Tag: নির্বাচনী সহিংসতা

  • বাগেরহাটে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা, আহত সমর্থকের মৃত্যু

    বাগেরহাটে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা, আহত সমর্থকের মৃত্যু

    এবিএনএ, বাগেরহাট: বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় আহত এক স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থীর সমর্থক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। নিহত ওসমান সরদার (২৯) শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কচুয়া উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের ছিটাবাড়ি গ্রামে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।

    নিহত ওসমান সরদার বাগেরহাট সদর উপজেলার পাড়নওয়াপাড়া গ্রামের শাহজাহান সরদারের ছেলে।

    পরিবারের অভিযোগ

    ওসমানের বড় ভাই এনামুল কবির সরদার অভিযোগ করেন, এলাকায় ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকরা ঘোড়া প্রতীকের লোকজনকে খুঁজতে থাকে। এ সময় তার ভাইসহ কয়েকজনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ওসমানের মাথায় আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে খুলনায় স্থানান্তর করেন। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    পুলিশের বক্তব্য

    বাগেরহাট মডেল থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুম খান জানান, মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

    বাগেরহাট-২ আসনের প্রেক্ষাপট

    সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-২ আসন-এ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ছিলেন শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। একই আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম। তবে এ দুই প্রার্থীকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে বিজয়ী হন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শেখ মনজুরুল হক রাহাদ।

    নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল বলে স্থানীয়রা জানান। সাম্প্রতিক এই মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তৎপর রয়েছে।

  • যশোরে ভোটকেন্দ্রে সহিংসতা, জামায়াত কর্মীসহ দুই জন আহত

    যশোরে ভোটকেন্দ্রে সহিংসতা, জামায়াত কর্মীসহ দুই জন আহত

    এবিএনএ, যশোর: যশোরে নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনায় জামায়াতের এক কর্মী ও এক ভোটার আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে যশোর-৩ আসনের তালবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঘটনাটি ঘটে।

    আহতরা হলেন, সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের তালবাড়িয়া গ্রামের জামায়াত কর্মী আবু হোসেন (২৫) এবং আব্দুল গণি (৫০)।

    আহত আবু হোসেন জানান, তিনি সকালেই ভোটকেন্দ্রের সামনে অবস্থান করছিলেন। তখন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকরা তার ওপর আক্রমণ চালিয়ে তাকে পিটিয়ে জখম করে। স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে। অপরদিকে, আব্দুল গণি ভোট দিতে বাড়ি থেকে বের হলে জামায়াত সমর্থকরা তাকে চড়-থাপ্পড় মেরে বাড়িতে ফিরে যেতে বাধ্য করে।

    ঘটনার খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

    যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ বলেন, “তালবাড়িয়া স্কুলকেন্দ্রে কোনো গুরুতর অপ্রীতিকর ঘটনার খবর আমাদের কাছে আসেনি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

    নির্বাচন চলাকালীন সময়ে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

  • ঢাকা-৮: ভোটের আগেই মেস-হোস্টেলে সশস্ত্র অবস্থান, মির্জা আব্বাসের অভিযোগ

    ঢাকা-৮: ভোটের আগেই মেস-হোস্টেলে সশস্ত্র অবস্থান, মির্জা আব্বাসের অভিযোগ

    এবিএনএ: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকা-৮ আসনে ভোটকেন্দ্র দখল ও কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, জামায়াত-শিবির ও এনসিপির কর্মীরা দলবলে বিভিন্ন কেন্দ্র দখল করে অনিয়মের চেষ্টা চালাচ্ছে।

    শাহজাহানপুরে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) নিজ বাসভবনে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে মির্জা আব্বাস জানান, সাধারণ জনগণ ও বিএনপির কর্মীরা তাদের আটকও করেছে। অনেকে পালিয়ে গেছে, তবে তারা এখনও নির্বাচনী সহিংসতার ঝুঁকি তৈরি করছে।

    প্রার্থী আরও বলেন, ফকিরাপুল ও আরামবাগের মেস-হোস্টেলগুলোতে সশস্ত্র অবস্থান নিয়েছে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। তারা আগামী ভোটের দিন কেন্দ্রগুলোতে যেতে পারে। রাত ১১টার পর পুনরায় কেন্দ্র দখল করলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে, হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

