Tag: দোয়া

  • মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে বদলি ওমরাহ করা যাবে?

    মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে বদলি ওমরাহ করা যাবে?

    এবিএনএ: ওমরাহ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ ইবাদতগুলোর একটি। অনেক সময় শারীরিক দুর্বলতা, বার্ধক্য কিংবা আর্থিক অক্ষমতার কারণে কেউ নিজে ওমরাহ আদায় করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে তার পক্ষ থেকে অন্য কেউ ওমরাহ করতে পারবেন কি না—এ নিয়ে ইসলামি শরিয়তে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।

    ইসলামি ফিকহবিদদের মতে, মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে বদলি ওমরাহ করা বৈধ। এ বিষয়ে একটি হাদিসে উল্লেখ আছে—এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেন, তার পিতা অত্যন্ত বৃদ্ধ এবং হজ বা ওমরাহ করার সক্ষমতা নেই। উত্তরে নবীজি তাকে পিতার পক্ষ থেকে হজ ও ওমরাহ আদায়ের নির্দেশ দেন। এই হাদিস থেকে আলেমরা জীবিত ও মৃত উভয়ের পক্ষ থেকেই বদলি ওমরাহ করার অনুমতি গ্রহণ করেছেন।

    ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.)-এর মতে, কেউ যদি কোনো নেক আমল সম্পাদন করে তার সওয়াব জীবিত বা মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেন, তাহলে তা বৈধ এবং উপকারে আসে। তবে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা সবচেয়ে বেশি ফজিলতপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

    একটি প্রসিদ্ধ হাদিসে বলা হয়েছে, মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তিনটি আমল ছাড়া তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়—সাদকায়ে জারিয়া, উপকারী জ্ঞান এবং নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে। এ থেকে বোঝা যায়, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়ার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি হলেও অন্যান্য নেক আমলের সওয়াবও পৌঁছানো সম্ভব।

    জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকেও বদলি ওমরাহ সম্ভব

    ইসলামি ফতোয়া অনুযায়ী, শুধু মৃত নয়—জীবিত কিন্তু অক্ষম ব্যক্তির পক্ষ থেকেও বদলি ওমরাহ করা যায়। এ ক্ষেত্রে যিনি ওমরাহ করবেন, তাকে ইহরাম বাঁধার সময় স্পষ্টভাবে যার পক্ষ থেকে ওমরাহ করছেন তার জন্য নিয়ত করতে হবে। পাশাপাশি তালবিয়াও তার পক্ষ থেকেই আদায় করতে হবে।

    কিছু আলেমের মতে, বদলি হজের মতো ওমরাহ বিষয়ে সরাসরি নির্দেশনা কম পাওয়া গেলেও, নিজের করা ওমরাহর সওয়াব অন্য কাউকে পৌঁছে দেওয়া বৈধ। ফলে ব্যক্তি নিজের ওমরাহ আদায় করে মৃত বা জীবিত যেকোনো মুসলমানের জন্য সওয়াব দান করতে পারেন।

    কোন বিষয়গুলো মনে রাখতে হবে

    বদলি ওমরাহ করার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—

    • যার পক্ষ থেকে ওমরাহ করা হবে তার জন্য স্পষ্ট নিয়ত করতে হবে
    • শরিয়াহসম্মত নিয়মে পুরো ওমরাহ সম্পন্ন করতে হবে
    • সওয়াব দানের উদ্দেশ্য থাকতে হবে
    • মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা অব্যাহত রাখা উত্তম

    সব মিলিয়ে ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, বদলি ওমরাহ করা বৈধ এবং এটি মৃত ও জীবিত উভয়ের পক্ষেই করা যায়। তবে আলেমদের মতে, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া, সদকা ও নেক আমল দান—এসবের গুরুত্ব বেশি। তাই বদলি ওমরাহর পাশাপাশি দোয়া করাকেই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া উচিত।

  • রমজানের শেষ সময়কে বদলে দিন সাফল্যের সোপানে—যেভাবে কাটাবেন শেষ দশক

    রমজানের শেষ সময়কে বদলে দিন সাফল্যের সোপানে—যেভাবে কাটাবেন শেষ দশক

    এবিএনএ: শেষের পথে পবিত্র রমজান মাস। রহমত ও মাগফিরাতের পর এখন চলছে নাজাতের দশক—যে সময়টি মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেলে শুরু হবে ঈদুল ফিতর, আর বিদায় নেবে বরকত, রহমত ও কোরআন নাজিলের এই মহিমান্বিত মাস।

    ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, এই রমজানই হয়তো অনেকের জীবনের শেষ রমজান হতে পারে। তাই শেষ সময়টুকুকে অর্থবহ করে তুলতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা বাড়ানো জরুরি।

    তওবার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি
    মানুষ হিসেবে ভুল হওয়া স্বাভাবিক। রমজানেও নানা ত্রুটি হয়ে থাকতে পারে। তাই আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে তওবা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, “হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা কর, যাতে তোমরা সফল হতে পারো” (সুরা নূর: ৩১)।

    আরেক স্থানে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি তওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্মে অবিচল থাকে, আল্লাহ তার প্রতি ক্ষমাশীল (সুরা ত্বহা: ৮২)।
    গুনাহের পর দ্রুত তওবা করে নিজেকে পবিত্র করা একজন মুমিনের কর্তব্য।

    রমজানের ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা
    রমজান ইবাদতের বিশেষ মাস হলেও নানা ব্যস্ততায় অনেকেই পূর্ণভাবে আমল করতে পারেন না। তাই এ মাসে যে ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়েছে, তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং বাকি সময়টুকু সঠিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা উচিত।

