Tag: নরেন্দ্র মোদি

  • পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফায় রেকর্ড ভোট, উপস্থিতি প্রায় ৯০%

    পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফায় রেকর্ড ভোট, উপস্থিতি প্রায় ৯০%

    এবিএনএ: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম ধাপে ব্যাপক ভোটার উপস্থিতি দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ভোটগ্রহণে বিকেল পর্যন্ত প্রায় ৯০ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির নির্বাচন কমিশন।

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটের হার দাঁড়ায় ৮৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এর মধ্যে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় সর্বোচ্চ ৯৩ দশমিক ১২ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা এবারের প্রথম ধাপের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

    এবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন দুই ধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে প্রথম ধাপে ভোট হয়েছে ১৫২টি আসনে। এই আসনগুলোতে তিন কোটির বেশি ভোটার রয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, অন্তত ৮০টি আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে।

    নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ আগামী ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। তবে সেদিন ফলাফল ঘোষণা করা হবে না। পুরো নির্বাচনের ফল প্রকাশ করা হবে ৪ মে, তখনই জানা যাবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য রাজ্যের ক্ষমতায় কে আসছে।

    পশ্চিমবঙ্গে সর্বশেষ বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২১ সালে। সে সময় মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস এককভাবে ২১৫টি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করে। অন্যদিকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি পেয়েছিল ৭৭টি আসন।

    সেই নির্বাচনের মাধ্যমে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস। এবারও দলটি ক্ষমতা ধরে রাখতে মাঠে রয়েছে। অন্যদিকে বিজেপিও নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ দলটির শীর্ষ নেতারা অংশ নিয়েছেন।

    প্রথম ধাপের ভোটে উচ্চ উপস্থিতি নির্বাচনকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এখন দ্বিতীয় ধাপের ভোট এবং চূড়ান্ত ফলাফলের দিকেই নজর সবার।

  • ভারত সফরের আগে মোদির নেতৃত্বে মুগ্ধ পুতিন, দিল্লিতে প্রস্তুতি সর্বোচ্চ সতর্কতায়

    ভারত সফরের আগে মোদির নেতৃত্বে মুগ্ধ পুতিন, দিল্লিতে প্রস্তুতি সর্বোচ্চ সতর্কতায়

    এবিএনএ: দু’দিনের সরকারি সফরে এবার ভারতে পা রাখতে যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সফর শুরুর আগেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে পুতিন বলেন, মোদি কখনোই চাপের কাছে মাথানত করেন না; বরং নিজের দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত নেন।

    মার্কিন শুল্কনীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে পুতিন স্পষ্টভাবে জানান, “মোদি এমন নেতা নন, যিনি চাপের মুখে নতি স্বীকার করবেন।” ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধু উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এবারের সফর নিয়ে তিনি বিশেষভাবে আশাবাদী। রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা ও সহযোগিতা এই সফরে নতুন গতি পাবে বলেও মন্তব্য করেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

    তিনি জানান, মহাকাশ গবেষণা থেকে শুরু করে পরমাণু শক্তি, জাহাজ নির্মাণ, বিমান প্রযুক্তি—এসব খাতে দু’দেশই ভবিষ্যতের উন্নয়নকে কেন্দ্র করে যৌথভাবে কাজ করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার ও সম্ভাবনাও এই বৈঠকের আলোচ্যসূচির মধ্যে থাকছে।

    মোদির নেতৃত্বে ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতি প্রসঙ্গে পুতিন বলেন, “ভারত এখন দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতি। ৭.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি তার বড় উদাহরণ। কিছু সমালোচনা থাকলেও সাফল্যই কথার প্রমাণ।”

    গত বছর চীনে অনুষ্ঠিত এসসিও সম্মেলনে মোদিকে নিজের গাড়িতে বসানোর ঘটনাটি স্মরণ করে পুতিন জানান, সেটি তাদের বন্ধুত্বেরই প্রতীক। পরিকল্পিত কিছু নয়, বরং দুই নেতার অনানুষ্ঠানিক আলাপের অংশ হিসেবেই তারা গাড়িতে উঠে পড়েছিলেন।

