Tag: নাজমুল হোসেন শান্ত

  • নাহিদ রানার আগুনে পুড়ল পাকিস্তান, ইতিহাস গড়ে টানা তৃতীয় টেস্ট জয় বাংলাদেশের

    নাহিদ রানার আগুনে পুড়ল পাকিস্তান, ইতিহাস গড়ে টানা তৃতীয় টেস্ট জয় বাংলাদেশের

    স্পোর্টস ডেস্ক: মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে পাকিস্তানকে বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। পেসার নাহিদ রানার বিধ্বংসী বোলিংয়ে সফরকারী দলকে ১৬৩ রানে গুটিয়ে দিয়ে ১০৪ রানের অনন্য জয় তুলে নেয় টাইগাররা। এই জয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

    পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের এটি টানা তৃতীয় টেস্ট জয়। ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজ জয়ের পর এবার ঘরের মাঠেও ঐতিহাসিক সাফল্য পেল টাইগাররা। একই সঙ্গে মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়।

    ২৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে পাকিস্তান। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ইমাম-উল-হককে ফিরিয়ে দেন তাসকিন আহমেদ। এরপর আজান আওয়াইস ও অধিনায়ক শান মাসুদও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন।

    দলের বিপর্যয়ের মাঝেও আব্দুল্লাহ ফজল ও সালমান আগা চতুর্থ উইকেটে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। দুজন মিলে ৫১ রানের জুটি গড়লেও সেই জুটি ভাঙেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ৬৬ রানের লড়াকু ইনিংস খেলে এলবিডব্লিউ হন ফজল। পরের ওভারেই তাসকিনের শিকার হন সালমান আগা।

    এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় বাংলাদেশ। উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সৌদ শাকিল কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও তাদের বেশিক্ষণ টিকতে দেননি নাহিদ রানা। টানা দুই ওভারে দুই সেট ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরান এই তরুণ পেসার।

    শেষদিকে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ দ্রুত ভেঙে পড়ে। হাসান আলিকে এলবিডব্লিউ করেন তাইজুল ইসলাম। এরপর শেষ দুই উইকেট তুলে নিয়ে ইনিংসে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন নাহিদ রানা। মাত্র ৪০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা বোলার হন তিনি।

    বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলাম দুটি করে উইকেট নেন। একটি উইকেট পান মেহেদী হাসান মিরাজ।

    এর আগে প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে দারুণ সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরি এবং মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিমের ফিফটিতে ৪১৩ রান তোলে স্বাগতিকরা। জবাবে পাকিস্তান ৩৮৬ রান সংগ্রহ করে, যেখানে আজান আওয়াইস করেন সেঞ্চুরি।

    দ্বিতীয় ইনিংসে শান্তর ৮৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসে ভর করে ৯ উইকেটে ২৪০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। এতে পাকিস্তানের সামনে ২৬৮ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়। তবে শেষ পর্যন্ত টাইগার বোলারদের তোপে দাঁড়াতেই পারেনি সফরকারীরা।

  • শান্তর বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে ধসে পড়ল সিলেট, দুর্দান্ত জয়ে রাজশাহী

    শান্তর বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে ধসে পড়ল সিলেট, দুর্দান্ত জয়ে রাজশাহী

    এবিএনএ: ধীর সূচনা হলেও ইনিংস গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ভয়ংকর রূপ নেন নাজমুল হোসেন শান্ত। প্রথম আট বলে মাত্র দুই রান করা এই ব্যাটার ষষ্ঠ ওভারে সাইম আইয়ুবকে টানা তিনটি চার হাঁকিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। এরপর আর থামেননি তিনি। শেষ ওভারে হজরতউল্লাহ জাজাইয়ের একটি ক্যাচ মিসের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ডাবলস নিয়ে পূর্ণ করেন দারুণ এক সেঞ্চুরি।

    অন্য প্রান্তে ছিলেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। চেনা ছন্দে ব্যাট করে শান্তর সঙ্গে গড়ে তোলেন ম্যাচ জেতানো জুটি। এই দুই ব্যাটারের শতাধিক রানের জুটিতে মাত্র দুই বল হাতে রেখেই ৮ উইকেটের বড় জয় তুলে নেয় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।

