Tag: নিখোঁজ

  • যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা: পরিবারে শোকের ছায়া

    যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা: পরিবারে শোকের ছায়া

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিতে গিয়ে প্রাণ হারালেন দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। অভিযোগ উঠেছে, পরিকল্পিতভাবে তাদের হত্যা করে মরদেহ গুমের চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে লিমনের রুমমেট, মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ইতোমধ্যে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও এখনো বৃষ্টির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

    পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পাওয়া বিপুল রক্তের চিহ্ন দেখে তদন্তকারীরা ধারণা করছেন—দুজনকেই হত্যা করা হয়েছে। এ কারণে বৃষ্টির পরিবারের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে সম্ভাব্য আলামতের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়।

    রাজধানীর মিরপুরে বৃষ্টির বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মাত্র এক বছর আগে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি। পরিবারের স্বপ্ন ছিল মেয়ের সফলতা দেখার; কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের ভিড় থাকলেও কেউ এই মর্মান্তিক খবর মেনে নিতে পারছেন না।

    জানা গেছে, গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন বৃষ্টি ও লিমন। তদন্তে নেমে পুলিশ লিমনের রুমমেটকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় ১০ দিন পর হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু এলাকার কাছ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে এখনও বৃষ্টির কোনো হদিস মেলেনি।

    বৃষ্টির স্বজনরা জানান, ক্রাইমসিনে পাওয়া আলামত থেকে ধারণা করা হচ্ছে ঘটনাস্থলে তিনিও উপস্থিত ছিলেন। তাই ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।

    অন্যদিকে লিমনের গ্রামের বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার লালডোবা গ্রামে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। তার মৃত্যুতে আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী স্তব্ধ। হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

    জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি দুজনই ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন। লিমন ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে গবেষণা করছিলেন। অন্যদিকে বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যয়নরত ছিলেন। ১৬ এপ্রিল তাদের শেষবার দেখা যাওয়ার পর থেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন তারা, যা শেষ পর্যন্ত মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়।

  • সদরঘাটে ভয়াবহ লঞ্চ দুর্ঘটনা—সংঘর্ষে প্রাণ গেল যুবকের, নিখোঁজ আরও ২

    সদরঘাটে ভয়াবহ লঞ্চ দুর্ঘটনা—সংঘর্ষে প্রাণ গেল যুবকের, নিখোঁজ আরও ২

  • ইন্দোনেশিয়ার সাগরে ভয়াবহ ফেরিডুবি, ৪৩ জন এখনও নিখোঁজ

    ইন্দোনেশিয়ার সাগরে ভয়াবহ ফেরিডুবি, ৪৩ জন এখনও নিখোঁজ

    এবিএনএ: ইন্দোনেশিয়ার বালির উপকূলে ঘটে গেল ভয়াবহ এক নৌদুর্ঘটনা। বুধবার রাতে ‘কেএমপি তুনু প্রতমা জয়া’ নামের একটি ফেরি পূর্ব জাভার কেতাপাং বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে বালি দ্বীপের গিলিমানুক বন্দরের দিকে। কিন্তু রওনা দেওয়ার মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই ফেরিটি সাগরে ডুবে যায় বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা (BASARNAS)।

    ফেরিটিতে ছিল ৫৩ জন যাত্রী, ১২ জন ক্রু এবং ২২টি যানবাহন। যানবাহনের মধ্যে ১৪টি ছিল বড় আকারের ট্রাক। দুর্ঘটনার পরপরই শুরু হয় উদ্ধার অভিযান।

    এখন পর্যন্ত পাওয়া খবরে জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের অনেকেই ঢেউয়ের মধ্যে অনেকক্ষণ ধরে ভেসে থাকায় শারীরিকভাবে দুর্বল ও অচেতন হয়ে পড়েন।

    বানিউয়াঙ্গি জেলার পুলিশপ্রধান রামা সামতামা পুত্রা জানান, “২০ জন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে এখনও ৪৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চলছে।”

    জাতীয় উদ্ধার সংস্থা জানিয়েছে, সমুদ্রপথে ফেরি চলাচলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি, নিখোঁজদের সন্ধানে নৌ ও আকাশপথে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।

    এই দুর্ঘটনা আবারও ইন্দোনেশিয়ার সামুদ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিকূল আবহাওয়া ও অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইয়ের কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তদন্ত শেষে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • মেঘনার উত্তাল ঢেউয়ে ট্রলার ডুবি, দুই পুলিশসহ নিখোঁজ ৭ যাত্রী

    মেঘনার উত্তাল ঢেউয়ে ট্রলার ডুবি, দুই পুলিশসহ নিখোঁজ ৭ যাত্রী

    এবিএনএ 

    নোয়াখালীর হাতিয়ার মেঘনা নদীতে ভয়াবহ এক ট্রলার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন অন্তত ৭ জন যাত্রী। শনিবার বিকালে করিম বাজার সংলগ্ন ডুবারচর এলাকায় ঝড়ো বাতাস ও প্রবল ঢেউয়ের কারণে ৩৯ জন যাত্রী বহনকারী একটি ট্রলার ডুবে যায়। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন দুইজন পুলিশ সদস্যও।

    হাতিয়া থানার ওসি এ কে এম আজমল হুদা জানান, “ভাসানচর থেকে একটি ট্রলার দুপুর ২টার দিকে আলী বাজার ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন রোহিঙ্গা রোগী, চার পুলিশ সদস্য, আনসার, ও বিভিন্ন এনজিওর কর্মীরা। ট্রলারটি মেঘনার উত্তাল পানিতে পড়লে ৭-৮ কিলোমিটার যেতেই সেটি ডুবে যায়।”

    ঘটনার পরপরই নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডকে অবহিত করা হয় এবং তারা দ্রুত উদ্ধার কাজে যুক্ত হয়। এখন পর্যন্ত ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।

    ভাসানচর থানার ওসি কুতুব উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়। নিখোঁজদের উদ্ধারে সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, “এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া গেছে ৩২ জন যাত্রী জীবিত রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে দুজন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। উদ্ধার কার্যক্রম চলছে।”

    এদিকে এলাকাবাসী ও স্বজনদের মাঝে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। দুর্ঘটনার সময় নদী ছিল অতি উত্তাল এবং হঠাৎ বয়ে যাওয়া ঝড় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। প্রশাসন জানিয়েছে, প্রকৃত কারণ নির্ধারণ ও ভবিষ্যৎ দুর্ঘটনা রোধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।