Tag: নিরাপত্তা ব্যবস্থা

  • প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ঘিরে সচিবালয়ে বড় রদবদল, বদলি হচ্ছেন ১৬৯ পুলিশ সদস্য

    প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ঘিরে সচিবালয়ে বড় রদবদল, বদলি হচ্ছেন ১৬৯ পুলিশ সদস্য

    এবিএনএ: রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও প্রধানমন্ত্রীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্র সচিবালয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করা অন্তত ১৬৯ জন পুলিশ সদস্যকে একযোগে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে সচিবালয়ে নিয়োজিত এবং বিভিন্ন অনিয়ম, গাফিলতি কিংবা পেশাগত অদক্ষতার অভিযোগে চিহ্নিত সদস্যদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সেই তালিকা পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

    বদলির আওতায় থাকা সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সচিবালয়ের বিভিন্ন গেটের নিরাপত্তাকর্মী, গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ‘গানম্যান’ হিসেবে দায়িত্ব পালনকারীরা।

    নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আসছে প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তন

    শুধু জনবল পরিবর্তনেই সীমাবদ্ধ থাকছে না সরকারের উদ্যোগ। সচিবালয়ের পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কাঠামোয় রূপান্তরের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় বসানো হবে এআই-ভিত্তিক আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা এবং উন্নত স্ক্যানিং প্রযুক্তি।

    নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, অস্ত্র ও মাদক শনাক্তকরণ এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি আরও কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

    নতুন পদায়নে গুরুত্ব পাচ্ছে সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স

    সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন করে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের ক্ষেত্রে গোয়েন্দা যাচাই বা সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও পেশাগত সক্ষমতাকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

    কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত সচিবালয়ে অফিস করায় এখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও গোপন নথির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

    বদলি ঘিরে চলছে তদবির

    বদলির তালিকা প্রকাশের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক পুলিশ সদস্য বিভিন্ন মাধ্যমে তদবির শুরু করেছেন বলেও জানা গেছে। কেউ কেউ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মাধ্যমে আগের দায়িত্বে বহাল থাকার চেষ্টা করছেন। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন বলে জানিয়েছে সূত্র।

    বিশেষজ্ঞদের মত কী?

    নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় দীর্ঘদিন একই ব্যক্তিদের দায়িত্বে রাখলে ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট সময় পর রোটেশন বা বদলি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি নিরাপত্তা চর্চা।

    তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, শুধুমাত্র সময় বিবেচনায় গণহারে বদলি না করে প্রতিটি সদস্যের পেশাগত দক্ষতা, সততা ও সার্ভিস রেকর্ড মূল্যায়ন করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। অন্যথায় দক্ষ ও নিরপেক্ষ সদস্যরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

    দর্শনার্থী পাসেও আসছে নতুন নিয়ম

    সচিবালয়ে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করতে দর্শনার্থী পাস ব্যবস্থাতেও বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়সীমার জন্য পাস ইস্যু করা হবে এবং প্রয়োজন শেষ হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।

    সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে সচিবালয়ে অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ কমবে এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

  • ভাষা শহীদদের স্মরণে অমর একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এ প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

    ভাষা শহীদদের স্মরণে অমর একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এ প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

    এবিএনএ: মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে অমর একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার রাত ১২টা ৭ মিনিটে তিনি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এর বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

    শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় পরিবেশিত হয় একুশের চেতনায় অনুপ্রাণিত কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর দলীয় নেতৃবৃন্দ ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তিনি আবারও শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান।

    এদিন বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক পদধারী ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, পেশাজীবী সংগঠন এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারাও ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। শিক্ষাঙ্গনের প্রতিনিধিরা, বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর প্রশাসন ও ছাত্রসংগঠনগুলোও শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।

    একুশে ফেব্রুয়ারি ঘিরে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকা বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়। শহীদ বেদি ও সংলগ্ন পথে আলপনায় ফুটে ওঠে ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি; দেয়ালে স্থান পায় কবি-লেখকদের অনুপ্রেরণামূলক উক্তি। নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিসিটিভি ও পর্যবেক্ষণ টাওয়ার স্থাপন করা হয় এবং সন্ধ্যা থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নির্ধারিত রুটম্যাপ কার্যকর থাকে।

    ভাষার অধিকার রক্ষায় জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে এই শ্রদ্ধা নিবেদন নতুন প্রজন্মকে একুশের চেতনায় উজ্জীবিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

  • রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন: একযোগে ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ শুরু

    রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন: একযোগে ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ শুরু

    এবিএনএ: রাত পোহালেই বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি একযোগে ২৯৯টি আসনে সকাল ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে সাধারণ সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে ভোটাররা সংবিধান সংস্কার ও নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার পক্ষে বা বিপক্ষে ভোট দেবেন। শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে স্থগিত রয়েছে।

    ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে এটি প্রথম সাধারণ নির্বাচন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে গঠিত শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা হালনাগাদ, সীমানা নির্ধারণ ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। মনোনয়নপত্র দাখিল শেষ হয় ৫ জানুয়ারি, বাছাই শেষ হয় ৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় ছিল, পরে জোটের প্রার্থীদের জন্য কিছু ব্যতিক্রম অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৩ জন ভোটার ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে ৫০টি রাজনৈতিক দল এবং ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী, যার মধ্যে ১ হাজার ৭৫৫ জন দলীয় ও ২৭৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। আসনভিত্তিক হিসেবে ঢাকা-১২ আসনে সর্বোচ্চ ১৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, পিরোজপুর-১ আসনে সর্বনিম্ন ২ জন। প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বিএনপি ২৯১ জন প্রার্থী দিয়েছে, ১১ দলীয় জোট ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ যথাক্রমে ২৫৮ জন প্রার্থী নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

    এই প্রথম বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করছে না। ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী মানবতাবিরোধী ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের কারণে দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত।

    নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিটিভি ও বেতারে সব দলের শীর্ষ নেতাদের নির্বাচনী ভাষণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হয়েছে ১০ ফেব্রুয়ারি, মিছিল ও জনসভা বন্ধ। ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটের জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে।

    প্রবাসী ভোটাররা ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে প্রথমবার ভোট দিতে পারছেন। ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি ভোটার পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধিত। আধুনিক প্রযুক্তি যেমন ই-কেওয়াইসি ও ফেসিয়াল ভেরিফিকেশন ব্যবহার করে জাল ভোট রোধ করা হয়েছে।

    সরাসরি ভোটে অংশগ্রহণের জন্য ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ৪২ হাজার ৭৭৯ প্রিসাইডিং অফিসার, ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৯৬৪ পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া পোস্টাল ভোটের জন্য ১৫ হাজার কর্মকর্তা নিয়োজিত।

    নির্বাচন কমিশন ২ হাজার ৯৮ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে, ভোট ও সংক্ষিপ্ত বিচার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য। প্রতি উপজেলা ও থানায় অন্তত দুই জন করে মোট ১ হাজার ৪৭ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে থাকবেন। এছাড়া ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্টের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন।

    ৪২ হাজার ৭৭৯ কেন্দ্রের মধ্যে ৪০% ঝুঁকিপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। বিশেষ করে ঢাকার ১৫টি আসন ঝুঁকিপূর্ণ। নিরাপত্তার জন্য বাড়তি পুলিশ মোতায়েন, ড্রোন, সিসি ক্যামেরা ও বডিওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি করা হচ্ছে।

    এবছর সর্বোচ্চ ৯ লাখ ৫৮ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী মোতায়েন, যার মধ্যে সেনা, নৌসদস্য, বিমানবাহিনী, পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও র‍্যাব সদস্য অন্তর্ভুক্ত। ইউএভি, ড্রোন ও বডিওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে রিয়েল-টাইম নজরদারি করা হবে।

    দেশি ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ভোট পর্যবেক্ষণে দায়িত্ব পালন করছেন। মোট ৮১টি দেশি সংস্থা ও ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন দেশি পর্যবেক্ষক এবং ৩৯৪ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও ১৯৭ বিদেশি সাংবাদিক অংশগ্রহণ করছেন।

    নির্বাচনকে ঘিরে যানবাহনের ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ভোটের সমস্ত সরঞ্জাম কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে গেছে এবং ভোট কর্মকর্তারা অবস্থান গ্রহণ করেছেন। দীর্ঘ ১৮ মাসের সংস্কার ও প্রস্তুতির পর দেশজুড়ে ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য অপেক্ষা করছেন। কালকের ভোটগ্রহণ নির্ধারণ করবে একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।

  • ২১ বছর পর চট্টগ্রামে তারেক রহমান, পলোগ্রাউন্ডের সমাবেশ ঘিরে কঠোর বিধিনিষেধ সিএমপির

    ২১ বছর পর চট্টগ্রামে তারেক রহমান, পলোগ্রাউন্ডের সমাবেশ ঘিরে কঠোর বিধিনিষেধ সিএমপির

