Tag: নাহিদ ইসলাম

  • বিএনপির চাপেই কি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত? নিরপেক্ষতা হারানোর অভিযোগ এনসিপির

    বিএনপির চাপেই কি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত? নিরপেক্ষতা হারানোর অভিযোগ এনসিপির

    এবিএনএ: সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মোহাম্মদ নাহিদ ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, বিএনপি ও তাদের সহযোগী সংগঠনের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে নির্বাচন কমিশন ক্রমেই একপেশে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা অব্যাহত থাকলে আসন্ন নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা হারাবে।

    রোববার (১৯ জানুয়ারি) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। এ সময় এনসিপির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, কয়েক দিনের রাজনৈতিক ঘটনার প্রভাবে নির্বাচন কমিশন ও মাঠ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত না হলে এর দায় শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার ও প্রধান উপদেষ্টাকেই বহন করতে হবে। সরকার সেরা নির্বাচন উপহার দেওয়ার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে সেই পরিবেশ এখনও দৃশ্যমান নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    তিনি আরও বলেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ঋণখেলাপি প্রার্থীদের বিষয়ে সংবিধান ও আইন স্পষ্ট থাকলেও নির্বাচন কমিশন ভুল ব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়ে তাদের নির্বাচনে সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা কমিশনের এখতিয়ার বহির্ভূত। সংবিধানের ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র সুপ্রিম কোর্টের—নির্বাচন কমিশনের নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    এনসিপির আহ্বায়ক অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের সামনে মব তৈরি, আগাম প্রভাব বিস্তার এবং রাজনৈতিক চাপের কারণে কমিশনের আচরণ পক্ষপাতমূলক হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ না হলে নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট হবে।

    গণভোটের পক্ষে প্রচারণাকে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, সেখানে কোনো দলীয় প্রতীক না থাকলেও নির্বাচন কমিশন তা বাধাগ্রস্ত করছে। অথচ বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে পোস্টার, ফেস্টুন, শোকসভা ও ত্রাণ বিতরণের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা চললেও সেগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

    সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেন, আগের বিতর্কিত নির্বাচনের মতো এবারও দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে গভীর শঙ্কা তৈরি করেছে। তিনি এনসিপির প্রার্থীদের শো-কজ নোটিশকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন এবং তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

    এনসিপির নেতারা বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট হলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তারা স্পষ্ট করে জানান, কোনো পরিকল্পিত বা ইঞ্জিনিয়ারড নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। দেশের মানুষ ২০০৮ সালের মতো নয়, বরং ১৯৯১ সালের মতো অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা করে।

  • জামায়াতের সঙ্গে জোট মানে নীতির বিসর্জন: নাহিদ ইসলামকে এনসিপির ৩০ নেতার কঠোর বার্তা

    জামায়াতের সঙ্গে জোট মানে নীতির বিসর্জন: নাহিদ ইসলামকে এনসিপির ৩০ নেতার কঠোর বার্তা

    এবিএনএ: জামায়াতে ইসলামীকে অন্তর্ভুক্ত করে ৮ দলীয় রাজনৈতিক জোট কিংবা আসন সমঝোতার সম্ভাবনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির ৩০ জন নেতা। এ বিষয়ে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বরাবর একটি নীতিগত স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন তারা।

    শনিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন স্মারকলিপিতে প্রথম স্বাক্ষরকারী এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও মিডিয়া সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন। তিনি জানান, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দায়বদ্ধতা, দলের ঘোষিত আদর্শ ও গণতান্ত্রিক নৈতিকতার আলোকে’ সম্ভাব্য জোটের বিরুদ্ধে এই অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

    স্মারকলিপিতে নেতারা উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামীসহ ৮ দলীয় জোটের সঙ্গে রাজনৈতিক বোঝাপড়ার আলোচনা দলের নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাদের মতে, কৌশলগত সুবিধার জন্য আদর্শ বিসর্জন দেওয়া হলে এনসিপির রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

    চিঠিতে বলা হয়, গত এক বছরে জামায়াত ও তাদের ছাত্র সংগঠনের বিভাজনমূলক রাজনৈতিক তৎপরতা, এনসিপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার, নারী নেত্রীদের চরিত্রহননের চেষ্টা এবং ধর্মভিত্তিক সামাজিক ফ্যাসিবাদের আশঙ্কা দেশের ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বহন করছে।

