Tag: নারী অধিকার

  • বাগেরহাটে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপনে বিশৃঙ্খলা: নির্ধারিত সময়ে শুরু হয়নি র‍্যালি, ক্ষোভ অংশগ্রহণকারীদের

    বাগেরহাটে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপনে বিশৃঙ্খলা: নির্ধারিত সময়ে শুরু হয়নি র‍্যালি, ক্ষোভ অংশগ্রহণকারীদের

    এবিএনএ,বাগেরহাট : বাগেরহাটে নানা অনিয়ম ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২৬। নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে কর্মসূচি শুরু হওয়ায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

    রবিবার (৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে নারী দিবস উপলক্ষে একটি র‍্যালি বের হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও র‍্যালি শুরু হয়নি। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠানস্থলে এসে নিজের গাড়িতেই অপেক্ষা করতে থাকেন।

    পরে জেলা প্রশাসক উপস্থিত হলে সকাল প্রায় ১০টার দিকে র‍্যালিটি শুরু হয়। র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করার কথা থাকলেও মাত্র প্রায় ২৫০ গজ পথ অতিক্রম করে স্বাধীনতা উদ্যানে গিয়ে শেষ হয়।

    এরপর সেখানে জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ।

    অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাদিয়া ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) অনুপ দাস, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু রিয়াদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. আতিয়া খাতুন এবং বাগেরহাট মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাহেলা পারভীনসহ অন্যান্যরা।

    তবে অনুষ্ঠানস্থলে গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য বসার কোনো আলাদা ব্যবস্থা না থাকায় সাংবাদিকদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা যায়।

    র‍্যালি ও আলোচনা সভা চলাকালে কয়েকটি স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তাদের ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে কিছুটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিও তৈরি হতে দেখা যায়।

    র‍্যালিতে অংশ নিতে আসা কয়েকজন নারী জানান, রমজান মাস হওয়ায় সকালেই অনেক দূর থেকে এসে দীর্ঘ সময় রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠান শুরু হলে এ ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হতো না।

    এসব বিষয় নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা যায়। একই সঙ্গে সংবাদকর্মীরাও আয়োজনে নানা ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

    এ বিষয়ে বাগেরহাট মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাহেলা পারভীন বলেন, “আন্তর্জাতিক নারী দিবসের কর্মসূচি কিছুটা দেরিতে শুরু হয়েছে। তবে বড় ধরনের কোনো অব্যবস্থাপনা হয়নি।” তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিকরা অনেক সময় ছোট বিষয়কে বড় করে তুলে ধরেন।” পরে তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

  • রাজনীতিতে বাড়ছে পেশিশক্তি ও পুরুষতান্ত্রিকতা, ঝুঁকিতে প্রান্তিক ভোটাররা

    রাজনীতিতে বাড়ছে পেশিশক্তি ও পুরুষতান্ত্রিকতা, ঝুঁকিতে প্রান্তিক ভোটাররা

    এবিএনএ: নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যে দেশের নারী, আদিবাসী জনগোষ্ঠী, লৈঙ্গিক বৈচিত্র্যের মানুষ এবং বিশেষভাবে প্রতিবন্ধী নাগরিকদের ভোটাধিকার হুমকির মুখে পড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় অর্থের প্রভাব, পেশিশক্তির দাপট, ধর্মীয় ব্যবহার ও পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে—যা প্রান্তিক ভোটারদের জন্য ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

    সোমবার নির্বাচন কমিশনের আইনশৃঙ্খলা মনিটরিং সেলের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, এই প্রেক্ষাপটে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে কি না—সে প্রশ্ন বড় হয়ে উঠেছে। টিআইবির পক্ষ থেকে বিষয়টি কমিশনের সংশ্লিষ্ট সেলকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। কমিশনার সানাউল্লাহ তাদের উপস্থাপিত তথ্য ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

    নির্বাচনী স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে ড. ইফতেখারুজ্জামান ভোটকেন্দ্রের নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তার মতে, প্রযুক্তি পুরোপুরি বন্ধ না করে অপব্যবহার ঠেকাতে কার্যকর নজরদারি ও নীতিমালা জোরদার করা দরকার। স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তিকে সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করার আহ্বানও জানান তিনি।

  • নারীদের অধিকার রক্ষায় বিএনপির কঠোর অঙ্গীকার, নির্বাচনী প্রচারে ইশরাক হোসেনের বার্তা

    নারীদের অধিকার রক্ষায় বিএনপির কঠোর অঙ্গীকার, নির্বাচনী প্রচারে ইশরাক হোসেনের বার্তা

    এবিএনএ: নারী সমাজের অধিকার, নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে—এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

    রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সূত্রাপুরের ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনী গণসংযোগ ও পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

