Tag: নারী নেতৃত্ব

  • সংরক্ষিত নারী আসনে কারা আসছেন সংসদে? বিএনপির ভেতরে শুরু হয়েছে মনোনয়ন সমীকরণ

    সংরক্ষিত নারী আসনে কারা আসছেন সংসদে? বিএনপির ভেতরে শুরু হয়েছে মনোনয়ন সমীকরণ

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার শপথ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ১২ মার্চ প্রথম অধিবেশন বসতে যাচ্ছে, যা আহ্বান করেছেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। গেজেট প্রকাশের পর নতুন সংসদের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি হলো সংরক্ষিত নারী আসনে সদস্য মনোনয়ন। এই প্রক্রিয়া ঘিরে সরকার ও বিরোধী দলের নারী নেত্রীদের মধ্যে তৎপরতা বেড়েছে।

    বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জানিয়েছে, অধিবেশন শুরু হলেই সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। দলীয় সূত্রে বলা হচ্ছে, মাঠের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ও দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করা নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

    দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি বলেন, যারা জনগণের সঙ্গে নিয়মিত সম্পৃক্ত থেকে আন্দোলন–সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন, মনোনয়নের ক্ষেত্রে তাদের গুরুত্ব পাবে। এতে করে সংরক্ষিত আসনে অভিজ্ঞ ও সক্রিয় নারী নেতৃত্ব উঠে আসবে—এমন প্রত্যাশা দলের ভেতরেই জোরালো।

    বিএনপির নারী নেত্রীদের অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘ সময়ের দুঃসময়ে যারা মাঠে ছিলেন, তাদেরই প্রাপ্য সম্মান নিশ্চিত করা দরকার। দলীয় রাজনীতিতে নবীনদের জায়গা করে দেওয়ার পাশাপাশি অভিজ্ঞদের মূল্যায়ন করাও জরুরি বলে মত দেন তারা। এই ভারসাম্য রক্ষাই মনোনয়নের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    আরেক নারী নেত্রী নিলুফার চৌধুরী মনি বলেন, কঠিন সময়ে যারা পাশে ছিলেন না, সুসময় এলে তারাই বেশি দৃশ্যমান হন। প্রকৃত ত্যাগীদের খুঁজে বের করে সম্মান জানানো না গেলে দলের ভেতরে হতাশা তৈরি হতে পারে। দল সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

    সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত নারী সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও কথা বলছেন নেত্রীরা। সংসদ কেবল উপস্থিত থাকার জায়গা নয়; এখানে আইন প্রণয়ন, নীতিনির্ধারণ ও বিতর্কে দক্ষতার সঙ্গে ভূমিকা রাখতে হয়। এ বিষয়ে হেলেন জেরিন খান বলেন, যোগ্যতা, সততা ও সংসদীয় শিষ্টাচার জানা নারীদেরই এগিয়ে আনা উচিত, যাতে সংসদের বিতর্কে গঠনমূলক ভূমিকা রাখা যায়।

    আসন বণ্টনের হিসাব অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের বড় অংশ যাবে বিএনপির ভাগে। পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপির ভাগেও নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন পড়বে। সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে খুব শিগগিরই স্পষ্ট হবে—সংসদে নারী প্রতিনিধিত্বের নতুন মুখগুলো কারা হচ্ছেন।

  • বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে তুমুল দৌড়ঝাঁপ: কারা পাচ্ছেন দলীয় মনোনয়ন, জল্পনা তুঙ্গে

    বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে তুমুল দৌড়ঝাঁপ: কারা পাচ্ছেন দলীয় মনোনয়ন, জল্পনা তুঙ্গে

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বিএনপির ভেতরে শুরু হয়েছে ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ। এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পাওয়ায় আসন অনুপাতে দলের ঝুলিতে যাচ্ছে ৩৫টি সংরক্ষিত নারী আসন। এসব আসনে মনোনয়ন পেতে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নারী নেত্রীরা শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন, কেউ কেউ বিভিন্ন পর্যায়ে লবিংও চালাচ্ছেন।

    বিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের শপথের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন শেষ করতে হবে। ছয়জন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের বিপরীতে একটি করে সংরক্ষিত আসন নির্ধারিত হয়। এই হিসাবে বিএনপির পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১১টি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি একটি আসন পাবে। বাকি আসনগুলো স্বতন্ত্রদের সমঝোতা ও জোটের ওপর নির্ভর করছে।

    নির্বাচন কমিশনের কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের প্রক্রিয়া কার্যত শুরু হয়েছে। সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো যে নাম প্রস্তাব করবে, নিয়ম অনুযায়ী তারাই নির্বাচিত হবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন শেষ করা হবে।