    মোদির আমন্ত্রণেই এবার ভারত-রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে দিল্লি আসছেন পুতিন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার বিমান নামার কথা রাজধানীতে। তাকে ঘিরে দিল্লিতে নেওয়া হয়েছে পাঁচ-স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাশিয়ার প্রায় ৫০ জন নিরাপত্তাকর্মী আগেই দিল্লিতে পৌঁছে পুতিনের কনভয়ের সম্ভাব্য রুট পরিদর্শনও সম্পন্ন করেছেন। দিল্লি পুলিশ ও এনএসজির সঙ্গে যৌথভাবে চলছে টহল ও প্রস্তুতি।

    রুশ প্রেসিডেন্টের আগমনকে কেন্দ্র করে পুরো দিল্লিতে এখন টানটান নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ব্যস্ততা।

  • মোদি মায়ের জীবনীতে রাবিনা ট্যান্ডন: এক মায়ের নিঃশব্দ সংগ্রামের বলিউড উপাখ্যান

    মোদি মায়ের জীবনীতে রাবিনা ট্যান্ডন: এক মায়ের নিঃশব্দ সংগ্রামের বলিউড উপাখ্যান

    এবিএনএ: বলিউডে শুরু হচ্ছে এক নতুন বায়োপিকের যাত্রা—ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মা হীরাবেন মোদিকে কেন্দ্র করে নির্মিত হচ্ছে ‘মা বন্দে’ নামের সিনেমা। দীর্ঘ কৌতূহল ও জল্পনার শেষে নিশ্চিত হয়েছে, হীরাবেনের চরিত্রে অভিনয় করছেন জনপ্রিয় বলিউড অভিনেত্রী রাবিনা ট্যান্ডন। এই খবর প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সিনেপ্রেমী থেকে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।

    ছবিটি পরিচালনা করছেন দক্ষিণ ভারতের নির্মাতা ক্রান্তি কুমার চৌধুরী। তাঁর প্রথম হিন্দি ভাষার বায়োপিক হলেও গল্পের গভীরতাই এটিকে তুলে ধরেছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। শুধু রাজনৈতিক জীবনের গল্প নয়, এতে তুলে ধরা হবে মায়ের নিঃশব্দ ত্যাগ, সন্তানকে মূল্যবোধ শেখানোর সংগ্রাম, এবং একজন সাধারণ গৃহিণীর অসাধারণ চরিত্র গঠনের গল্প।

    মোদি চরিত্রে দেখা যাবে মালয়ালম তারকা উন্নি মুকুন্দনকে। শৈশবের চাওয়ালা থেকে শুরু করে দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ—সবকিছুর আড়ালে যে মায়ের অদৃশ্য শক্তি কাজ করেছে, সেটিই সিনেমার মূল সুর।

    রাবিনা ট্যান্ডন জানান, হীরাবেন মোদির চরিত্র তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তিনি বলেন, “তিনি ছিলেন নিঃশব্দ শক্তি। সাধারণ পরিবারে থেকেও সন্তানকে যে সংযম, সততা ও আত্মনিবেদন শিখিয়েছেন—তা সত্যিই অনুকরণীয়।”

    হীরাবেন মোদির সঙ্গে সরাসরি দেখা না হওয়ায় রাবিনা তাঁর চরিত্র ফুটিয়ে তুলছেন পুরোনো ভিডিও, পরিবারের স্মৃতিচারণা ও আর্কাইভ ফুটেজ দেখে। গুজরাটি উচ্চারণ, অভ্যাস ও জীবনযাপন বুঝতে তিনি নিচ্ছেন বিশেষ প্রশিক্ষণ।

    হীরাবেন ছিলেন অত্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক, সংসারকেন্দ্রিক ও সংযমী একজন নারী। মোদি বহুবার বলেছেন, তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা তাঁর মা—যিনি তাঁকে শিখিয়েছেন সততা, আত্মনিবেদন ও দায়িত্ববোধের মূল্য।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চরিত্র রাবিনার ক্যারিয়ারে এনে দিতে পারে এক নতুন উচ্চতা। শুধু অভিনয় নয়, এতে প্রকাশ পাবে আবেগ, দৃঢ়তা ও মাতৃত্বের গভীর মানবিকতা।