    ইশরাক হোসেন জানান, সম্প্রতি কর্মজীবী কয়েকজন নারী তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছেন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে অন্য কোনো রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় গেলে নারীদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

    আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই নির্বাচনই নির্ধারণ করবে আগামীর বাংলাদেশের দিকনির্দেশনা। গত ১৭ বছরে বিএনপি নেতাকর্মীরা আন্দোলন-সংগ্রামের পথে নানা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় ছাত্রনেতাদের গুম ও হত্যার ঘটনাও তুলে ধরেন।

    ইশরাক হোসেন বলেন, বিএনপি একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চায়, যাতে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে পছন্দের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারে। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জয়ী হবে কেবল কোনো দল নয়—জয়ী হবে বাংলাদেশ ও এর জনগণ।

    নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শান্ত পরিবেশ বজায় রাখতে হবে এবং প্রতিপক্ষের কোনো উসকানিতে পা দেওয়া যাবে না। দেশজুড়ে বিএনপির যে ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে, তা নষ্ট করার কোনো অপচেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না।

    তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি প্রার্থীরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন। তার মতে, বিএনপি সরকার গঠন করবে এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী হবেন।

    বক্তব্যের শেষাংশে ইশরাক হোসেন বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ও অবদানের ধারাবাহিকতায় বিএনপি নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মৌলিক ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় কাজ করে যাবে।

    এ সময় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির দপ্তর সম্পাদক সাইদুর রহমান মিন্টু, সূত্রাপুর থানা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ আজিজুল ইসলাম, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর এম এ সাহেদ মন্টুসহ স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।

  • কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাঙ্গনে নিরাপত্তার নতুন যুগ: যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ২০২৬ জারি

    কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাঙ্গনে নিরাপত্তার নতুন যুগ: যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ২০২৬ জারি

    এবিএনএ: কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং সমান অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার জারি করেছে ‘কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, ২০২৬’। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো যৌন হয়রানি প্রতিরোধে একটি বিস্তৃত ও সার্ভাইভার-কেন্দ্রিক আইনি কাঠামো কার্যকর হলো।

    বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। আইনটি অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ও বিদেশে অবস্থিত সরকারি অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানেও প্রযোজ্য হবে।

    এই অধ্যাদেশের মূল উদ্দেশ্য হলো—ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, জেন্ডার পরিচয় বা সামাজিক পরিচয় নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাঙ্গনে একটি নিরাপদ, সম্মানজনক এবং বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করা।

    আইনে যৌন হয়রানির সংজ্ঞা ব্যাপকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। শারীরিক, মৌখিক ও অ-মৌখিক আচরণের পাশাপাশি অনলাইন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল ও মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণকেও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।

    অধ্যাদেশ অনুযায়ী, প্রতিটি কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি (ICC) গঠন বাধ্যতামূলক। এই কমিটি অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত পরিচালনা, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা নিশ্চিত এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শাস্তির সুপারিশ করতে পারবে। শাস্তির পরিধি তিরস্কার থেকে শুরু করে চাকরিচ্যুতি বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কার পর্যন্ত বিস্তৃত।

    ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে অধ্যাদেশে সার্ভাইভার-কেন্দ্রিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের পর কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক আচরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে মিথ্যা অভিযোগের ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সুরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    অসংগঠিত খাতের কর্মীদের জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে স্থানীয় অভিযোগ কমিটি গঠনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে কেউ অভিযোগ জানাতে বঞ্চিত না হন।

    এছাড়া আইন বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য জাতীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মনিটরিং কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীদের আর্থিক সহায়তা, পুনর্বাসন, কাউন্সেলিং ও আইনি সহায়তার জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্তও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    সরকারের আশা, এই অধ্যাদেশ কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাঙ্গনে নিরাপত্তা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • জুলাই বিপ্লব এখন কাদের দখলে? হতাশ সর্বস্তরের মানুষ

    জুলাই বিপ্লব এখন কাদের দখলে? হতাশ সর্বস্তরের মানুষ

    এবিএনএ:

    এক সময়ের অগ্নিগর্ভ আন্দোলন “জুলাই বিপ্লব” আজ যেন সীমিত হয়ে এসেছে গুটি কয়েক মুখের কৃতিত্বে। যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল কোটাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে ছাত্রদের মাধ্যমে, তা দ্রুত রূপ নেয় এক সর্বাত্মক স্বৈরাচারবিরোধী জনজাগরণে। এই আন্দোলনে ছাত্র, শিক্ষক, নারী, আইনজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, সুশীল সমাজ—সকল স্তরের মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।

