্থাপিত ২ লাখ ৬০ হাজার ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। পুরো নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন বাহিনীর ৮ লক্ষাধিক সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

  • জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকার বিদেশি দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে কূটনীতিকদের আশ্বস্ত করল সরকার

    জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকার বিদেশি দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে কূটনীতিকদের আশ্বস্ত করল সরকার

    এবিএনএ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে ঢাকায় অবস্থানরত বিদেশি দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে কূটনীতিকদের আশ্বাস দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

    বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে নির্বাচন উপলক্ষে সরকারের সর্বশেষ প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা পরিকল্পনা তুলে ধরেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

    ব্রিফিং শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র বাহিনীসহ সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলেও কূটনীতিকদের অবহিত করা হয়।

    এ সময় জানানো হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন। বিভিন্ন দেশকে পর্যবেক্ষক পাঠানোর জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণও জানানো হয়েছে।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এই ব্রিফিংয়ে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের প্রায় ৪০ জন কূটনীতিক অংশ নেন।