    এবিএনএ: দীর্ঘ বিরতির পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চট্টগ্রাম আগমনকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। জনশৃঙ্খলা ও সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে আগামী ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

    শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজের স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই সময়ে নগর এলাকায় অস্ত্রশস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য, ইট-পাথর বহন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। একইসঙ্গে কোনো ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী প্রতীক, ব্যানার বা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনও করা যাবে না।

    পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৮-এর ২৯ ধারার আওতায় এসব নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় ড্রোন নিবন্ধন ও উড্ডয়ন নীতিমালা-২০২০ অনুসারে অননুমোদিত ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

    গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নির্ধারিত আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    উল্লেখ্য, আগামী ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে বিএনপির নির্বাচনী মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি একদিন আগেই চট্টগ্রামে পৌঁছাবেন।

    সবশেষ ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সফরে এসে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন তারেক রহমান। দীর্ঘ ২১ বছর পর তার এই আগমনকে ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও প্রস্তুতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

  • খুনিদের ধরতে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিল ইনকিলাব মঞ্চ, শাহবাগে আবারও কর্মসূচি

    খুনিদের ধরতে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিল ইনকিলাব মঞ্চ, শাহবাগে আবারও কর্মসূচি

    এবিএনএ: শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। একই সঙ্গে হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে রাষ্ট্র কী পদক্ষেপ নিয়েছে, সে বিষয়ে জনগণের সামনে স্বচ্ছ জবাবদিহির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

    শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের এ আল্টিমেটাম ঘোষণা করেন। এর আগে দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি বলেন, হত্যার সঙ্গে জড়িত প্রত্যক্ষ ঘাতক থেকে শুরু করে পরিকল্পনাকারী ও সহায়তাকারী—সবার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

    তিনি জানান, আগামী রোববার বিকেল সাড়ে ৫টায় শাহবাগে আবারও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। একইসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও সহকারী উপদেষ্টাকে জনগণের সামনে এসে জবাবদিহি করতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা না হলে তাদের পদত্যাগ দাবি করা হবে।

    আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, “এটি কোনো একক ব্যক্তির কাজ নয়। এর পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয়। আমরা কাউকে অন্ধভাবে দোষারোপ করছি না, আবার কাউকে সন্দেহের ঊর্ধ্বেও রাখছি না।”

    তিনি অভিযোগ করেন, ওসমান হাদির রাজনৈতিক সংগ্রাম কেবল একটি দলের জন্য নয়, বরং বিভিন্ন মহলের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছিল। তাই এই হত্যাকাণ্ডকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

    তিনি আরও বলেন, হত্যার ১৭২ ঘণ্টা পার হলেও রাষ্ট্র এখনো জানাতে পারেনি—খুনিরা কোথায়। “ওসমান হাদির রক্তের বিনিময়ে আমরা ঘোষণা করছি—খুনিদের সঙ্গে কোনো আপস নেই। যারা গণমাধ্যমে বা টকশোতে এই হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করবে, জনগণ তাদের প্রতিহত করবে।”

    নির্বাচন সামনে রেখে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, নির্বাচন বানচাল করে একটি বিশেষ রাজনৈতিক শক্তিকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করতেই এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    বিক্ষোভ চলাকালে জনগণকে শান্ত থাকার এবং ভাঙচুরে না জড়ানোর আহ্বান জানান ইনকিলাব মঞ্চের এই নেতা।

    এদিকে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শাহবাগ এলাকায় নেয়া হয় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ, এপিবিএন ও বিজিবির বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। প্রস্তুত রাখা হয় জলকামান ও এপিসি। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল থেকে মিন্টো রোডমুখী সড়ক সাময়িকভাবে ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ রাখা হয়।

    এর আগে শনিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা শেষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে দাফন করা হয়। জানাজা ও দাফনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ৩৪ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে বিশ্ব ইজতেমা, লাখো মুসল্লির নিরাপত্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া নির্দেশ

    ৩৪ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে বিশ্ব ইজতেমা, লাখো মুসল্লির নিরাপত্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া নির্দেশ

    এবিএনএ: দীর্ঘ ৩৪ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে আবারও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা। নতুন বছরের শুরুতেই হুগলি জেলার তাজপুর থানার অন্তর্গত দাদপুরের পুইনান এলাকায় বসবে এই আন্তর্জাতিক ধর্মীয় মহাসমাবেশ। আগামী ২ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ৫ জানুয়ারি আখরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা।

