এবিএনএ: ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনের অঙ্গীকার নিয়ে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার–২০২৬ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে জনগণের জীবনমান উন্নয়নে নয়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়েছে।
শুক্রবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার উপস্থাপন করেন।
ইশতেহারে বলা হয়, প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান নিশ্চিত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। এর আওতায় মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা বা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেওয়া হবে, যা ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে।
কৃষি খাতে ‘কৃষক কার্ড’ চালুর মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষি বীমা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতকরণ জোরদারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। একই সুবিধা পাবেন মৎস্যচাষি, পশুপালনকারী ও কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা।
স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক সেবা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, জেলা ও মহানগরে মানসম্মত চিকিৎসা এবং মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে বাস্তবমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন, প্রাথমিক শিক্ষায় অগ্রাধিকার, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সহায়তা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ‘মিড-ডে মিল’ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ সহায়তা এবং বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরির অঙ্গীকার করা হয়েছে। সরকারি নিয়োগে মেধা ও স্বচ্ছতাকে প্রাধান্য দেওয়ার কথাও বলা হয়।
এছাড়া ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষায় নদী-খাল খনন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানী ও কল্যাণমূলক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম পেপাল চালু, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব গঠন এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতিও রয়েছে ইশতেহারে।
ইশতেহার ঘোষণার সময় তারেক রহমান বলেন, এটি কেবল নির্বাচনী অঙ্গীকার নয়, বরং জনগণের সঙ্গে একটি নতুন রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক চুক্তির প্রতিফলন। জনগণের রায়ে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও বৈষম্য দূর করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে।