    শান্ত ৬০ বলে করেন ১০১ রান এবং মুশফিক ৩১ বলে অপরাজিত থাকেন ৫১ রানে। ১৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এই দু’জন মিলে মাত্র ৭১ বলে যোগ করেন ১৩০ রান। শেষ পর্যন্ত ১৯ দশমিক ৪ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১৯২ রান সংগ্রহ করে রাজশাহী।

    এর আগে ব্যাট করতে নেমে পারভেজ হোসেন ইমনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৫ উইকেটে ১৯০ রান তোলে সিলেট টাইটান্স। পাওয়ার প্লেতে সাইম আইয়ুব দ্রুত রান তুললেও পঞ্চম ওভারে ১৫ বলে ২৮ রান করে বিদায় নেন। ৩৬ রানে উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর হজরতউল্লাহ জাজাই ২০ রান করে আউট হন।

    রনি তালুকদারের সঙ্গে এরপর ৩২ রানের জুটি গড়েন জাজাই। পরে পারভেজ হোসেন ইমন ও আফিফ হোসেন ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন। ইমন ২৮ বলে তিনটি চার ও চারটি ছক্কায় ফিফটি পূর্ণ করেন। আফিফ ১৯ বলে ৩৩ রান করে আউট হলেও শেষদিকে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দলীয় স্কোর সমৃদ্ধ করেন।

    রাজশাহীর বোলারদের মধ্যে সন্দীপ লামিচানে ৪ ওভারে ৩৮ রান দিয়ে নেন দুটি উইকেট। এছাড়া বিনুরা ফার্নান্ডো ও তানজিম হাসান সাকিব একটি করে উইকেট তুলে নেন।

  • বাংলাদেশ দলে নেতৃত্বের নতুন কাঠামো: তিন ফরম্যাটে তিন সহঅধিনায়ক, বিসিবির চমকপ্রদ ঘোষণা

    বাংলাদেশ দলে নেতৃত্বের নতুন কাঠামো: তিন ফরম্যাটে তিন সহঅধিনায়ক, বিসিবির চমকপ্রদ ঘোষণা

    এবিএনএ: বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলে নেতৃত্বের নতুন কাঠামো ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আগেই তিন ফরম্যাটের জন্য তিনজন অধিনায়ক ঠিক করা হয়েছিল। এবার সেই নেতৃত্বকে আরও দৃঢ় করতে প্রতিটি ফরম্যাটে আলাদা সহঅধিনায়কের নাম ঘোষণা করেছে বোর্ড।

    টেস্ট দলে সহঅধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তরুণ এই অলরাউন্ডার দীর্ঘদিন ধরেই দলের অন্যতম ভরসার নাম। সম্প্রতি শান্তকে টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে পুনর্বহাল করার পর মিরাজকে তার সহকারী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। ২০২৭ সালের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্র পর্যন্ত তারা একসঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানানো হয়েছে।

    ওয়ানডে ফরম্যাটে অধিনায়কত্ব চালিয়ে যাবেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার নেতৃত্বে শ্রীলঙ্কা সফর ছিল সফল। সেই ধারাবাহিকতায় তার ডেপুটি হিসেবে হয়েছেন নেতৃত্ব হারানো নাজমুল হোসেন শান্ত। শান্তকে এবার ওয়ানডের সহঅধিনায়ক হিসেবে নতুন ভুমিকায় দেখা যাবে।

    অন্যদিকে, আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য টি–২০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত টি–২০ দলের অধিনায়ক থাকবেন লিটন দাস। তাকে সহায়তা করতে সহঅধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আলোচিত তরুণ ব্যাটার সাইফ হাসান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি–২০ সিরিজে দারুণ পারফরম্যান্সের পর ওয়ানডে অভিষেকেই সেঞ্চুরির কাছাকাছি পৌঁছে তারকা হয়ে ওঠেন সাইফ। এবার পেয়েছেন বড় দায়িত্ব।

    বিসিবি মনে করছে, নতুন এই নেতৃত্ব কাঠামো তরুণদের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ যেমন দেবে, তেমনি ভবিষ্যতের নেতৃত্ব প্রস্তুত করতেও সহায়ক হবে। দেশের ক্রিকেটে নেতৃত্বের স্থিতিশীলতা তৈরিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    ক্রিকেটপ্রেমীদের আশাবাদ, নতুন এই নেতৃত্ব বিন্যাস বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