    এছাড়া ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালে জামায়াতের ভূমিকা, মানবতাবিরোধী অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রশ্নে তাদের অবস্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চেতনা ও এনসিপির মূল দর্শনের সঙ্গে মৌলিকভাবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

    নেতারা আরও বলেন, এনসিপি একটি গণঅভ্যুত্থান-উদ্ভূত রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে মানবাধিকার, ধর্মীয় সহনশীলতা, নারী-পুরুষের সমতা, সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও নাগরিক অধিকার রক্ষার দায় বহন করে। জামায়াতের সঙ্গে জোট হলে এই নৈতিক অবস্থান দুর্বল হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে দলের সমর্থকভিত্তি ক্ষয় হবে।

    চিঠিতে নাহিদ ইসলামকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়—এর আগে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা, সংস্কারভিত্তিক রাজনীতির প্রতিশ্রুতি এবং জামায়াতের দ্বিচারিতা নিয়ে তাঁর প্রকাশ্য অবস্থানের কথা। অল্প কয়েকটি আসনের জন্য জোটে যাওয়া জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলেও মন্তব্য করেন নেতারা।

    স্মারকলিপির শেষে তারা সম্মান বজায় রেখে অনুরোধ জানান, ভবিষ্যৎ জোটনীতি নির্ধারণে নীতিগত প্রশ্নগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে এবং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক জোটে না যাওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে।

  • জনগণের স্বপ্ন উপেক্ষিত হলে আবারও ঘটতে পারে গণঅভ্যুত্থান: সতর্ক করলেন নাহিদ ইসলাম

    জনগণের স্বপ্ন উপেক্ষিত হলে আবারও ঘটতে পারে গণঅভ্যুত্থান: সতর্ক করলেন নাহিদ ইসলাম

    এবিএনএ: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, জনগণের মৌলিক চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষা বারবার অবহেলিত হলে ভবিষ্যতে আবারও নতুন গণঅভ্যুত্থান ঘটতে পারে। তিনি জানান, বিগত সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় এমন এক পক্ষপাতদুষ্ট ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল, যেখানে ক্ষমতা ছিল লুটেরা ও মাফিয়া শ্রেণির হাতে এবং সাধারণ মানুষ বঞ্চিত ছিল তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে।

    শনিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। সম্মেলনের আয়োজক ছিল ‘দৈনিক বণিক বার্তা’।

    তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের বৈষম্যমূলক নীতি মানুষের মধ্যে অসন্তোষ, ক্ষোভ ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি করেছিল। তরুণদের নেতৃত্বে সেই প্রত্যাশা থেকে জন্ম নেয় জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান, যা ছিল বৈষম্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে একটি ন্যায্য আন্দোলন।

    বর্তমান চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সামনে দুটি বড় সংকট—কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ ও শহরাঞ্চলের মধ্যবিত্ত এবং তরুণ সমাজের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মৌলিক সেবায় ন্যায্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, নতুন রাষ্ট্রীয় বিন্যাসে নগর পরিবহন ব্যবস্থা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, তরুণদের দক্ষতা বিকাশ ও মানসম্মত কর্মসংস্থানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

    প্রবাসীদের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অংশ নিতে চান, কিন্তু ন্যায়ভিত্তিক অর্থনীতি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া তা কখনো স্থায়ী হবে না। দুর্নীতি দমন ও সুশাসন নিশ্চিত না হলে বিদেশি বিনিয়োগও আকৃষ্ট হবে না।

    তিনি আরও বলেন, সমাজে যদি ফ্যাসিবাদী মনোভাব বজায় থাকে, তাহলে কোনো সংস্কার বা উন্নয়ন স্থায়ী হবে না। পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে কার্যক্রম চলছে, এবং দেশকে অর্থনৈতিকভাবে পুনর্গঠনে আমরা সচেষ্ট থাকবো।