    সারা বছরের জন্য নেক আমলের তাওফিক চাওয়া
    রমজান কেবল একটি মাস নয়, বরং সারা বছরের জন্য ইবাদতের প্রশিক্ষণ। রজব ও শাবান মাস থেকে শুরু হওয়া প্রস্তুতির পর রমজানে ইবাদতের অভ্যাস তৈরি হয়। এই অভ্যাস যেন সারা বছর বজায় থাকে, সে জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা জরুরি।

    সদকাতুল ফিতর আদায়ের গুরুত্ব
    রমজানের গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল হলো সদকাতুল ফিতর আদায়। এটি রোজার ত্রুটি দূর করে এবং দরিদ্রদের সহায়তা করে। যারা এখনো আদায় করেননি, তারা ঈদের নামাজের আগে এটি পরিশোধ করে নিতে পারেন।

    সব মিলিয়ে, রমজানের শেষ সময়টুকু আত্মশুদ্ধি, তওবা, দোয়া ও দানের মাধ্যমে কাটাতে পারলে তা একজন মুমিনের জন্য পরকালীন সফলতার পথ খুলে দিতে পারে।

  • জীবনে একবার হলেও যে নামাজ পড়তে বলেছিলেন নবীজি—জানুন সালাতুত তাসবিহের বিস্ময়কর ফজিলত

    জীবনে একবার হলেও যে নামাজ পড়তে বলেছিলেন নবীজি—জানুন সালাতুত তাসবিহের বিস্ময়কর ফজিলত

    এবিএনএ: ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো নামাজ, যা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের জন্য ফরজ। তবে ফরজ নামাজের পাশাপাশি কিছু নফল নামাজ রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য ও অতিরিক্ত সওয়াব অর্জন করা যায়। এসব নফল ইবাদতের মধ্যে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি নামাজ হলো সালাতুত তাসবিহ।

    ‘তাসবিহ’ অর্থ আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করা বা জিকির করা। আর যে নামাজে নির্দিষ্ট তাসবিহ বারবার পাঠ করা হয়, সেটিই সালাতুত তাসবিহ নামে পরিচিত। এই নামাজে মোট ৩০০ বার একটি বিশেষ তাসবিহ পড়তে হয়, যা একে অন্যসব নফল নামাজ থেকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে।

    ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) উম্মতের জন্য এ নামাজকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি তাঁর চাচা হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-কে এ নামাজ শিক্ষা দিয়ে বলেন—সম্ভব হলে প্রতিদিন, না পারলে সপ্তাহে, তাও না হলে মাসে বা বছরে অন্তত একবার, আর তাও না হলে জীবনে অন্তত একবার হলেও এই নামাজ আদায় করতে।

    নফল নামাজ বাধ্যতামূলক না হলেও এর মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতে পারে। নফল ইবাদত মানুষের গুনাহ মোচন করে, মর্যাদা বৃদ্ধি করে এবং অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে। এছাড়া ফরজ ইবাদতে কোনো ত্রুটি থাকলে তা পূরণেও নফল নামাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    সালাতুত তাসবিহ নামাজের পদ্ধতি:
    এই নামাজ ৪ রাকাত। সাধারণ নিয়তের মাধ্যমে নামাজ শুরু করতে হয়। প্রতি রাকাতে সুরা ফাতিহার পর অন্য একটি সুরা পড়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট তাসবিহ ৭৫ বার করে পড়তে হয়। এভাবে চার রাকাতে মোট ৩০০ বার তাসবিহ সম্পন্ন হয়।

    তাসবিহটি হলো:
    “সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহি, ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার।”

    নামাজের বিভিন্ন অবস্থানে (কিয়াম, রুকু, সিজদা ও বসার সময়) নির্দিষ্ট সংখ্যায় এই তাসবিহ পাঠ করতে হয়। কোনো অংশে ভুলে গেলে পরবর্তী রুকনে তা পূরণ করা যায়।

    ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, আন্তরিকতার সঙ্গে এই নামাজ আদায় করলে আল্লাহ অতীত ও ভবিষ্যতের গুনাহ ক্ষমা করেন এবং বান্দার দোয়া কবুল করেন। বিশেষ করে জুমার রাতে এই নামাজের পর দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে উল্লেখ রয়েছে।

    মুসলমানদের জন্য এটি একটি সহজ কিন্তু অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল, যা জীবনে অন্তত একবার হলেও আদায় করার প্রতি জোর দিয়েছেন নবীজি।

  • বেগম খালেদা জিয়ার আশু সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর দোয়া চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

    বেগম খালেদা জিয়ার আশু সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর দোয়া চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

    এবিএনএ: বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থার অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় যেন কোনো ধরনের ঘাটতি না থাকে, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

    শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ গণমাধ্যমকে জানান, ড. ইউনূস নিয়মিতভাবে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং চিকিৎসার সকল অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

    ড. ইউনূস দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, “খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনায় সবাই দোয়া করুন। তাঁর অসুস্থতা শুধুমাত্র একটি পরিবার বা দলের বিষয় নয়, এটি দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সঙ্গেও সম্পৃক্ত।”

    তিনি আরও বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের এই সময়ে বেগম খালেদা জিয়া জাতির জন্য এক অনুপ্রেরণার প্রতীক। তাঁর সুস্বাস্থ্য ও সুস্থতা দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    প্রধান উপদেষ্টা সকল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসাপ্রদানকারী সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

    এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনেও খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।