    তবে আজ, ১০ মাস পর দেখা যাচ্ছে, সেই বিপ্লবের সকল অংশীদার ক্রমেই উপেক্ষিত হয়ে পড়ছেন। আন্দোলনের মুখ্য কৃতিত্ব কিছু ছাত্রনেতা ও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। এমনকি আন্দোলনে আঘাতপ্রাপ্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও আজ মূল্যহীন।

    বঞ্চনার চোরাবালিতে বিপ্লবের নায়করা

    সরকারের ছায়ায় গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখন নিজেকে পুরো বিপ্লবের স্থপতি হিসেবে তুলে ধরছে। অথচ সত্য হলো—মাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনে ক্ষমতা বদল হয়নি; বরং তা এসেছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ-তিতিক্ষার ফলস্বরূপ। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষপাতমূলক আচরণ প্রমাণ করছে—এটি সর্বজনীন নয়, বরং কেবল ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব করছে।

    প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য, “ছাত্ররাই আমার নিয়োগকর্তা”—সরকারের কাজেও তার প্রতিফলন ঘটছে। এতে জনগণের মধ্যে আস্থা কমে গেছে। অনেকেই মনে করছেন, বিপ্লব আজ নিজের লক্ষ্যচ্যুত।

    নারী, সংস্কৃতি কর্মী ও আইনজীবীদের হতাশা

    এই বিপ্লবের এক বড় চালিকাশক্তি ছিলেন নারীসমাজ। ঘরোয়া নারীরা পর্যন্ত রাজপথে এসে প্রতিবাদে অংশ নেন। কিন্তু এখন তারাই সবচেয়ে বেশি নিপীড়নের শিকার। নারী নির্যাতন, হয়রানি, ধর্ষণ—সবই বেড়েছে।

    সংস্কৃতি কর্মীরাও হতাশ। আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম, আজাদ আবুল কালাম, ইরেশ যাকেরসহ অনেকেই জুলাই আন্দোলনের সময় সোচ্চার ছিলেন। কিন্তু এখন তাঁদের অনেকেই হয় মিথ্যা মামলার শিকার, নয়তো অপমানের মুখোমুখি। অনুষ্ঠান বাতিল, সামাজিক হামলা, এমনকি গ্রেপ্তারও ঘটেছে। তাঁদের কণ্ঠ যেন রুদ্ধ।

    আইনজীবীরাও বঞ্চিত। ব্যারিস্টার সারা হোসেন, জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, জেড আই খান পান্নার মতো মানুষেরা মুখ খুলেছেন, যাঁরা কখনও আদালতের মাধ্যমে ছাত্রদের মুক্তির জন্য লড়াই করেছিলেন। তাঁদের কারো কারো বিরুদ্ধে হত্যা মামলাও দায়ের হয়েছে!

    শিক্ষক ও সুশীল সমাজও উপেক্ষিত

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা যে সাহস দেখিয়েছিলেন, তা ভুলে যাওয়া হয়েছে। ড. আনু মুহাম্মদ থেকে শুরু করে শিক্ষক নেটওয়ার্ক এখন খোলাখুলি বলছেন—বাংলাদেশ আবারও এক নতুন স্বৈরতন্ত্রের দিকে হাঁটছে।

    একজন শিক্ষককে উপাচার্য বানানো হলেও পরে তাঁকে সরানো হয়েছে। অন্যদিকে, এক বৃদ্ধা শিক্ষিকাকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। এসব ঘটনায় শিক্ষকদের মধ্যে গভীর অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

    সুশীল সমাজের মানুষ, যেমন ড. শাহদীন মালিক, ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এবং সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরী, নূরুল কবীর সবাই স্পষ্টত হতাশা প্রকাশ করছেন। তাঁরা বলছেন, জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন একটি গোষ্ঠীই এখন বিপ্লবের একচেটিয়া সুবিধাভোগী।

    জুলাই বিপ্লব আজ কার কাছে বন্দি?

    যাঁরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সরকারবিরোধী অবস্থান নিয়েছিলেন—তাঁরা আজ নির্বাক। মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই। সমাজজুড়ে চলছে আতঙ্ক ও হতাশা। আন্দোলনে যাঁরা মূল চালিকাশক্তি ছিলেন, তাঁরা এখন বলছেন, “জুলাই বিপ্লব এখন মুষ্টিমেয় গোষ্ঠীর হাতে বন্দি।”

    যেখানে স্বপ্ন ছিল বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থার, সেখানেই আজ দুর্বল গণতন্ত্র, বিভাজন ও স্বৈরতন্ত্রের ছায়া। জুলাই বিপ্লব কি সত্যিই সফল? নাকি, এটি একটি ব্যবহৃত ও বিস্মৃত অধ্যায় মাত্র?