  • নাগরিক অধিকার ও নতুন সংবিধানের প্রতিশ্রুতি—২৪ দফা ইশতেহার ঘোষণা করলো এনসিপি

    নাগরিক অধিকার ও নতুন সংবিধানের প্রতিশ্রুতি—২৪ দফা ইশতেহার ঘোষণা করলো এনসিপি

    এবিএনএ:  বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের বার্তা দিয়ে ২৪ দফা ইশতেহার ঘোষণা করলো জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রোববার (৩ আগস্ট) বিকেলে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই ইশতেহার পাঠ করেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

    তিনি বলেন, “এক বছর আগে এই শহীদ মিনার থেকেই আমরা ফ্যাসিবাদবিরোধী এক দফা দিয়েছিলাম। সেটা ছিল কোনো একক দলের নয়, ছিল জনগণের পক্ষ থেকে—a call for democratic uprising।”

    নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা যে রাজনীতি করি, তা দায়বদ্ধতা ও মানবিক মর্যাদাভিত্তিক। আমরা এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাই যেখানে স্বৈরতন্ত্রের আর কোনো জায়গা থাকবে না।”

    তিনি আরও বলেন, “যদিও সরকারের পতন ঘটেছে, কিন্তু ফ্যাসিবাদী কাঠামোর সম্পূর্ণ বিলোপ ঘটেনি। তাই নতুন সংবিধান ও দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র গঠনের মধ্য দিয়েই আমরা সেই লক্ষ্য পূরণ করব।”

    এনসিপির ঘোষিত ২৪ দফা মূলনীতির কিছু দিক:

    ১. নতুন সংবিধান ও দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা
    ২. জুলাই অভ্যুত্থানের স্বীকৃতি ও বিচার
    ৩. গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রীয় কাঠামো পুনর্গঠন
    ৪. বিচারব্যবস্থায় সংস্কার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত
    ৫. দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং জনসেবামুখী শাসন
    ৬. জবাবদিহিমূলক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
    ৭. গ্রাম পার্লামেন্ট ও শক্তিশালী স্থানীয় সরকার
    ৮. স্বাধীন গণমাধ্যম এবং সক্রিয় নাগরিক সমাজ
    ৯. সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা
    ১০. যুগোপযোগী শিক্ষানীতি
    ১১. তথ্যপ্রযুক্তি ও উদ্ভাবন-ভিত্তিক গবেষণা
    ১২. ধর্ম ও জাতিসত্তার সম্মান
    ১৩. নারীর নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন
    ১৪. মানবমুখী অর্থনীতি ও কল্যাণ রাষ্ট্র
    ১৫. যুবকদের কর্মসংস্থান
    ১৬. বহুমুখী বাণিজ্য ও শিল্পায়ন
    ১৭. খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষিতে স্বাবলম্বিতা
    ১৮. শ্রমিক ও কৃষকের অধিকার
    ১৯. রাষ্ট্রীয় সম্পদ সঠিক ব্যবস্থাপনা
    ২০. পরিবহন, নগরায়ন ও আবাসন পরিকল্পনা
    ২১. পরিবেশ, নদী ও সমুদ্র রক্ষা
    ২২. প্রবাসী বাংলাদেশিদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা
    ২৩. বাংলাদেশকেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতি
    ২৪. আধুনিক প্রতিরক্ষা কৌশল

    ঘোষণার শেষে নাহিদ ইসলাম বলেন, “এক বছর আগে এই শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে আমরা শপথ নিয়েছিলাম—দেশকে স্বৈরশাসনের কবল থেকে মুক্ত করব। আজ আবারও সেই স্থানে দাঁড়িয়ে বলছি—আসুন, সবাই মিলে নতুন বাংলাদেশ গড়ি যেখানে সবার জন্য সাম্য, মর্যাদা ও সুবিচার থাকবে।”

  • গোপালগঞ্জ ছাড়লেন এনসিপি নেতারা, সাঁজোয়া যানে নিরাপত্তায় ঘেরা যাত্রা

    গোপালগঞ্জ ছাড়লেন এনসিপি নেতারা, সাঁজোয়া যানে নিরাপত্তায় ঘেরা যাত্রা

    এবিএনএ: গোপালগঞ্জে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে হামলার শিকার হয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা অবশেষে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যানে নিরাপদে এলাকা ত্যাগ করেছেন।

    বুধবার (১৬ জুলাই) বিকেলে সংঘটিত সহিংসতার পর এনসিপির শীর্ষ নেতারা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সেনাবাহিনীর বর্মযান (এপিসি) ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের সেখান থেকে বের করে আনা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

    ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যান থেকে নামছেন এবং পরে সেই গাড়িতেই গোপালগঞ্জ ত্যাগ করছেন।

    এ বিষয়ে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ বলেন,

    “হামলার মুখে আমাদের কেন্দ্রীয় নেতারা কাছাকাছি একটি ভবনে আশ্রয় নেন, পরে জানা যায় সেটি পুলিশ সুপারের কার্যালয়। সেখান থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় তারা এলাকা ছাড়েন।”

    একজন স্থানীয় সাংবাদিক জানান, তিনি নিজ চোখে দুটি সাঁজোয়া যান দেখেছেন, যাতে করে এনসিপির নেতাদের সরিয়ে নেওয়া হয়।

    প্রসঙ্গত, গোপালগঞ্জে এনসিপির পূর্বঘোষিত সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ এবং গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হলে, জেলা প্রশাসন গোপালগঞ্জে কারফিউ জারি করে এবং সেনা মোতায়েন করা হয়।

    এনসিপির পক্ষ থেকে বলা হয়,

    “আন্দোলনের অংশ হিসেবে পদযাত্রা কর্মসূচি চলমান থাকবে, তবে নেতৃত্বকে সুরক্ষিত রাখা ছিল জরুরি।”

  • গোপালগঞ্জের ঘটনার পর খুলনায় পৌঁছেছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা

    গোপালগঞ্জের ঘটনার পর খুলনায় পৌঁছেছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা

    এবিএনএ:  গোপালগঞ্জে এনসিপির পূর্বঘোষিত কর্মসূচিকে ঘিরে সংঘর্ষ ও উত্তেজনার পর, দলের কেন্দ্রীয় নেতারা গাড়িবহরসহ খুলনায় পৌঁছেছেন

    বুধবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের বহর খুলনা শহরে প্রবেশ করে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও তাসনিম জারা অবস্থান নিয়েছেন খুলনা সার্কিট হাউজে। অন্যদিকে, আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম একটি হোটেলে উঠেছেন বলে জানা গেছে।

    এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব মুশফিকুর সালেহীন জানান, খুলনায় অবস্থানরত কেন্দ্রীয় নেতারা রাত সাড়ে নয়টার দিকে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করতে পারেন। তবে তারা আজ রাতেই খুলনায় অবস্থান করবেন কিনা, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

    এনসিপির এই চলমান সফর ও প্রেস ব্রিফিং ঘিরে খুলনা শহরের রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়ছে তৎপরতা। গোপালগঞ্জের ঘটনার পর দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা খুলনায় উপস্থিত হওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীরাও সরব হয়ে উঠেছেন।


    👉 এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতি এবং রাতের প্রেস ব্রিফিংয়ে দলীয় অবস্থান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

  • রাজপথে লড়াই চলবে, তবে ব্লকেড তুলে নিতে আহ্বান নাহিদের

    রাজপথে লড়াই চলবে, তবে ব্লকেড তুলে নিতে আহ্বান নাহিদের

    এবিএনএ:  গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশকে ঘিরে সহিংসতার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্লকেড কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে এই কর্মসূচি থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

    বুধবার (১৬ জুলাই) বিকেলে এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে নাহিদ বলেন, “ব্লকেড সরিয়ে নিন। রাজপথের একপাশে অবস্থান করুন। লড়াই চলবে।”

    এই আহ্বান জানানোর পর পোস্টটি নিজের ওয়ালে শেয়ার করেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, যা দলীয় কর্মীদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

    এদিকে, গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশ শেষে গাড়িবহরে হামলার ঘটনার পর পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনার জেরে স্থানীয় প্রশাসন গোপালগঞ্জ শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে।

    এনসিপি দাবি করছে, সমাবেশে ফেরার পথে তাদের গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের কর্মীরা।

    নাহিদ ইসলামের এই বিবৃতিতে একদিকে যেমন রাজপথে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ঘোষণা এসেছে, তেমনি জনদুর্ভোগ এড়াতে ব্লকেড কর্মসূচি থেকে সরে আসারও ইঙ্গিত মিলেছে।