  • রিশাদের জাদুকরী ঘূর্ণিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিধ্বস্ত, দারুণ জয়ে বাংলাদেশ

    রিশাদের জাদুকরী ঘূর্ণিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিধ্বস্ত, দারুণ জয়ে বাংলাদেশ

    এবিএনএ:  মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনের ঘূর্ণিতে বিধ্বস্ত হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের তুলনামূলক স্বল্প রানের ২০৭ রানের সংগ্রহও শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানের জয়ে পরিণত হয়। রিশাদের অসাধারণ বোলিংয়ে ৭৪ রানের বিশাল জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা।

    বাংলাদেশের হয়ে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেছেন রিশাদ হোসেন। তিনি ৯ ওভারে ৩৫ রান খরচে তুলে নেন ৬টি উইকেট—যা বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে তৃতীয় সেরা বোলিং ফিগার। তার আগে মাশরাফি বিন মর্তুজা ও রুবেল হোসেন ছয় উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন যথাক্রমে ২০০৬ ও ২০১৩ সালে।

    শনিবার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। ইনিংসের শুরুতেই দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও সৌম্য সরকার ফিরলে চাপে পড়ে দল। তবে নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহীদ হৃদয়ের ৭১ রানের জুটি কিছুটা স্থিতি আনে। শান্ত ৬৩ বলে ৩২ রান ও হৃদয় ৯০ বলে ৫১ রানের ধীর ইনিংস খেলেন।

    অভিষিক্ত মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ৭৬ বলে ৪৬ রান করে দলের রান দুইশ’র ঘরে তোলেন। ইনিংসের শেষ দিকে রিশাদ হোসেন ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন—মাত্র ১৩ বলে ২৬ রান করে ইনিংসে প্রাণ সঞ্চার করেন। ফলে দুই বল বাকি থাকতেই বাংলাদেশ অলআউট হয় ২০৭ রানে।

    জবাবে ব্যাটিংয়ে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটা ছিল ভালোই। তবে রিশাদের স্পিন জাদুতে মাত্র ৯২ রানেই পাঁচ ব্যাটার সাজঘরে ফেরেন। তিনি একে একে ব্রেন্ডন কিং, কেসি কার্টি, শেরফান রাদারফোর্ডসহ শীর্ষ ব্যাটারদের বিদায় করেন। কিং সর্বোচ্চ ৪৪ রান করলেও অন্যরা ছিলেন পুরোপুরি অসহায়।

    মেহেদী হাসান মিরাজ, তানভীর ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমান একে একে শেষ দিকের উইকেটগুলো তুলে নিলে ১৩৯ রানে গুটিয়ে যায় ক্যারিবীয়রা। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন রিশাদ হোসেন।

  • তানজিদের ফিফটির পরেই রান আউট শান্ত, চাপের মুখে বাংলাদেশ

    তানজিদের ফিফটির পরেই রান আউট শান্ত, চাপের মুখে বাংলাদেশ

    এবিএনএ:  দুর্দান্ত বোলিংয়ে শ্রীলঙ্কাকে ২৪৪ রানে অলআউট করার পর ব্যাট হাতে ইতিবাচক সূচনা করেছিল বাংলাদেশ। তবে একশ’ রানের মধ্যেই বড় ধাক্কা খেতে হয় দলকে—রান আউট হয়ে ফিরে যান নাজমুল হোসেন শান্ত।

    চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করে শ্রীলঙ্কা। দলটির পক্ষে অধিনায়ক চারিথা আশালঙ্কা খেলেন অনবদ্য এক সেঞ্চুরি—১২৩ বলে ১০৪ রান। এছাড়া কুশল মেন্ডিস ৪৫ ও জানিথ লিয়ানাগে করেন ২৯ রান। শেষদিকে মিলান রত্নায়েকে ও ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা দলের স্কোরে যুক্ত করেন সমান ২২ রান।

    বাংলাদেশের পক্ষে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন পেসার তাসকিন আহমেদ। তিনি শিকার করেন ৪টি উইকেট। তানজিম সাকিব নেন ৩ উইকেট এবং তানভীর ইসলাম ও শান্ত ভাগ করে নেন দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।

    জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের শুরুটা মোটামুটি হলেও ওপেনার পারভেজ ইমন দ্রুতই ফেরেন সাজঘরে—১৬ বল খেলে ১৩ রান করেন তিনি। অন্যদিকে অপর ওপেনার তানজিদ তামিম দেখিয়েছেন দুর্দান্ত ব্যাটিং দক্ষতা। তিনি তুলে নিয়েছেন তার ফিফটি এবং খেলেছেন ৬১ রানের কার্যকরী ইনিংস।

    তানজিদের সঙ্গে গড়ে উঠেছিল শান্তর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি। কিন্তু সেই জুটি ভাঙে এক অনাকাঙ্ক্ষিত রান আউটের মাধ্যমে। ২৬ বল খেলে ২৩ রান করে ফিরে যান শান্ত, দলের স্কোর তখন ঠিক একশ’।

    ক্রিজে এখনো রয়েছেন তানজিদ তামিম ও লিটন দাস। ম্যাচের পরবর্তী অংশে কী ঘটে, সেই অপেক্ষাতেই রয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীরা। বাংলাদেশ দল জয়ের পথে কতটা এগোতে পারে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

  • তিন ফরম্যাটে তিন অধিনায়ক কেন সঠিক নয়—সরাসরি ব্যাখ্যা দিলেন শান্ত

    তিন ফরম্যাটে তিন অধিনায়ক কেন সঠিক নয়—সরাসরি ব্যাখ্যা দিলেন শান্ত

    এবিএনএ: শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কলম্বো টেস্ট শেষে সাংবাদিকদের সামনে বিস্ময়কর ঘোষণা দিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত—তিনি আর বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক নন। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত হঠাৎ নয়, বরং গভীর চিন্তা ও দলের বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত।

    শান্ত বলেন, তিন ফরম্যাটে তিনজন আলাদা অধিনায়ক থাকলে মাঠের বাইরের বিভাজন ড্রেসিংরুমেও ছড়ায়। দলীয় ঐক্য, পারস্পরিক আস্থা এবং খেলোয়াড় নির্বাচনের ক্ষেত্রে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই তিনি নিজ থেকেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।

    বাংলাদেশ দলের শ্রীলঙ্কা সফরের আগে বিসিবি মেহেদী হাসান মিরাজকে ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে ভাবার কথা শান্তকে জানায়। এরপরই সিদ্ধান্ত পাকা করে ফেলেন তিনি—শুধু টেস্ট ফরম্যাটে অধিনায়কত্ব করে দলীয় ঐক্যে ভাঙন ধরাতে চান না।

    সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, “আমি বিভিন্ন দলের হয়ে ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করেছি। অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, তিন ফরম্যাটে তিন অধিনায়ক বাস্তবসম্মত নয়। এতে দলে গ্রুপিং তৈরি হয়, যা ক্ষতিকর।”

    ক্রিকেট বোদ্ধারা মনে করেন, একজন অধিনায়কের পছন্দের খেলোয়াড়দের বারবার দলে জায়গা পাওয়া এবং অন্য অধিনায়কের সেই খেলোয়াড়দের না চাইলে অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন তৈরি হয়। ওয়ানডে অধিনায়কের পছন্দ টেস্ট অধিনায়ককে না মানলে, কিংবা টি-২০ অধিনায়ক সেই খেলোয়াড়কে দলে না চাইলে বিভক্তি তৈরি হয়।

    এর আগেও বিসিবি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যখন মাহমুদউল্লাহ টি-২০, মাশরাফি ওয়ানডে এবং সাকিব টেস্ট দলের নেতৃত্বে ছিলেন। সেসময়ের ড্রেসিংরুমে বিরূপ পরিবেশের উদাহরণ শান্তের সিদ্ধান্তে নতুন করে উঠে এলো।

    শান্তর এই আত্মত্যাগ দলীয় ঐক্যের প্রতি তার দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ। তিন অধিনায়ক তত্ত্ব কার্যকর হলেও, সেটা প্রতিটি খেলোয়াড়ের মানসিকতা এবং নেতৃত্বদানে সমন্বয়ের ওপর নির্ভর করে বলেও অনেকে মনে করেন।