    আয়োজকদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, চার দিনব্যাপী এই ইজতেমায় দেশ-বিদেশ মিলিয়ে প্রায় ২০ লাখ মুসল্লির সমাগম হতে পারে। নামাজ আদায়, ইসলামী বয়ান শোনা এবং শান্তি ও কল্যাণ কামনায় একত্রিত হবেন মুসল্লিরা।

    বিশাল এই জনসমাবেশ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সোমবার নবান্নে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী, বিশিষ্ট ইমাম, পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, ইজতেমা চলাকালীন রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। হুগলি জেলা প্রশাসনকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    প্রায় ২০ লাখ মুসল্লির জন্য থাকা, খাবার, বিশুদ্ধ পানি, বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা গুজব ছড়ানো ঠেকাতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া খবর ও উসকানিমূলক তথ্য ছড়ানো রোধে রাজ্য পুলিশের সাইবার সেলকে সর্বদা সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    উল্লেখ্য, সর্বশেষ ১৯৯১ সালে পশ্চিমবঙ্গে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তিন দশকেরও বেশি সময় পর ২০২৬ সালে আবার এই বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ আয়োজনকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে বাড়তি প্রশাসনিক সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।

  • রায়কে ঘিরে উত্তেজনা: ট্রাইব্যুনাল এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা, সেনা মোতায়েনের অনুরোধ সুপ্রিমকোর্টের

    রায়কে ঘিরে উত্তেজনা: ট্রাইব্যুনাল এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা, সেনা মোতায়েনের অনুরোধ সুপ্রিমকোর্টের

    এবিএনএ: মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি আলোচিত মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ আশেপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনা মোতায়েনের অনুরোধ করেছে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে বিচারাধীন এই মামলাটিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা থাকায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    রবিবার সুপ্রিমকোর্টের জনসংযোগ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, রেজিস্ট্রার জেনারেলের অফিস থেকে সেনা সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এতে ট্রাইব্যুনাল এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতে পর্যাপ্ত সেনা সদস্য নিয়োগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    এর আগে গত বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার তারিখ প্রকাশ পাওয়ার পরও একই ধরনের অনুরোধ পাঠানো হয়েছিল। সেই অনুযায়ী ওইদিন সুপ্রিমকোর্ট ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এলাকায় সেনা মোতায়েন করা হয় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

    দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি ও মামলাটির সংবেদনশীলতার কারণে আদালতপাড়ায় যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন। এ কারণে ঢাকাসহ চারটি জেলায় অতিরিক্ত বিজিবি সদস্যও মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে।

    উল্লেখ্য, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার প্রধান আসামি শেখ হাসিনার পাশাপাশি আরও দুজন আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। মামুন এ মামলায় ‘অ্যাপ্রুভার’ হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

  • অশ্রুসিক্ত বিদায়ে প্রতিমা বিসর্জন, সমাপ্ত হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

    অশ্রুসিক্ত বিদায়ে প্রতিমা বিসর্জন, সমাপ্ত হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

    এবিএনএ: টানা পাঁচ দিনের পূজা-অর্চনার আনুষ্ঠানিকতা শেষে অশ্রুসিক্ত বিদায়ে রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) বিকেলে হাজারো ভক্তের উপস্থিতিতে শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রতিমা আনা হয় নদীর তীরে, পরে নৌকাযোগে নদীর মাঝখানে নিয়ে বিসর্জন সম্পন্ন করা হয়।

    শোভাযাত্রায় ছিল ঢাক-ঢোল, কাঁসর-ঘণ্টার তালে ভক্তদের আবেগঘন পরিবেশ। কারও চোখ ভিজেছে অশ্রুতে, কেউ দেবীর বন্দনায় মগ্ন ছিলেন। আবার কেউ নদীর জল ছিটিয়ে নিয়েছেন নিজের ও পরিবারের মঙ্গল কামনায়।

    পুরান ঢাকার নবনীতা বর্মণ জানান, “এই কয়েকটা দিন যেন স্বপ্নের মতো কেটেছে। মা দুর্গা ছিলেন আমাদের মাঝে, কিন্তু আজ তার বিদায়ে মনটা ভরে উঠছে কষ্টে।”

    ধানমন্ডি পূজা উদযাপন কমিটির সহ-সভাপতি বিশ্বজিৎ রায় বলেন, “মা দুর্গা এসেছিলেন অশুভ শক্তির বিনাশের জন্য। আমরা প্রার্থনা করেছি যেন আগামীতে দেশ শান্তি ও সৌহার্দ্যে ভরে ওঠে।”