    বলিউডের পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনেও ‘মা বন্দে’ নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। নির্মাতারা আশা করছেন, সিনেমাটি শুধু রাজনৈতিক জীবনী নয়, হয়ে উঠবে এক অনুপ্রেরণার গল্প—এক মায়ের, যিনি নিঃশব্দে গড়ে তুলেছিলেন একজন বিশ্বনেতাকে।

  • ট্রাম্পের বিস্ফোরক মন্তব্য: “মোদি দেখতে সুন্দর, কিন্তু তিনি একজন খুনি!”

    ট্রাম্পের বিস্ফোরক মন্তব্য: “মোদি দেখতে সুন্দর, কিন্তু তিনি একজন খুনি!”

    এবিএনএ: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দক্ষিণ কোরিয়ায় এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন,

    “প্রধানমন্ত্রী মোদি দেখতে সবচেয়ে সুন্দর মানুষদের একজন। তাকে দেখে মনে হয় যেন আপনি তাকে পিতার মতো ভালোবাসতে চাইবেন। কিন্তু মোদি হলেন একজন খুনি, অত্যন্ত কঠোর মানুষ।”

    ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।


    ট্রাম্প বর্তমানে এশিয়া সফরে রয়েছেন এবং এপেক সম্মেলনে যোগ দিতে দক্ষিণ কোরিয়া গেছেন। ওই সফরের অংশ হিসেবে তিনি ভারত-পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সংঘাত নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন,

    “আমি সেই যুদ্ধ থামিয়েছিলাম। আমি দুই দেশকেই অনুরোধ করেছিলাম যুদ্ধ বন্ধ করতে, কিন্তু তারা রাজি হয়নি। এরপর আমি জানাই, যুদ্ধ চললে আমরা তাদের সঙ্গে কোনো বাণিজ্য চুক্তি করব না। শেষ পর্যন্ত তারা আমার কাছে এসে যুদ্ধ থামানোর অনুরোধ করে।”


    তিনি আরও বলেন,

    “আমি ভারতের সঙ্গে বড় একটি বাণিজ্য চুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। মোদির সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক ছিল। তারা দুজনই শক্তিশালী মানুষ, কিন্তু তখন পরিস্থিতি বিপজ্জনক দিকে যাচ্ছিল।”

    ট্রাম্প দাবি করেন, ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের সময় সাতটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছিল এবং উভয় দেশই পারমাণবিক অস্ত্রসজ্জিত হওয়ায় পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ।
    তিনি বলেন,

    “আমি মোদিকে বলেছিলাম—যুদ্ধ চালালে কোনো চুক্তি হবে না। পরে পাকিস্তানকেও একই কথা বলেছি। দুদিনের মধ্যেই তারা যুদ্ধ বন্ধ করে দেয়।”

  • ট্রাম্পের দাবির জবাবে ভারতের কড়া ব্যাখ্যা: “মোদির সঙ্গে কোনো ফোনালাপই হয়নি”

    ট্রাম্পের দাবির জবাবে ভারতের কড়া ব্যাখ্যা: “মোদির সঙ্গে কোনো ফোনালাপই হয়নি”

    এবিএনএ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে কূটনৈতিক আলোচনার ঝড়। বুধবার ট্রাম্প দাবি করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর ফোনালাপ হয়েছে এবং মোদি তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন যে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে। তবে আজ বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে—এমন কোনো ফোনালাপই হয়নি।

    সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমার জানা মতে, গতকাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে কোনো ফোনালাপ হয়নি।”

    ট্রাম্পের দাবি ছিল, রাশিয়ার জ্বালানি আমদানির বিষয়টি শিগগিরই বন্ধ করবে ভারত এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে মোদির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। তবে নয়াদিল্লি জানায়, মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে জ্বালানি খাত নিয়ে আলোচনা চলছে, কিন্তু ভারত তার নিজস্ব জ্বালানি স্বার্থ ও ভোক্তা নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেবে।

    টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবারের ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকরা ট্রাম্পের মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে জয়সওয়াল বিষয়টি স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেন।

    ভারত বর্তমানে রাশিয়ার তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, রাশিয়ার তেল বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ ইউক্রেনে আগ্রাসনের খরচ জোগাচ্ছে। তাই ট্রাম্প প্রশাসন চাইছে ভারত, চীন ও জাপান রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করুক, যাতে রাশিয়ার অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হয়।

    তবে দিল্লির বার্তা পরিষ্কার—ভারতের জ্বালানি নীতি ভারতের স্বার্থেই নির্ধারিত হবে, বাইরের চাপ নয়।

  • ট্রাম্পের প্রস্তাবে হামাসের “ইতিবাচক” সাড়া — বিশ্বনেতারা যা বললেন

    ট্রাম্পের প্রস্তাবে হামাসের “ইতিবাচক” সাড়া — বিশ্বনেতারা যা বললেন

    এবিএনএ:  মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি নড়েচড়ে ওঠলো যখন শুক্রবার হামাস মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া গাজার বিষয়ক প্রস্তাবের সঙ্গে সহমত পোষণ করার খবর দিল। তারা কিছু শর্তে প্রস্তাবের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারা মেনে নিয়েছে এবং তৎক্ষণাৎ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা শুরু করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

    ট্রাম্প নিজেই হামাসের ওই বিবৃতি তুলে ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন হামাস স্থায়ী শান্তির পথে এগোতে চায় এবং ইসরায়েলকে অবিলম্বে গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে হবে, যেন জিম্মিদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা যায়। তার আহ্বানের সঙ্গে সঙ্গেই আন্তর্জাতিক মনোযোগ বাড়ে।

    ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং অন্যান্য পশ্চিম ও মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা এই অগ্রগতি স্বাগত জানিয়েছে। একইসঙ্গে পাকিস্তান, কাতার ও মিসরের পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়েছে — এখনই যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তার অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে।

    জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই প্রতিক্রিয়াকে উৎসাহজনক বলে উল্লেখ করেছেন এবং সব পক্ষকে পরিস্থিতি শান্তিভাবেই এগোতে অনুরোধ করেছেন। ইউরোপীয় নেতারা—ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরাও সংঘবদ্ধ সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সবমিলিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আশা ব্যক্ত করেছে যে, এটি জিম্মি মুক্তি ও যুদ্ধবিরতির পথে একটি বড় ধাপ হতে পারে।

    তবে অনেকে সতর্কও: হামাসের সাড়া পুরো ব্যাপারকে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করে না—কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনও আলোচনার বাইরে আছে এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা দাবি, গাজার ভবিষ্যত প্রশাসন ও অস্ত্রবিরতি নিয়ে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। ফলে বাস্তব কাজে যাওয়ার আগে আরও কড়া ব্যাকচেক ও মধ্যস্থতাকারী সংলাপ প্রয়োজন।

    প্রতিনিয়ত পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল; তাই দ্রুত কিভাবে এগোতে হবে, কোন পর্যায়ে দুপক্ষ সাক্ষর করবে এবং জিম্মিদের মুক্তির পরিকল্পনা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে—এসব প্রশ্ন এখনো ঝুলে আছে। সরাসরি প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ হিসাবে ইসরায়েল কিছু ক্ষেত্রে সমন্বয় করতে শুরু করেছে বলে খবর এসেছে।

  • দুই বছর পর অশান্ত মণিপুরে মোদির সফর: শান্তির বার্তা ও উন্নয়নের আশ্বাস

    দুই বছর পর অশান্ত মণিপুরে মোদির সফর: শান্তির বার্তা ও উন্নয়নের আশ্বাস

    এবিএনএ:  দীর্ঘ দুই বছর পর অবশেষে সহিংসতায় ক্ষতবিক্ষত মণিপুরে পা রাখলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার মিজোরামের আইজলে রেল প্রকল্প উদ্বোধনের পর তিনি মণিপুরের চূড়াচাঁদপুরে পৌঁছে শান্তি ও উন্নয়নের বার্তা দেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শান্তি না থাকলে উন্নয়ন সম্ভব নয়। মণিপুরের মানুষ শান্তির পথ বেছে নিলে ভবিষ্যৎ হবে আরও উজ্জ্বল।”

    ২০২৩ সালের মে মাসে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে এই রাজ্যে রক্তক্ষয়ী সহিংসতায় প্রায় ২৬০ জন নিহত ও হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। সেই থেকে বিরোধীরা বারবার দাবি জানালেও এতদিন সেখানে যাননি মোদি।

    চূড়াচাঁদপুরের ত্রাণ শিবিরে আশ্রিত পরিবারগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মোদি বলেন, মণিপুর সাহস ও দৃঢ়তার ভূমি। তিনি সবাইকে অতীতের বিভেদ ভুলে শান্তির পথে একসাথে এগিয়ে যেতে আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রী আরও দাবি করেন, গত ১১ বছরে বিজেপি সরকারের আমলে মণিপুরে যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তিনি জানান, ২২ হাজার কোটি টাকার রেল প্রকল্প চালু হয়েছে এবং গ্রাম-শহরে সমানভাবে রাস্তা ও বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

    তবে মোদির সফর ঘিরে ইম্ফলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কংগ্রেসের কর্মীরা প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ করেন এবং বিজেপি শাসনকে দায়ী করে স্লোগান দেন। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এক্সে লিখেছেন, “প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরে ব্যস্ত থেকেছেন, অথচ মণিপুরবাসীর দুঃসময় পাশে ছিলেন না।” প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও অভিযোগ করেন, “এত দেরিতে আসা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

    উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের জাতিগত সংঘাতের পর মুখ্যমন্ত্রী এন. বিরেন সিং পদত্যাগ করেন এবং বর্তমানে মণিপুর রাষ্ট্রপতির শাসনে পরিচালিত হচ্ছে।

    এই সফরে শান্তি ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও বিরোধীদের অভিযোগ ও স্থানীয় বিক্ষোভ দেখিয়ে দিয়েছে—মণিপুরে রাজনৈতিক উত্তেজনা এখনো প্রশমিত হয়নি।

  • যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কে টানাপোড়েনের মধ্যেও ‘ইতিবাচক’ বার্তা দিলেন মোদি

    যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কে টানাপোড়েনের মধ্যেও ‘ইতিবাচক’ বার্তা দিলেন মোদি

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্ক এখনো শক্তিশালী ও ভবিষ্যতমুখী।

    মোদি লেখেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সৌহার্দ্যপূর্ণ মন্তব্য ও ইতিবাচক মূল্যায়ন আমি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে গ্রহণ করছি এবং একইভাবে তাকেও তা ফিরিয়ে দিচ্ছি।”

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে সর্বাত্মক বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব বিদ্যমান, যা আগামী দিনে আরও গভীর হবে।

    তবে এ বক্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন দুই দেশের সম্পর্ক নানা চ্যালেঞ্জের মুখে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে। পাশাপাশি রাশিয়ার কাছ থেকে ভারত অপরিশোধিত তেল আমদানি করে ইউক্রেন যুদ্ধকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করছে বলে অভিযোগ তুলেছে ওয়াশিংটন।

    তবুও মোদি ও ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। ট্রাম্প প্রথম মেয়াদ থেকেই মোদির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন। সাংবাদিকদের সঙ্গেও তিনি একাধিকবার বলেছেন, “আমি সবসময় মোদির বন্ধু থাকব।”

    যদিও চীনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের উষ্ণতা ফেরাতে সম্প্রতি সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের বৈঠকে মোদির বেইজিং সফর ট্রাম্পকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে ভারতকে কাছে রাখার প্রতিযোগিতা নতুন করে স্পষ্ট হচ্ছে।