    এই অবস্থান রাজনৈতিকভাবে কৌশলগত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের নজর এখন গোপালগঞ্জের পাশাপাশি রাজধানীতেও।

  • নিজ থেকে অনুদান কমিটি ছাড়লেন মম, জানালেন কারণ

    নিজ থেকে অনুদান কমিটি ছাড়লেন মম, জানালেন কারণ

    এবিএনএ:  চলচ্চিত্র অনুদান কমিটি থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করেছেন দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম। প্রায় এক মাস আগেই তিনি পদত্যাগ করেন, তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে সম্প্রতি ৩২টি চলচ্চিত্রকে প্রায় ১৩ কোটি টাকা অনুদান প্রদানের দিন।

    মম নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, “২৫ মে আমি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর। ব্যক্তিগত ও পেশাগত ব্যস্ততার কারণে আমি কমিটিতে সময় দিতে পারছিলাম না।”

    দেশপ্রেম ও সংস্কারের দাবিতে বরাবরই সোচ্চার মম, ২০২১ সালের শিল্পী আন্দোলনের সময়ও ছিলেন সম্মুখ সারিতে। তখনকার শুটিং ব্যস্ততা ফেলে চলচ্চিত্রের উন্নয়নে তিনি হাসিমুখেই যুক্ত হন এই অনুদান কমিটিতে।

    কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মম বুঝতে পারেন, তাঁর ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত কাজ তিনি করতে পারছেন না। সেই প্রসঙ্গে মম বলেন, “আমি ক্ষমতার আশায় কমিটিতে আসিনি, শুধু চলচ্চিত্রের জন্য কাজ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু যখন দেখলাম সেটা সম্ভব হচ্ছে না, তখনই ভাবলাম, আমার জায়গায় কেউ যোগ দিলে হয়তো ভালো হবে। তাই নিজেই সরে দাঁড়িয়েছি।”

    অনুদান কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (চলচ্চিত্র), সচিব, বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, নির্মাতা ও প্রযোজক আকরাম খান, নির্মাতা নার্গিস আখতার, এবং রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদের সভাপতি আহমেদ মুজতবা জামাল।

    এই কমিটির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। উল্লেখ্য, তার আগে ওই পদে ছিলেন মো. নাহিদ ইসলাম।

    চলচ্চিত্রে গঠনমূলক পরিবর্তনের আশায় গঠিত এই কমিটির গুরুত্বপূর্ণ একটি মুখ ছিলেন মম। তাঁর এই সরে দাঁড়ানো চলচ্চিত্র অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

  • জাতীয় সংকটে ইউনূসের পাশে দাঁড়ালেন নাহিদ ইসলাম — পদত্যাগ না করার আহ্বান

    জাতীয় সংকটে ইউনূসের পাশে দাঁড়ালেন নাহিদ ইসলাম — পদত্যাগ না করার আহ্বান

    এবিএনএ: 

    জাতীয় সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দায়িত্বে থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় দু’জনের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এই বৈঠকে নাহিদ ইসলাম দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, সার্বভৌমত্বের চ্যালেঞ্জ এবং অভ্যুত্থানের শঙ্কার প্রেক্ষাপটে ইউনূসের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, “এ মুহূর্তে আপনার দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়া রাষ্ট্র ও জাতির জন্য নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে।”

    সাক্ষাতের বিষয়ে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানান, প্রধান উপদেষ্টাকে শুধু অনুরোধ নয়, বরং একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে এই সময়ে আরও দৃঢ় থাকার প্রস্তাব দেন নাহিদ ইসলাম।

    উল্লেখ্য, এর আগে ড. ইউনূস তাঁর সঙ্গে থাকা দুই ছাত্র উপদেষ্টাকে সতর্ক করে বলেছিলেন, তাঁরা সংযত না হলে তিনি পদত্যাগ করবেন। যদিও তারা সংযত থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। এমনকি বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকেও ইউনূস নিজের পদত্যাগের সম্ভাবনার কথা জানান, যা শুনে উপস্থিত উপদেষ্টারা তাকে ওই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেন।

    দেশ এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় ঐক্যের প্রশ্নে এমন এক সময় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো, যখন একটানা নেতৃত্ব ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তের প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি। তাই নাহিদ ইসলামের অনুরোধ অনেকের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।