Tag: নারী ক্রীড়া

  • বাংলাদেশের মেয়েদের দুর্ধর্ষ পারফরম্যান্স, তিন ম্যাচেই জয় নিয়ে এশিয়া কাপে জায়গা নিশ্চিত

    বাংলাদেশের মেয়েদের দুর্ধর্ষ পারফরম্যান্স, তিন ম্যাচেই জয় নিয়ে এশিয়া কাপে জায়গা নিশ্চিত

    এবিএনএ:  বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল এএফসি নারী এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে দেখিয়েছে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। ‘সি’ গ্রুপ থেকে অপরাজিত থেকে টানা তিনটি ম্যাচ জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ২০২৫ সালের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে তারা।

    সবশেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষ ছিল তুর্কমেনিস্তান। এই ম্যাচটি নিয়মরক্ষার হলেও মাঠে নামে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ। ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ম্যাচের মাত্র ৩ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন স্বপ্না। এরপর ৬ মিনিটে শামসুন্নাহারের গোল দলকে এনে দেয় ২-০ ব্যবধানের স্বস্তি।

    ১৩ মিনিটে শামসুন্নাহার নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন। কিছুক্ষণ পরই মনিকা ও ঋতুপর্ণার পা থেকে আসে আরও দুটি দৃষ্টিনন্দন গোল। গোল বন্যায় দিশেহারা হয়ে পড়ে তুর্কমেনিস্তান, এমনকি ১৯ মিনিটেই গোলরক্ষক পরিবর্তন করতে বাধ্য হয় দলটি। এরপর ২০ মিনিটে তহুরা খাতুন গোল করে স্কোরলাইন করেন ৬-০।

    ম্যাচের ৪০ মিনিটে কর্নার থেকে পাওয়া বলে বাঁ পায়ে দুর্দান্ত এক শটে ঋতুপর্ণা চাকমা তাঁর দ্বিতীয় গোলটি করেন। প্রথমার্ধেই স্কোর দাঁড়ায় ৭-০।

    দ্বিতীয়ার্ধে দুই দল গোলের দেখা না পেলেও ম্যাচের ফলাফল নির্ধারিত হয়ে যায় প্রথমার্ধেই। ৭-০ ব্যবধানে বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ নারী দল।

    এই জয়ে তিন ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ মোট ১৬টি গোল করেছে, বিপরীতে মাত্র একটি গোল খেয়েছে মিয়ানমারের বিপক্ষে।

    এশিয়া কাপ বাছাই পর্বে মোট আটটি গ্রুপ রয়েছে। প্রত্যেক গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল মূল পর্বে খেলার সুযোগ পাবে। বাংলাদেশের মেয়েরা নিজেদের গ্রুপে সেরা হয়ে ২০২৫ সালের এশিয়া কাপে জায়গা নিশ্চিত করল গর্বের সঙ্গে।

    বাংলাদেশ নারী দলের এই জয় শুধু একটি ক্রীড়াবিজয় নয়, বরং ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় সাফল্যের পথপ্রদর্শক।

  • বিশ্বকাপের স্বপ্নে বিভোর আফিদা, ইতিহাস গড়া নারী দলকে চাই বিশ্বমঞ্চে

    বিশ্বকাপের স্বপ্নে বিভোর আফিদা, ইতিহাস গড়া নারী দলকে চাই বিশ্বমঞ্চে

    এবিএনএ: বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের ইতিহাসে এক অনন্য অর্জন—এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়া। মিয়ানমারকে পরাজিত করে কোয়ালিফাই করেই উচ্ছ্বাসে ভাসছে পুরো দল।

    এই ঐতিহাসিক জয়ের পরও সামনে অপেক্ষা করছে আরেকটি ম্যাচ—শনিবার (৫ জুলাই) তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে। যদিও এটি শুধুই নিয়মরক্ষার ম্যাচ, তবু দলের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি নেই।

    দলের অধিনায়ক আফিদা খন্দকার জানালেন, এশিয়া কাপের টিকিট পাওয়া কেবল শুরু—তাঁর স্বপ্ন আরও অনেক দূর।

    বাফুফে প্রকাশিত ভিডিওবার্তায় আফিদা বলেন, “এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। বাংলাদেশের নারী ফুটবলের ইতিহাসে আমরা প্রথমবার এশিয়ান কাপে কোয়ালিফাই করেছি। এটা বিশাল গর্বের মুহূর্ত।”

    তিনি আরও বলেন, “পুরো দল চমৎকার মেজাজে আছে। আজ ট্রেনিং সেশনে সবাই খুব এনজয় করেছে। দেশের মানুষের যে ভালোবাসা ও সমর্থন আমরা পাচ্ছি, তা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার শক্তি।”

    তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি নিয়মরক্ষার হলেও গুরুত্ব হারায়নি। কারণ, আফিদার চোখে এখন বিশ্বকাপ। “এই ম্যাচেও আমরা সেরা পারফর্ম করতে চাই। ভবিষ্যতে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন আমাদের সবার। সামনে যদি সেই সুযোগ আসে, আমরা সেটি কাজে লাগাতে চাই,” বলেন আফিদা।

    বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের এমন সাফল্য কেবল গর্বই নয়, ভবিষ্যতের অনুপ্রেরণাও। বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব দেখার অপেক্ষায় এখন গোটা জাতি।