Tag: নিকোলাস মাদুরো

  • ভালোবাসা দিবসে ব্যঙ্গের তীর: মাদুরোকে ‘শুভেচ্ছা’ জানিয়ে কার্ড ছড়াল হোয়াইট হাউস

    ভালোবাসা দিবসে ব্যঙ্গের তীর: মাদুরোকে ‘শুভেচ্ছা’ জানিয়ে কার্ড ছড়াল হোয়াইট হাউস

    এবিএনএ: ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে ডিজিটাল কার্ড প্রকাশ করে নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে হোয়াইট হাউস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত কার্ডে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো–কে উদ্দেশ্য করে রসিকতার সুরে লেখা হয়েছে, “আপনি আমার হৃদয় হরণ করেছেন।” একটি কার্ডে হাতকড়া পরা ও চোখ ঢাকা অবস্থার একটি ছবি ব্যবহার করা হয়, যার ক্যাপশনে ছিল— “শুধু আপনার জন্য তৈরি করা।”

    এই পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে এমন ব্যঙ্গাত্মক বার্তাকে কূটনৈতিক সৌজন্যবোধের পরিপন্থী বলে সমালোচনা করেছেন অনেকে। বিশেষ করে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর সময় ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে। তার উত্তরসূরি জো বাইডেন–এর আমলেও সেই টানাপোড়েন অব্যাহত ছিল।

    ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে হোয়াইট হাউস আরও কয়েকটি কার্ড প্রকাশ করে, যেখানে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইস্যু ও বিতর্কিত ঘটনাকে ব্যঙ্গের মোড়কে উপস্থাপন করা হয়। কিছু কার্ডে প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রশংসা যেমন উঠে এসেছে, তেমনি অভিবাসন ইস্যু ও আন্তর্জাতিক প্রসঙ্গ নিয়েও তির্যক মন্তব্য ছিল।

    এ ধরনের পোস্টকে সমর্থকরা রাজনৈতিক রসবোধ হিসেবে দেখলেও সমালোচকদের মতে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে এমন ব্যঙ্গাত্মক বার্তা আন্তর্জাতিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে।

  • মাদুরো গ্রেপ্তারের খবরে তেলবাজারে ধস, বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকলেন সোনার দিকে

    মাদুরো গ্রেপ্তারের খবরে তেলবাজারে ধস, বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকলেন সোনার দিকে

    এবিএনএ: ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে স্পষ্ট পতন দেখা গেছে। সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দর নিম্নমুখী হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

    খবরে বলা হয়, গত শনিবার গভীর রাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী। পরে তাকে নিউইয়র্কে নেওয়া হয়। এ ঘটনার পরপরই তেলবাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কা দ্রুত কেটে যায়।

    জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি সাময়িকভাবে ব্যাহত হলেও বিশ্বের অন্যান্য উৎপাদক দেশগুলো থেকে সরবরাহ বাড়িয়ে সেই ঘাটতি সহজেই সামাল দেওয়া সম্ভব। ফলে বাজারে আতঙ্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়নি এবং তেলের দাম কমতির দিকে গেছে।

    তবে তেলের দরপতনের বিপরীতে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে সোনা ও রুপাসহ মূল্যবান ধাতুর দাম। বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগ হিসেবে এসব ধাতুর দিকে ঝুঁকছেন। নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার চাহিদা বাড়ায় এর দাম একদিনেই উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

    আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪০৮ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে রুপার দামও প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

  • মাদুরো একা নন: সাদ্দাম থেকে নোরিগা—যেসব রাষ্ট্রপ্রধানকে গ্রেপ্তার করেছিল যুক্তরাষ্ট্র

    মাদুরো একা নন: সাদ্দাম থেকে নোরিগা—যেসব রাষ্ট্রপ্রধানকে গ্রেপ্তার করেছিল যুক্তরাষ্ট্র

    এবিএনএ: ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের ঘটনায় বিশ্ব রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন কোনো নজির নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে সামরিক অভিযান চালিয়ে ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপ্রধানদের আটক করেছে ওয়াশিংটন।

    ১৯৮৯ সালে লাতিন আমেরিকার দেশ পানামায় বড় ধরনের সামরিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল নোরিগাকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। মার্কিনিদের নিরাপত্তা ও মাদক পাচারের অভিযোগ তুলে এই অভিযান চালানো হয়েছিল। নোরিগা একসময় যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ হলেও পরে ওয়াশিংটনবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

