Tag: নবীজি

  • হিজরতের শেষ প্রান্তে নবীজি (সা.)-এর আবেগঘন সিজদাহ—কারিন সরিহর সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত

    হিজরতের শেষ প্রান্তে নবীজি (সা.)-এর আবেগঘন সিজদাহ—কারিন সরিহর সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত

    এবিএনএ: মক্কার নির্যাতন, তপ্ত মরুভূমির কষ্ট এবং শত্রুদের তাড়া এড়িয়ে দীর্ঘ হিজরত শেষে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) যখন মদিনার সীমানার খুব কাছে পৌঁছান, তখন তাঁর সামনে ভেসে ওঠে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যের সবুজ খেজুর বাগান। সেই ঐতিহাসিক স্থানটির নাম ‘কারিন সরিহ’, যা মদিনার প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত ছিল।

    এই স্থানে পৌঁছে নবীজি (সা.) নিশ্চিত হন যে তিনি নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে গেছেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি তাঁর উটনী থেকে নেমে মহান আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সিজদায় লুটিয়ে পড়েন। ইসলামের ইতিহাসে এটি ‘সিজদাতুত শুকর’ হিসেবে সুপরিচিত—যেখানে বান্দা আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জানায়।

    এই সময় তাঁর সঙ্গে থাকা হযরত আবু বকর (রা.) এবং অন্যান্য সাহাবীরাও আল্লাহর প্রশংসায় মগ্ন হন। দীর্ঘ দুঃখ-কষ্ট ও বিপদের পর এই মুহূর্ত ছিল এক অনন্য স্বস্তি ও বিজয়ের প্রতীক।

    ঐতিহাসিক বর্ণনা ও সীরাত গ্রন্থ অনুযায়ী, কারিন সরিহর নিকটবর্তী ‘উসবাহ’ এলাকায় অনেক সাহাবী আগেই সমবেত হয়েছিলেন। তাঁরা প্রিয় নবীকে স্বাগত জানানোর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এই স্থানগুলো আজও ইসলামের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হিসেবে বিবেচিত।

    বর্তমানে নগরায়নের কারণে সেই প্রাচীন টিলা বা ভূখণ্ডের রূপ পরিবর্তিত হলেও, মদিনার উপকণ্ঠে অবস্থিত এই অঞ্চল এখনো ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে। প্রতি বছর অসংখ্য মুসল্লি ও দর্শনার্থী এখানে এসে সেই পবিত্র স্মৃতিকে অনুভব করার চেষ্টা করেন।

    কারিন সরিহর এই ঘটনাটি শুধু ইতিহাস নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা—যে কোনো বিপদ থেকে মুক্তি বা সাফল্য অর্জনের পর সর্বপ্রথম আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত। ধৈর্য, ত্যাগ এবং বিশ্বাসের পরিণতিই প্রকৃত সফলতা।

  • রমজান আসার আগে নবীজির যে ৫ প্রস্তুতি বদলে দিতে পারে আপনার পুরো ইবাদত

    রমজান আসার আগে নবীজির যে ৫ প্রস্তুতি বদলে দিতে পারে আপনার পুরো ইবাদত

    এবিএনএ: রমজান শুধু একটি মাস নয়—এটি ইবাদতের বসন্তকাল। আত্মশুদ্ধি, সংযম ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের শ্রেষ্ঠ সুযোগ এনে দেয় এই পবিত্র মাস। আর প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ যেমন প্রস্তুতি ছাড়া সফল হয় না, তেমনি রমজানের ইবাদতও পরিকল্পিত প্রস্তুতি দাবি করে। রাসুলুল্লাহ (স.) নিজে যেমন রমজানের আগাম প্রস্তুতি নিতেন, তেমনি উম্মতকেও প্রস্তুত হওয়ার তাগিদ দিতেন।

    নবীজির (স.) জীবনাদর্শ থেকে জানা যায়, রমজানের জন্য তিনি কয়েকটি বিশেষ প্রস্তুতিমূলক আমল গুরুত্বের সঙ্গে পালন করতেন—

    ১. রমজান প্রাপ্তির জন্য দোয়া করা
    রাসুলুল্লাহ (স.) আল্লাহর কাছে রমজান পর্যন্ত পৌঁছানোর তাওফিক চাইতেন। তিনি রজব মাস শুরু হলে আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন যেন শাবান ও রজব বরকতময় হয় এবং রমজান লাভ করা যায়। পূর্ববর্তী আলেমরাও দীর্ঘ সময় ধরে রমজান পাওয়ার জন্য দোয়া করতেন।

    ২. রমজানের আগমন গণনায় রাখা
    শাবান মাসের দিন-তারিখ সম্পর্কে বিশেষ সচেতন থাকা নবীজির (স.) একটি সুন্নত। তিনি এই মাসের হিসাব অন্য মাসগুলোর তুলনায় বেশি গুরুত্ব দিয়ে রাখতেন, যেন রমজান সঠিকভাবে শুরু করা যায়।

    ৩. শাবানে বেশি রোজা রাখা
    রমজানের আগে আত্মসংযমের অনুশীলন হিসেবে রাসুলুল্লাহ (স.) শাবান মাসে বেশি রোজা রাখতেন। তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন, এই মাসে মানুষের আমল আল্লাহর কাছে পেশ করা হয়—আর তিনি চাইতেন রোজা অবস্থায় তাঁর আমল পেশ হোক।

    ৪. মানুষকে রমজানের ফজিলত স্মরণ করানো
    রাসুল (স.) সাহাবিদের রমজানের মর্যাদা ও বরকতের কথা জানাতেন। তিনি বলতেন, এ মাসে এমন এক রাত রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম—যা মুমিনদের ইবাদতে উৎসাহিত করত।

    ৫. রমজানের বিধান জানা ও আগমনে আনন্দ প্রকাশ
    রমজানের ফরজ, সুন্নত ও বিধান জানা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব। নবীজির (স.) নির্দেশনা অনুযায়ী আলেমরা এসব বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতেন। একই সঙ্গে রমজানের আগমনে আনন্দ প্রকাশ করাকে কোরআনেও উৎসাহিত করা হয়েছে।

    রাসুলুল্লাহ (স.) নিজেও রমজানের আগমনে আনন্দ প্রকাশ করে সাহাবিদের জানাতেন—রমজান তাদের দুয়ারে উপস্থিত। নবীজির (স.) এই সুন্নতগুলো অনুসরণ করলে রমজান হয়ে উঠবে আরও অর্থবহ ও সফল।