    দলীয় সূত্র বলছে, কারা মনোনয়ন পাবেন কিংবা কোন যোগ্যতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে—এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। তবে সাধারণ নির্বাচনে যোগ্য হয়েও মনোনয়ন না পাওয়া নারী নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখা মহিলা দল ও ছাত্রদলের বর্তমান-সাবেক নেত্রীদের গুরুত্ব দেওয়ার কথাও আলোচনায় আছে। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের পরিবারভুক্ত কেউ কেউ মনোনয়ন পেতে পারেন—এমন কথাও ভেতরে ভেতরে শোনা যাচ্ছে।

    মনোনয়ন চূড়ান্ত না হলেও প্রত্যাশীরা বসে নেই। কেউ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দেখা করছেন, কেউ অতীতের রাজনৈতিক ত্যাগ-তিতিক্ষার কথা তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান জানাচ্ছেন।

    দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—মাহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য মাহমুদা হাবিবা, বীথিকা বিনতে হোসাইন, নাভীলা চৌধুরী, রেহানা আক্তার রানু, নাদিয়া পাঠান পাপন, আরিফা সুলতানা রুমা, সাবরিনা বিনতে আহমেদ, সাবিনা খান পপি সহ আরও অনেকে।

    সুলতানা আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে যুক্ত থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন তিনি এবং নানা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। দল তার ত্যাগের মূল্যায়ন করবে—এমন প্রত্যাশা তার।


    ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী নাদিয়া পাঠান পাপন জানান, দীর্ঘ সময় মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং দুঃসময়ে দলের পাশে দাঁড়িয়েছেন—সে বিবেচনায় তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন।


    বীথিকা বিনতে হোসাইন বলেন, সংগঠনের মাধ্যমে মানবিক ও আইনি সহায়তায় যুক্ত ছিলেন তিনি; সাম্প্রতিক সময়ে দলের কার্যক্রমেও সক্রিয় রয়েছেন।


    সাবেক সংরক্ষিত সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু বলেন, আগেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে—দল চাইলে আবারও সে দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত তিনি।

    সব মিলিয়ে, সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে বিএনপির ভেতরে প্রতিযোগিতা এখন তুঙ্গে। চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণার আগ পর্যন্ত জল্পনা-কল্পনাও থামছে না।

  • নারীর নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন: ঢাকায় বসলো ‘উইমেন শেপিং দ্য নেশন’ নীতি সংলাপ

    নারীর নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন: ঢাকায় বসলো ‘উইমেন শেপিং দ্য নেশন’ নীতি সংলাপ

    এবিএনএ: নারীর নেতৃত্ব, ক্ষমতায়ন ও নীতিনির্ধারণে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো একটি বৃহৎ নীতি সংলাপ। “উইমেন শেপিং দ্য নেশন: পলিসি, পসিবিলিটি অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব বাংলাদেশ” শীর্ষক এই আয়োজনটি ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে রাজধানীর ফার্মগেটস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হয়।

    দ্য ফ্রন্ট পেইজ-এর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ‘রিচ আউট’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই সংলাপে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রায় এক হাজার অতিথি অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন নারী নেত্রী, কর্পোরেট ও সামাজিক খাতের পেশাজীবী, শিক্ষার্থী, তরুণ উদ্যোক্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানটির মিডিয়া পার্টনার হিসেবে যুক্ত ছিল দ্য ফ্রন্ট পেইজ।

    বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলা এই সংলাপের মূল উদ্দেশ্য ছিল নারীদের কেবল উন্নয়নের অংশীদার নয়, বরং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের নীতিনির্ধারক ও চিন্তানায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। আলোচনায় নারীর নিরাপত্তা ও অধিকার, অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, নেতৃত্বে অংশগ্রহণের চ্যালেঞ্জ এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত কাঠামো নিয়ে গভীর আলোচনা হয়।

    অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন- ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা আবেদ, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুপালি চৌধুরী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন- প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে নারীর রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বে অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা।

    পুরো সংলাপটি সঞ্চালনা করেন, সাংবাদিক ও মিডিয়া পেশাজীবী কাজী জেসিন। তাঁর দক্ষ উপস্থাপনায় আলোচনাটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও অংশগ্রহণমূলক।

    এই নীতি সংলাপ নারীর বাস্তব অভিজ্ঞতা ও নীতিগত সিদ্ধান্তের মধ্যকার ব্যবধান কমাতে একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ভূমিকা রাখে। নারী শিক্ষার্থী, তরুণ নেতৃত্ব, গবেষক, নীতিনির্ধারক ও অধিকারকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে আরও অর্থবহ করে তোলে।