Tag: নাট্যাঙ্গন

  • চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া: জাতীয় পুরস্কারজয়ী অভিনেতা শামস সুমন আর নেই

    চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া: জাতীয় পুরস্কারজয়ী অভিনেতা শামস সুমন আর নেই

    এবিএনএ: বাংলা চলচ্চিত্র ও নাট্যাঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত জনপ্রিয় অভিনেতা শামস সুমন আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

    মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

    রাজশাহীর সন্তান শামস সুমন উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তবে অভিনয়ের প্রতি গভীর ভালোবাসাই তাকে টেনে আনে অভিনয় জগতে। শুরুটা ছোট পর্দা দিয়ে হলেও খুব অল্প সময়েই তার সাবলীল অভিনয় ও শক্তিশালী কণ্ঠের কারণে দর্শকদের মন জয় করেন।

    টেলিভিশনে সফলতার পর বড় পর্দাতেও নিজেকে প্রমাণ করেন এই অভিনেতা। পরিচালক তৌকির আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘জয়যাত্রা’র মাধ্যমে সিনেমায় অভিষেক ঘটে তার।

    পরবর্তীতে ‘বিদ্রোহী পদ্মা’ এবং ‘স্বপ্নপূরণ’ সিনেমায় অভিনয় করে আরও প্রশংসা কুড়ান তিনি। বিশেষ করে ‘স্বপ্নপূরণ’ ছবিতে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ পার্শ্বচরিত্রের অভিনেতা হিসেবে সম্মানিত হন।

    তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে—‘জোনাকির আলো’, ‘আয়না কাহিনি’, ‘প্রিয়া তুমি সুখী হও’, ‘চোখের দেখা’ এবং ‘মন জানে না মনের ঠিকানা’।

    তার মৃত্যুতে সহকর্মী, ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। দেশের বিনোদন জগতে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

  • অভিনয়ে প্রতিনিয়ত নিজেকে ভাঙছেন সামিরা খান মাহি, একের পর এক ভিন্ন চরিত্রে চমক

    অভিনয়ে প্রতিনিয়ত নিজেকে ভাঙছেন সামিরা খান মাহি, একের পর এক ভিন্ন চরিত্রে চমক

    এবিএনএ:  পরিণত ও গুণী অভিনয়শিল্পী হওয়ার আকাঙ্ক্ষায় নিজের প্রতিভাকে প্রতিনিয়ত শান দিচ্ছেন সামিরা খান মাহি। সেই প্রচেষ্টারই ধারাবাহিকতায় তিনি এখন নিজেকে ভেঙে নতুন রূপে দর্শকের সামনে হাজির হচ্ছেন। তাঁর সাম্প্রতিক নাটকগুলোই যেন সেই প্রমাণ বহন করছে।

    ‘আদরে রেখো’ নাটকে সামিরা হাজির হয়েছেন এক জেদি নারীর চরিত্রে, যে নিজের ইচ্ছাতেই সন্তান ধারণে অনাগ্রহী এবং প্রয়োজনে স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদে-ও রাজি। তবে জীবনের মোড় ঘোরে একটি অপ্রত্যাশিত গর্ভধারণের পর, যার মাধ্যমে শুরু হয় গল্পের টানটান উত্তেজনা। নাটকটি পরিচালনা করেছেন সজীব খান, এবং মাহির বিপরীতে অভিনয় করেছেন আরশ খান।

    এদিকে, আর্ক ফিল্মসের ইউটিউব চ্যানেলে সম্প্রচারিত ‘মেমোরি লস’ নামক নাটকে সামিরা অভিনয় করেছেন এক সৌন্দর্য সচেতন, খুঁতখুঁতে স্বভাবের তরুণীর ভূমিকায়। নাটকটি পরিচালনা করেছেন ইমরাউল রাফাত এবং তাঁর বিপরীতে ছিলেন নিলয় আলমগীর।

    অন্যদিকে বাংলাভিশনের ড্রামা বিভাগ সম্প্রতি প্রচার করেছে মাহির আরও একটি নাটক ‘খাঁটি প্রেমিক’। এখানে তিনি হয়েছেন সুজানা নামের এক প্রবাসী তরুণী, যিনি প্রথমে বাংলাদেশি পাত্রে আগ্রহী হলেও সিরাজ নামের এক যুবকের সঙ্গে পরিচয়ের পর তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। এই নাটকটিও নিলয়ের সঙ্গে করেছেন মাহি এবং নির্মাণে ছিলেন মহিন খান।

    তবে এখানেই শেষ নয়। ‘হারিয়ে খুঁজি’ (নির্মাতা: পথিক সাধন), ‘কখনো কখনো’ (নির্মাতা: সকাল আহমেদ) এবং ‘হিটার’ (নির্মাতা: মজুমদার শিমুল) নামক তিনটি নাটকে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের তিনটি চরিত্রে দেখা গেছে মাহিকে। প্রত্যেকটি নাটকে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে দর্শক মহলে।

    নিজের এই অভিনয় যাত্রা সম্পর্কে সামিরা খান মাহি বলেন, “আমি চেষ্টা করি এমন গল্প ও চরিত্র বেছে নিতে যা আমার অভিনয় দক্ষতাকে চ্যালেঞ্জ জানায়। দর্শকদের নতুন রূপে ধরা দেওয়ার মধ্য দিয়েই নিজেকে পরিপূর্ণ অভিনেত্রী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।”

    সামিরার এই নিরন্তর প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে তাঁকে বাংলা নাট্যাঙ্গনের এক শক্তিশালী ও পরিপক্ব নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছে।