Tag: নদীভাঙন

  • ঘূর্ণিঝড়ের আতঙ্কে দিন কাটছে পাঁচ শতাধিক পরিবারের: টেকসই বেরিবাঁধের দাবিতে শরণখোলায় মানববন্ধন

    ঘূর্ণিঝড়ের আতঙ্কে দিন কাটছে পাঁচ শতাধিক পরিবারের: টেকসই বেরিবাঁধের দাবিতে শরণখোলায় মানববন্ধন

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাটের শরণখোলায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা উদয়ন বাংলাদেশের সহযোগিতায় শরণখোলা বাজার সংলগ্ন খুড়িয়াখালী গ্রামবাসীর আয়োজনে তিন কিলোমিটার টেকসই বেরিবাঁধ এর দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৮ ডিসেম্বর (রবিবার) সকাল সাড়ে ১১ টায় উপজেলার শরণখোলা বাজার সংলগ্ন খুড়িয়াখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

    এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের পরিবার সূত্রে জানা যায় , শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের শরণখোলা বাজার সংলগ্ন খুড়িয়াখালী ও তেরাবেকা এলাকায় টেকসই বেরিবাঁধ না থাকায় দুই গ্রামের প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার মানবতার জীবন যাপন করে আসছে। এই দুর্দশা কমাতে তেরাবেকা ও শরণখোলা নদীর তীরবর্তী খুড়িয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে রিংবাঁধ এর উপরে প্রায় তিন শতাধিক গ্রামবাসীর সমন্বয়ে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। তাদের একটাই দাবি টেকসই বেরিবাঁধ চাই। সিডর ও আইলার মতো ঘূর্ণিঝড় এর আঘাতে বেরিবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় ঝড় জলোচ্ছ্বাসে তাদের ভোগান্তির শেষ নেই।

    অমাবস্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারে তাদের বাড়ি ঘর তলিয়ে যায় তখন রান্নাবান্না সহ গবাদি পশু নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে। মাঝে মাঝে তাদের রান্না বান্না ও বন্ধ হয়ে যায়। এই ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেতে টেকসই বেরিবাঁধ এর দাবিতেই মুলত মানবববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।

    মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আ: মালেক রেজা, বিএনপি নেতা ফরিদ খান, সমাজ সেবক হিরু খান, জাফর খান , পল্লী চিকিৎসক শহিদুল ইসলাম ও ওমর ফারুক প্রমূখ। সকলের একটাই দাবি প্রশাসনের কাছে টেকসই বেরিবাঁধ চাই।

  • উপকূলজুড়ে জোয়ারের তাণ্ডব: শত শত এলাকা প্লাবিত, জনদুর্ভোগ চরমে

    উপকূলজুড়ে জোয়ারের তাণ্ডব: শত শত এলাকা প্লাবিত, জনদুর্ভোগ চরমে

    এবিএনএ:  সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ভয়াবহ জোয়ার ও টানা বৃষ্টির কারণে দেখা দিয়েছে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি। লক্ষ্মীপুর, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি এবং বরগুনা জেলার নিম্নাঞ্চলের শতাধিক গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বাড়িঘর, সড়ক, ফসলি জমি ও মাছের ঘের ডুবে যাওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।

    লক্ষ্মীপুরে পানি বাড়ছেই, নদীভাঙনের নতুন শঙ্কা

    লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি, কমলনগর ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল মেঘনা নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত দুই দিন ধরে নদীর পানি চার থেকে পাঁচ ফুট পর্যন্ত বেড়েছে। কমলনগর ও রামগতির অন্তত ১২টি এলাকায় নতুন করে নদীভাঙন শুরু হয়েছে।

    পিরোজপুরে শতাধিক গ্রামের মানুষের ঘরবাড়ি পানির নিচে

    জেলার কঁচা, বলেশ্বর, কালিগঙ্গা, মধুমতীসহ ছয়টি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হওয়ায় সাত উপজেলার শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পিরোজপুর সদরের পাশাপাশি ইন্দুরকানী, কাউখালী ও মঠবাড়িয়ায় কৃষিজমি ও পুকুর ডুবে গেছে। জেলা প্রশাসক আশ্বাস দিয়েছেন, পানিবন্দি পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

    পটুয়াখালীতে নদীবাঁধ ভেঙে আমন ক্ষেত প্লাবিত

    পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী, গলাচিপা, কলাপাড়া, দশমিনা, বাউফল, দুমকী ও মির্জাগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকায় জোয়ারের পানি ঢুকে পড়েছে। দুমকীর মুরাদিয়া এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। জেলা শহরের কিছু এলাকাও প্লাবিত হয়েছে।

    ঝালকাঠির নদীগুলো ফুঁসে উঠেছে

    সুগন্ধা, বিষখালী, হলতা ও গাবখান চ্যানেলের পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার চারটি উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। শহরের পুরাতন কলাবাগ, লঞ্চঘাটসহ অনেক এলাকা এখন পানির নিচে।

    বরগুনায় ৩৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে পানি

    পায়রা, বলেশ্বর ও বিষখালী নদীতে পানি বিপৎসীমার অনেক ওপরে উঠেছে। এর ফলে বরগুনার উপকূলীয় গ্রামগুলোয় ঢুকে পড়েছে নদীর পানি। আমন ধান ও চিংড়ির ঘেরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কতা

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ ভারতের দিকে অগ্রসর হলেও উপকূলে দুর্যোগপূর্ণ অবস্থা অব্যাহত থাকবে। ৩ নম্বর সমুদ্র এবং ১ নম্বর নদী সতর্কতা সংকেত বহাল রয়েছে।