Tag: নারী নির্যাতন

  • বাগেরহাটে কিশোরীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা, অপমানে বিষপান—হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর লড়াই

    বাগেরহাটে কিশোরীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা, অপমানে বিষপান—হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর লড়াই

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় এক কিশোরীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অপমান ও লোকলজ্জার ভয়ে ওই কিশোরী বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে তাকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রাড়ীপাড়া ইউনিয়নে বসবাসকারী এক দশম শ্রেণির ছাত্রীকে একা পেয়ে যৌন হয়রানির চেষ্টা করে এক যুবক। ভুক্তভোগী ছাত্রীটি রাড়ীপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং একটি হাইস্কুলের শিক্ষার্থী।

    অভিযোগ রয়েছে, একই ইউনিয়নের মহসিন সরদারের ছেলে রোহান (২০) সুযোগ পেয়ে ওই কিশোরীর ওপর জোরপূর্বক শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। এ সময় কিশোরী চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে অভিযুক্ত দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

    ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে কিশোরী মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। সামাজিক অপমান ও লোকলজ্জার আশঙ্কায় রোববার (৯ মার্চ) সকালে সে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

    পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, কিশোরীর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

    এ বিষয়ে কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি তারা মৌখিকভাবে শুনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

  • বাগেরহাটে নাবালিকা ধর্ষণচেষ্টা: রাকিবসহ সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা, আতঙ্কে ভুক্তভোগী পরিবার

    বাগেরহাটে নাবালিকা ধর্ষণচেষ্টা: রাকিবসহ সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা, আতঙ্কে ভুক্তভোগী পরিবার

    এবিএনএ: বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা থানায় মামলা দিতে না পেরে বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেছেন।

    মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ২৩ অক্টোবর (শনিবার) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বাহিরদিয়া গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।

    অভিযোগে বলা হয়, বাগেরহাট সদর উপজেলার বাদেকাড়াপাড়া এলাকার রাকিব নামের এক যুবক ওই কিশোরীকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলে তুলে নেয়। পরে কৌশলে তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়, যেখানে আগে থেকেই অপেক্ষা করছিল তার সহযোগী রাহুল ও আলমগীরসহ আরও কয়েকজন

    তারা মেয়েটিকে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা করে। মেয়েটি চিৎকার দিলে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে। তবে অভিযুক্তদের একজনকে হাতে নাতে ধরা হলেও পরে স্থানীয় প্রভাবশালীরা তাকে ছাড়িয়ে নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্য আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

    জানা গেছে, প্রধান আসামি রাকিব বাগেরহাট সদরের বাদেকাড়াপাড়া গ্রামের মৃত জাকারিয়া আলমের ছেলে এবং কাড়াপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক

    মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩)–এর ৭, ১০/৩০ ধারায় রুজু করা হয়েছে।

    এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, একটি প্রভাবশালী মহল আসামিদের রক্ষায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে।

    এ বিষয়ে ফকিরহাট থানার এক কর্মকর্তা বলেন,

    “আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। প্রমাণ পেলে অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”

    এদিকে স্থানীয়দের দাবি—ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

  • উত্তরায় চাকরির প্রলোভনে তরুণীদের পর্নো ফাঁদে ফেলছিল চক্র, উদ্ধার কলেজছাত্রী

    উত্তরায় চাকরির প্রলোভনে তরুণীদের পর্নো ফাঁদে ফেলছিল চক্র, উদ্ধার কলেজছাত্রী

    এবিএনএ, ঢাকা :

    রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ‘বায়িং হাউসে চাকরি’ দেওয়ার প্রলোভনে তরুণীদের ফাঁদে ফেলে ভয়াবহ এক পর্নোচক্র দীর্ঘদিন ধরে অপকর্ম চালিয়ে আসছিল। চাকরির আশায় বাসায় যাওয়া তরুণীদের আটকে রেখে জোর করে মাদক সেবনে বাধ্য করে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করত চক্রটি। এরপর সেই ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে পরিবার থেকে আদায় করা হতো মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ।

    পুলিশ জানায়, এই চক্র গত দুই বছর ধরে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের একটি বাড়িতে বাসা ভাড়া নিয়ে এই অপরাধ করে আসছিল। এক কলেজছাত্রী নিখোঁজের ঘটনায় তদন্তে নেমে পুলিশ চক্রটির সন্ধান পায়।

    ২৬ মে মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রী বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। পরদিন রাতে তার মায়ের ফোনে আসে মুক্তিপণের দাবি। প্রযুক্তি বিশ্লেষণের মাধ্যমে পুলিশ ২৮ মে বিকেলে উত্তরার ওই বাসা থেকে অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থল থেকে চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।

    গ্রেপ্তাররা হলেন—মাসুম পারভেজ, সোলাইমান হোসেন, শফিকুল ইসলাম সৌরভ, মোছা. মায়া ও রুলি খানম। তাদের কাছ থেকে ৬০ পিস ইয়াবা, দুটি সিসিটিভি ক্যামেরা, তিনটি মোবাইল এবং প্রায় ১ কোটি ৪১ লাখ টাকার মুক্তিপণ আদায়ের তথ্য পাওয়া গেছে।

    ওসি হাফিজুর রহমান জানান, গ্রেপ্তারদের মোবাইলে শতাধিক আপত্তিকর ভিডিও পাওয়া গেছে। চক্রটি শুধু ভিডিও ধারণেই থেমে থাকত না, বরং সেগুলো বিক্রি করত বিভিন্ন পর্নো সাইটে। ভুক্তভোগীদের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    তদন্তে আরও জানা গেছে, চক্রের একজন নারী সদস্য বন্ধুত্বের ছলে তরুণীদের ‘ভালো বেতনের চাকরি’ দেওয়ার নাম করে বাসায় নিয়ে যেত। ইন্টারভিউর নাটক করে ছবি তোলা হতো, বলা হতো বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে দেখা করতে হবে। পরে আবার ডেকে নিয়ে ভয়ংকর ফাঁদে ফেলা হতো তাদের।

    চক্রের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে তিনটি মামলা হয়েছে। পলাতক সদস্যদের ধরতে অভিযান চলছে এবং গ্রেপ্তারদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।