Tag: নির্বাচনী রোডম্যাপ

  • নির্বাচনী রোডম্যাপে হতাশা: ইসির ঘোষণায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জামায়াতের

    নির্বাচনী রোডম্যাপে হতাশা: ইসির ঘোষণায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জামায়াতের

    এবিএনএ:  নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত নির্বাচনী রোডম্যাপকে বিভ্রান্তিকর ও অপরিপক্ব বলে আখ্যা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “জাতি আশা করেছিল আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে। কিন্তু এখনো নির্বাচনের ধরন ও পদ্ধতি স্পষ্ট নয়।”

    বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়া ও এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত না করেই রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে ঘোষিত পরিকল্পনায় জনগণের প্রত্যাশা প্রতিফলিত হয়নি।

    তিনি আরও বলেন, “জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আগে সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে হতো। এরপর সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করা উচিত ছিল।”

    জামায়াতের মতে, এভাবে অসম্পূর্ণ ও দ্ব্যর্থক পরিকল্পনা জনগণকে বিভ্রান্ত করবে এবং নির্বাচনের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি করবে।

  • জুলাই সনদ উপেক্ষা করে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের শামিল: এনসিপি

    জুলাই সনদ উপেক্ষা করে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের শামিল: এনসিপি

    এবিএনএ:  নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি জানায়, নির্বাচন আয়োজন ইতিবাচক হলেও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আগে রোডম্যাপ প্রকাশকে তারা সরকারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হিসেবে দেখছে।

    এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব লিখিত বক্তব্যে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে জনগণ সংস্কার ও বিচার প্রত্যাশা করেছিল। সেই লক্ষ্যেই সরকার সংস্কার কমিশন গঠন করেছিল। কমিশন থেকে প্রণীত জুলাই সনদের খসড়া ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলোকে দেওয়া হয়েছে এবং এনসিপিও নিজেদের প্রস্তাব জমা দিয়েছে। কিন্তু খসড়ায় সনদ বাস্তবায়নের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া না থাকায় হতাশা তৈরি হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ছয়টি সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা হলেও তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এর মধ্যে গণপরিষদ নির্বাচন, গণভোট ও সংবিধান সংস্কার সভার প্রস্তাব রয়েছে। কিন্তু এসব আলোচনার মাঝেই একতরফাভাবে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের সময় ঘোষণা দিয়ে দিয়েছেন। যদিও দলটি বৃহত্তর স্বার্থে বিষয়টি মেনে নিয়েছে, তবে আশা করেছিল নির্বাচনী রোডম্যাপের আগে সংস্কার বাস্তবায়নের পরিকল্পনা স্পষ্ট হবে।

    এনসিপির মতে, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের রূপরেখা ছাড়া নির্বাচন প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সংকট ডেকে আনতে পারে। আরিফুল ইসলাম আদীব সতর্ক করে বলেন, “সংস্কার কার্যক্রম চূড়ান্ত না হলে নির্বাচনকালীন সংকটের দায় সরকারকেই বহন করতে হবে।”

    তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এনসিপি নির্বাচন বিরোধী নয়; বরং গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য নির্বাচন অপরিহার্য। তবে সনদ বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা ছাড়া নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হওয়া গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

  • তারেক রহমানের কৌশলী বৈঠক: ৪২ দলের ঐক্যের অঙ্গীকার, নির্বাচনী মাঠেও একসাথে থাকার প্রস্তুতি

    তারেক রহমানের কৌশলী বৈঠক: ৪২ দলের ঐক্যের অঙ্গীকার, নির্বাচনী মাঠেও একসাথে থাকার প্রস্তুতি

    এবিএনএ:   আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি তাদের রাজনৈতিক মিত্রদের সঙ্গে কৌশলগত আলোচনায় ব্যস্ত সময় পার করছে। দীর্ঘদিনের যুগপৎ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবার নির্বাচনী মাঠেও এই ঐক্য বজায় রাখার উদ্যোগ নিয়েছেন।

    গত শুক্রবার ও শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ৪২টি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে তারেক রহমান নির্বাচনী প্রস্তুতি, রোডম্যাপ ও ঐক্যবদ্ধ প্রচারণার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদের পতনের পর আমাদের এখন লক্ষ্য গণতান্ত্রিক কল্যাণরাষ্ট্র গঠন। এর জন্য সবার সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।”

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, মিত্রদের মতামত শোনার পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনে তাদের সম্পৃক্ত রাখার পরিকল্পনা করছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। বিগত আন্দোলনে অবদান রাখা প্রতিটি দলকে যথাযথ মূল্যায়নের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

    সূত্র জানায়, বিএনপি মোট ৬৮টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে ৬৪টি দল পূর্ববর্তী সরকারের আমলে নির্বাচন বর্জন করেছিল। পাশাপাশি গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত এনসিপি-সহ আরও কয়েকটি দলের সঙ্গেও অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হতে পারে।

    বৈঠকে উপস্থিত নেতারা নির্বাচনী সহযোগিতা, প্রার্থী বাছাই ও প্রচারণা কৌশল নিয়ে প্রস্তাব দেন। মিত্রদলগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুধু আন্দোলনে নয়, নির্বাচনের ময়দানেও বিএনপির সঙ্গে থেকে তারা গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে যেতে চান।

    ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, এলডিপি, গণতন্ত্র মঞ্চ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, লেবার পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, এনডিএম, ন্যাপ ভাসানীসহ বৈঠকে উপস্থিত নেতারা ঐক্য ধরে রাখার অঙ্গীকার করেন। বিএনপির নেতৃত্বে এই যৌথ প্রচেষ্টা যে নির্বাচনপূর্ব রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ভূমিকা রাখবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন জোর আলোচনা চলছে।