Tag: নারীদের স্বাস্থ্য

  • পিরিয়ডে তীব্র ব্যথায় ওষুধ নয়, ঘরোয়া এই উষ্ণ পানীয়েই মিলতে পারে স্বস্তি

    পিরিয়ডে তীব্র ব্যথায় ওষুধ নয়, ঘরোয়া এই উষ্ণ পানীয়েই মিলতে পারে স্বস্তি

    এবিএনএ: মাসিকের সময় অনেক নারীর জন্যই অসহনীয় হয়ে ওঠে পেটব্যথা, ক্র্যাম্প ও অস্বস্তি। দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হয়, ঘুমের ছন্দ নষ্ট হয়। এমন পরিস্থিতিতে বেশিরভাগ নারী ব্যথানাশকের ওপর নির্ভর করলেও অনেকেই এখন প্রাকৃতিক ও খাদ্যভিত্তিক সমাধানের দিকে ঝুঁকছেন।

    এমনই এক সহজ কিন্তু কার্যকর পানীয় হলো বার্লি ও আদার উষ্ণ মিশ্রণ। এই পানীয় শরীরের ভেতর থেকে কাজ করে মাসিকজনিত অস্বস্তি কমাতে সহায়তা করে। এটি হজমশক্তি বাড়ায়, প্রদাহ কমায় এবং পিরিয়ডের আগে ও চলাকালীন শরীরকে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে।

    উপকরণ

    • ১ টেবিল চামচ বার্লি

    • ১ ইঞ্চি আদা

    • ২ কাপ পানি

    যেভাবে প্রস্তুত করবেন

    প্রথমে বার্লি অন্তত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা বা সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে ভেজানো বার্লির সঙ্গে আদা কুচি ও পানি একসঙ্গে দিয়ে মাঝারি আঁচে ১০ থেকে ১২ মিনিট ফুটিয়ে নিন। এরপর ছেঁকে গরম অবস্থায় পান করুন। ধীরে ফুটানোর ফলে উপাদানগুলোর পুষ্টিগুণ পানিতে ভালোভাবে মিশে যায়, যা শরীর সহজে গ্রহণ করতে পারে।

    কখন ও কতটুকু খাবেন

    এই পানীয় তাৎক্ষণিক ব্যথানাশক নয়, বরং আগাম প্রস্তুতির জন্য কার্যকর। প্রতিদিন ১ কাপ করে পান করুন। মাসিক শুরুর অন্তত ১০ থেকে ১৪ দিন আগে থেকে শুরু করাই সবচেয়ে ভালো। সকাল কিংবা সন্ধ্যা—যেকোনো সময় এটি খাওয়া যেতে পারে।

    কেন এই পানীয় কার্যকর

    বার্লি অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং শরীর থেকে অতিরিক্ত ইস্ট্রোজেন বের করতে সহায়তা করে, যা হরমোনের ভারসাম্যের জন্য জরুরি। অন্যদিকে আদা প্রদাহ কমায়, পেট ফাঁপা দূর করে এবং পিরিয়ডের আগে যে ভারী ও ক্লান্ত অনুভূতি হয় তা হালকা করে। এই দুই উপাদান একসঙ্গে মাসিকজনিত ব্যথা ও অস্বস্তি ধীরে ধীরে কমাতে সাহায্য করে।

  • নারীদের রক্তস্বল্পতা দূর করার সহজ উপায়: কোন খাবারে মিলবে পর্যাপ্ত আয়রন ও ভিটামিন?

    নারীদের রক্তস্বল্পতা দূর করার সহজ উপায়: কোন খাবারে মিলবে পর্যাপ্ত আয়রন ও ভিটামিন?

    এবিএনএ:  দেশের নারীদের মধ্যে রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া একটি বহুল প্রচলিত স্বাস্থ্যসমস্যা। রক্তে লোহিত কণিকা বা হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে গেলে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে, ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়, ত্বক ফ্যাকাসে হয়ে যায় এবং শ্বাসকষ্ট বা হৃদকম্পন বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত কিছু খাবার খেলে শরীরে হিমোগ্লোবিনের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব।

    ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার:
    ভিটামিন সি না থাকলে শরীর আয়রন শোষণ করতে পারে না। তাই কমলা, লেবু, আমলকী, পেঁপে, বাতাবিলেবু, স্ট্রবেরি, ব্রোকোলি, টমেটো ও আঙুর খেলে রক্তস্বল্পতা কমাতে সাহায্য করে।

    আয়রন সমৃদ্ধ খাবার:
    হিমোগ্লোবিন তৈরিতে লোহা অপরিহার্য। দেশি মুরগির কলিজা, পালংশাক, কচুশাক, লাল মাংস, চিংড়ি, আমন্ড, বিট, খেজুর ও বেদানায় প্রচুর আয়রন পাওয়া যায়। এগুলো ক্যালসিয়াম, কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবারেরও ভালো উৎস।

    মধু ও অন্যান্য খাবার:
    মধু শুধু আয়রন নয়, বরং কপার ও ম্যাঙ্গানিজেও সমৃদ্ধ, যা হিমোগ্লোবিন তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। নিয়মিত দুধ ও ডিম খাওয়াও রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সহায়ক।

    বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, অ্যানিমিয়ার কারণে শরীরের অক্সিজেন ও পুষ্টি উৎপাদনের চাহিদা বাড়ে, ফলে হৃদপিণ্ড অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়ে। সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা করা এবং প্রয়োজনীয় খাবার ও ওষুধ গ্রহণ করা জরুরি।