    মির্জা আব্বাস দাবি করেন, তার আসন নিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে নির্বাচনী কারচুপির চেষ্টা চলছে। তিনি সবাইকে সতর্ক করে বলেছেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা হবে।

  • গোপালগঞ্জে ভোটের আগের রাতে ৫ কেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণ, ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক

    গোপালগঞ্জে ভোটের আগের রাতে ৫ কেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণ, ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক

    এবিএনএ,গোপালগঞ্জ: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গোপালগঞ্জে পাঁচটি ভোটকেন্দ্রের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রথম বিস্ফোরণটি সদর উপজেলার নীলার মাঠ এলাকার শহীদ মাহবুব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে ঘটে।

    এরপরপরই জেলা শহরের বীণাপানি স্কুল মোড়, মাঝিগাতী দশপল্লী এনকে উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র, দক্ষিণ রঘুনাথপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গুয়াধানা-সিলনা বিন্দুবাসিনী উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সামনের রাস্তায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে।

    ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এখনো পুলিশ পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।

    এ ঘটনার ফলে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে এবং ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার দাবি উঠেছে।

  • ঢাকা-১৫: দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ১৩টি নির্বাচনী বুথে ভাঙচুর, অভিযোগ জামায়াত আমিরের

    ঢাকা-১৫: দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ১৩টি নির্বাচনী বুথে ভাঙচুর, অভিযোগ জামায়াত আমিরের

    এবিএনএ: ঢাকা-১৫ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনী বুথে ১৩টি স্থানে ভাঙচুর হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এই ঘটনার কথা জানিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি লিখেছেন, “আজ আমার নির্বাচনী আসনের ১৩টি বুথে ভাঙচুর করা হয়েছে। যারা সন্ত্রাস ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাদের থামাতে চাচ্ছে, তারা ভুলে যাচ্ছে—এই জাতি বহু প্রতিকূলতা পেরিয়ে এসেছে।”

    জামায়াত আমির আরও বলেছেন, “পেশীশক্তির রাজনীতি শেষ হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষকে আর দমিয়ে রাখা যাবে না। যারা দেশের নীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় ব্যর্থ, তারা এখন সহিংসতার আশ্রয় নিচ্ছে।”

    তিনি আশা প্রকাশ করেন, “ভয়-ভীতির রাজনীতি আর চলবে না। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের জনপ্রিয়তা জনগণের মধ্যে এতোটাই দৃঢ় যে তার প্রতিফলন আগামী নির্বাচনের ভোটে স্পষ্টভাবে দেখা যাবে, ইনশাআল্লাহ।”

  • কচুয়ায় ভোটের মাঠ রণক্ষেত্র, সংঘর্ষে আহত অন্তত ৫ জন

    কচুয়ায় ভোটের মাঠ রণক্ষেত্র, সংঘর্ষে আহত অন্তত ৫ জন

    এবিএনএ: বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় নির্বাচনী উত্তেজনা সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। প্রচারণাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ঘোড়া ও ধানের শীষ প্রতীকের অন্তত পাঁচজন সমর্থক আহত হয়েছেন। শুক্রবার গোপালপুর ইউনিয়নের ধোপাবাড়ি পোল এলাকায় সর্বশেষ এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, ধানের শীষ প্রতীকের প্রচারণা চলাকালে প্রতিপক্ষ ঘোড়া প্রতীকের সমর্থকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৮) গুরুতর আহত হন। পরে তাকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই ঘটনায় আরও দুইজন আহত হন।

    এর আগে বৃহস্পতিবার রাতেও গোপালপুর এলাকায় দুই প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় ঘোড়া প্রতীকের একটি নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এতে উভয় পক্ষের দুই কর্মী আহত হন। এসব ঘটনায় কচুয়া থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

    আহত জাহাঙ্গীর হোসেনের দাবি, তিনি মোটরসাইকেলে করে গোপালপুর যাচ্ছিলেন, এ সময় কয়েকজন তাকে পথরোধ করে লাঠি দিয়ে মারধর করে। তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

    এদিকে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ তুলে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থীর নির্বাচনী টিম। তারা প্রচারণায় বাধা, কার্যালয় ভাঙচুর ও কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ করেছেন এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা দাবি করেছেন।

    অন্যদিকে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ করে বলা হয়েছে, তাদের প্রচারণা ও পোস্টারেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।

    কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, উভয় পক্ষের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনও জানিয়েছে, বিষয়গুলো নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • বাগেরহাটে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারণায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ, নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা

    বাগেরহাটে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারণায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ, নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাটের বিভিন্ন সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিমের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা, অফিসে তালা দেওয়া, ভাঙচুর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিম, মাহবুবুর রহমান টুটুল, সামিদ আল হাসানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

    এম এ এইচ সেলিম অভিযোগ করে বলেন, বাগেরহাট-২ (সদর ও কচুয়া) আসনে তার নির্বাচনী কার্যক্রম পরিকল্পিতভাবে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনী অফিসে অগ্নিসংযোগ, প্রচারণার মাইক ভাঙচুর এবং যাত্রাপুর এলাকার অফিসে তালা লাগিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

    তিনি আরও বলেন, এসব বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে থাকলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এজন্য তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এম এ এইচ সেলিমের বিরুদ্ধে কর ফাঁকির গুজব ছড়ানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, কর ফাঁকির অভিযোগ সত্য হলে তার মনোনয়নপত্র বৈধ হতো না। একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে তাকে হেয় করার উদ্দেশ্যে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

  • নির্বাচনী উত্তাপে ঢাকা-১২: প্রচারণাকালে সংঘর্ষে কোদাল প্রতীকের তিন কর্মী আহত

    নির্বাচনী উত্তাপে ঢাকা-১২: প্রচারণাকালে সংঘর্ষে কোদাল প্রতীকের তিন কর্মী আহত

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ঢাকা-১২ আসনে নির্বাচনী প্রচারণার সময় সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে কোদাল প্রতীকের তিনজন কর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন সাকিন (২৭), আহাদ (২৭) ও হোসেন।

    সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকার মধুবাগে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় তিনজনকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।

    কোদাল প্রতীকের প্রার্থী এবং বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক অভিযোগ করে বলেন, বিকেলে তাদের নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে প্রতিদ্বন্দ্বী এক প্রার্থীর সমর্থকরা আকস্মিকভাবে হামলা চালায়। তার দাবি, হামলাকারীরা পাইপ, লাঠি ও রড ব্যবহার করে কর্মীদের ওপর আক্রমণ করে, এতে তিনজন আহত হন।

    তিনি আরও জানান, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হবে।

    এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাতিরঝিলের মধুবাগ এলাকা থেকে নির্বাচনী সহিংসতায় আহত তিনজনকে জরুরি বিভাগে আনা হয়। আহতরা কোদাল প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থক বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসা চলছে।

  • শেরপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের মৃত্যু

    শেরপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের মৃত্যু

    এবিএনএ: শেরপুরে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলার জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম মারা গেছেন।

    ঘটনাটি ঘটে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ মাঠে, যেখানে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সংঘর্ষে তিনি গুরুতর আহত হন এবং রাত পৌনে ১০টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

    শেরপুর-৩ আসনের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “দুঃখজনকভাবে আমাদের নেতা রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত টানাপোড়েনপূর্ণ।”

    স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক এবং উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি শান্ত রাখতে মাঠে উপস্থিত রয়েছেন।

  • নির্বাচনী প্রচারে হামলার অভিযোগ! নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপে ক্ষুব্ধ জামায়াত

    নির্বাচনী প্রচারে হামলার অভিযোগ! নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপে ক্ষুব্ধ জামায়াত

    এবিএনএ: ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর নির্বাচনী প্রচারণাকালে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের হামলা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।

    মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক ও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমর্থিত প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগর এলাকায় গণসংযোগে অংশ নেন। এ সময় একটি বড় রাজনৈতিক দলের চিহ্নিত কর্মীরা তার ওপর ডিম নিক্ষেপসহ হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আরপিও অনুযায়ী নির্বাচনী কার্যক্রমে বাধা দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এমন কর্মকাণ্ড নির্বাচনের সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে বড় বাধা সৃষ্টি করে। শান্তিপূর্ণ প্রচারণা চালানো প্রতিটি রাজনৈতিক দলের সাংবিধানিক অধিকার, যা বাধাগ্রস্ত করা গণতন্ত্রের জন্য অশুভ সংকেত।

    জামায়াতের নেতা এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, রাজনৈতিক মতভেদের কারণে সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনা রাজনৈতিক সহনশীলতার পরিপন্থি এবং অগণতান্ত্রিক আচরণের প্রতিফলন।

    তিনি অবিলম্বে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।