  • এসসিও সম্মেলনে করমর্দন ও হাসিতে শি–পুতিন–মোদির শক্ত বার্তা

    এসসিও সম্মেলনে করমর্দন ও হাসিতে শি–পুতিন–মোদির শক্ত বার্তা

    এবিএনএ:  বিশ্ব রাজনীতির টানাপোড়েনের সময়েই এক ভিন্ন দৃশ্য উপহার দিল সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলন। চীনের তিয়ানজিনে আয়োজিত এই শীর্ষ সম্মেলনে ক্যামেরাবন্দি হলো তিন প্রভাবশালী নেতার করমর্দন ও হাসিমুখ—চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, সম্মেলন কক্ষে প্রবেশ করেন পুতিন ও মোদি। দু’জন একসঙ্গে হাত ধরে ঢুকেই এগিয়ে যান শি জিনপিংয়ের দিকে। মুহূর্তেই তৈরি হয় এক আন্তরিক পরিবেশ। তিন নেতা করমর্দন করেন, হাসিমুখে আলাপচারিতায় মেতে ওঠেন। অনুবাদকসহ ঘিরে থাকা কর্মকর্তাদের মাঝেও তাদের উষ্ণ সম্পর্ক চোখে পড়ে। আলোচনার এক পর্যায়ে পুতিন হেসে ওঠেন, আর মোদিও অট্টহাসিতে সাড়া দেন।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি একটি ভিডিও প্রচার করেছে যেখানে দেখা যায়, পুতিন ও মোদি যখন শি জিনপিংয়ের সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। টিভি সম্প্রচারে তাকে আলাদা করে চিহ্নিত করেও দেখানো হয়।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই দৃশ্য নিছক সৌজন্য নয়, বরং তা বহন করছে বড় রাজনৈতিক বার্তা। শি-পুতিনের ঘনিষ্ঠতা প্রকাশ করছে যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক বিশ্ব রাজনীতিকে চ্যালেঞ্জ জানানো এক নতুন জোটের। আর মোদির উপস্থিতি দেখিয়েছে, ভারতও এই ভূরাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে চায়।

    ভারতের তক্ষশিলা ইনস্টিটিউশনের ইন্দো-প্যাসিফিক স্টাডিজের প্রধান মনোজ কেওয়ালরামানি বলেন, “কোনো সম্মেলনের ভেতরের ছোট ছোট দৃশ্য কখনো কখনো বড় বার্তা দেয়। এবারও তাই হয়েছে। হোয়াইট হাউসকে বুঝতে হবে তাদের নীতিই অন্য দেশগুলোকে বিকল্প মঞ্চে ঠেলে দিচ্ছে।”

    এ সম্মেলনে ২০টির বেশি দেশ অংশ নিয়েছে, যাদের বেশিরভাগই দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের শুরু করা বাণিজ্য যুদ্ধই আজ একাধিক দেশকে এক প্ল্যাটফর্মে এনেছে এবং চীন-রাশিয়ার নেতৃত্বকে আরও দৃঢ় করেছে।

  • সাত বছর পর চীন সফরে নরেন্দ্র মোদি, আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ

    সাত বছর পর চীন সফরে নরেন্দ্র মোদি, আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ

    এবিএনএ:  দীর্ঘ সাত বছর পর চীন সফরে পা রাখলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জাপান সফর শেষ করে শনিবার তিনি বেইজিং পৌঁছালে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। আগামী ৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য শাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন তিনি।

    এটি মোদির ২০১৮ সালের পর প্রথম চীন সফর। কূটনৈতিক সূত্র জানায়, সম্মেলন উপলক্ষে মোদির সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আলোচনায় ভারত-চীন সীমান্ত পরিস্থিতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এর আগে জাপান সফরে মোদি টোকিওতে বিভিন্ন ইস্যুতে বৈঠক করেন। বাণিজ্য, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং অবকাঠামো খাতে দুই দেশের সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, টোকিও থেকে সরাসরি বেইজিং সফর আঞ্চলিক কূটনীতিতে ভারতের ভূমিকাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

    চীন দীর্ঘদিন ধরেই এসসিওকে পশ্চিমা প্রভাবের বিকল্প একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উপস্থাপন করে আসছে। ভারত সেখানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজস্ব অবস্থানকে আরও দৃঢ় করতে চাইছে। ফলে মোদির এই সফর দক্ষিণ এশিয়া ও বৈশ্বিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আনতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের মত।