    ম্যানুয়েল নোরিগা দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে বন্দি ছিলেন। পরে তাকে ইউরোপ হয়ে ফের পানামায় পাঠানো হয়। শেষ পর্যন্ত নিজ দেশেই কারাগারে তার মৃত্যু হয়।

    এরপর ২০০৩ সালে মধ্যপ্রাচ্যে ইতিহাসের আরেক অধ্যায় রচিত হয়। ইরাক আক্রমণের নয় মাস পর মার্কিন সেনারা দেশটির প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে আটক করে। গণবিধ্বংসী অস্ত্র ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সহায়তার অভিযোগ তুলে ইরাকে সামরিক অভিযান চালানো হলেও এসব দাবির পক্ষে স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

    তিকরিতের একটি গোপন আশ্রয়স্থল থেকে সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ইরাকের আদালতে বিচার শেষে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং ২০০৬ সালে ফাঁসি কার্যকর হয়।

    বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনা প্রমাণ করে—যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশলগত স্বার্থে প্রয়োজনে সরাসরি সামরিক পথে রাষ্ট্রপ্রধানদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করে না। মাদুরোর আটক সেই ধারাবাহিকতারই নতুন সংযোজন।

  • ভেনেজুয়েলায় নজিরবিহীন অভিযান: প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের ডেল্টা ফোর্স

    ভেনেজুয়েলায় নজিরবিহীন অভিযান: প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের ডেল্টা ফোর্স

    এবিএনএ: লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে ভয়াবহ চমক তৈরি করেছে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান। দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে ভেনেজুয়েলার বাইরে নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী ডেল্টা ফোর্স। শনিবার (৩ জানুয়ারি) মার্কিন কর্মকর্তারা এই তথ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

    ডেল্টা ফোর্স যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একটি উচ্চমাত্রার সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট, যা সাধারণত গোপন ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে ব্যবহৃত হয়। জানা গেছে, একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক হামলার পর প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।

    এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে অভিযানের বিষয়টি প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে একটি বড় ধরনের সফল সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং তাতে মাদুরো ও তার স্ত্রী আটক হয়েছেন।

    ট্রাম্প আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বয়ে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানের বিস্তারিত পরবর্তীতে জানানো হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

    এদিকে এই হামলাকে ‘চরম সামরিক আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভেনেজুয়েলা সরকার। এক বিবৃতিতে দেশটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে এবং আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করেছে। বিষয়টি জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলের কাছে উত্থাপন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

    মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ তুলে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে আগেই যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। সমুদ্রপথে অভিযানের পর সরাসরি ভেনেজুয়েলার ভেতরে এই হামলা চালানো হয়।

    এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক রাজনীতিতে পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

  • ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলার গুজব উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প, জানালেন নেই কোনো পরিকল্পনা

    ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলার গুজব উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প, জানালেন নেই কোনো পরিকল্পনা

    এবিএনএ:  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার কোনো পরিকল্পনা নেই। সম্প্রতি মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলার উপকূলে মার্কিন সেনা মোতায়েনের খবর ছড়িয়ে পড়লেও, ট্রাম্প সেই গুঞ্জন সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন।

    হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি জানান, মাদক পাচার রোধে যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের কৌশলগত ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। তার ভাষায়, “আমরা দেশের মাদক সন্ত্রাস বন্ধ করতে মার্কিন শক্তির প্রতিটি উপাদান ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত।”

    গত সপ্তাহে ট্রাম্প এক বক্তব্যে বলেছিলেন, “যারা যুক্তরাষ্ট্রে মাদক নিয়ে আসে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এই মন্তব্যের পর ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলার সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি হয়।

    তবে ট্রাম্প পরে স্পষ্ট করেন, “না, আমরা কোনো সামরিক পদক্ষেপের কথা ভাবছি না,”— এমন উত্তরই দেন তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে, যখন তিনি এয়ারফোর্স ওয়ানে যাত্রা করছিলেন।

    ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অভিযোগ করে আসছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র তার সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে এবং দেশটির সার্বভৌমত্বের জন্য এটি বড় হুমকি।

    অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লেখেন, “মিয়ামি হেরাল্ডে প্রকাশিত তথাকথিত সূত্রভিত্তিক সংবাদ সম্পূর্ণ ভুয়া।”

    এদিকে, রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা জানিয়েছেন, মাদুরোর নেতৃত্বে ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাশিয়া দৃঢ়ভাবে পাশে থাকবে। তিনি বলেন, “আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়া সব ধরনের সহযোগিতায় প্রস্তুত।”