    দশমীর সকালে নারীরা দুর্গার পায়ে সিঁদুর নিবেদন করেন ও একে অপরের গায়ে সিঁদুর মেখে জীবনের সমৃদ্ধি কামনা করেন।

    বিসর্জন ঘিরে ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রায় ২,৪০০ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি ওয়াচ টাওয়ার, সোয়াট, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ টিম, নৌপুলিশ, ডুবুরি দল, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও সেনা সদস্যরা টহলে ছিলেন।

    সনাতন বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রতি শরতে দেবী দুর্গা কন্যারূপে পিতৃগৃহে আসেন এবং পক্ষকাল পর ফিরে যান কৈলাসে। বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বিদায় নিলেও ভক্তদের অন্তরে রয়ে যায় আগামী বছরে তার পুনরাগমনের প্রতীক্ষা।

  • ডাকসু নির্বাচন ঘিরে রাজধানীতে কড়া নিরাপত্তা, নজরদারিতে পুলিশ-র‍্যাব-বিজিবি

    ডাকসু নির্বাচন ঘিরে রাজধানীতে কড়া নিরাপত্তা, নজরদারিতে পুলিশ-র‍্যাব-বিজিবি

    এবিএনএ:  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে রাজধানীতে নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সোমবার বিকেলে টিএসসি এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী এ তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, আজ রাত ৮টা থেকে ১১ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে লাইসেন্সধারী অস্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে। বর্তমানে ১ হাজার ৭৭১ জন পুলিশ মোতায়েন রয়েছে, আর ভোটের দিন সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ২ হাজার ৯৬ জনে উন্নীত করা হবে। পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাব ও বিজিবিও দায়িত্ব পালন করবে।

    ডিএমপি কমিশনার আরও জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৮টি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। মোবাইল টিম, বিশেষায়িত টিম, সোয়াত টিম এবং সাদা পোশাকে ডিবির সদস্যরা সক্রিয় থাকবেন। পুরো ক্যাম্পাস সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের আওতায় থাকবে।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো পরিস্থিতিতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। অনাকাঙ্ক্ষিত কেউ ধরা পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে।

    এছাড়া যারা সাইবার আক্রমণের চেষ্টা করছে, তাদের শনাক্ত করার কাজও চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন ডিএমপি কমিশনার। তার মতে, সব মিলিয়ে এবারের ডাকসু নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

  • দেশজুড়ে ৩৩ হাজার মণ্ডপে দুর্গাপূজা, নিরাপত্তায় কড়া ব্যবস্থা

    দেশজুড়ে ৩৩ হাজার মণ্ডপে দুর্গাপূজা, নিরাপত্তায় কড়া ব্যবস্থা

    এবিএনএ:  সারা দেশে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের জন্য প্রায় ৩৩ হাজার মণ্ডপে আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিষয়ক এক বৈঠক শেষে তিনি এ তথ্য জানান।

    উপদেষ্টা জানান, এ বছর সনাতন ধর্মাবলম্বীরা কোনো ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেননি। গতবার যেমন শান্তিপূর্ণভাবে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, এবারের প্রত্যাশাও একই রকম। তবে দুষ্কৃতকারীরা সুযোগ নিতে পারে—তাই সবাইকে একসঙ্গে থেকে তা প্রতিহত করার আহ্বান জানান তিনি।

    ঢাকা মহানগরে ২৫৫টি এবং দেশের বিভিন্ন মহানগরে প্রায় ১ হাজার ২৭০টি মণ্ডপে পূজা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তালিকা আপডেটের কারণে এ সংখ্যা কিছুটা বাড়তে পারে। তিনি বলেন, তালিকার বাইরে মণ্ডপ হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সমস্যা দেখা দেয়, তাই প্রতিটি মণ্ডপের তথ্য প্রশাসনের কাছে দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

    নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিসর্জন কার্যক্রম সন্ধ্যা ৭টার মধ্যেই শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পূজাকে ঘিরে কোনো বড় মেলা বসবে না, তবে অনুমতি নিয়ে ছোটখাটো দোকান বসতে পারবে।

    উপদেষ্টা আরও জানান, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আনসার, পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি মোতায়েন থাকবে। সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবি মূল দায়িত্ব পালন করবে। আনসার সদস্যরা থাকবেন সর্বত্র, যার সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় সাড়ে তিন লাখ।

    তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সবার সহযোগিতায় এবারের দুর্গাপূজা হবে আরও শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল।